প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদ পদত্যাগ করেছেনা
গণবার্তা ডেস্ক ||
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ পদত্যাগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। বাসসের ওয়েবসাইটে এমডি ও প্রধান সম্পাদকের জায়গায় এখন আর মাহবুব মোর্শেদের নাম নেই।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটিসম্প্রতি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি গঠিত এ কমিটিকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।ওই দিন সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বাসসে যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। বাসস একটা সরকারি সংবাদ সংস্থা। এখানে নিয়োগ বহাল বা বাতিলের একটা বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। সরকার সেই নিয়মের মধ্যেই সবকিছু বিবেচনা করবে’।কর্মচারীদের বিক্ষোভএর আগে রাজধানীর পল্টনে বাসসের কার্যালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদ সংস্থার এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক-কর্মচারীদের একটি অংশ কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। বিক্ষোভের মুখে মাহবুব মোর্শেদ অফিস ছেড়ে চলে যান।বাসস সাংবাদিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ জানায়, নির্বাচনের আগেই তারা সংগঠিত হয়। নির্বাচনের কভারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সেই সময়ে তারা কোনো ধরনের পদক্ষেপে যাননি। নির্বাচন শেষে তারা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেন, মাহবুব মোর্শেদের অধীনে কেউ কাজ করবেন না। সবাই তার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। সেই সিদ্ধান্ত তাকে জানানো হয়।মাহবুব মোর্শেদের প্রতিক্রিয়াপরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মাহবুব মোর্শেদ। সেখানে তিনি ‘মব তৈরি করে’ তাকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।তিনি লেখেন, ‘প্রিয় বিএনপি, আপনারা ক্ষমতায় আসছেন, আমি খুশি। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। এখন আপনারা আমাকে এই পদে না রাখতে চাইতেই পারেন। চুক্তি বাতিল ও অপসারণের নানা স্বীকৃত পদ্ধতি আছে। সেসব দিকে না গিয়ে অফিসে মব সৃষ্টি করে, হামলা করে, তালা দিয়ে সরাতে চাইছেন কেন?’।অপর এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে’।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা