প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সীমান্ত পাহারায় কুমির ও সাপ ব্যবহারের ভাবনা ভারতেরা
চিত্র বিচিত্র ডেস্ক ||
প্রাচীনকালে দুর্গ রক্ষায় পরিখায় কুমির ছাড়ার ইতিহাস আছে। একবিংশ শতাব্দীতে সেই একই কৌশল ব্যবহার করতে যাচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্তের দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমি পাহারা দিতে এবার কুমির ও সাপের মতো সরীসৃপ মোতায়েনের কথা ভাবছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনায় এই অদ্ভুত পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে বিএসএফ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার। এর বড় অংশ নদী আর জলাভূমি। যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া কঠিন, সেখানেই ব্যবহার করা হবে সরীসৃপদের।বিএসএফের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সেক্টরের সদর দপ্তরে গত ২৬ মার্চ পাঠানো এক গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, অপারেশনাল প্রয়োজনে এসব প্রাণী মোতায়েন করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।জনবল সংকটই কি মূল কারণ?বিএসএফ বর্তমানে জনবল ও অবকাঠামো সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দিতে ২ লাখ ৬৫ হাজার সদস্য থাকলেও তাদের অনেকেই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যস্ত। বাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যের বয়স ৪৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। আরেক ২০ শতাংশ শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট নয়। এই সংকট কাটাতেই প্রকৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করছে তারা।প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনো বেড়াহীন। তার মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়া যায় না। এসব এলাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতেই সরীসৃপ মোতায়েনের প্রস্তাব।যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্পের পরিকল্পনার মিলভারতের এই পরিকল্পনার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রস্তাবের মিল আছে। ফ্লোরিডার ‘অলিগেটর আলকাট্রাজ’ ডিটেনশন সেন্টারের চারপাশে প্রাকৃতিকভাবেই কুমির ও অজগর থাকে, যা বন্দিদের পালানো রোধ করে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তের রিও গ্র্যান্ডে নদীতেও এমন ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি পরে একে কৌতুক বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারত বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথেই দেখছে।ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে বিএসএফকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। তবে সরীসৃপ মোতায়েনের এই প্রস্তাব আধুনিকতার চেয়ে অনেকটাই প্রাচীন কৌশলের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্তের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা