প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ইসরাইলের হামলার পালটা হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলাা
বিশ্ব ডেস্ক ||
লেবাননের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ইসরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জেরেই তারা মানারা বসতি লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।হিজবুল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের এই পাল্টা আক্রমণ ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না লেবানন ও দেশটির জনগণের ওপর ‘মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন’ সম্পূর্ণ বন্ধ হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় এই রকেট হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।নয় ঘণ্টা পরই হামলাইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, দীর্ঘ নয় ঘণ্টা শান্ত থাকার পর লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে আপার গ্যালিলির আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।রকেট উৎক্ষেপণের পরপরই গ্যালিলি প্যানহ্যান্ডেল এলাকা জুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলের হামলায় ২৫৪ নিহতপ্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের শুরু করা সংঘাত নিরসনে একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথ প্রশস্ত করতে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা সত্ত্বেও বুধবার লেবানন জুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।লেবানিজ সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের এই ব্যাপক হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে রকেট হামলাকে ইসরায়েলি একতরফা সামরিক অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।কে অন্তর্ভুক্ত, কে নয়—এই নিয়েও দ্বন্দ্বইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলছে যে লেবানন এই চুক্তির কোনো অংশ নয়।বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত থামার পরিবর্তে নতুন করে ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হিজবুল্লাহর সাহসী অবস্থান এবং ইসরায়েলের অনড় মনোভাবের কারণে শুক্রবারের পরিকল্পিত ইসলামাবাদ আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে—তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।একদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে লেবানন সীমান্তে পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, এই সামরিক অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নেয়, নাকি কূটনীতির মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা