প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রীা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দফতর-সংস্থাগুলোর শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন নিয়োগের কার্যক্রম ইতিমধ্যে চলমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।প্রধানমন্ত্রী জানান, সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে।তিনি আরও বলেন, হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্ক এবং আইসিটি সেন্টারগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে পেপালের কার্যক্রম চালু করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।আগামী জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে দেশজুড়ে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন। এর মধ্যে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় ইতিমধ্যে এক লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে অবশিষ্ট শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।নরসিংদী-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিকল্প নতুন শ্রমবাজার সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। বিদেশে কর্মী পাঠাতে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশে প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এ লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নে কাজ করছে।কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নকে এ মহাপরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা, চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা-আনোয়ারা সমুদ্র সৈকতের মৌলিক সুবিধাদি উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুয়াকাটা সংলগ্ন সাতটি উপজেলা নিয়ে ‘পায়রা-কুয়াকাটা কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান ফোকাসিং অন ইকো-টুরিজম’ শীর্ষক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমানে ‘অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হলে কুয়াকাটার পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা