প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
মৃতের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব, মরদেহ ঘিরে উত্তেজনাা
নিউজ ডেস্ক ||
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন নাকি সৎকার করা হবে—এ নিয়ে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মরদেহ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিতর্কের কেন্দ্রস্থলে থাকা ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামে। তিনি শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে।প্রায় ২১ বছর আগে তিনি এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘কাজী সোহাগ’। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকার মমতাজ মিমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে একটি ছেলে রয়েছে।গত বুধবার সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। ওই সেবাশ্রমে তার মা রিতা রানী পোদ্দার নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে।মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে মোল্লাহাটের উত্তরআমবাড়ি কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাহ করার জন্য নেওয়া হয়। এ সময় স্ত্রী মমতাজ মিম ও মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে আব্দুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। তারা মুসলিম বিধান অনুযায়ী কবরস্থানে দাফনের দাবি তোলেন।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।নিহতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন, তাই হিন্দু রীতিতেই দাহ করা উচিত। তবে তিনি ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।অন্যদিকে স্ত্রী মমতাজ মিম ও ছেলে আব্দুর রহমান জানান, কাজী সোহাগ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং মুসলিম হিসেবেই জীবনযাপন করতেন। তাই ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন হওয়া উচিত।মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, মৃত্যুর কারণ ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আইনসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন সবার প্রতি ধৈর্য ও শান্ত বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা