প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: ‘আত্মসমর্পণের টেবিল’ নয়, যুদ্ধে নতুন কৌশলা
বিশ্ব ডেস্ক ||
ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘আলোচনার পরিবর্তে আত্মসমর্পণের টেবিল’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকার ও আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “হুমকির ছায়ায় হওয়া কোনো আলোচনা আমরা মেনে নেব না। গত দুই সপ্তাহে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছি।”ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের ধরন ও চলমান মার্কিন অবরোধ আলোচনার সবচেয়ে বড় হুমকি। যদিও চুক্তির মূল কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা অনেকটাই হয়ে গেছে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান পুরো কূটনৈতিক অগ্রগতিকে ভেস্তে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরাও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, প্রকাশ্যে কঠোর বা উসকানিমূলক বক্তব্য আলোচনার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে।ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়ে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছে। সিএনবিসিকে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদসহ সব ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে... সামরিক বাহিনী (অভিযান শুরুর জন্য) মুখিয়ে আছে।”অন্যদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডব্লিউটিআই ১.২ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে। গত সোমবার আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল ইরানের জনগণের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করে গঠনমূলক আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে, ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ধরনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্টের মতো সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, তারা মার্কিন বাহিনীর সাফল্য তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ক্ষতি’ বা ‘পরাজয়’ হিসেবে চিত্রায়িত করছে।গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফা শান্তি আলোচনা হয়। সেখানে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন গালিবাফ। দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল মঙ্গলবার (আজ), কিন্তু তা পিছিয়েছে।যুদ্ধবিরতি শেষ হতে যাচ্ছে আগামীকাল বুধবার। ট্রাম্প ইতিমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মেয়াদ বাড়াতে চান না। ইরান যদি আলোচনার টেবিলে না আসে, তাহলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। অন্যদিকে, ইরানও জানিয়েছে, হুমকির মুখে তারা বসবে না, বরং যুদ্ধের নতুন কৌশল দেখাতে প্রস্তুত।হরমুজ প্রণালির জলরাশি যেমন অশান্ত, তেমনি অনিশ্চিত এখন কূটনীতির পথ। আগামী কয়েক ঘণ্টায় ইরান ইসলামাবাদে বসে কি না, তার ওপরই নির্ভর করবে শান্তি নাকি যুদ্ধ—দুই পথের কোনটিতে পা বাড়ে বিশ্ব।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা