প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
পিবিআইয়ের জনবল ও স্থায়ী অফিসের দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
অধিকতর দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য আরও জনবল ও সুযোগ-সুবিধা চেয়েছে দেশের প্রধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ মঙ্গলবার পিবিআই প্রধান এবং পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও গতিশীলতা ও দক্ষতা নিশ্চিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুটি পৃথক প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। সেখানে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের দাবিও জানানো হয়েছে।পিবিআইয়ের বর্তমান জনবল ও কাঠামোজটিল ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ তদন্তে উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়ে ২০১২ সালে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে পিবিআই যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এই ইউনিটের জনবল ছিল ৯৭০ জন। বর্তমানে পিবিআইয়ের জনবল দুই হাজার ৩১ জন। এবার তারা আরও পাঁচ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।বর্তমান জনবলের মধ্যে রয়েছেন:একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (পিবিআই প্রধান)দুই জন উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি)পাঁচ জন অতিরিক্ত ডিআইজি৪৯ জন বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি)২৮ জন অতিরিক্ত এসএসপিআট জন এএসপি৩২২ জন পরিদর্শকপাঁচ জন সার্জেন্ট৪৮৩ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই)৩৩৫ জন এএসআই২০ জন নায়েক৬২২ জন কনস্টেবলনিজস্ব ভবন ও পরিবহন সুবিধাবর্তমানে ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪২টিতেই ভাড়া বাড়িতে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছে পিবিআই। নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ২০টি সরকারি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। পিবিআই প্রধান জানান, ভাড়া বাড়িতে দাফতরিক কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।ইউনিটটির পরিবহন সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১৪টি জিপ, ৭১টি পিকআপ, ১৯০টি মোটরসাইকেল, আটটি ট্যাক্সিক্যাব, সাতটি অ্যাম্বুলেন্স, চারটি মাইক্রোবাস, দুটি করে ট্রাক ও ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট ভ্যান এবং একটি করে বাস, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ভ্যান, হাই-রিস্ক অপারেশন ভ্যান, কার ও প্রিজন ভ্যান।প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের আশ্বাসপিবিআই প্রধান জানান, কয়েক মাস আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং এখন তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। কাঙ্ক্ষিত জনবল ও নিজস্ব ভবন পেলে আন্তর্জাতিকমানের তদন্ত নিশ্চিত করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। জনবল ও সক্ষমতা বাড়লে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন এবং আইনের শাসন আরও সুসংহত হবে বলে তিনি মনে করেন।পিবিআইয়ের দাবির বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, গত ১৯ এপ্রিল আইজিপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হবে। সংস্থাটির প্রধান জানান, জনবল ও সুযোগ-সুবিধা বাড়লে পিবিআই দেশের ৬৪টি জেলাতেই তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।সূত্র: বাসস
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা