প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
জামায়াতকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘রাজাকার-আল শামস’ মন্তব্য, সংসদে উত্তাপা
নিউজ ডেস্ক ||
জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘ভালোভাবে আচরণ করে যাচ্ছি, ভদ্রতার সঙ্গে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে। বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য অনুরোধ করবো। যখন বেশি বাড়াবাড়ি করে তখন বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার, তোরা আল শামস, তোরা আল বদর।’বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গেসাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত যখন ঘটে, সেটা একদিনে ঘটে না। আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে যে লাভা বের হয়, তা অনেক আগে থেকে সৃষ্টি হয়। জুলাই বিপ্লবের সৃষ্টি শুরু হয়েছে সেই ১৩-১৪ বছর আগে থেকে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যুবদল, ছাত্রদলসহ সকল অঙ্গসংগঠন তিলে তিলে আগুন সৃষ্টি করেছে। যে আগুন জ্বলেছিল জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে, সেদিন ফ্যাসিবাদকে বিদায় নিতে হয়েছিল।’মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্মৃতিস্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি ১৯৭১ দেখেছি, বর্ডারে যুদ্ধ করেছি বিলোনিয়া সীমান্তে। আজকে যারা গণতন্ত্রের শপথ দিতে চায়, যারা ৭১-কে ২৪-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়, খাটো করে দেখতে চায়—তাদের একটি কথাই বলতে চাই, ভালোভাবে আচরণ করে যাচ্ছি, ভদ্রতার সঙ্গে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।’পাকিস্তান সফরের স্মৃতিতিনি একটি পুরোনো ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘পাকিস্তানে গিয়েছিলাম ২০০৪ সালে। জামায়াতে ইসলামীর একজন এমপি আমার সঙ্গে গিয়েছিলেন “সাফমা” কনফারেন্সে। আমি মুক্তিযোদ্ধা জেনে পাকিস্তানের একজন এমপি আমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিল, আই ক্যান্ট ফরগেট দ্যাট সিচুয়েশন বিকজ আই ওয়াজ আ ফ্রিডম ফাইটার। তবু দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে চুপ করে থাকি, কিছু বলি না। কিন্তু যখন বেশি বাড়াবাড়ি করে তখন বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার, তোরা আল শামস, তোরা আল বদর।’বিরোধীদলীয় নেতা প্রসঙ্গস্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধারা দেশটাকে স্বাধীন করেছি। স্বাধীনতা পাওয়া সেই দেশটিকে গড়ার লক্ষ্যে ঐক্য করতে চাই, কিন্তু আদর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সমঝোতা—আদর্শের সমঝোতা নয়। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা এখন নেই, উনি কালকে বলেছিলেন উনাকে কেন এত কসলে। মাননীয় স্পিকার, আমি একটু কসলে দিতে চাই।’স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘রাজাকার’, ‘আল শামস’, ‘আল বদর’ শব্দগুলো ব্যবহার করায় জামায়াত ও বিএনপির অনেক সদস্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তবে স্পিকার তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে বক্তব্য দিতে না দিলেও পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে এ ধরনের মন্তব্য করায় আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এ বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা