প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
সৌদি আরবের গোপন হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য: ইরানের ভূখণ্ডে অভিযানা
বিশ্ব ডেস্ক ||
মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরান ও সৌদি আরবের চলমান সংঘাতের সময় সৌদি বিমানবাহিনী ইরানি ভূখণ্ডে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে রয়টার্স। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ইরানি হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।এটিই প্রথমবার যেখানে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের মাটিতে সামরিক অভিযান চালাল, যা রিয়াদের প্রতিরক্ষা কৌশলে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মূলত যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চিরাচরিত নিরাপত্তা বলয় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় সৌদি আরব নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষায় অনেক বেশি সাহসী হয়ে উঠেছে।আমিরাতের গোপন হামলা ও ইসরায়েলের ভূমিকাপ্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের ওপর একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছে এবং অন্তত একটি হামলায় তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করেছে। গত ৫ এপ্রিল আমিরাতের বরুজ পেট্রোকেমিক্যাল সাইটে ইরানি হামলার জবাবে ইসরায়েল ও আমিরাত যৌথভাবে ইরানের সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আক্রমণ চালায়। যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল আমিরাতকে ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েও সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে।উত্তেজনা প্রশমনে গোপন সমঝোতাগত কয়েক মাসের যুদ্ধে ইরান উপসাগরীয় ছয়টি দেশের ওপরই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। সৌদি আরবের এই সামরিক তৎপরতা এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি গোপন সমঝোতা হয়েছে। রয়টার্স জানায়, মার্চের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরব শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর পাল্টাপাল্টি হামলা চালায় এবং ইরানকে সতর্ক করে যে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর ফলে এপ্রিলের শুরুতে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতাটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঠিক আগেই কার্যকর হয়েছিল। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ এই ঘটনাকে উভয় পক্ষের ‘বাস্তববাদী উপলব্ধি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক হয়েছে।যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও উত্তেজনার রেশ পুরোপুরি কাটেনি। ৭ ও ৮ এপ্রিল সৌদি আরবে পুনরায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে রিয়াদ আবারও পাল্টা আক্রমণের কথা বিবেচনা করে। সেই সময় পাকিস্তানকে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে দেখা যায়।বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং দেশগুলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নতুন নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক মেরুকরণে জড়াচ্ছে। যদিও সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো সরাসরি হামলা অস্বীকার করে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেওয়া, তবে ফাঁস হওয়া এই গোয়েন্দা তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অফ ইসরায়েল।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা