প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দেশের মাটিতে প্রথমবার ২-০ সিরিজ জয়া
নিউজ ডেস্ক ||
সিলেট টেস্টে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দুই ম্যাচের সিরিজে ক্লিন সুইপ (২-০) করেছে টাইগাররা। বুধবার (২০ মে) পঞ্চম দিনের খেলা শেষে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৮ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশ জয় পায়। জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল ৪৩৭ রান।ম্যাচের শেষ দিনপঞ্চম দিন সকালে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩ উইকেট। পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান। মোহাম্মদ রিজওয়ান (৯৪) ও সাজিদ খান (২৮) প্রতিরোধ গড়ে তুললেও বিরতির পরই ভাঙে তাদের জুটি। তাইজুল ইসলাম প্রথমে সাজিদকে ক্যাচ আউট করেন, পরে শর্ফুল ইসলাম রিজওয়ানকে ফেরান। শেষ দুই উইকেট দ্রুত পতন ঘটলে বাংলাদেশ জয় ছিনিয়ে নেয়।তাইজুলের দাপটবাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ইসলাম দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট (৩৪.২ ওভারে ১২০ রান) নেন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৮তম পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি। শর্ফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা একটি করে উইকেট নেন।লিটন দাস ম্যাচ সেরালিটন দাস প্রথম ইনিংসে ১২৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করেন। টেলএন্ডারদের সঙ্গে ব্যাটিং করে তিনি দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। তার অসামান্য পারফরম্যান্সের জন্যই তিনি ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন।মুশফিকুর রহমান সিরিজ সেরাদুটি টেস্ট মিলে মুশফিকুর রহমান ২৫৩ রান করেন। প্রথম টেস্টে ১২৬ ও এই টেস্টে ১৩৭ রান করে তিনি সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে নেন। এটিও তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম শতক, যা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ।পাকিস্তানের ব্যাটিংপাকিস্তানের পক্ষে চতুর্থ ইনিংসে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪ রানে অপরাজিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর বড় করতে পারেননি। সাজিদ খান ২৮, সালমান আলি আঘা ৭১ ও শান মাসুদ ৭১ রান করেন। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আর কেউ টিকতে পারেননি।অভিষেক ও রেকর্ডএই টেস্টে তানজিদ হাসানের টেস্ট অভিষেক হয়। মুশফিকুর রহমান এখন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ (১৪) টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক। বাংলাদেশ এটি তাদের ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় জয় (রানের ব্যবধানে)।সিলেট টেস্টের এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে একটি মাইলফলক। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে প্রায় বিপর্যয়ের মুখেও লিটন দাসের ব্যাটিং ও টেলএন্ডারদের লড়াই দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। পাকিস্তান চতুর্থ ইনিংসে লড়াই করলেও তাইজুলের অফ-স্পিনে কুঁড়ে যায় তাদের স্বপ্ন। নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পরিকল্পিত বোলিং পরিবর্তন ও দৃঢ় নেতৃত্বও এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ এখন সামনের কঠিন সিরিজের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা