প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
পাকিস্তানকে ধবলধোলাই, র্যাংকিং-এ সপ্তম, চ্যাম্পিয়নশিপে পঞ্চম— একসঙ্গে তিন কীর্তি বাংলাদেশেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
পাকিস্তানের মাটিতে ইতিহাস গড়ার পর ঘরের মাঠেও পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করলো বাংলাদেশ। মিরপুরের পর সিলেট টেস্টেও দাপুটে জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (২০২৫-২৭ চক্র) পয়েন্ট টেবিলেও বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টপকে সেরা পাঁচে উঠে এসেছে টাইগাররা।অভূতপূর্ব কীর্তিদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেট দলকে হোয়াইটওয়াশ করার অনন্য কীর্তি গড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে সফরকারী পাকিস্তান ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছিল। ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের সমীকরণটি ছিল নাটকীয়— বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ উইকেট, আর পাকিস্তানের দরকার ছিল আরও ১২০ রান।শেষ দিনের নাটকীয়তাপঞ্চম ও শেষ দিনের সকালে পাকিস্তানের হয়ে ইনিংস মেরামতের লক্ষ্যে ক্রিজে আসেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই প্রতিরোধ ভাঙার একটি মোক্ষম সুযোগ তৈরি করেছিলেন পেসার নাহিদ রানা। তাঁর বলে রিজওয়ান স্লিপে ক্যাচ তুলে দিলেও তা তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন মেহেদী হাসান মিরাজ। জীবন পাওয়ার পর সাজিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রিজওয়ান। অষ্টম উইকেটে এই দুই ব্যাটার দ্রুত পঞ্চাশোর্ধ রানের জুটি করে পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন।তাইজুলের ফাইফারতবে সফরকারীদের সেই স্বপ্নে পানি ঢেলে দেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ৩৬ বলে ২৮ রান করা সাজিদ খানকে সাজঘরে ফিরিয়ে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন তিনি। সাজিদকে আউট করার পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারে আরও একবার নিজের পাঁচ উইকেট (ফাইফার) শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। শেষ পর্যন্ত তাইজুলের এই স্পিন ঘূর্ণিতেই পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং ঐতিহাসিক জয় উদযাপনে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট টেবিলে বড় লাফএই জয়ের ফলে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ভারতকে টপকে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় ৫ নম্বরে উঠে এলো টাইগাররা। ভারতের পয়েন্ট এখন ৫২। বাংলাদেশের সামনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। (অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের উপরে অবস্থান করছে)টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও সেরা অবস্থানএই সিরিজ জয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বরেও উঠেছে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ ছিল ৯ নম্বরে। পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারানোয় বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এক লাফে বেড়েছে। ৬৩ থেকে রেটিং পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের ৭৮। ফলে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তানকে টপকে টেবিলের ৭ নম্বর স্থানটি নিজেদের করে নিয়েছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। অপরদিকে, সিরিজ হেরে পাকিস্তান দল দুই ধাপ পিছিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে নেমেছে।পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ শুধু দেশের মাটিতেই ইতিহাস গড়েনি, বরং আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট টেবিলে ভারতকে পেছনে ফেলে পঞ্চম ও টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম স্থান দখল করেছে। এটাই বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থান। রিজওয়ানের ক্যাচ ড্রপ ও তাইজুলের ফাইফার— সব মিলিয়ে নাটকীয় এই টেস্ট বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এই সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস ভবিষ্যতে কাজে দেবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা