প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
ইরানে মার্কিন এফ-১৫ ভূপাতিত, চীনা অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ইরানে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, বিমানটি চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ‘ম্যানপ্যাড’-এর আঘাতে বিধ্বস্ত হতে পারে।গত মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে বিমানটি ভূপাতিত হয়। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা তৈরি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটিকে লক্ষ্যভেদ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনও পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ে তদন্তাধীন।মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইরান হয়তো চীনের কাছ থেকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে স্টেলথ প্রযুক্তি, দূরপাল্লার রাডার সিস্টেম ও স্যাটেলাইট নজরদারি সুবিধা থাকতে পারে। এসব প্রযুক্তি ইরানের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, বিমানটি মাটিতে অবস্থানকারী শত্রুপক্ষের কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন ইরানে কোনো মারাত্মক অস্ত্র পাঠাচ্ছে না।বিমানটিতে থাকা দুই ক্রু সদস্য ইজেক্ট করে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন। একজনকে সাত ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা হলেও অন্যজনকে ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকার পর প্রায় দুই দিন পর মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করে।যদি ইরান সত্যিই চীনের তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন তিনটি চীনা স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বেইজিং অবশ্য এসব অভিযোগ নাকচ করেছে।সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে শত্রুপক্ষের সরাসরি গুলিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম, যা আমেরিকার সামরিক ইতিহাসে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা