প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানা
স্পোর্টস ডেস্ক ||
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ (২ জুন) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে ড. খলিলুর রহমান বিজয়ী হন।১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ৮১তম অধিবেশনে বৈশ্বিক এই ফোরামের নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ।দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তিনির্বাচনের মাধ্যমে আগামী এক বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন খলিলুর রহমান। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে নির্বাচিত হলেন।এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দনজাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অভিনন্দনবার্তায় তিনি বলেন, এ অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবদান ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন।প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বহুপাক্ষিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংযোগ, সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখবেন।‘সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করব’জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে মর্যাদাপূর্ণ বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, তিনি বিশ্বমঞ্চে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নয়, বরং সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিজের দায়িত্বকালীন সময়ে সকল সদস্য দেশকে সমানভাবে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত কোনো মতামতকে তিনি পেশাগত কাজে হস্তক্ষেপ করতে দেবেন না।ছয় দফা কর্মপরিকল্পনাবক্তব্যে তিনি ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন:১. শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা২. টেকসই উন্নয়ন এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ত্বরান্বিতকরণ৩. জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ৪. মানবাধিকার রক্ষা, মানবিক কর্মকাণ্ড, শরণার্থী ও অভিবাসী ইস্যু পরিচালনা৫. ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার৬. নবায়নযোগ্য বহুপাক্ষিকতা, ইউএন ৮০ সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলাজাতিসংঘের চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথখলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহুপাক্ষিকতা যখন নানাবিধ প্রতিকূল চাপের মুখে রয়েছে এবং আর্থিক সংকটের কারণে সংস্থাটি তার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক তখনই এই বৈশ্বিক সংকটগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে।তিনি বিশেষ করে জাতিসংঘে যেসব দেশের প্রতিনিধিদল বা মিশন আকারে ছোট, তাদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করাকে নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করবেন বলে জানান।বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০৩০ এজেন্ডার লক্ষ্য অর্জনে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা