প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
যশোরের চৌগাছায় স্ত্রীকে গাছের সাথে বেধে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা া
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
যশোরের চৌগাছায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জুয়েল আহমেদ রানা (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল আহমেদ রানা ওই উপজেলার মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সকালে মুক্তদাহ মোড়ে জুয়েল রানার সঙ্গে প্রতিপক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের ইউসুফ, কাশেম এবং স্থানীয় নজরম মেম্বারের ছেলে বাবু ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।হামলাকারীরা তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার একপর্যায়ে তার দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত নৃশংসভাবে হামলা চালানোর ঘটনা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা জুয়েল রানাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম জানান, সকালে তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তার স্বামী স্থানীয় মোড়ে চা খেতে যান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “হামলাকারীরা তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে আমার স্বামীর ওপর হামলা চালায়।”আকস্মিক এ মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ পুরো পরিবার। দুই সন্তানের বাবা জুয়েল রানার মৃত্যুতে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানরা কীভাবে দিন কাটাবে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন স্বজনরা।যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই জুয়েল রানার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”চৌগাছা থানার ওসি মো. মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণবার্তাকে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না হয়।স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহত ও হামলাকারী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরেই আজকের এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা