প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
ব্যবসা শুরু করতে সাত দিনে লাইসেন্স, ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধনা
নিউজ ডেস্ক ||
বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ী সেবা সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজীকরণ উদ্যোগের অংশ হিসাবে তিনি এ সব কথা বলেন।পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড সেবাঅর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজ করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া যৌক্তিকীকরণ করা হবে এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় আবেদন দাখিল, যাচাই, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা একই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে।পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি অনুমোদন ও লাইসেন্স সেবার জন্য নির্ধারিত সেবা স্তর চুক্তি নির্ধারণ করা হবে।স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের ব্যবস্থানির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, না-দাবি, অনাপত্তি বা ছাড়পত্র না দিলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সম্মতি আছে ধরে নিয়ে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পদ্ধতিতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানে মনিটরিং, জবাবদিহি ও কমপ্লায়েন্স নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।ছোট ও নতুন ব্যবসার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন এবং ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও প্রতিপালন সম্পন্ন করতে পারেন।৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধনকোম্পানির নামের ছাড়পত্র নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদান অনলাইনে সম্পন্ন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় সপ্তাহ খানেক সময় লেগে যায়।বিদেশি কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাবিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।যোগ্য বিনিয়োগকারী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি বিনিয়োগকারী ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়তা কাঠামোবড় ও কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন সমন্বয় করতে বিডিএর পাশাপাশি বেজা, বেপজা ও বিসিকেও সহায়তা কর্মকর্তা, সহায়তা দল বা প্রকল্পভিত্তিক কেস ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে।বিনিয়োগকারীর প্রশ্ন, অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করা হবে। খুদে বার্তা, ই-মেইল, হেল্প নম্বর ও অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনের অগ্রগতি জানানো হবে।আন্তর্জাতিক চুক্তি জোরদারবিনিয়োগকারীর আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যমান চুক্তিসমূহের কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।স্থানীয় পর্যায়েও ডিজিটালাইজেশনস্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়িক অনুমোদন সহজ করতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আবেদন, ফি পরিশোধ, নবায়ন, লাইসেন্স প্রদান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ অনলাইনে করা হবে, যাতে স্থানীয় অফিসে বারবার যাওয়া ও নবায়নজনিত বিলম্ব কমে।প্লাগ অ্যান্ড প্লে সুবিধা প্যাকেজনির্ধারিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লাগ অ্যান্ড প্লে শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালু করা হবে। এর আওতায় জমি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক সংযোগ ও প্রাথমিক অনুমোদন আগেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু করতে পারেন।দ্রুত নিরাপত্তা ছাড়পত্রবিদেশি কর্মীর নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াও পৃথকভাবে অনলাইনভিত্তিক ও নির্ধারিত সময়সীমার আওতায় আনা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই বজায় রেখেই অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা