প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চুক্তি দাবি ট্রাম্পের, কিন্তু তেহরান বলছে ‘ভিত্তিহীন’া
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে—এমন খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, আলোচনায় এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, মুখপাত্রের মতে, আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে যে দাবি করা হচ্ছে তা সময়ের আগেই করা হচ্ছে এবং এখনো কোনো বিষয় চূড়ান্ত হয়নি।তবে তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে বাঘেই জানান, আলোচনার খসড়ার বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে। ইরান তার ‘লাল রেখা’ বা মৌলিক অবস্থান থেকে কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। কাতার ও পাকিস্তান এই আলোচনায় সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানান তিনি।এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র্যালিতে এসব দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, “আপনারা হয়তো শুনেছেন, আমরা আজ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছি। তারা পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে, আর এ বিষয়টিতে আমরা অনড় ছিলাম।”পরে একই অনুষ্ঠানে তিনি আবারও বলেন, “আজ আমরা ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছি।” ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা একটি চমৎকার চুক্তি করেছি। কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। খুব শিগগিরই মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করবে। বলা যায়, বিষয়টি প্রায় সম্পন্ন। আমরা যা চেয়েছিলাম, সবই পেয়েছি।”উল্লেখ্য, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৩৮তম দাবি যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। গত মার্চ থেকে তিনি অন্তত ৩৮ বার দাবি করেছেন যে একটি চুক্তি আসন্ন। গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তিনি বলেছিলেন, চুক্তি চূড়ান্ত হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। কিন্তু সেই সময়েও কোনো চুক্তি হয়নি।এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান এখনও তার এনপিটি সেফগার্ডস চুক্তির অধীন বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান এখনো ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন ও মজুদ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র। তেজরানের অধিকাংশ ঘোষিত পারমাণবিক স্থাপনায় আইএইএ’র পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না।পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওমান ও কাতারে কয়েক দফা আলোচনা চললেও চুক্তির মূল প্রতিবন্ধকতা অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আলোচনার খসড়ায় ইরানের কাছ থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং হরমুজ প্রণালীতে অবাধ বাণিজ্য চলাচলের শর্ত রাখা হয়েছে। তবে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘লালরেখা’ অমান্য করবে না বলে বারবার জানিয়ে আসছে।তবে ট্রাম্পের এসব দাবির বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত বা অস্বীকার করে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন—আলোচনা চলছে, খসড়ার বড় অংশ তৈরি হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে ইরান তার ‘লাল রেখা’ নিয়ে আপস করবে না বলেও জানিয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা