প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
কেরানীগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তারা
নিউজ ডেস্ক ||
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা জেলেপাড়া এলাকায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মো. দিপু বিশ্বাস (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূর নাম মিম খাতুন (২০)। সোমবার (১৫ জুন) সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাসের ছেলে দিপু বিশ্বাসের সঙ্গে একই জেলার পুরাতন বাখরবা গ্রামের আব্দুল হামিদ মোল্লার মেয়ে মিম খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মানহা নামে ১৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার ভালো চললেও কেরানীগঞ্জে আসার পর দিপু বিশ্বাস মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি নিয়মিত গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন এবং মাদক সেবনে বাধা দিলে স্ত্রীকে মারধর করতেন।নিহতের চাচা আব্দুস সালাম জানান, সোমবার ভোরে মাদকাসক্ত অবস্থায় বাসায় ফেরার পর দিপু ও মিমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দিপু তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এতে মিম অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তিনি মারা গেলে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের উদ্দেশে ওড়না দিয়ে জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।পরে দিপু নিজেই মিমকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর লাশ বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়।বাড়ির মালিক রেজাউল করিম জানান, দিপু ও মিম তার বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, দিপু মাদকাসক্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিম খাতুনের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।”দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই দিপু বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, মিম খাতুন বাপের বাড়িতে কয়েকবার অভিযোগ করেছেন যে, দিপু তাকে মারধর করে। কিন্তু পরিবারের লোকজন বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত সেই মারধরের ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি।এলাকাবাসী ও স্বজনরা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। নিহতের ১৩ মাস বয়সী কন্যা মানহা এখন কার কাছে বড় হবে—সেই চিন্তাও তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা