প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
নীলফামারীতে গৃহবধূকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক ২া
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ডিমলা উপজেলায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলী সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গ্রেপ্তাররা হলেন—অলিয়ার রহমান (৪২) (উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জোরজিগা এলাকার খুচু মামুদের ছেলে)জাহিদুল ইসলাম (৩৬)মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জোরজিগা এলাকার এক গৃহবধূ গত ২৭ মে রাতে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণের শিকার হন। ওই সময় বাড়িতে একা ছিলেন তিনি। কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান।এরপর বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় ভুক্তভোগীকে। নির্যাতনের সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে অভিযুক্তরা।অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে ঘটনা প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। একই সঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেয় তারা।এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২ জুন বিকেলে অভিযুক্তরা তাকে ডিমলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর স্বামী ডিমলা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অলিয়ার রহমান, আমির হোসেন ওরফে কালা, রবি মামুদ, আমজাদ হোসেন ও জাহিদুল ইসলামসহ ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, “এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।”স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী এখনো শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাঁর পরিবার দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলার তদন্ত চলছে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত অন্যদের সন্ধান পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা