প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
ফেবারিট স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দো
স্পোর্টস ডেস্ক ||
আটালান্টায় মহাকাব্য রচনা করেছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছেন গোলবারের নিচে অতন্দ্রপ্রহরী হয়ে। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে এমন অর্জনের পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না করেছিলেন ভোজিনহা।ঐতিহাসিক মুহূর্তে পাশে ছিলেন না তার মা, তাই কেপ ভার্দের এই নায়কের কান্না। তিনি জানিয়েছেন, অর্থের অভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে। ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ভোজিনহা বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি, কিন্তু তারা আজ এখানে থাকতে পারেননি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি—ভিসা জটিলতা এবং এর জন্য যে টাকা দিতে হতো, সেই কারণে। আমরা সময়মতো সবকিছু সম্পন্ন করতে পারিনি।’ভোজিনহার এই আবেগ ছুঁয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বকে। বিবিসির বিশ্লেষক ও সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন লিখেছেন, ‘পুরো ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে মাঠে যা দেখালেন, তা অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে সব ক্যামেরা ছিল তার দিকে। সতীর্থরা আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন তাদের প্রকৃত নায়ককে।’‘ভোজিনহাকে কাঁদতে দেখে আমারও কান্না এসেছিল’সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সন জানালেন, ভোজিনহার কান্না দেখে কান্না চলে এসেছিল তারও। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। এই একটি পয়েন্ট কেপ ভার্দের প্রাপ্য ছিল। আজকের রাতটা শুধু তাদের। ভোজিনহাকে কাঁদতে দেখে আমার নিজেরই প্রায় কান্না চলে আসছিল।’ম্যাচের পুরোটা সময় স্পেনের আক্রমণ সামলে গোলরক্ষক ভোজিনহা বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেন। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের ৭০তম মিনিটে আলভারো মোরাতার হেডার ও ৮৫তম মিনিটে ফেরান টরেসের ডান পায়ের জোড়ালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকান তিনি।স্পেনের ২৭ শটের বিপরীতে কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতাপরিসংখ্যান বলছে, স্পেন ম্যাচে নিয়েছে ২৭টি শট, যার মধ্যে ৮টি লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে কেপ ভার্দে নিয়েছে মাত্র ২টি শট, একটি মাত্র লক্ষ্যে রেখেছে। তাতেও গোল করতে পারেনি। তবু স্পেনের বিরুদ্ধে পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে তারা। পুরো ম্যাচে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ভোজিনহা দারুণ খেলেছেন। ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের কোচ বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি দলের প্রতিটি সদস্যকে নিয়ে গর্বিত। ভোজিনহা শুধু গোলরক্ষক নয়, তিনি আমাদের আত্মা।’গ্রুপ পরিস্থিতিএই ড্রয়ের পর ‘ই’ গ্রুপে স্পেনের পয়েন্ট এখন ১। অপর ম্যাচে আইভরি কোস্ট ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে পেয়েছে ৩ পয়েন্ট। শীর্ষে আইভরি কোস্ট। কেপ ভার্দেও পেয়েছে ১ পয়েন্ট। ইকুয়েডর এখনও পয়েন্ট খোলা করতে পারেনি।এরপর কেপ ভার্দের সামনে রয়েছে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচ, যা তাদের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্নকে আরও বাস্তবায়ন করতে পারে। আর স্পেনকে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই, নইলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।ভোজিনহার কান্নার এই গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, ৪০ বছর বয়সে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। অনেকে বলছেন, অর্থের অভাবে মাকে আনতে না পারা ফুটবল বিশ্বে সমর্থকদের মন ছুঁয়েছে। এ যেন আটালান্টায় রচিত এক অপার্থিব কাব্য—যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সংগ্রাম ও আবেগের মেলবন্ধন হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা