প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন করেন ইঙ্গিতে জানালেন প্রধানমন্ত্রী া
স্পোর্টস ডেস্ক ||
চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজের পছন্দের দলের নাম সরাসরি না জানালেও কোন দলকে সমর্থন করেন সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে হাসিমুখে এমন ইঙ্গিত দেন তিনি।দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও নানা বিষয়ের আলোচনার একপর্যায়ে অবধারিতভাবেই সামনে আসে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ। এ সময় সিনিয়র সাংবাদিক সুমন মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কৌতূহলী প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘এখন বিশ্বকাপ চলছে। আপনি কোন দলের সমর্থক, আমরা সবাই জানতে চাই।’এ জবাবে মুখে মৃদু হাসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন তো একটা দেশে ছিলাম।’প্রধানমন্ত্রীর এই চটজলদি মন্তব্য সভাকক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির রোল তোলে এবং তার পছন্দের দলের বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি সরাসরি ইংল্যান্ড বা যুক্তরাজ্যের নাম উচ্চারণ না করলেও তার দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডে থাকা জীবনের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক ও উপস্থিত ব্যক্তিরা এটিকে ইংল্যান্ড ফুটবল দলের প্রতি তার সমর্থন হিসেবেই ধরে নিয়েছেন।আজকের এই মতবিনিময় সভায় প্রধানত দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে অনানুষ্ঠানিক এই ক্রীড়া বিষয়ক প্রশ্নোত্তর পর্বটি উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য ও হাস্যরসের সৃষ্টি করে।প্রধানমন্ত্রীর এই আকার-ইঙ্গিতের সূত্র ধরে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমি বিশ্লেষণ করলেই উত্তরটি অনায়াসে মিলে যায়। বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন মেয়াদের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জেল থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর তিনি পরিবারসহ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রবাস জীবন বা নির্বাসিত জীবন কাটাতে শুরু করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে আইনি ও রাজনৈতিক নানা জটিলতায় তিনি দেশে ফিরতে পারেননি।দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন পেরিয়ে অবশেষে গত ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। যেহেতু জীবনের এক সুদীর্ঘ সময় এবং প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি সপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন, তাই ব্রিটিশ ফুটবল সংস্কৃতি ও দেশটির প্রতি তার একটি বিশেষ ভালোলাগা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। ফলে প্রধানমন্ত্রী যে এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে হ্যারি কেনদের ‘থ্রি লায়নস’ খ্যাত ইংল্যান্ড দলকেই মনেপ্রাণে সমর্থন করছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখতে ভালো লাগে, তবে তিনি নিজে নিয়মিত খেলা দেখার সুযোগ পান না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষেরও ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আছে। আমরা সবাই ভালো খেলা দেখতে চাই।’ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। মতবিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সংবাদমাধ্যম দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই ইঙ্গিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা নানা মন্তব্য করছেন, কেউ কেউ মজা করে বলছেন, এবার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দোয়া থাকবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও তাঁর সমর্থিত দল নিয়ে বিশ্লেষণও করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দল ইতোমধ্যে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছে। দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর সমর্থনে নতুন করে আত্মবিশ্বাস পেতে পারে হ্যারি কেনের দল।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা