প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
গাড়ি, চাকরি ও কোরবানির গরু কেনার নামে প্রতারণা: বিটিএল গ্রুপের সিইও গ্রেপ্তারা
নিউজ ডেস্ক ||
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরি দেওয়া, ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির গরু কেনার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিটিএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা আবুল বাশারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন। এতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে চাকরির প্রলোভন, আসামি মুক্ত করার আশ্বাস, ভুয়া ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং গাড়ি ও কোরবানির পশু কেনাবেচার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রতারণার একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।আল আমিন হোসাইন বলেন, টানা ১৮ ঘণ্টার অভিযান শেষে শনিবার বেলা দেড়টার দিকে গুলশান-১ এলাকা থেকে প্রতারক মির্জা আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর গাড়ি কেনাবেচার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা হয়। তাকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলেও তিনি বারবার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। আল আমিন হোসাইন বলেন, গুলশান থানার পুলিশের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, বাশার গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সেখানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বাসার ভেতরে থাকা একটি সুড়ঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা চেষ্টার পর আজ দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।প্রতারক মির্জা আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে মানুষের আস্থা অর্জন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তার প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন চাকরিপ্রত্যাশী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তিনি কোরবানির পশু কেনাবেচার নামেও বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে সহায়তা করবে। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। ডিএমপি কর্মকর্তা আল আমিন হোসাইন জানান, এ ধরনের প্রতারণার শিকার কেউ হলে দ্রুত পুলিশে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার আবুল বাশারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে সতর্কতা বাড়িয়েছে এবং প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পুলিশ বলছে, এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা