প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্য আটক, গণপিটুনির শিকারা
||
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গভীর রাতে ঘরের বেড়া ভেঙে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়ারচর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন, যার বয়স ৪৫ বছর। তিনি দাঁতভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং একই সাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে যুক্ত আছেন।স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাতের অন্ধকারে জাকির হোসেন ওই এলাকার এক প্রবাসীর বসতবাড়ির টিনের বেড়া কেটে কিংবা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর ঘরে থাকা প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় আক্রান্ত নারীর আকস্মিক চিৎকার ও আত্মরক্ষার আওয়াজ পেয়ে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা এবং আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তারা একজোট হয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে ঘরের ভেতর থেকেই হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং গণধোলাই দেন। পরে ঘটনার কিছু ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে তা নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়, যা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোড়নের সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বেশ দীর্ঘ সময় ধরে তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় অনৈতিক কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ঘটনার রাতেও তিনি অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক তার ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জাকির হোসেন। আটক অবস্থায় তিনি দাবি করেন, তাকে মূলত সাধারণ কিছু কথাবার্তা বলার উদ্দেশ্যে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এরপর সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে তাকে মারধর করা হয়েছে।এই ঘটনার সার্বিক বিষয়ে রৌমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বর্তমানে থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জনপ্রতিনিধি হয়ে এমন নৃশংস কাজ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ওসি কাওছার আলী। তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা ভুক্তভোগীর পাশে আছি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা