প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
দেশের স্বার্থ রক্ষায় মালয়েশিয়া-চীন সফর: প্রধানমন্ত্রীা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।’ শনিবার বেলা ১১ টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে-বাংলাদেশ ফার্স্ট বা বাংলাদেশ প্রথম। আমি আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমাদের কারোরই কোনো ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। যদি কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে, ভালো কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে, এটি বাংলাদেশের অর্জন। এই সফরের মাধ্যমে যদি দেশের মানুষের কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি এ দেশের মানুষের অর্জন।’ ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘যেহেতু সংসদের সকল সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা উনিও দেশের জন্য, দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন, সেজন্য আবারও আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সকল সদস্যকে, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি, শ্রমবাজার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়। এরপর ২৩ জুন তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হন এবং সেখানে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং ও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। চীনে তার সফরে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার মধ্যে চারটি ছিল গণমাধ্যম খাতে। প্রধানমন্ত্রী তার সফরকে ‘সফল’ বলে অভিহিত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এসব চুক্তি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সংসদে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছি। এই সফরগুলোতে আমরা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছি।’ তিনি বিরোধী দলসহ সকল সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন, ‘দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বিরোধী দলীয় সদস্যদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়। তারা প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আবারও ধন্যবাদ জানান। এরপর বাজেট অধিবেশনের অন্যান্য কার্যক্রম চলতে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এসব চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবে সরকার।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা