প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
নতুন পে-স্কেলে কর্মচারীদের জন্য বাড়ছে নানান সুবিধাা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চমক ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা। এর মধ্যে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মচারীদের টিফিন ভাতা এক লাফে ৫ গুণ বাড়িয়ে মাসিক ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল চালুর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় এটিই হতে যাচ্ছে বিগত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বাজার পরিস্থিতিতে মাসিক মাত্র ২০০ টাকা টিফিন ভাতা কোনোভাবেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই বাস্তবতায় বেতন কমিশন নতুন পে-স্কেলে এই ভাতা ১০০০ টাকা করার জোর সুপারিশ করেছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের লাখ লাখ কর্মচারীদের দৈনন্দিন ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু টিফিন ভাতাই নয়, নবম জাতীয় বেতন স্কেলের চূড়ান্ত খসড়ায় আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকারী আর্থিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাবিত সুবিধাসমূহের মধ্যে রয়েছে—সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম গ্রেড) বেসিক বা মূল বেতন বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ২০,০০০ টাকা নির্ধারণের জোরালো প্রস্তাব। এছাড়া উৎসব উদযাপনে গতি আনতে বৈশাখি ভাতা বর্তমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কর্মচারীদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা ফিক্সড ২,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের চিকিৎসায় প্রথমবারের মতো বিশেষ সরকারি স্বাস্থ্যবীমা স্কিম চালু করা হতে পারে। আর প্রতিবন্ধী সন্তানের বিশেষ যত্ন ও সহায়তার জন্য মূল বেতনের বাইরে অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা বিশেষ ভাতা প্রদানের নিয়ম যুক্ত হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় বাড়লেও এটি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে টিফিন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি করা হবে। এতে সব সুবিধা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে। আশা করা যায়, আগামী জুলাই থেকেই কর্মচারীরা বাড়তি টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পেতে শুরু করবেন। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে কর্মচারীদের এই বাড়তি আর্থিক সুবিধা তাদের পারিবারিক ব্যয় মেটাতে কিছুটা সহায়তা করবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনমুখী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, এটি শুধু কর্মচারীদের নয়, পুরো অর্থনীতিতে ভোক্তা চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও, টিফিন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা