প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
কুমিল্লায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে তরুণ খুন, অভিযুক্ত তরুণী আটকা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গর্ভের সন্তান নষ্ট এবং বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে এক তরুণীর বিরুদ্ধে এক তরুণকে ছুরি মেরে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার ভোরে পৌরসভার লক্ষ্মীপুর গ্রামে ওই তরুণ খুন হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত সাইয়েদ আবদুল্লাহ ওরফে সিয়াম (২২) ওই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। আটক নাইমা জাহানের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। গতকাল রোববার রাতে তিনি লক্ষ্মীপুর গ্রামে আসেন। হত্যাকাণ্ডের পর নাইমা ও নিহত সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান খানকে (মাহিদ) আটক করেছে পুলিশ।আটক করার পর নাইমা জাহান উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, মুঠোফোনে সিয়ামের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন; কিন্তু গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন সিয়াম। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। পরে তিনি ২০ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামে তাঁর বাড়িতে আসতে বলেন। রোববার রাতে সিয়ামের কথামতো লক্ষ্মীপুর গ্রামে আসেন। সেখানে সিয়াম ও তাঁর বন্ধু আরিয়ান ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। আজ ভোরে সিয়াম তাঁকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে তিনি সিয়ামের পেটে আঘাত করেন।সিয়ামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন নাইমা ও আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সিয়ামকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই তরুণী ও সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান খানকে আটক করা হয়েছে। সিয়ামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইমা জাহান তার অভিযোগের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে আরিয়ান খান তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি ঘরের বাইরে ছিলেন এবং কিছুই জানেন না। পুলিশ এই বক্তব্য যাচাই করে দেখছে। নিহত সিয়ামের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় শোকাহত এবং তারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা বলেছেন, সিয়াম পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিল এবং তার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। এলাকাবাসী এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়টি নিয়ে এত নৃশংস হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে নাইমা জাহানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার জামিন আবেদন করা হতে পারে। তবে পুলিশ তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুমিল্লার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচিত হচ্ছে। অনেকে প্রেমের সম্পর্ক ও তার জটিলতা নিয়ে সতর্ক করেছেন। আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলায় আদালত কী রায় দেয় তা দেখার বিষয়। তবে প্রাথমিকভাবে তরুণী তার অপরাধ স্বীকার করায় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে। এলাকাবাসী আশা করছেন, দোষীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনে আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রেম, সম্পর্ক ও বিয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের জটিলতা সমাধানে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলবে। কুমিল্লার এই হত্যাকাণ্ড সবার জন্য একটি শিক্ষা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা