প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
নতুন পে-স্কেলের খসড়া গেজেট তৈরির কাজ শুরু,১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়বো
নিউজ ডেস্ক ||
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় পে-স্কেলের খসড়া গেজেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই গেজেট প্রকাশ হতে পারে। প্রস্তাবিত এই বেতন কাঠামোতে বিভিন্ন গ্রেডে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সরকার। তবে প্রথম ধাপেই সম্পূর্ণ নতুন মূল বেতন কার্যকর করার সুপারিশ রাখা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি পে-কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের রূপরেখা চলতি সপ্তাহেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করেছে উচ্চপর্যায়ের কমিটি। সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বা তার কিছুটা কম বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতনের প্রবৃদ্ধি ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। মূল বেতনের পাশাপাশি নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রূপরেখা জমা পড়ার পর সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে গেজেট আকারে তা প্রকাশ করা হবে।পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও এটি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে, এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য ভাতা সংযোজন করা হবে। সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোর পুরোপুরি বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এটি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে। আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তারপর ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সরকার বলছে, এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কর্মচারীদের মনোবল বাড়াবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পে-স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা