প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
নতুন ইউনিফর্মে মাঠে নামল পুলিশ, গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্টে ফিরেছে পুলিশের পোশাক। বুধবার নতুন পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। নতুন পোশাক পরা একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, নতুন পোশাকে ভালো লাগছে। আগের যে পোশাক ছিল সেটি বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে মানানসই ছিল না। বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে গাঢ় নীল শার্টে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে হালকা জলপাই রঙের শার্টে দেখা যায়। তবে উভয়ের প্যান্টের রঙ ছিল এক 'খাকি'।এ বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জাগো নিউজকে বলেন, আজকে থেকে নতুন পোশাক পরছে পুলিশ সদস্যরা। তবে সব সদস্যকে এখনও দেওয়া হয়নি। পর্যায়ক্রমে সব সদস্য এই পোশাক পাবেন। যারা নতুন ইউনিফর্ম পেয়েছেন তারা এরই মধ্যে নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন। গত মাসের ১৮ জুন পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। নতুন প্রজ্ঞাপনে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রং–সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের বিধানে পুলিশের শার্টের রং ছিল আয়রন বা লোহা-ধূসর, আর প্যান্টের রং ছিল কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের ওপর লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার ব্যবহারের কথা ছিল। নতুন বিধানে সেটির পরিবর্তে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টের সামনে চারটি পকেট থাকবে। সামনের অংশে সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে। প্রজ্ঞাপনে নারী পুলিশের পোশাকের বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়। নারী পুলিশ চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরা যাবে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজের কথা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরাও সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে নারী পুলিশ সদস্য সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন। প্রজ্ঞাপনে মৌসুম অনুযায়ী শার্টের ধরনও নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে শার্ট হবে অর্ধহাতা। শীতকালে শার্ট হবে পূর্ণহাতা। মাথার আবরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সেটি অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হবে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবিও করেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ। যদিও সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারাও পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এই রঙের পোশাক দেখতে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হওয়ায় তারা অস্বস্তি বোধ করেন।নতুন ইউনিফর্মে পুলিশের চেহারা অনেকটাই বদলে গেছে। গাঢ় নীল রঙের শার্ট ও খাকি প্যান্ট দেখতে অনেকটাই পেশাদার ও আধুনিক মনে হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরাও নতুন পোশাকে উৎসাহী। তারা বলছেন, এই পোশাক পরতে ভালো লাগছে এবং এটি তাদের কাজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষও এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা বলছেন, নতুন পোশাকে পুলিশকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও পেশাদার মনে হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন বলছে, নতুন ইউনিফর্ম পুলিশের ভাবমূর্তি উন্নত করতে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সহায়ক হবে। পর্যায়ক্রমে সব পুলিশ সদস্যকে নতুন ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে, অনেক পুলিশ সদস্য নতুন ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন এবং বাকিরাও খুব শীঘ্রই পাবেন। নতুন ইউনিফর্মের মাধ্যমে পুলিশের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এখন দেখার বিষয়, এই পরিবর্তন পুলিশের কার্যক্ষমতা ও জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে কতটা সহায়ক হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা