প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীা
বিশ্ব ডেস্ক ||
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু ও বাছুর জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন বলে বুধবার জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম। খবর এনডিটিভির। বিজয়ের দল টিভিকে জানায়, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের ওই আদেশ ১৯৫৮ সালের তামিলনাড়ু অ্যানিমাল প্রিজারভেশন অ্যাক্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই আইনে ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কাজ ও প্রজননের জন্য অনুপযুক্ত বলে প্রত্যয়িত গরু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু হাইকোর্ট আইনের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।তামিলনাড়ু সরকার জানায়, হাইকোর্টে করা মূল আবেদনে শুধু কোয়েম্বাটুরে কোরবানির ইদের সময় প্রকাশ্যে পশু জবাই বন্ধের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত পুরো তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। যদিও এমন কোনো আবেদন করা হয়নি। আদেশে ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়- কোরবানির ঈদের আগের দিন বা বছরের অন্য যেকোনো দিন যেন কোনো গরু বা বাছুর জবাই না হয় তা নিশ্চিত করতে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় মুসলমানরা স্থানীয় নিয়ম মেনে ব্যক্তিগত জায়গা ও ধর্মীয় সমাবেশে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। এই রায় শুধু কোরবানির ঈদকে প্রভাবিত করবে না। তামিলনাড়ুর অনেক হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক উৎসবে পশুবলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে।এদিকে বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে টিভিকে সরকার দেরি করেছে। ডিএমকের মুখপাত্র ড. সৈয়দ হাফিজুল্লাহ এনডিটিভিকে বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য কসাইখানা ব্যবহার কার্যকর হবে না। কারণ, সেখানে আগেই জায়গার সংকট রয়েছে। ধর্মীয় সমাবেশে পশু জবাইয়ের এই প্রথা আইনিভাবেই স্বীকৃত। শুধু মুসলমানরাই নয়, এখন হিন্দুরাও মন্দিরে কোনো পশুবলি দিতে পারবেন না। কেন এই পরিবর্তন করা হলো? তিনি আরও বলেন, কেউ দুধ দেওয়া গরু জবাই করে না, কারণ এতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। কেউ বাছুরও হত্যা করে না। এই আদেশে ষাঁড়, বলদ ও মহিষ জবাইও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমএমকের সভাপতি এম. এইচ. জওহিরুল্লাহ এই রায়কে বেদনাদায়ক এবং ধর্মীয় অনুশীলনে কঠোর হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, এই আদেশ সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন ও চর্চার স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি হওয়ার সমালোচনার জবাবে টিভিকের একটি সূত্র জানায়, আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য আমাদের কিছু সময় দরকার ছিল।এদিকে, তামিলনাড়ুর বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও হিন্দু মন্দির কমিটিগুলো এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলেছেন, এটি তাদের ধর্মীয় অধিকার ও ঐতিহ্যের ওপর হস্তক্ষেপ। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এই রায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা সরকার ও আদালতের কাছে এই রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পশুপ্রেমী সংগঠনগুলো এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ করবে। তবে এই রায়ের ফলে তামিলনাড়ুর কৃষি ও মাংস শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হলে অনেকের জীবিকা সংকটে পড়বে। মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের পর এখন সেই আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। সুপ্রিম কোর্ট যদি এই রায় বহাল রাখে, তবে এটি তামিলনাড়ুর ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। অন্যদিকে, যদি রায় বাতিল হয়, তবে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলো হতাশ হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে শুনানি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর মানুষ এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা