প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
পাকিস্তানে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৪০া
বিশ্ব ডেস্ক ||
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস গভীর খাদে পড়ে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। শুক্রবার বেলুচিস্তানের শেরানি জেলা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে প্রবেশের পরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। বেলুচিস্তান প্রদেশ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিষয়ক সহকারী শাহিদ রিন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতির নির্দেশে দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া- দুই প্রদেশের জেলা প্রশাসন, উদ্ধারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তও করা হবে।শেরানির ডেপুটি কমিশনার ওয়ালি খান কাকার বলেন, বাসটি কোয়েটা থেকে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে রওনা হয়েছিল। তবে পথে বিকল হয়ে যাওয়া আরেকটি বাসের কয়েকজন যাত্রী এতে ওঠেন। ফলে বাসটিতে মোট কতজন ছিলেন, তা নিয়ে শুরুতে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দেয়। অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়া ‘রেসকিউ ১১২২’-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ৪৮ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঝোব জরুরি সেবা বিভাগ ও রেসকিউ ১১২২-এর দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহত আটজনকে ঝোব জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহগুলো প্রথমে কাছের একটি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলেও পরে সেগুলো ঝোব জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ও আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতিও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, উদ্ধারকাজ জোরদার করা, আহত ব্যক্তিদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে বেলুচিস্তান সরকার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনা একটি সাধারণ ঘটনা। খারাপ সড়ক, যানবাহনের দুর্বল অবস্থা এবং নিরাপত্তা বিধি না মানার কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। অনেক মরদেহ এখনও উদ্ধার করা বাকি রয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। পাকিস্তান সরকার দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা সড়ক নিরাপত্তা উন্নত করতে সুপারিশ করবে। এই দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন ও সচেতনতা প্রয়োজন। পাকিস্তানের জনগণ এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত। তারা নিহতদের আত্মার শান্তি ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে এবং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে বলে আশা করা যায়। ততদিন পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চলমান থাকবে। পাকিস্তানের মানুষ এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা