প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
খামেনির জানাজায় অনুপস্থিত সৌদি আরব ও গালফ দেশগুলোা
নিউজ ডেস্ক ||
ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা। তবে এই তালিকায় সৌদি আরবের কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি দেখা যায়নি। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য সপ্তাহব্যাপী আয়োজন শুরু করেছে ইরান। তবে শুক্রবার শুধুমাত্র বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। কাল শনিবার থেকে সাধারণ মানুষ দেখার জন্য তার কফিন উন্মুক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।১৪ মাস আগে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত হওয়ার পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু খামেনির মৃত্যুর পর দেশটি থেকে কেউ আসছেন না। শুক্রবার পর্যন্ত সৌদি তাদের কোনো প্রতিনিধিকে চূড়ান্ত করেনি। এছাড়া গালফ অঞ্চলের দেশগুলোও খামেনির শেষ বিদায়ে নিজেদের প্রতিনিধিদের পাঠায়নি। যারমধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা হামলা হিসেবে এসব দেশে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার দিনই খামেনি তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন। কিন্তু গালফ অঞ্চলের দেশগুলো এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোক জানায়নি। এর মাধ্যমে তারা মূলত মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে অস্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব ও গালফ দেশগুলোর এই অবস্থান ইরানের নতুন নেতৃত্বকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। ইরানের সঙ্গে এই দেশগুলোর সম্পর্ক ইতিমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল এবং খামেনির মৃত্যু এই সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে ইরানের পাল্টা হামলায় এই দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে, ইরানও এই দেশগুলোর অবস্থানে অসন্তুষ্ট। তারা আশা করেছিল, তাদের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে এই দেশগুলো শ্রদ্ধা জানাবে। কিন্তু তা না হওয়ায় ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলও এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনেক দেশই চায় না যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তৈরি হোক। কিন্তু গালফ দেশগুলোর এই পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ইরান ইতিমধ্যে তাদের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনিকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই দেশগুলো তাকে স্বীকৃতি দেয়নি, যা ইরানের জন্য অপমানজনক। এখন দেখার বিষয়, ইরান কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। তারা হয়তো কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে পারে, অথবা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এদিকে, সৌদি আরব ও অন্যান্য গালফ দেশগুলো তাদের অবস্থানে অনড় থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত সবাই এই উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে আছে। ইরানের জনগণ তাদের নেতার মৃত্যুতে শোকাহত, কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নতুন রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করেছে। খামেনির জানাজা শেষ হলে এবং নতুন নেতা দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। তবে আপাতত সৌদি আরব ও গালফ দেশগুলোর অনুপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অনেক দেশ হয়তো ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চাইছে, কিন্তু এই পদক্ষেপ তা কঠিন করে তুলছে। এখন সময় বলবে, এই উত্তেজনা কীভাবে প্রশমিত হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই পরিস্থিতিতে সংযত থাকা এবং কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই উত্তম পথ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কঠিন বলে মনে হচ্ছে। সবাই আশা করছে, যেন কোনোভাবে শান্তি বজায় থাকে। তবুও এই ঘটনা ইরান ও গালফ দেশগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্কের উন্নতি হবে নাকি আরও অবনতি হবে, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত সবাই এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং আশা করছে যেন কোনো বড় ধরনের সংঘাত না ঘটে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা