প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
গাইবান্ধায় পৌর ট্রাকের চাপায় মসজিদের খাদেম নিহতা
নিউজ ডেস্ক ||
গাইবান্ধায় পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাকের চাপায় মাসুদ মিয়া (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে জেলা শহরের পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেট সংলগ্ন এলাকায় সাদুল্লাপুর সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ মিয়া জেলা শহরের জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি শহরের মিলন ফার্মেসির বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি গাইবান্ধা সদর উপজেলা মডেল মসজিদের খাদেম হিসেবেও কাজ করতেন।পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, মাসুদ মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে ফার্মেসির বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলা মডেল মসজিদের খাদেম হিসেবেও কাজ করতেন। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মসজিদ সাফাইয়ের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই উদ্দেশ্যে দুপুরে তিনি মোটরসাইকেল করে বাড়ি থেকে সদর উপজেলা মডেল মসজিদ যাচ্ছিলেন। পথে ওই এলাকায় গাইবান্ধা পৌরসভার একটি ময়লাবাহী বিপরীতমুখী ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে তিনি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।গাইবান্ধা সদর থানার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই ঘটনায় নিহত মাসুদ গাইবান্ধা সদর উপজেলা মডেল মসজিদের খাদেম হিসেবেও কাজ করতেন বলে জানতে পেরেছি। শুক্রবার মোটরসাইকেল করে তিনি মসজিদ পরিষ্কার করতে যাচ্ছিলেন। পথে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ঘটনার খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ট্রাকচালক ঘটনার পর পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা করছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।নিহত মাসুদ মিয়ার সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। ফার্মেসির কাজের পাশাপাশি তিনি মসজিদের খেদমত করতেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পৌরসভার ট্রাকগুলো প্রায়ই বেপরোয়াভাবে চলে, যা দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। তারা ট্রাকচালকদের সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন। গাইবান্ধা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে, মাসুদ মিয়ার পরিবার এই মৃত্যুতে শোকাহত। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান এখন অসহায়। তারা চান, ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তারা যেন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান। তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, এখন তাদের কোনো আয়ের উৎস নেই। স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো সহায়তার হাত বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, রাস্তায় সতর্কতা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলা কতটা জরুরি। চালকদের উচিত সাবধানে গাড়ি চালানো এবং পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের প্রতি সতর্ক থাকা। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে। গাইবান্ধার এই দুর্ঘটনা সবার জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া জরুরি। মাসুদ মিয়ার অকাল মৃত্যুতে সবাই ব্যথিত। তার আত্মার শান্তি কামনা করছেন এলাকাবাসী। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই মামলার অগ্রগতি জানা যাবে বলে আশা করা যায়। এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সবাই যদি সচেতন হই, তাহলে এ রকম মর্মান্তিক ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সাধারণ মানুষও সড়ক ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকবেন, এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, এই দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয় এবং ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করতে পারে কিনা। ততদিন পর্যন্ত নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী অপেক্ষায় থাকবেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা