প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তা পাচ্ছেন ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধাা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী। গত বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ এবং তিন বাহিনীর সদরদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সুবিধাপ্রাপ্ত ১৫০ কর্মকর্তার মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন রয়েছেন। অধিকাংশ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসর বাতিল করে চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত কর্মরত হিসেবে গণ্য করে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেককে লেফট্যানেন্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা সংশ্লিষ্ট পদমর্যাদার বকেয়া বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।প্রজ্ঞাপনে কয়েকজন কর্মকর্তার জন্য বিশেষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এককালীন ৩০ লাখ, ৫০ লাখ এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং বয়স ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগও রাখা হয়েছে। সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে এসএসএফের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমীর ২০০৯ সালের বাধ্যতামূলক অবসর সংশোধন করে ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট স্বাভাবিক অবসর দেখানো হয়েছে। ফলে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেজর জেনারেল পদমর্যাদার বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে মেজর জেনারেল এবং ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে লেফট্যানেন্ট জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি বকেয়া বেতন-ভাতা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা, এক কোটি টাকা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিমের বাধ্যতামূলক অবসর সংশোধন করে ২০১২ সালের ৩০ জুন স্বাভাবিক অবসর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল পদমর্যাদার বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবিচারের শিকার হওয়া অনেক সামরিক কর্মকর্তা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত হয়েছিলেন, তারা এখন কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেলেন। তবে এখনও অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন যারা এই সুবিধার আওতায় আসেননি। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে তাদেরও এই সুবিধা দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে এবং আরও কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, এই ধরনের উদ্যোগ সামরিক বাহিনীতে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। আগামী দিনগুলোতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব স্পষ্ট হবে। আপাতত সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের প্রাপ্য সুবিধা পেতে শুরু করেছেন এবং তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই পদক্ষেপ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও অনেক সংস্কার আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা