প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
উনাহির জোড়া গোলে কানাডাকে ৩-০ উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোা
স্পোর্টস ডেস্ক ||
প্রথমার্ধে গোল না পেলেও মরক্কোকে বেশ চাপে রেখেছিল কানাডা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রীতিমতো উড়ে গেছে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশটি। আজ্জেদিন উনাহির জোড়া গোলে কানাডাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে মরক্কো। ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ধরে রেখে খেলতে চেয়েছিল মরক্কো। তবে পাঁচ মিনিটের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় কানাডা। ম্যাচের ১১ মিনিটে মরক্কোর রক্ষণভাগের ভুল থেকে ম্যাচের সেরা সুযোগ পায় কানাডা। আহমেদের পাস থেকে টনি ওলুওয়াসেইয়ের নিচু শট পা বাড়িয়ে অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। দুই দলই বল দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব একটা তৈরি হয়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।বিরতি থেকে ফিরে ৫ মিনিটের মাথায় লিড নেয় মরক্কো। ৫০ মিনিটে ডান প্রান্তে আশরাফ হাকিমি ফ্রি–কিক থেকে সরাসরি শট না নিয়ে বল পাঠান বক্সের কাছাকাছি থাকা আজ্জেদিন উনাহিকে। দারুণ এক মাটি কামড়ানো শটে বল জালে জড়ান এই মিডফিল্ডার। এরপর ম্যাচের ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। আর অতিরিক্ত সময়ে কানাডার কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন সুফিয়ান রাহিমি। এতেই ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো।ম্যাচ শেষে মরক্কো কোচ বলেন, ‘আমরা প্রথমার্ধে ভালো খেলতে পারিনি, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াই। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় অসাধারণ খেলেছে।’ অন্যদিকে কানাডার কোচ বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু গোল করতে না পারায় দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ধারা বদলে যায়। মরক্কোকে কৃতিত্ব দিতে হবে।’ ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন জোড়া গোল করা আজ্জেদিন উনাহি। তার দুটি গোলই অসাধারণ ছিল এবং তিনি পুরো ম্যাচে মিডফিল্ডে দুর্দান্ত খেলেছেন। মরক্কোর এই জয় তাদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা। তারা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছে। তাদের সমর্থকরা এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে কানাডা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিচ্ছে, কিন্তু তারা তাদের প্রথম বিশ্বকাপে ভালো লড়াই করেছে। তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আশা করা যায়। মরক্কো এখন কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। তারা যদি এই ফর্ম ধরে রাখতে পারে, তবে সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখতে পারে। এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং তারা আরও এগিয়ে যেতে চাইবে। ফুটবল বিশ্ব এই দলের প্রতি নজর রাখবে। মরক্কোর এই সাফল্য আফ্রিকান ফুটবলের জন্যও গর্বের। তারা প্রমাণ করেছে, আফ্রিকান দলগুলো বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালে কেমন খেলে এবং তারা কি আরও চমক দিতে পারে। এই প্রশ্নের উত্তর মাঠেই মিলবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের সময়সূচি নির্ধারিত হবে। ফুটবলপ্রেমীরা মরক্কোর পারফরম্যান্স উপভোগ করছেন এবং তাদের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। এই জয় মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আগামী দিনগুলোতে এই সাফল্য আরও বেশি আলোচিত হবে। মরক্কোর জনগণ তাদের দলকে নিয়ে গর্বিত এবং তারা স্বপ্ন দেখছে আরও বড় কিছু করার। এই জয় তাদের দেশের জন্য একটি বিশাল অর্জন। ফুটবলই পারে একটি জাতিকে এক করতে এবং তাদের স্বপ্ন দেখাতে। মরক্কোর এই সাফল্য তারই উদাহরণ। এখন সময় বলবে, তারা কতদূর এগোতে পারে। তবে এই মুহূর্তে তারা তাদের সাফল্য উপভোগ করছে এবং আগামী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফুটবল বিশ্ব এই দলের প্রতি নজর রাখবে। মরক্কোর ভক্তরা আশা করছেন, তাদের দল আরও ইতিহাস গড়বে। এই জয় তাদের জন্য একটি নতুন শুরু। তারা প্রমাণ করেছে, স্বপ্ন দেখার কিছু নেই। পরিশ্রম আর মনোযোগ দিয়ে যে কোনো কিছু সম্ভব। মরক্কোর এই যাত্রা সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। এখন অপেক্ষা পরবর্তী ম্যাচের। সেখানে তারা কী করে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই মুহূর্তে তারা তাদের বিজয় উদযাপন করছে। মরক্কো জয়ী হয়েছে, এবং এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা