প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সা
ক্রীড়া প্রতিবেদক ||
প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের ডিফেন্স ভাঙতে ব্যর্থ হয় ফ্রান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার গোলেই প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসিরা। ম্যাচের শুরু থেকে প্যারাগুয়ের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণে প্যারাগুয়ের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখে এমবাপ্পে-ওলিসেরা। তবে সেই ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধে ৮০ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে ফ্রান্স। তবুও ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। এতে গোলশূন্য সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দুই দল।বিরতি থেকে ফিরে গোলের আশায় ম্যাচের ৬১ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন আনেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। ব্র্যাডলি বারকোলার বদলে মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যে দলকে পেনাল্টি এনে দেন দেজিরে দুয়ে। পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান এমবাপ্পে। এই গোলে চলতি বিশ্বকাপে গোল সংখ্যায় মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন ফরাসি অধিনায়ক। দুজনেরই গোলসংখ্যা এখন সাত। এ দিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসির (২০) থেকে আর মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন এমবাপ্পে (১৯)। এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে বেশ কিছু আক্রমণ করে প্যারাগুয়ে। শেষ দিকে ডি বক্সের ভেতর থেকে পর পর দুটি শট নেন এমবাপ্পে। তবে তা আটকে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।ম্যাচ শেষে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু গোল পাইনি। দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে তার কাজটি করেছে। আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি এবং এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।’ অন্যদিকে প্যারাগুয়ে কোচ বলেন, ‘ফ্রান্স একটি শক্তিশালী দল। আমরা লড়াই করেছি, কিন্তু তাদের মানের কাছে টিকতে পারিনি।’ ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেছেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে তার অসাধারণ ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। ফ্রান্স এখন কোয়ার্টার ফাইনালে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। তারা যদি এই ফর্ম ধরে রাখতে পারে, তবে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে। এমবাপ্পে ও মেসির মধ্যে গোলের লড়াই বিশ্বকাপে অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন এই দুই তারকার পারফরম্যান্স উপভোগ করছেন। ফ্রান্সের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং তারা আরও এগিয়ে যেতে চাইবে। এখন দেখার বিষয়, কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স কেমন খেলে এবং তারা শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগোতে পারে কিনা। এই জয় ফ্রান্সের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাদের সমর্থকরা এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। তারা বিশ্বাস করেন, তাদের দল বিশ্বকাপ জিততে পারে। এমবাপ্পে তার দলকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত। ফুটবল বিশ্ব এই দলের প্রতি নজর রাখবে। ফ্রান্সের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের সময়সূচি শিগগিরই নির্ধারিত হবে। ফুটবলপ্রেমীরা সেই ম্যাচের জন্য অপেক্ষায় থাকবেন। ফ্রান্সের এই জয় তাদের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। আগামী দিনগুলোতে এই সাফল্য আরও আলোচিত হবে। ফরাসি জনগণ তাদের দলকে নিয়ে গর্বিত। তারা স্বপ্ন দেখছে আরও বড় কিছু করার। এই জয় তাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন। ফুটবলই পারে একটি জাতিকে এক করতে এবং তাদের স্বপ্ন দেখাতে। ফ্রান্সের এই সাফল্য তারই উদাহরণ। এখন সময় বলবে, তারা কতদূর এগোতে পারে। তবে এই মুহূর্তে তারা তাদের সাফল্য উপভোগ করছে এবং আগামী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফুটবল বিশ্ব এই দলের প্রতি নজর রাখবে। ফ্রান্সের ভক্তরা আশা করছেন, তাদের দল আরও ইতিহাস গড়বে। এই জয় তাদের জন্য একটি নতুন শুরু। তারা প্রমাণ করেছে, স্বপ্ন দেখার কিছু নেই। পরিশ্রম আর মনোযোগ দিয়ে যে কোনো কিছু সম্ভব। ফ্রান্সের এই যাত্রা সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। এখন অপেক্ষা পরবর্তী ম্যাচের। সেখানে তারা কী করে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই মুহূর্তে তারা তাদের বিজয় উদযাপন করছে। ফ্রান্স জয়ী হয়েছে, এবং এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা