প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সীমান্তে নতুন থানা-ফাঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগা
বিশ্ব ডেস্ক ||
পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন তিনটি থানা ও তিনটি পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিশের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, কালিয়াচক থানার গোপালগঞ্জ, বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভীরা ও হাবিবপুর থানার বুলবুল চণ্ডী—এই তিনটি ফাঁড়িকে উন্নত করে নতুন থানা গড়ে তোলা হবে। এছাড়া হবিবপুরের জাজইল ও বামনগোলা থানার জগদল্লা এলাকায় দুটি নতুন ফাঁড়ি ও ইংরেজ বাজারের লুকোচুরি পুলিশ ফাঁড়িকে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে । মালদহ জেলার পুলিশ সুপার আরও বলেন, “আমরা যাতে সীমান্ত অঞ্চলে নজরদারি বাড়াতে পারি ও পুলিশের সঙ্গে জনগণের একটি সম্পর্ক তৈরি করতে পারি, সেই উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” ভারত-বাংলাদেশের মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২,২১৬ কিলোমিটার) পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত । মালদহ জেলার হাবিবপুর ও বামনগোলা থানা এলাকায় সীমান্তের কিছু অংশ এখনও কাঁটাতারের বেড়াবিহীন রয়েছে, যা অনুপ্রবেশ ও পাচারের ঝুঁকি তৈরি করেছে । নতুন থানা-ফাঁড়ি নির্মাণের মাধ্যমে এসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুলিশ সুপার সিং জানিয়েছেন, “যেহেতু আমাদের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কাজ করতে হয় ও প্রায় সব থানাই সীমান্ত অঞ্চল থেকে অনেক দূরে, তাই সেখানে পুলিশের উপস্থিতি ঠিক রাখা উচিৎ। এতে মানুষ নিরাপদ থাকে। আধা-সামরিক শক্তির সঙ্গে আমাদের সমন্বয় বাড়বে।” এছাড়া অনুপ্রবেশের যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলো আটকাতে সক্ষম হওয়ার পাশাপাশি চোরা চালান আটকানো এবং সামগ্রিকভাবে পুলিশ ও সাধারণ জনগণের সম্পর্ক ঠিক রাখার লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । হাবিবপুরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী জোয়েল মুর্মু এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “গবাদি পশু পাচার, অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার আমার বিধানসভা এলাকার প্রধান উদ্বেগের বিষয়। নতুন থানা ও ফাঁড়ি স্থাপন পুলিশি কার্যক্রমকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে এবং এসব অপরাধ কমাতে সাহায্য করবে।” সীমান্ত অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নতুন করে পুলিশ ফাঁড়ি হলে তাদের সুবিধা হবে। রাজ্য পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাবে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফের ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষবৈঠকে উভয়পক্ষ সীমান্তে টহল জোরদার, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে । নিয়ম অনুযায়ী, নতুন থানা ও ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজ্য সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়ার ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী । সরকারি অনুমোদন পেলে এই থানা ও ফাঁড়িগুলো দ্রুত কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা