প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ বিল সংসদে উপস্থাপন করেও প্রত্যাহারা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশে মদ্যপান, মদ্যজাতীয় পানীয় ও জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে বেসরকারি সদস্যের উদ্যোগে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলটিও প্রত্যাহার করা হয়। সরকার জানায়, এ দুটি বিষয়ে ইতোমধ্যে বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বেসরকারি সদস্য হিসেবে দুটি বিল উত্থাপন করেন। বিল দুটি উত্থাপনের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্য যে দুটি আইন প্রস্তাব করেছেন, সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই কার্যকর আইন রয়েছে। এ অধিবেশনেই “জুয়া আইন, ২০২৬” পাস হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনেও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত আছে।’ তিনি বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’-এর ধারা ২-এর উপধারা (৫), উপধারা (২৪), উপধারা (২৯) এবং ধারা ১১ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, সংসদ সদস্য যে উদ্দেশ্যে বিলটি এনেছেন, তা বিদ্যমান আইনেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’ এরপর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আইনমন্ত্রীর অনুরোধে বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন।পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘যেহেতু প্রস্তাবকারী সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রীর অনুরোধে বিল উত্থাপন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন, তাই বিলটি ভোটে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মদ ও জুয়ার কারণে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি রোধ এবং তরুণ-যুব সমাজকে এসব আসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রেখে সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।বিলে আরও বলা হয়, মদ ও জুয়া তরুণ ও যুব সমাজের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব আসক্তি তাদের নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং অপরাধপ্রবণতার দিকে ঠেলে দেয়। এতে তারা পড়াশোনা, কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন তাদের মানসিক অস্থিরতা, হতাশা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়।এতে আরও উল্লেখ করা হয়, মদ্যপানের ফলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং যুবসমাজের সৃজনশীলতা, কর্মক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ হ্রাস পায়, যা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।বিলের প্রস্তাবনায় বলা হয়, তরুণ-যুবসমাজকে মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উৎপাদনশীলতায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং নৈতিকতা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা