প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
শাহজালাল (রহ.) মাজার থেকে দ্বিতীয় দফায় মিলল ৪৭ লাখ টাকাা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স থেকে দ্বিতীয়বারের মতো টাকা গণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৭০০ বছরের ইতিহাসে এবারই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হলো। শনিবার সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে চলা এই গণনায় ১৯ দিনে জমা হয়েছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। আগেরবারের তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় তিন গুণ বেশি।শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় দরগাহ মসজিদের বারান্দায় গণনা শুরু হয়। মাজার কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে চার বস্তা টাকা গণনা করা হয়। এতে মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।শুধু নগদ টাকাই নয়, দানবাক্সে মিলেছে বিদেশি মুদ্রাও। সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি, ইউরো, ডলার, দিরহাম, মালয়েশিয়ান রিংগিত ও পাকিস্তানি রুপি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৯ গ্রাম স্বর্ণ ও ৩৯ গ্রামের বেশি রূপাও উদ্ধার হয়েছে।এবার পাওয়া টাকার মধ্যে ১০ ও ৫০ টাকার নোটের সংখ্যাই বেশি। গতবার ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের আধিক্য থাকলেও এবার ছোট নোটের পরিমাণই বেশি। দানবাক্সে ভক্তদের পাশাপাশি মাজার এলাকায় রাখা ডেগগুলোতেও টাকা জমা হয়েছিল।গবাদি পশুর হিসাবেও চোখ পড়ার মতো তথ্য পাওয়া গেছে। ৬৫টি ছাগলের মধ্যে ৪০টি লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২৫টি বিক্রি করে আয় হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা। আর একটি গরুও লঙ্গরখানায় খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।সিলেটের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবার গত ২২ জুন দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ৪ দিনে জমা হয়েছিল ১৭ লাখ টাকা। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই অর্থ সোনালী ব্যাংকের মাজার অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, তারও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা