প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের, নিহতের সংখ্যা নিয়ে উত্তেজনাা
বিশ্ব প্রতিবেদন, গণবার্তা: ||
জর্ডানের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে সফল বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইরানের আইআরজিসির কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক বিজ্ঞপ্তিতে এই ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করা হয়েছে।আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে বাহিনীর অ্যারোস্পেস বা আকাশ প্রতিরক্ষা শাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে। এই অভিযানের মাধ্যমে আমেরিকার একটি আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম এবং শেল্টারের ভেতরে থাকা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ইরানি বাহিনী আরও স্পষ্ট করেছে যে এই অঞ্চলে মার্কিন রাডার কাভারেজ বা নজরদারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও খালি করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে আরও বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পথ সহজ করা সম্ভব হবে বলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।পাশাপাশি জর্ডানের আল-রুকবান এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সেনানিবাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সেনাকে হত্যা করার দাবি করেছে আইআরজিসি। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, 'আগ্রাসী' মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান 'অপারেশন নাসর ২'-এর অংশ হিসেবে জর্ডানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আল-রুকবানে মার্কিন সেনাদের আবাসিক কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আমাদের অভিযান সফল হয়েছে। আল-রুকবানের ওই আবাসিক কমপ্লেক্সে বহু মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।'মঙ্গলবার সকালে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জর্ডানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার জের ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। টানা ৪০ দিন সংঘাত চলার পর ৭ এপ্রিল উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এর দুই মাসেরও বেশি সময় পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ইসলামাবাদে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে শান্তি স্থায়ী হয়নি। গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি। এর জবাবে ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাত এখনও অব্যাহত রয়েছে।এদিকে, ইরানকে ঘুষ দেওয়ার বা ভয় দেখানোর যেকোনো মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রচেষ্টাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকার চলাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ১২ দিনের যুদ্ধের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বের কথা স্মরণ করে আব্বাস আরাগচি বলেন, 'তারা আমাকে নয়, বরং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ঘুষ দিতে এসেছিল। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এটা-সেটা করে দেবে এবং অনেক কিছু বানিয়ে দেবে। কিন্তু আমি তাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছি আমাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিক্রির জন্য নয়।' তিনি সেখানে দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন যে 'এখানে কোনো ঘুষ বা হুমকির স্থান নেই, কারণ হুমকি দিতে হয় তাকে যে ভয় পায়।'চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত সত্ত্বেও ইরানের মৌলিক নীতি বা কৌশলে বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তেহরানের বন্ধু ও শত্রু উভয় পক্ষই তাকে স্বীকার করেছে যে বিশ্ব এখন বুঝতে পেরেছে ইরানের আসল পারমাণবিক বোমা হলো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান 'হরমুজ প্রণালী'।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট আই
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা