প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
চোর অপবাদে দুই দিন আটকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, ছয় দিন পর যুবকের মৃত্যুা
||
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চুরির অভিযোগে দুই দিন আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নয়ন হাওলাদার (৪২)। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি ছিলেন।পুলিশ জানায়, নয়ন হাওলাদার স্ত্রী আমেনা আক্তার শিমুকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল তাঁতখানা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি ফতুল্লার দক্ষিণ শিয়াচর এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়িতে প্রায় এক মাস ধরে রংয়ের কাজ করছিলেন।নিহতের স্ত্রী আমেনা আক্তার শিমুর অভিযোগ, তার স্বামী নয়ন হাওলাদার ফতুল্লার দক্ষিণ শিয়াচর এলাকায় নুরুল ইসলামের বাড়িতে এক মাস ধরে রংয়ের কাজ করছিল। গত ১৪ জুলাই সকালে নুরুল ইসলামের বাড়িতে কাজে যান। এদিন রাতে নুরুল ইসলাম তাকে ফোন করে বলেন, 'তোমার স্বামী নয়ন আমার ঘর থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরি করেছে। টাকা নিয়ে আসলে নয়নকে ছেড়ে দেওয়া হবে।'পরের দিন কানের স্বর্ণের দুল বন্ধক রেখে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গেলে নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ক্ষিপ্ত হয়ে নয়নের বুকের ওপর বসে কাঠের টুকরো দিয়ে পেটাতে থাকে। তাদের বাড়ির অন্য সদস্য সিরাজুস সালেকিন বিদ্যুতের তার এনে নয়নের শরীরে শক দেয় এবং বাম হাতের কব্জি ও আঙ্গুলগুলো মুচড়িয়ে ভেঙে দেয়। তখন নয়নের শরীর নিথর হয়ে পড়ে। সেই সময় নয়নকে হত্যা না করতে উপস্থিত সবার হাত-পা ধরে অনেক কান্নাকাটি করেন শিমু। তখন বাকি ২০ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন নুরুল ইসলাম।তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্যাতনের সময় তিনি স্বামীকে হত্যা না করার অনুরোধ জানালে অভিযুক্তরা বাকি ২০ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন। পরে টাকা জোগাড়ে ব্যর্থ হয়ে ১৬ জুলাই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে এবং গুরুতর আহত নয়নকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে নয়নের মৃত্যু হয়।ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নয়নকে দুই দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে।নিহতের স্ত্রী আমেনা আক্তার শিমু বলেন, চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে অনেক টাকা ব্যয় করেও স্বামীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি এই ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কাউকে পাওয়া গেলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা