প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন স্পিকারা
গণবার্তা প্রতিবেদনঃ ||
গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীর বিক্রম) কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. সরওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তিনি গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি তাঁর হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর ইতোমধ্যেই স্পিকারের সরকারি বাসভবনের সামনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) গাড়িবহর মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, স্পিকারের বাসভবনের চারপাশে এসএসএফ অবস্থান নিয়েছে। বাসভবনের মূল গেটে আর্চওয়ে বসানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দুপুরের পর থেকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) গাড়িবহর জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছায়। একই সঙ্গে স্পিকারের চলাচলের জন্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির নির্ধারিত ভিআইপি প্রোটোকল প্রস্তুত করা হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা