প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
জাপানের কিউশু দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩া
গণবার্তা প্রতিবেদনঃ ||
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নিশ্চিত করেছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান তৎপরতা জারি আছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর কুমামোতো শহরের একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এর আগে, মঙ্গলবার রাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান, এমনকি এখনও বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকা পড়া লোকজন উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, কারণ এখন প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে আমরা আমাদের সমস্ত সক্ষমতা প্রয়োগ করবো।মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৭.১ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, মনে হচ্ছিল শক্ত মাটি হঠাৎ করেই নড়তে শুরু করেছে।এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শপিংমল থেকে প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার দূরের একটি দোকানের ভেতরে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে শিশুরা আতঙ্কে কাঁদছে এবং দোকানের পণ্যসামগ্রী মেঝেতে ছিটকে পড়েছে।সাগরের অগভীর অংশে ভূমিকম্প হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে এটির ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো জেলা। আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।এদিকে বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ভূমিকম্পটি সম্ভবত ২০১৬ সালের ভূমিকম্পের পর অক্ষত থাকা একটি ফল্টের কারণে ঘটেছে। এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিলে, দুই দিনের ব্যবধানে ৬.৫ এবং ৭.৩ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে ২৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সুনামি সতর্কতা জারি করেছে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। উদ্ধার কাজ এখনও চলমান এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্তৃপক্ষ।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা