প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বগুড়ায় র্যাবের পৃথক অভিযানে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তারা
গণবার্তা প্রতিবেদনঃ ||
বগুড়ায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় এক বছর দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং ১০ বছরের এক শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২)।র্যাব-১২-এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির (সিপিএসসি) একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া সদর ও সোনাতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়া সদর থানার নিশিন্দারা মধ্যপাড়া এলাকার মৃত মিলন শেখের ছেলে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. আরিফ শেখ (৩৫) এবং সোনাতলা থানার লোহাগড়া গ্রামের মৃত আজিমুদ্দিনের ছেলে শিশু ধর্ষণ মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সাদেক আলী (৬৫)।প্রথম অভিযান সম্পর্কে সিপিএসসি বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বাসসকে জানান, ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এক বছর দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি আরিফ শেখ গ্রেপ্তার এড়াতে চারমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় সদর থানাধীন চারমাথা সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরিফ শেখের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।পৃথক অভিযানে শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ জানান, গত ৩০ জুন দুপুরে ১০ বছর বয়সী এক শিশু তার চাচার বাড়ি যাওয়ার পথে জোড়গাছা ইউনিয়নের নিমেরপাড়া গ্রামস্থ একটি স-মিলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় আসামি সাদেক আলী কাজের কথা বলে কৌশলে তাকে স-মিলের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিমের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামি পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ১ জুলাই সোনাতলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছিল র্যাব। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে সোনাতলা থানার ফাজিলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাদেক আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আরিফকে বগুড়া সদর থানায় এবং ধর্ষণ মামলার আসামি সাদেক আলীকে সোনাতলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।র্যাব জানিয়েছে, শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারে তারা তৎপর ছিল। অভিযানে সফলতা পেয়ে র্যাব সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং জনগণের কাছে দুর্বৃত্তদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সোনাতলা থানা-পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা