প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরব ও হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৫া
বিশ্ব প্রতিবেদন, গণবার্তা: ||
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পেয়ে তিন শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই সহিংসতার জেরে কুয়েত, বাহরাইন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানায়, তাইফ গভর্নরেটে একটি হুথি ড্রোন ধ্বংস করার পর তা পড়ে এক ইয়েমেনি বাসিন্দা নিহত ও দুইজন আহত হন। চলতি মাসে হুথিরা হামলা জোরদার করার পর সৌদি আরবে এটাই প্রথম কোনো প্রাণহানির ঘটনা।অন্যদিকে ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশে ‘সৌদি শত্রুপক্ষের বিমান’ তিনটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে বলে হুথিরা দাবি করেছে। আল মাসিরা টিভির মতে, আবস শহরে হামলায় এক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও আরেকজন আহত হন। পরবর্তীতে হুথি সমর্থিত মাধ্যম জানায়, সৌদি সমর্থিত বাহিনীর হামলায় তিন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।সৌদি আরব মক্কা লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন ধ্বংসের যে দাবি করেছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন হুথি নেতা আবদেল-মালেক আল-হুথি। সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি সৌদি অভিযোগকে ‘জঘন্য মিথ্যা’ ও অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মক্কার পবিত্রতা রক্ষা করা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা আত্মরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, যেকোনো পবিত্র স্থানে হামলা নিন্দনীয়, তবে ড্রোন ধ্বংসের কেবল একটা দাবি তুলে হুথিদের দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। ইসরায়েলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এই ঘটনাকে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চীন গোপনে ইরানের মাধ্যমে হুথিদের থামানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে কয়েকটি ইরানি সূত্র। অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা চুক্তি থাকায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে, যার অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ফোনে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি দাবি করেছেন, তায়েজ, মারিবসহ একাধিক ফ্রন্টে হুথিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং লোহিত সাগরে তাদের অবস্থান সাময়িক।এদিকে এই সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের জন্য কাজ করছে। তবে সৌদি আরবের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা