ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। বলা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখার তিনিই ছিলেন প্রধান কারিগর। হরমুজ প্রণালির ধারে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে এক হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি। যদিও ইরান এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, “হরমুজ প্রণালিতে বোমা হামলার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং এই প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য তাংরিসি সরাসরি দায়ী ছিলেন।” তিনি দাবি করেন, তাংসিরিকে ‘উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’। তাংসিরির পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নিহত হয়েছেন বলে কাটজ দাবি করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে ইরান। বাছাই করা কিছু দেশের জাহাজকে হরমুজ পার হওয়ার ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে তারা। এই প্রণালিকে ‘অবরুদ্ধ’ করে রাখার দায়িত্ব ছিল তাংসিরির ওপর। এবার তাকেও হত্যা করার দাবি করল ইসরায়েল।
২০১৮ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি)- নৌ কমান্ডার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন আলিরেজা তাংসিরি। এর আগে ২০১০ সাল থেকে তিনি আইআরজিসির উপ-কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপরই আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে ইরানের সামুদ্রিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
তাংসিরি গত ১০ মার্চ থেকে এক্স অ্যাকাউন্টে সক্রিয় ছিলেন। তার পোস্টগুলোতে বেশ কয়েকবারই তাকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আগ্রাসনকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনও জাহাজের হরমুজ পার হওয়ার অধিকার নেই।”
তাংসিরি ছিলেন এক স্পষ্টভাষী কমান্ডার। অতীতেও তিনি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা বিবৃতি দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি একবার ইরানের তেল রপ্তানি বিঘ্নিত হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন।
এই প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি ড্রোন ইরান গুলি করে ভূপাতিত করার পর ২০১৯ সালে মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয় তাংসিরিসহ অন্যান্য আইআরজিসি কমান্ডারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
এ সপ্তাহে কোনো যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
তাংসিরি নিহতের খবর সত্য হলে তা ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের নৌবাহিনীর কার্যক্রমে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলগত উপস্থিতিতে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন