ঢাকা    রোববার, ৩১ মে ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ৩১ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

৭ জুন বাজেট অধিবেশনেই পে-স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই (২০২৬) থেকেই বহুল আলোচিত ‘নবম জাতীয় বেতন কাঠামো’ বা নবম পে-স্কেল কার্যকর করার জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে সরকার। নতুন এই বৈপ্লবিক বেতন কাঠামোর আওতায় দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান লাগামহীন মূল্যস্ফীতির বাজারে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন করা এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ব্যবধান কমিয়ে আনা।উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকবিগত ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির দেওয়া সুনির্দিষ্ট সুপারিশগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে তিনটি প্রধান প্রতিবেদনের মধ্যে ইতিমধ্যে দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষ হয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মাঝে দেশের বাজেট সক্ষমতা ও নতুন ভাতা কাঠামোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।দুটি প্রস্তাবনাবর্তমানে নীতিনির্ধারকদের টেবিলে দুটি প্রস্তাবনা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, সব গ্রেডের মূল বেতন (বেসিক) সমান হারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এই নিয়ম কার্যকর হলে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকায়, ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক হবে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে হবে ৩৩ হাজার টাকা।নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ প্রস্তাব (শতভাগ বৃদ্ধি)দ্বিতীয় বিকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের মূল বেতন সরাসরি দ্বিগুণ বা শতভাগ (১০০%) করা হতে পারে। এই প্রস্তাবটি পাশ হলে ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক একলাফে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাবে। একইভাবে ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেসিক বেড়ে সরাসরি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হবে। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বাজারের বর্তমান ঊর্ধ্বগতির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লেগেছে নিম্ন আয়ের প্রান্তিক কর্মীদের ওপর, তাই তাদের সুরক্ষায় বিশেষ কোটা রাখা অপরিহার্য।ব্যাকডেটে সুবিধাসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলেও নতুন বেতন কাঠামোর যাবতীয় আর্থিক সুবিধা ১ জুলাই থেকেই ব্যাকডেটে কার্যকর ধরা হবে। অর্থাৎ, পরবর্তীতে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হলে চাকরিজীবীরা জুলাই মাস থেকেই বকেয়াসহ বর্ধিত বা এরিয়ার বেতন ও সুবিধা একসঙ্গে পাবেন।বাজেট অধিবেশনে চূড়ান্ত ঘোষণাকমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে সরকার খুব শীঘ্রই এটি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাজেট অধিবেশন’ আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ধারণা করছে, এই বাজেট অধিবেশনেই সরকারের আগামী অর্থবছরের সামগ্রিক ব্যয়ের খতিয়ানের পাশাপাশি বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত রূপরেখা ও বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম পে-স্কেল আসন্ন। নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য শতভাগ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দেয়। সব গ্রেডে ৫০% বৃদ্ধি অথবা নিম্ন গ্রেডে শতভাগ বৃদ্ধি— দুটি প্রস্তাবের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাজেট অধিবেশনেই জানা যাবে। আগামী ৭ জুনের অধিবেশনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন দেশের লক্ষাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
৪ ঘন্টা আগে

‘আমি প্রতিমন্ত্রী, আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ’— বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. তাহের

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, তার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। রোববার (৩১ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এসব কথা বলেন।পদমর্যাদা ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাতাহের বলেন, ‘আমি কিন্তু একজন এমপি না, আমি কিন্তু প্রতিমন্ত্রী। অফিসিয়ালি আমি প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী হলেও পার্লামেন্টের লিডার অব দ্য অপোজিশন, আর রিপোর্টিং অব দ্য অপোজিশন মন্ত্রীদের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পার্লামেন্টে দেখবেন আমি সেখানে প্রত্যেকদিন দুইবার কথা বলব। আর মন্ত্রীরা মাসে একবার কথা বলবে।’ তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসাবে তার স্টাটাস হলো প্রতিমন্ত্রী। ‘আমার গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকে, পতাকা তো মন্ত্রীরাই পায়। সঠিক ভোট হলে আমার সিনিয়র মন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল।’ভোটের পরিমাণ ও ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনাডা. তাহের বলেন, ‘আমরা ভোট পেয়েছি মাত্র ১০ শতাংশ কম। এরাউন্ড ৪০ শতাংশ ভোট আমাদের জোটের ভেতরে, কিন্তু সিট বাড়তি খরচ হয়েছে। জনমত প্রতিফলিত হয় ভোটের মাধ্যমে, সিটের মাধ্যমে না। ভোটের মাধ্যমে জামায়াত খুব কাছাকাছি সরকারি দলের। জামায়াতে ইসলামী যে পরিমাণ ভোট পেয়েছে এবার, সেই ভোট পেয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। পরবর্তীতে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান দল হলো জামায়াতে ইসলামী।’বিএনপি সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নতাহের প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সবে সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। যদি বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে যায়, টিকবে কি না?’ ডাক্তার তাহেরের এমন প্রশ্নে দর্শক সারিতে নেতা-কর্মীরা বলেন, টিকবে না। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু কিছু বলি নাই। আমরা চাই তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকুক। তারা ক্ষমতায় থাকলে এলাকার বরাদ্দ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।’কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের ছয় মাসের আলটিমেটামডা. তাহের আরও বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের মৌলিক সমস্যা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবার। এই চৌদ্দগ্রামে এই দুটোর কোন স্থান হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের ছয় মাস সময় দিচ্ছি আপনারা অন্য কোনো ব্যবসা খোঁজেন। না হয়, ছয় মাসের পরও যদি এই রাস্তায় থাকেন, তাহলে বোঝা যাবে আপনারা ইচ্ছে করেই এই রাস্তায় আছেন। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারির সংখ্যা বেশি না ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি? অবশ্যই ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের ধরার জন্য আপনারা ঘর থেকে বের হবেন কি না? বের হলে সমাজ থেকে অপরাধ কমে যাবে। আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে। তাদের আর ছাড় নয়।’বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যে পদমর্যাদা, ক্ষমতার হিসাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র উঠে এসেছে। তিনি জামায়াতকে ‘ক্ষমতায় যাওয়ার অপেক্ষমান দল’ হিসেবে দাবি করেছেন এবং বিএনপি সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। একইসঙ্গে চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪ ঘন্টা আগে

ইরান ইরাকে হামলা ভুল ছিলো বলে ট্রাম্পের মন্তব্য

ইরাক ও ইরানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রবেশ করা বা যুদ্ধে জড়ানো একটি ‘ভুল ও বোকামি’ সিদ্ধান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি জোরালো দাবি করেছেন যে, আজ থেকে ঠিক নয় মাস আগে মার্কিন বিমান বাহিনী যদি ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ না করত, তবে এতক্ষণে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নিজের এই বৈপরীত্য ও চাঞ্চল্যকর কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ করেন।ইরাক ও ইরান যুদ্ধের সমালোচনাবিগত দিনের যুদ্ধগুলোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরাকের দিকে তাকান, আমাদের কত বড় ক্ষতি হয়েছে। আমরা কী যে এক বোকামি করেছি! আমাদের আসলে প্রথমেই সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি। একইভাবে আমাদের ইরানেও সামরিকভাবে প্রবেশ করা উচিত ছিল না, কিন্তু সমস্যা হলো ইরানের সেই বিপজ্জনক পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে।’ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার সাফাইইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলার সাফাই গাইতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সামরিক শক্তির কার্যকারিতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নয় মাস আগে আমরা যদি আমাদের সর্বাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর ওপর নিখুঁত ও বিধ্বংসী আঘাত না হানতাম, তবে তাদের হাতে এখন নিশ্চিতভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকত এবং আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। হয়তো আজ ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না, এমনকি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যেরও কোনো অস্তিত্ব থাকত না; তারপর সেখান থেকে বিশ্ব রাজনীতি ও পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকত, তা কল্পনা করাও কঠিন!’ইরানি সেনাবাহিনীকে অক্ষত রাখার কৌশলসাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধের সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ইরানের মূল সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করেনি। ইরানি সেনাবাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত না করার কৌশল ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীকে এক রকম স্পর্শই করিনি, কারণ আমরা মনে করি তাদের সেনাবাহিনী কিছুটা নমনীয় ও বাস্তববাদী। তবে তাদের প্রশাসনের ভেতরে অন্য কিছু লোক আছে যারা মোটেও নমনীয় নয়, আমরা মূলত বেছে বেছে কেবল তাদেরই খতম করেছি। আমরা দেশটির উগ্র নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশকে চিরতরে সরিয়ে দিয়েছি, কিন্তু সামরিক বাহিনীকে অক্ষত রেখেছি।’ ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘মানুষ এটি শুনে হয়তো অবাক হবে, কারণ যুদ্ধে যখন আপনি একটি দেশের সবাইকে বা পুরো বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন, তখন এক ধরনের ঐতিহাসিক ভুল করা হয়; যার ফলে সেই দেশটি পরবর্তী ৪০ বছরেও নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে না। আমরা ইরানের ক্ষেত্রে সেই ভুলটি করতে চাইনি।’ইরানের সঙ্গে চুক্তির কৌশলইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা বা শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের সাথে একটি ‘অসাধারণ চুক্তি’ করতে যাচ্ছে। আর তেহরান যদি সেই শর্তে রাজি না হয়, তবে ‘আমরা স্রেফ ফিরে গিয়ে ওদের সামরিকভাবে সম্পূর্ণ শেষ করে দেব’। তবে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি যুদ্ধের চেয়ে চুক্তির মাধ্যমে ‘অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করতেই’ বেশি আগ্রহী। চুক্তি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমানে অবরুদ্ধ থাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইরানের নেতাদের দরকষাকষির দক্ষতার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা দরকষাকষিতে অত্যন্ত দক্ষ। তবে যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, ধীরে ধীরে তা আদায় করে নিচ্ছে। এতে লম্বা সময় লাগবে এবং আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কারণ তাড়াহুড়ো করলে ভালো চুক্তি করা যায় না। আর আমরা যা চাই, সেটি না পেলে অন্য উপায়ে এর শেষ করব।’ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকার ইরান ও ইরাক যুদ্ধ নিয়ে তাঁর দ্বিধাবিভক্ত অবস্থান স্পষ্ট করে। একদিকে তিনি যুদ্ধকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলছেন, অন্যদিকে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলাকে জরুরি ও সঠিক হিসেবে দাবি করছেন। ইরানি সেনাবাহিনীকে অক্ষত রাখার কৌশল ও চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আশাবাদ তাঁর প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও রেখেছেন তিনি। আগামী দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষা।
৪ ঘন্টা আগে
সুন্দরবনে তিন মাস প্রবেশ নিষিদ্ধ

সুন্দরবনে তিন মাস প্রবেশ নিষিদ্ধ

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে পূর্ব সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনাঞ্চলে ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসের জন্য মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। এ সময় সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য কোনো ধরনের পাস বা অনুমতিপত্র ইস্যু করা হবে না। ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিং (আইআরএমপি)-এর সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হতো। তবে এবার মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বন মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা এক মাস বাড়িয়ে ১ জুন থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।জেলেদের আর্থিক সংকটের আশঙ্কাবন বিভাগের এ সিদ্ধান্তে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা, বগী, খুড়িয়াখালী, সোনাতলা ও দক্ষিণ রাজাপুর এলাকায় জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে সারা বছর সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কিভাবে চলবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। শরণখোলার জেলে রুস্তম বয়াতী, রুবেল হাওলাদার, জাহিদুল হাওলাদার ও মাহবুব হোসেনসহ অনেকে বলেন, দীর্ঘ সময় কর্মহীন হয়ে পড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। তারা সরকারের সহায়তার দাবি জানান।মৎস্য ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কামৎস্য ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। শরণখোলা বাজারের মৎস্য আড়ৎদার জালাল মোল্লা ও আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে চলমান ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সুন্দরবনে নতুন করে তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ হওয়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের দাবি, জেলেদের কাছে আড়ৎদারদের ১৫/২০ লাখ টাকা দাদন দেওয়া রয়েছে, যা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।জেলেরা এখনো কার্ড পাননিসুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের শুরুতে সুন্দরবনের জেলেদের তালিকা মৎস্য দপ্তরে পাঠানো হলেও এখনো অনেক জেলের নামে জেলে কার্ড ইস্যু করা হয়নি। শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, জেলে, মৌয়ালী ও পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের পাস ইস্যু ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।সরকারি সহায়তা এখনো বরাদ্দ হয়নিশরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, সুন্দরবনের জেলেদের জন্য এখনো কোনো বিশেষ খাদ্য সহায়তা বা প্রণোদনা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।বন বিভাগের অবস্থানসুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মৎস্যসম্পদ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধির স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুন্দরবনে কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।পর্যটন খাতে প্রভাবপর্যটন খাতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্যুর অপারেটরদের মতে, এমনিতেই পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এর মধ্যে দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকলে পর্যটন ব্যাবসা আরও ক্ষতির মুখে পড়বে এবং এ খাতের সঙ্গে জড়িত বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে।সুন্দরবনে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা প্রশংসনীয় হলেও এতে জেলে ও পর্যটনখাতের মানুষ আর্থিক সংকটে পড়বেন। সরকারের উচিত জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা। এছাড়া জেলে কার্ড ইস্যু ও দাদনের টাকা আদায়ের জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
৩ ঘন্টা আগে
৭ জুন বাজেট অধিবেশনেই পে-স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা

৭ জুন বাজেট অধিবেশনেই পে-স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই (২০২৬) থেকেই বহুল আলোচিত ‘নবম জাতীয় বেতন কাঠামো’ বা নবম পে-স্কেল কার্যকর করার জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে সরকার। নতুন এই বৈপ্লবিক বেতন কাঠামোর আওতায় দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান লাগামহীন মূল্যস্ফীতির বাজারে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন করা এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ব্যবধান কমিয়ে আনা।উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকবিগত ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির দেওয়া সুনির্দিষ্ট সুপারিশগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে তিনটি প্রধান প্রতিবেদনের মধ্যে ইতিমধ্যে দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষ হয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মাঝে দেশের বাজেট সক্ষমতা ও নতুন ভাতা কাঠামোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।দুটি প্রস্তাবনাবর্তমানে নীতিনির্ধারকদের টেবিলে দুটি প্রস্তাবনা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, সব গ্রেডের মূল বেতন (বেসিক) সমান হারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এই নিয়ম কার্যকর হলে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকায়, ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক হবে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে হবে ৩৩ হাজার টাকা।নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ প্রস্তাব (শতভাগ বৃদ্ধি)দ্বিতীয় বিকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের মূল বেতন সরাসরি দ্বিগুণ বা শতভাগ (১০০%) করা হতে পারে। এই প্রস্তাবটি পাশ হলে ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক একলাফে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাবে। একইভাবে ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেসিক বেড়ে সরাসরি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হবে। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বাজারের বর্তমান ঊর্ধ্বগতির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লেগেছে নিম্ন আয়ের প্রান্তিক কর্মীদের ওপর, তাই তাদের সুরক্ষায় বিশেষ কোটা রাখা অপরিহার্য।ব্যাকডেটে সুবিধাসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলেও নতুন বেতন কাঠামোর যাবতীয় আর্থিক সুবিধা ১ জুলাই থেকেই ব্যাকডেটে কার্যকর ধরা হবে। অর্থাৎ, পরবর্তীতে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হলে চাকরিজীবীরা জুলাই মাস থেকেই বকেয়াসহ বর্ধিত বা এরিয়ার বেতন ও সুবিধা একসঙ্গে পাবেন।বাজেট অধিবেশনে চূড়ান্ত ঘোষণাকমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে সরকার খুব শীঘ্রই এটি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাজেট অধিবেশন’ আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ধারণা করছে, এই বাজেট অধিবেশনেই সরকারের আগামী অর্থবছরের সামগ্রিক ব্যয়ের খতিয়ানের পাশাপাশি বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত রূপরেখা ও বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম পে-স্কেল আসন্ন। নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য শতভাগ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দেয়। সব গ্রেডে ৫০% বৃদ্ধি অথবা নিম্ন গ্রেডে শতভাগ বৃদ্ধি— দুটি প্রস্তাবের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাজেট অধিবেশনেই জানা যাবে। আগামী ৭ জুনের অধিবেশনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন দেশের লক্ষাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
৪ ঘন্টা আগে
ইরান ইরাকে হামলা ভুল ছিলো বলে ট্রাম্পের মন্তব্য

ইরান ইরাকে হামলা ভুল ছিলো বলে ট্রাম্পের মন্তব্য

ইরাক ও ইরানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রবেশ করা বা যুদ্ধে জড়ানো একটি ‘ভুল ও বোকামি’ সিদ্ধান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি জোরালো দাবি করেছেন যে, আজ থেকে ঠিক নয় মাস আগে মার্কিন বিমান বাহিনী যদি ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ না করত, তবে এতক্ষণে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নিজের এই বৈপরীত্য ও চাঞ্চল্যকর কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ করেন।ইরাক ও ইরান যুদ্ধের সমালোচনাবিগত দিনের যুদ্ধগুলোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরাকের দিকে তাকান, আমাদের কত বড় ক্ষতি হয়েছে। আমরা কী যে এক বোকামি করেছি! আমাদের আসলে প্রথমেই সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি। একইভাবে আমাদের ইরানেও সামরিকভাবে প্রবেশ করা উচিত ছিল না, কিন্তু সমস্যা হলো ইরানের সেই বিপজ্জনক পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে।’ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার সাফাইইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলার সাফাই গাইতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সামরিক শক্তির কার্যকারিতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নয় মাস আগে আমরা যদি আমাদের সর্বাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর ওপর নিখুঁত ও বিধ্বংসী আঘাত না হানতাম, তবে তাদের হাতে এখন নিশ্চিতভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকত এবং আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। হয়তো আজ ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না, এমনকি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যেরও কোনো অস্তিত্ব থাকত না; তারপর সেখান থেকে বিশ্ব রাজনীতি ও পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকত, তা কল্পনা করাও কঠিন!’ইরানি সেনাবাহিনীকে অক্ষত রাখার কৌশলসাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধের সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ইরানের মূল সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করেনি। ইরানি সেনাবাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত না করার কৌশল ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীকে এক রকম স্পর্শই করিনি, কারণ আমরা মনে করি তাদের সেনাবাহিনী কিছুটা নমনীয় ও বাস্তববাদী। তবে তাদের প্রশাসনের ভেতরে অন্য কিছু লোক আছে যারা মোটেও নমনীয় নয়, আমরা মূলত বেছে বেছে কেবল তাদেরই খতম করেছি। আমরা দেশটির উগ্র নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশকে চিরতরে সরিয়ে দিয়েছি, কিন্তু সামরিক বাহিনীকে অক্ষত রেখেছি।’ ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘মানুষ এটি শুনে হয়তো অবাক হবে, কারণ যুদ্ধে যখন আপনি একটি দেশের সবাইকে বা পুরো বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন, তখন এক ধরনের ঐতিহাসিক ভুল করা হয়; যার ফলে সেই দেশটি পরবর্তী ৪০ বছরেও নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে না। আমরা ইরানের ক্ষেত্রে সেই ভুলটি করতে চাইনি।’ইরানের সঙ্গে চুক্তির কৌশলইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা বা শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের সাথে একটি ‘অসাধারণ চুক্তি’ করতে যাচ্ছে। আর তেহরান যদি সেই শর্তে রাজি না হয়, তবে ‘আমরা স্রেফ ফিরে গিয়ে ওদের সামরিকভাবে সম্পূর্ণ শেষ করে দেব’। তবে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি যুদ্ধের চেয়ে চুক্তির মাধ্যমে ‘অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করতেই’ বেশি আগ্রহী। চুক্তি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমানে অবরুদ্ধ থাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইরানের নেতাদের দরকষাকষির দক্ষতার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা দরকষাকষিতে অত্যন্ত দক্ষ। তবে যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, ধীরে ধীরে তা আদায় করে নিচ্ছে। এতে লম্বা সময় লাগবে এবং আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কারণ তাড়াহুড়ো করলে ভালো চুক্তি করা যায় না। আর আমরা যা চাই, সেটি না পেলে অন্য উপায়ে এর শেষ করব।’ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকার ইরান ও ইরাক যুদ্ধ নিয়ে তাঁর দ্বিধাবিভক্ত অবস্থান স্পষ্ট করে। একদিকে তিনি যুদ্ধকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলছেন, অন্যদিকে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলাকে জরুরি ও সঠিক হিসেবে দাবি করছেন। ইরানি সেনাবাহিনীকে অক্ষত রাখার কৌশল ও চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আশাবাদ তাঁর প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও রেখেছেন তিনি। আগামী দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষা।
৪ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ জন।একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।নিবিড় পর্যবেক্ষণে সরকারহামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানের জ্বর, সর্দি ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
১৪ মে ২০২৬
নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আশা জাগ্রত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এই কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত এই নবম পে স্কেলের একটি সম্ভাব্য খসড়া নিয়ে বর্তমানে সরকারি মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, তবুও এতে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।প্রস্তাবিত বেতন স্কেলের খসড়াগ্রেড ও বেতন স্কেল (টাকা):০১: ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)০২: ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০০৩: ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০০৪: ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০০৫: ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০০৬: ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০০৭: ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০০৮: ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০০৯: ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০১০: ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০১১: ২৫,০০০ – ৬০,৫০০১২: ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০১৩: ২৪,০০০ – ৫৮,০০০১৪: ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০১৫: ২২,৮০০ – ৫৫,২০০১৬: ২১,৯০০ – ৫২,৯০০১৭: ২১,৪০০ – ৫১,৯০০১৮: ২১,০০০ – ৫০,৯০০১৯: ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০২০: ২০,০০০ – ৪৮,৪০০উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার একটি অংশ মাত্র এবং এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। 
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

০৬ এপ্রিল ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার