ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব ও জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিচার দাবি জামায়াত এমপির

দেশের অর্থনীতিকে সুদের জাঁতাকল থেকে মুক্ত করতে সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি বিগত সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ আখ্যা দিয়ে এর বিচার দাবি করেছেন। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।বাজেট বক্তৃতার শুরুতে তিনি জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন এবং বিগত ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের শাসনামলে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। জামায়াত নেতা বলেন, আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ আমাদের শীর্ষ নেতাদের, যাদের অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজিয়ে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ১১ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি দাবি জানাই, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। প্রস্তাবিত নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিশাল বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা এনবিআরকে দেওয়া হয়েছে তা উচ্চাভিলাষী। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল সংস্কার ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সুদকে ‘বড় পাপ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে এক লাখ ২৭ হাজার পাঁচশ কোটি টাকা। ৯২ ভাগ মুসলিমের দেশে সুদের এই বোঝা মেনে নেওয়া যায় না। সুদমুক্ত অর্থনীতি চালু করতে সরকার সুকুক (ইসলামী বন্ড) ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে। ২০২০ সাল থেকে চালু হওয়া সুকুক বন্ডকে আরও জনপ্রিয় করলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপি আজহার বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক ও পিকে হালদারের লুটপাটে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এর ওপর আবার ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা সৎ করদাতাদের জন্য অপমানজনক এবং সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। আমরা এই সুযোগ বাতিলের দাবি জানাই।অর্থপাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি’র রিপোর্ট অনুযায়ী বছরে সাত বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে। পাচার অর্থ দেশে বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেত। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) এর সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমার এলাকা অত্যন্ত অবহেলিত। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং কৃষকরা পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। এছাড়া কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, নৈতিক মূল্যবোধ ও সততার বীজ বপনে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপরও জোর দেন তিনি।এটিএম আজহারুল ইসলাম তার বক্তব্যে আরও বলেন, সুদমুক্ত অর্থনীতি বাস্তবায়নে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের বিকল্প পথ খোলা জরুরি। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির পথে সুদই প্রধান বাধা। সরকার যদি সত্যিই গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী হয়, তাহলে সুদমুক্ত অর্থনীতি চালু করতে হবে। তিনি সংসদে উপস্থিত সকল সদস্যের কাছে এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন চান। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। এটিএম আজহারুল ইসলামের এই বক্তব্য সংসদে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে বাজেট বাস্তবায়নে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার বিষয়।
৩ ঘন্টা আগে

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪০ রানে অলআউট বাংলাদেশ, টেস্টে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে টাইগাররা

হারারেতে চলমান একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৪৩.২ ওভারে অলআউট হয় টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের পেসারদের গতি ও বাউন্সের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অস্বস্তিতে পড়েন এবং কেউ কেউ উইকেট উপহার হিসেবে দিয়ে আসেন। হারারেতে বাউন্স আর গতিতে তাদের অস্বস্তিটা স্পষ্টই ছিল। এখান থেকে এই টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বোলারদের দুর্দান্ত কিছু করতে হবে।বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন মুমিনুল হক, যিনি ৮১ বল খেলে ৮টি চারে সাজানো ইনিংস খেলেন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৮তম ফিফটি। তবে আরেকটি সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। নায়ামুরির বাউন্সার তাঁর ব্যাটে লেগে স্লিপে দাঁড়ানো ক্রেইগ আরভিনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৯ রান করেন। অভিষিক্ত তাওহিদ হৃদয় ১৬ বলে মাত্র ৩ রান করেন, অমিত হাসান ১৫ বলে ৪ রান করেন। মুশফিকুর রহিম ২১ বলে ৯ রানে বোল্ড হন। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৭, লিটন দাস ১১, শেখ মেহেদী ২ এবং হাসান মাহমুদ অপরাজিত থাকেন ০ রানে। জিম্বাবুয়ের পেসার এনগারাভা ৩টি, নায়ামুরি ২টি, ব্রাড ইভান্স ও মাজাকাদজা একটি করে উইকেট নেন।প্রথম ২০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ১২৫/৫। এরপর আর কোনো ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে এনগারাভা সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি ৯.২ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। নায়ামুরি ৩৬ রানে ২ উইকেট নেন। জিম্বাবুয়ের বোলাররা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। ৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় তারা। এরপর ৩৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ৭৪ রানের জুটি গড়েছিলেন নাজমুল ও মুমিনুল। কিন্তু সেই জুটির পর আর কোনো জুটি বড় হয়নি। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা মোটেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।এদিকে বাংলাদেশের মেয়েরা আজ নারী টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছে। আগে ব্যাট করে পুরো ২০ ওভার খেলে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান করেছে নিগার সুলতানারা। আজ জিততে পারলে সেমিফাইনালের সম্ভাবনাও আছে। তবে পুরুষ দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের জন্য বড় ধাক্কা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই টেস্ট জয়ের লক্ষ্যে বোলারদের এখন কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। জিম্বাবুয়ের ইনিংস কেমন হয়, তার ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের ফলাফল। বাংলাদেশের বোলারদের বাউন্সি উইকেটে নিজেদের সেরা বোলিং করতে হবে। বিশেষ করে পেসারদের ভালো করতে হবে, কারণ জিম্বাবুয়ের পেসাররা ইতিমধ্যে তাদের কাজ করে দিয়েছে। উইকেটে বাড়তি বাউন্স থাকায় বাংলাদেশের পেসারদেরও সুবিধা হতে পারে। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বোলারদের ওপর চাপ বাড়বে। এখন দেখার বিষয়, জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে কত রান করে এবং বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, টাইগাররা বোলিংয়ে ভালো করবে এবং ম্যাচে ফিরবে। যদিও ব্যাটিং লাইনআপের এই ব্যর্থতা আগামী ম্যাচগুলোর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে এই ধরনের ব্যাটিং ব্যর্থতা দলের জন্য উদ্বেগজনক। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংস দিয়ে সবকিছু নির্ধারিত হয় না। যদি বাংলাদেশের বোলাররা জিম্বাবুয়েকে কম রানে আটকাতে পারে, তাহলে তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ফিরে আসার জন্য ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে হবে। হারারেতে এই টেস্টটি এখন জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪ ঘন্টা আগে

চলতি বছরেই শেখ হাসিনার স্বদর্পে ফেরার ঘোষণা

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র এবং আইনি বাধা উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নির্বাসিত জীবনে থাকা শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।”তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না জানিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় পার করেছেন। প্রতিবারই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এবারও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি তার মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন। দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি ও মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বারবার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলটির সমর্থনে মিছিল করছেন, যা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের স্পষ্ট লক্ষণ।শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ। বিএনপি বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো সাংবিধানিক অধিকার।” ভারতে অবস্থান করলেও তার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। তিনি জানান, বাবার সমাধি এবং প্রিয় দেশবাসীর কথা ভেবে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত অস্থিরতায় পার করেন। তিনি বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াবে।”শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার দলের নেতাকর্মীরা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, তারা তার ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে, সরকারি দল বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দলটির একাধিক নেতা বলেছেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার এই ঘোষণা আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফিরে আসার পর তিনি কী ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেন, সেদিকে নজর থাকবে সবার। আন্তর্জাতিক মহলও এই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ভারত ও অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। শেখ হাসিনা তার সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন আইনি ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যান। তিনি বলেন, কোনো সহিংসতা বা অস্থিরতা তিনি চান না; তিনি চান একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন। শেখ হাসিনা তার সাক্ষাৎকারের শেষে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ একদিন বুঝতে পারবে কে তাদের প্রকৃত বন্ধু আর কে শত্রু। আমি অপেক্ষা করব সেই দিনের জন্য।”
৬ ঘন্টা আগে
সৌদি আরব ও ফ্রান্সে বিমান দুর্ঘটনা: নিহত ২৭

সৌদি আরব ও ফ্রান্সে বিমান দুর্ঘটনা: নিহত ২৭

সৌদি আরবের রাস তানুরা শহরে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার সকালে তেল উৎপাদন সংস্থা আরামকোর এই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। সৌদি আরবের বার্তাসংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে ১৪ আরোহী ছিলেন। তাদের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। যারমধ্যে সৌদির নাগরিকও আছেন। কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলো সেটি নিরূপণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, "নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তারা যেন শহীদি মর্যাদা পান, আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনা করছি আমরা।" উল্লেখ্য, রাস তানুরা সৌদি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও বন্দর এলাকা। এই দুর্ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন আরামকোর কর্মচারী ছিলেন বলে জানা গেছে।অন্যদিকে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় তোম্বলেইন শহরের কাছে বেসামরিক একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় বিমানের অন্তত ১৩ আরোহী নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় সকালের দিকে বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা ঘটেছে বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বলেছে, বিমান বিধ্বস্তের খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। বিমান দুর্ঘটনার পর তোম্বলেইন বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম বলছে, বিমানটি আকাশ থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়তে যাওয়া একদল মানুষকে বহন করছিল। তবে বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়েছে। কী কারণে বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে তোম্বলেইন পুলিশ। এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি সকল উদ্ধারকর্মীকে ধন্যবাদ জানাই যারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।"দুটি বিমান দুর্ঘটনায় মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হলেও চূড়ান্ত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে। অন্যদিকে ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনায় আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটি—দুটির যেকোনো একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষই দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার জন্য আরামকোকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের পরিবহন মন্ত্রণালয় বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ফরাসি নাগরিক ছাড়াও বিদেশি পর্যটক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দুটি দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুটি দুর্ঘটনারই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা করবে।
৩ ঘন্টা আগে
সাদা-কালো পতাকা নিয়ে সমালোচনার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুফতি হারুন ইজহার

সাদা-কালো পতাকা নিয়ে সমালোচনার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুফতি হারুন ইজহার

ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মুফতি হারুন ইজহার। ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে শনিবার রাতে ভিডিও বক্তব্যে তিনি পরিচিত উগ্রবাদী সংগঠনের পতাকার নকশার বাইরে ভিন্ন ধাঁচে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তরুণদের সমালোচনা করে ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘আমরা বলছিলাম– যেখানে যেখানে বিদেশি কুফফারদের পতাকা আছে, বিকল্প হিসেবে সেখানে আপনারা কালেমা খচিত পতাকার মাধ্যমে কাউন্টার করবেন। পরে দেখলাম, হোন্ডা নিয়ে শোডাউন, মিছিল শুরু হয়েছে। তো এই ফ্যান্টাসির ব্যাপারে আমার বক্তব্য– ভাই, এত যে আপনারা অতি উৎসাহ দেখাচ্ছেন, আপনারা কি ওই রকম আমলদার? পতাকা ও হোন্ডা নিয়ে শোডাউনে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, সেই উৎসাহ-উদ্দীপনায় আপনি কি কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) পড়েছেন? মাওলানা সাহেব, উত্তরগুলো খারাপ লাগবে আপনাদের।’কখন এ ধরনের কাজ করা যায়, তাও তুলে ধরেন তিনি, ‘এগুলো মাঝে মাঝে করা যায়, কোনো বিশেষ উপলক্ষে। কোনো মেহমান আসতেছে, ইসলামের বিজয়ের কোনো বিষয় বা প্রতিবাদস্বরূপ– রাসুলুল্লাহকে (সা.) গালি দিয়েছে অথবা কোনো অন্যায়-জুলুম করেছে কোনো কর্তৃপক্ষ, তখন। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বড় বিষয়ে, সাময়িকভাবে একদিন কোনো এক সময় এদের প্রতিবাদস্বরূপ শোডাউন করতে পারেন তাওহীদের পক্ষে। কিন্তু একেবারে যদি অতিউৎসাহী হয়ে যান, অতি ফ্যান্টাসি এবং ব্যবসা করেন, এটা ঠিক না।’ হারুন ইজহার বলেন, ‘এটিকে সীমিত পর্যায়ে রাখুন। পতাকা দিয়ে একটি অপসংস্কৃতিকে মোকাবেলা করার জন্য যতটুকু দরকার, অতটুকু। দেখা যাচ্ছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা কিচ্ছু নেই। কিন্তু হাজার হাজার কালেমা পতাকা লাগায় রাখছেন আপনি। এই যে শূন্যস্থানে আপনি কালেমা পতাকা লাগায় রাখলেন, কী হবে? পতাকা উড়তেছে পতপত করে, কিন্তু এলাকার লোক জোহরের নামাজ পড়তেছে না। তো লাভ কী হইছে? সাহাবায়ে কেরাম কি ফ্যান্টাসি করেছেন? সাহাবায়ে কেরাম এলাকার লোকদের মুসল্লি বানিয়েছেন। এজন্য অতি আবেগ এখানে ঠিক না।’এর আগে গত ১৩ জুন ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে ‘বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকার পরিবর্তে কালেমার পতাকা টানানোর আহ্বান’ ক্যাপশনে পোস্ট করা ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেছিলেন, ‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে। এগুলো যেখানে থাকবে, কালেমার পতাকাও থাকবে আমাদের।’ ওই ভিডিওতে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এই যে আর্জেন্টিনা, তারপরে... এই যে আপনার বদমায়েশি শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের তরুণরা কালেমার পতাকা শুরু করেছে।’ ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে হারুন ইজহারের এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন স্থানে সাদা এবং কালো পতাকা লাগানো শুরু হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, স্থাপনা, অলিগলি ছেয়ে যায়। এমনকি পতাকা হাতে শোডাউন ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা হতে থাকে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এসব পতাকার সঙ্গে আল কায়েদা, আইএসআইএস, তালেবান, হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের পতাকার নকশার মিল রয়েছে বলে জানান। তাঁরা সংগঠিত এই পতাকা কর্মসূচিকে নিজেদের অবস্থান পোক্ত এবং দেশের সরকারব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হিসেবেও বর্ণনা করেন। এর পেছনে গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেও দায়ী করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলে নড়েচড়ে বসে সরকার। ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা টানানোর পেছনে কারা, তা সন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোন সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে কেন করা হলো, তা গোয়েন্দারা মাঠে নেমে খতিয়ে দেখছেন। গতকাল শুক্রবার পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। এরপর শনিবার বিকেলে ডিএমপি কার্যালয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়। এ ব্যাপারে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্ট্রিমকে বলেন, সাদা-কালো পতাকার বিষয়ে পলিসি মেকিং লেভেল থেকে শুরু করে সবাই সজাগ। বৃহস্পতিবার আলাপের পর শুক্রবার থেকে মাঠে কাজ হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে জড়িতদের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেককে নজরদারিতেও রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মানুষের আবেগ ব্যবহার করে কাজগুলো হচ্ছে। তারা সফল হলে সরকার বিপদে পড়বে। আর সুবিধা নেবে আওয়ামী লীগ। এজন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।শনিবারের ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘পতাকা হচ্ছে খেলাধুলার প্রতীক। আপনি বলবেন– না, আমি আর্জেন্টিনিয়ান, ব্রাজিলিয়ান, জার্মান, ফরাসি– এসব রাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে সম্মান করতেছি না। এদের জাতীয়তাকেও সম্মান করছি না। আমি জাস্ট বিনোদন করতেছি। খেলা তো বিনোদন। বিনোদন যদি আর্ট হয়ে যায়, বিনোদন যদি শিল্প (ইন্ডাস্ট্রি) হয়ে যায়, আমি গত সপ্তাহে বলছিলাম– তখন সেটা জায়েজ থাকবে না। তো সব দিক থেকে বিদেশি পতাকা তোলা নাজায়েজ।’ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘চলমান পতাকা নিয়ে আমার দুই সপ্তাহের তিক্ত অভিজ্ঞতা। আমি হজ থেকে আসা দুই সপ্তাহ হয়ে গেছে। আমি প্রথম জুমাতে বলছিলাম– আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা আরও বিভিন্ন কুফফার রাষ্ট্রের পতাকা উঠতেছে। পতাকা জিনিসটা কী? পতাকা সম্মানের জিনিস কিনা? এটা একটা সম্মান, ইজ্জত, অহংকার এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক, ঠিক কিনা? প্রত্যেক দেশের পতাকা তার রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় গর্বের প্রতীক। সুতরাং যখন এ রকম একটা পতাকা উঠাব, তখন ওই জাতিকে সম্মান করা হলো, ঠিক কিনা? কোনো কুফফার রাষ্ট্র, তাদের জাতি বা তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করা জায়েজ আছে কি?’ এ ছাড়া গত শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে আল কুরআনের দারস পেজে দেওয়া পোস্টে হারুন ইজহার বলেন, ‘তরুণদের উদ্দেশে বলতে চাই– তাদের মধ্যে কাজের চেয়ে ফ্যান্টাসিটা বেশি। কৌশলগত কিছু স্ট্র্যাটেজিক কনসার্নের বিষয় আছে। এটা একটু বোঝার চেষ্টা করবেন। কালেমার পতাকা বললেই তালেবান, আল কায়েদা, আইএস চলে আসে সামনে। তো কালেমা মানে কি আইএস নাকি, কালেমা মানে কি আল কায়েদা, কালেমা মানে কি তালেবান?’ তিনি বলেন, ‘তো এইটা আবার হওয়ার কারণ আছে, আমাদের যুবকরা যে পতাকার ডিজাইনটা ব্যবহার করে, যেহেতু তালেবান একটা বিশাল শক্তি এখন বিশ্বের, অনলাইনের কারণে আরও বিভিন্ন জিহাদি সংগঠনগুলোর পতাকা পরিচিত হয়ে গেছে, ডিজাইন করতে গেলেই ওই ডিজাইনগুলো চলে আসে।’‘কালিমার পতাকা সম্পর্কে শায়েখ হারুন ইজহার হাফিযাহুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা’ ক্যাপশনে এই ভিডিওর সময়কাল সম্পর্কে জুমাবার ১৯ জুন লেখা। এতে হারুন ইজহার তরুণদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘এখন বর্তমান পতাকার বিষয় আসছে বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে। বিশ্বকাপ ফুটবলের যে পতাকা উঠছে তা বর্ণাঢ্য, তো আপনে কালেমার বর্ণাঢ্য পতাকা করেন। আপনাকে কেন তালেবানদের ডিজাইনেই পতাকা করতে হবে? একটা পতাকাও তো দেখলাম না, বাংলাদেশে সবুজের উপরে সাদা লেখা, দেখলাম না। সবুজ পতাকা করলে সমস্যা কী?’ এই ঘটনার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাদা-কালো পতাকা টানানোর কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মুফতি হারুন ইজহার তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে তিনি উগ্রবাদী কোনো পতাকার সমর্থক নন, বরং তিনি একটি স্বতন্ত্র ও সৃজনশীল ইসলামি পতাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার আগের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক পতাকা প্রদর্শনকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখনো প্রশমিত হয়নি। আগামী দিনে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় এবং এই পতাকা কর্মসূচির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা, তা দেখার বিষয়।
২১ ঘন্টা আগে
সৌদি আরব ও ফ্রান্সে বিমান দুর্ঘটনা: নিহত ২৭

সৌদি আরব ও ফ্রান্সে বিমান দুর্ঘটনা: নিহত ২৭

সৌদি আরবের রাস তানুরা শহরে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার সকালে তেল উৎপাদন সংস্থা আরামকোর এই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। সৌদি আরবের বার্তাসংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে ১৪ আরোহী ছিলেন। তাদের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। যারমধ্যে সৌদির নাগরিকও আছেন। কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলো সেটি নিরূপণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, "নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তারা যেন শহীদি মর্যাদা পান, আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনা করছি আমরা।" উল্লেখ্য, রাস তানুরা সৌদি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও বন্দর এলাকা। এই দুর্ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন আরামকোর কর্মচারী ছিলেন বলে জানা গেছে।অন্যদিকে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় তোম্বলেইন শহরের কাছে বেসামরিক একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় বিমানের অন্তত ১৩ আরোহী নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় সকালের দিকে বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা ঘটেছে বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বলেছে, বিমান বিধ্বস্তের খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। বিমান দুর্ঘটনার পর তোম্বলেইন বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম বলছে, বিমানটি আকাশ থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়তে যাওয়া একদল মানুষকে বহন করছিল। তবে বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়েছে। কী কারণে বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে তোম্বলেইন পুলিশ। এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি সকল উদ্ধারকর্মীকে ধন্যবাদ জানাই যারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।"দুটি বিমান দুর্ঘটনায় মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হলেও চূড়ান্ত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে। অন্যদিকে ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনায় আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটি—দুটির যেকোনো একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষই দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার জন্য আরামকোকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের পরিবহন মন্ত্রণালয় বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ফরাসি নাগরিক ছাড়াও বিদেশি পর্যটক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দুটি দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুটি দুর্ঘটনারই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা করবে।
৩ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর এই ক্যাম্পেইন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, নির্ধারিত দিনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রে যেসব শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাদের জন্য ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
২৪ জুন ২০২৬
সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব ও জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিচার দাবি জামায়াত এমপির

সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব ও জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিচার দাবি জামায়াত এমপির

দেশের অর্থনীতিকে সুদের জাঁতাকল থেকে মুক্ত করতে সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি বিগত সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ আখ্যা দিয়ে এর বিচার দাবি করেছেন। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।বাজেট বক্তৃতার শুরুতে তিনি জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন এবং বিগত ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের শাসনামলে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। জামায়াত নেতা বলেন, আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ আমাদের শীর্ষ নেতাদের, যাদের অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজিয়ে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ১১ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি দাবি জানাই, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। প্রস্তাবিত নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিশাল বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা এনবিআরকে দেওয়া হয়েছে তা উচ্চাভিলাষী। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল সংস্কার ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সুদকে ‘বড় পাপ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে এক লাখ ২৭ হাজার পাঁচশ কোটি টাকা। ৯২ ভাগ মুসলিমের দেশে সুদের এই বোঝা মেনে নেওয়া যায় না। সুদমুক্ত অর্থনীতি চালু করতে সরকার সুকুক (ইসলামী বন্ড) ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে। ২০২০ সাল থেকে চালু হওয়া সুকুক বন্ডকে আরও জনপ্রিয় করলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপি আজহার বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক ও পিকে হালদারের লুটপাটে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এর ওপর আবার ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা সৎ করদাতাদের জন্য অপমানজনক এবং সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। আমরা এই সুযোগ বাতিলের দাবি জানাই।অর্থপাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি’র রিপোর্ট অনুযায়ী বছরে সাত বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে। পাচার অর্থ দেশে বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেত। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) এর সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমার এলাকা অত্যন্ত অবহেলিত। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং কৃষকরা পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। এছাড়া কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, নৈতিক মূল্যবোধ ও সততার বীজ বপনে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপরও জোর দেন তিনি।এটিএম আজহারুল ইসলাম তার বক্তব্যে আরও বলেন, সুদমুক্ত অর্থনীতি বাস্তবায়নে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের বিকল্প পথ খোলা জরুরি। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির পথে সুদই প্রধান বাধা। সরকার যদি সত্যিই গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী হয়, তাহলে সুদমুক্ত অর্থনীতি চালু করতে হবে। তিনি সংসদে উপস্থিত সকল সদস্যের কাছে এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন চান। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। এটিএম আজহারুল ইসলামের এই বক্তব্য সংসদে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে বাজেট বাস্তবায়নে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার বিষয়।
০৮ মে ২০২৬
পেনশন ব্যবস্থায় বড় সংস্কার: চাকরিকাল কমল ৫ বছর, বাড়ল পেনশনের হার

পেনশন ব্যবস্থায় বড় সংস্কার: চাকরিকাল কমল ৫ বছর, বাড়ল পেনশনের হার

০৮ মে ২০২৬
লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

দেশের বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা শাওমি। লাইকা ইমেজিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্রিপল ক্যামেরা, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আসা হয়েছে নতুন এই ডিভাইসটি।মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য মোমেন্ট বিয়ন্ড সাইট’ প্রতিপাদ্যে স্মার্টফোনটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি সাংবাদিক, টেক রিভিউয়ার, আলোকচিত্রী এবং শাওমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ক্যামেরা সিস্টেমে কি বিশেষত্ব আছে?নতুন এই স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম। এতে রয়েছে—৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা (লাইকা সামিলুক্স অপটিক্যাল লেন্সযুক্ত)৫০ মেগাপিক্সেলের লাইকা ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা (১২০ গুণ পর্যন্ত এআই আল্ট্রা জুম সমর্থিত)লাইভ মোমেন্ট ও স্টেজ মোড সুবিধা (সৃজনশীল ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য)ডিসপ্লে ও ব্যাটারিডিভাইসটিতে ৬ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ৩ হাজার ৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে উজ্জ্বল আলোতেও পর্দার কনটেন্ট স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।চোখের সুরক্ষার জন্য এতে টিইউভি রাইনল্যান্ড সনদপ্রাপ্ত আই কমফোর্ট প্রযুক্তি রয়েছে।ফোনটিতে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। শাওমির দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় দেড় দিনের বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। পাশাপাশি আইপি৬৮ রেটিংয়ের ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধাও রয়েছে।পারফরম্যান্স ও এআই সুবিধাপারফরম্যান্সের জন্য স্মার্টফোনটিতে—মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা প্রসেসরশাওমি হাইপারওএস ব্যবহার করা হয়েছেএ ছাড়া শাওমি হাইপারএআই, গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এবং ‘সার্কেল টু সার্চ’-এর মতো এআই সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।দাম ও বিক্রির তারিখশাওমি ১৭টি স্মার্টফোনটি ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাবে। দাম রাখা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।যে সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে —ভায়োলেটওপাল হোয়াইটব্ল্যাকআগামী ১১ জুন থেকে দেশের সব অনুমোদিত শাওমি স্টোরে এটি বিক্রি শুরু হবে।শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে শাওমির এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আনতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বমানের ফটোগ্রাফি প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।টেক বিশ্লেষকদের মতে, লাইকা ক্যামেরা ও শক্তিশালী ব্যাটারি এই ফোনটিকে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে। তবে ৮০ হাজার টাকার ঘরে বাংলাদেশি বাজারে এটি কতটা সাড়া পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১৪ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৮ মে ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন