ঢাকা    শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।   প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে রয়েছেন ২৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পাঁচজন উপদেষ্টাও সফরসঙ্গী।  ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে অংশ নিতে দালিয়ানে যান এবং বুধবার বেইজিং পৌঁছান। সফরের শেষ দিনে তার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক এবং চীনের জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন।  চীন সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।   এই বৈঠককে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে কৌশলগত সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  
২৬ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের নকআউটের চিত্র প্রায় স্পষ্ট, ১৯ দলের শেষ ৩২ নিশ্চিত

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের অর্ধেক শেষ হতে না হতেই নকআউটের চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট। ১২টি গ্রুপের মধ্যে ছয়টির খেলা শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে ১৯টি দল। বাকি ১৩টি স্থানের জন্য লড়াই করছে ২১টি দেশ। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ১২টি গ্রুপের প্রতিটির শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা পাবে। আগামী ২৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো।গ্রুপ ‘এ’ থেকে মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ ‘বি’ থেকে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। গ্রুপ ‘সি’ থেকে ব্রাজিল, মরক্কো। গ্রুপ ‘ডি’ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ ‘ই’ থেকে জার্মানি, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর। গ্রুপ ‘এফ’ থেকে নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন। গ্রুপ ‘আই’ থেকে ফ্রান্স, নরওয়ে। গ্রুপ ‘জে’ থেকে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ‘কে’ থেকে কলম্বিয়া। রাউন্ড অব ৩২ থেকে প্রতিটি ম্যাচই হবে সিঙ্গেল-এলিমিনেশন পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, হারলেই বিদায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ ড্র থাকলে ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় খেলা হবে। এরপরও সমতা থাকলে টাইব্রেকারে নির্ধারিত হবে বিজয়ী দল।এ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ৮টি দল—তুরস্ক, তিউনিসিয়া, হাইতি, পানামা, চেক প্রজাতন্ত্র, কাতার, কুরাসাও, জর্ডান। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো শেষে পূর্ণ হবে শেষ ৩২-এর লাইনআপ। এরপর শুরু হবে শিরোপার আসল নকআউট লড়াই। বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, গ্রুপ ‘জি’ থেকে মিসর ও ইরান এবং গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে স্পেন ও উরুগুয়ের নকআউট নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রুপ ‘এল’ থেকে ইংল্যান্ড ও ঘানাও প্রায় নিশ্চিত। তবে গ্রুপ ‘বি’ তে এখনো লড়াই চলছে। কানাডা ও সুইজারল্যান্ড নিশ্চিত করলেও তৃতীয় স্থানের জন্য বসনিয়া ও কাতারের মধ্যে লড়াই হতে পারে। গ্রুপ ‘ই’ তে জার্মানি ও আইভরি কোস্ট নিশ্চিত করলেও ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানের লড়াই হবে। শেষ ম্যাচগুলোতে অনেকগুলো দলই নিজেদের ভাগ্য নিজের হাতে রেখেছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আগামী কয়েকদিন থাকবে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। কোন দলটি টিকে থাকবে আর কোন দলটি বিদায় নেবে, তা নির্ধারিত হবে শেষ গ্রুপ ম্যাচগুলোতে। নকআউট পর্বের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে যে ১৯টি দল নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দলগুলো লড়বে বাকি ১৩টি স্থানের জন্য। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট একটি ভুলও দলকে বিদায়ের পথে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্বকাপের আসল লড়াই শুরু হচ্ছে এখনই।
২৬ জুন ২০২৬

নিউইয়র্কে একই পরিবারের ৬ জনের রহস্যজনক মৃত্যু।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মেকানিকভিল শহরে একই পরিবারের ছয় সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এক নারী, তার মেয়ে এবং চার নাতি-নাতনির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, পরিবারের প্রবীণ সদস্য অ্যামি স্টেডম্যান নিজেই মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে এখনও টক্সিকোলজি ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা।এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতরা হলেন ৬৪ বছর বয়সি অ্যামি স্টেডম্যান, তার ৪৪ বছর বয়সি মেয়ে সারাহ মায়ার্স এবং সারাহর চার সন্তান—হার্পার হারমন (১৩), হাডসন হারমন (১১) এবং ১০ বছর বয়সি যমজ গ্যাভিন ও গ্রেসলিন হারমন।পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক প্রতিবেশী দীর্ঘদিন ধরে অ্যামি স্টেডম্যানকে না দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তার খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে পুলিশ অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে পরিবারের ছয় সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে।তদন্তে জানা যায়, অ্যামি স্টেডম্যান একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে তার মেয়ে সারাহ মায়ার্স চার সন্তানকে নিয়ে একই ভবনের আরেকটি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। পুলিশ ধারণা করছে, মৃত্যুর পর কয়েকদিন ধরে মরদেহগুলো ওই ভবনেই পড়ে ছিল। দীর্ঘ সময় অরক্ষিত অবস্থায় থাকায় মরদেহের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে শুরুতে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।প্রাথমিক তদন্তে এক শিশুর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ প্রেসক্রিপশন ও সাধারণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, বিষপ্রয়োগের ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।মেকানিকভিল পুলিশের প্রধান উইলিয়াম র‍্যাবিট জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিরকুটে অ্যামি স্টেডম্যানের সম্পৃক্ততার শক্ত ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে চিরকুটের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত বাইরের কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।এদিকে নিহত চার শিশুর বাবা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চার শিশুই বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করত এবং তারা কোনো সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি ছিল না।এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিউইয়র্কের মেকানিকভিল শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা নিহতদের স্মরণে অ্যাপার্টমেন্টের সামনে অস্থায়ী স্মৃতিফলক স্থাপন করেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে রহস্যজনক মৃত্যুর মামলা হিসেবেই বিবেচনা করছে পুলিশ।
২৬ জুন ২০২৬
দেশের স্বার্থ রক্ষায় মালয়েশিয়া-চীন সফর: প্রধানমন্ত্রী

দেশের স্বার্থ রক্ষায় মালয়েশিয়া-চীন সফর: প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।’ শনিবার বেলা ১১ টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে-বাংলাদেশ ফার্স্ট বা বাংলাদেশ প্রথম। আমি আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমাদের কারোরই কোনো ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। যদি কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে, ভালো কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে, এটি বাংলাদেশের অর্জন। এই সফরের মাধ্যমে যদি দেশের মানুষের কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি এ দেশের মানুষের অর্জন।’ ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘যেহেতু সংসদের সকল সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা উনিও দেশের জন্য, দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন, সেজন্য আবারও আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সকল সদস্যকে, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি, শ্রমবাজার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়। এরপর ২৩ জুন তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হন এবং সেখানে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং ও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। চীনে তার সফরে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার মধ্যে চারটি ছিল গণমাধ্যম খাতে। প্রধানমন্ত্রী তার সফরকে ‘সফল’ বলে অভিহিত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এসব চুক্তি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সংসদে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছি। এই সফরগুলোতে আমরা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছি।’ তিনি বিরোধী দলসহ সকল সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন, ‘দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বিরোধী দলীয় সদস্যদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়। তারা প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আবারও ধন্যবাদ জানান। এরপর বাজেট অধিবেশনের অন্যান্য কার্যক্রম চলতে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এসব চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবে সরকার।
৬ ঘন্টা আগে
নতুন পে-স্কেলে কর্মচারীদের জন্য বাড়ছে নানান সুবিধা

নতুন পে-স্কেলে কর্মচারীদের জন্য বাড়ছে নানান সুবিধা

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চমক ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা। এর মধ্যে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মচারীদের টিফিন ভাতা এক লাফে ৫ গুণ বাড়িয়ে মাসিক ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল চালুর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় এটিই হতে যাচ্ছে বিগত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বাজার পরিস্থিতিতে মাসিক মাত্র ২০০ টাকা টিফিন ভাতা কোনোভাবেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই বাস্তবতায় বেতন কমিশন নতুন পে-স্কেলে এই ভাতা ১০০০ টাকা করার জোর সুপারিশ করেছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের লাখ লাখ কর্মচারীদের দৈনন্দিন ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু টিফিন ভাতাই নয়, নবম জাতীয় বেতন স্কেলের চূড়ান্ত খসড়ায় আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকারী আর্থিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাবিত সুবিধাসমূহের মধ্যে রয়েছে—সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম গ্রেড) বেসিক বা মূল বেতন বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ২০,০০০ টাকা নির্ধারণের জোরালো প্রস্তাব। এছাড়া উৎসব উদযাপনে গতি আনতে বৈশাখি ভাতা বর্তমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কর্মচারীদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা ফিক্সড ২,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের চিকিৎসায় প্রথমবারের মতো বিশেষ সরকারি স্বাস্থ্যবীমা স্কিম চালু করা হতে পারে। আর প্রতিবন্ধী সন্তানের বিশেষ যত্ন ও সহায়তার জন্য মূল বেতনের বাইরে অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা বিশেষ ভাতা প্রদানের নিয়ম যুক্ত হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় বাড়লেও এটি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে টিফিন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি করা হবে। এতে সব সুবিধা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে। আশা করা যায়, আগামী জুলাই থেকেই কর্মচারীরা বাড়তি টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পেতে শুরু করবেন। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে কর্মচারীদের এই বাড়তি আর্থিক সুবিধা তাদের পারিবারিক ব্যয় মেটাতে কিছুটা সহায়তা করবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনমুখী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, এটি শুধু কর্মচারীদের নয়, পুরো অর্থনীতিতে ভোক্তা চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও, টিফিন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
৬ ঘন্টা আগে
ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ডিপো এবং উপকূলীয় রাডার সিস্টেমে মার্কিন বাহিনীর হামলার পর, এবার মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। শনিবার এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)। বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন ঘাঁটিতে এবং কী পরিমাণ আঘাত হানা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তারা।যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, “হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখন থেকে পুরোপুরি ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব হবে আরও ব্যাপক এবং কঠিন।” বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলো থেকে সম্প্রতি টোল আদায়ের ঘোষণা দেয় ইরান। একই সাথে জানানো হয়, হরমুজ ব্যবহারের আগে ইরানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।এই সিদ্ধান্তের জেরে গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূল দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’র ওপর বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি। এর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ডিপো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়, যার জবাব আজ দিল তেহরান। এদিকে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও ওমান। তবে ৭ দেশের যৌথ বিবৃতির কড়া সমালোচনা করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি বলেছেন, “উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ভূমিকাকে অবজ্ঞা করে কোনো সমান্তরাল পথ বা অস্পষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পাল্টা হামলা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং বলেছেন, তারা প্রয়োজনীয় প্রতিশোধ নেবেন। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেননি। অন্যদিকে, ইরান তাদের অবস্থানে অনড়। তারা বলছে, তাদের এই পদক্ষেপ আত্মরক্ষার জন্য এবং তারা বিদেশি শক্তির হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত। উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে সংঘাত প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। জাতিসংঘও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই পক্ষের কোনো পদক্ষেপ এই সংকটের দিক নির্ধারণ করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাচ্ছে যেন যুদ্ধের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমান সম্পর্কের প্রেক্ষিতে তা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আপাতত বিশ্ববাসী উত্তেজনা কমার অপেক্ষায় রয়েছে।
৬ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর এই ক্যাম্পেইন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, নির্ধারিত দিনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রে যেসব শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাদের জন্য ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
২৪ জুন ২০২৬
চিনের ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

চিনের ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।’ ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই আলোচনার গতি বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে এবং বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।এই বিশেষ প্রতিরক্ষা আলোচনাটি মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর অংশ। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে একধাপ উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।দুই দেশের এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহারের অভাবে ভুগছিল। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মংলার এই বিশেষ শিল্প পার্কটি মূলত এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি মুম্বাই-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের জন্য অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে যার ফলে মংলার এই জমিটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো। এই সিদ্ধান্তের ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি বা ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’ তিনি আরও যোগ করেন যে চীন থেকে বড় বড় উৎপাদনকারী শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারলে তা দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে। অবশ্য কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের অত্যন্ত নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং দুই দেশ বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো প্রধান বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন যা দিল্লির সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করত। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক বা ব্যালেন্সড পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিটি সচল রেখেছে। সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ঢাকা মূলত আমেরিকার শক্তিশালী কৃষি লবিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে। ঢাকার এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়ার মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানাবে যেখানে চীন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তাত্ত্বিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নয়া দিল্লির সাথে এই সম্পর্ক মেরামতের পথটি যে বেশ জটিল তা সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করছেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব পুনর্নির্ধারণ করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
০৮ মে ২০২৬
চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

০৮ মে ২০২৬
লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

দেশের বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা শাওমি। লাইকা ইমেজিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্রিপল ক্যামেরা, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আসা হয়েছে নতুন এই ডিভাইসটি।মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য মোমেন্ট বিয়ন্ড সাইট’ প্রতিপাদ্যে স্মার্টফোনটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি সাংবাদিক, টেক রিভিউয়ার, আলোকচিত্রী এবং শাওমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ক্যামেরা সিস্টেমে কি বিশেষত্ব আছে?নতুন এই স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম। এতে রয়েছে—৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা (লাইকা সামিলুক্স অপটিক্যাল লেন্সযুক্ত)৫০ মেগাপিক্সেলের লাইকা ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা (১২০ গুণ পর্যন্ত এআই আল্ট্রা জুম সমর্থিত)লাইভ মোমেন্ট ও স্টেজ মোড সুবিধা (সৃজনশীল ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য)ডিসপ্লে ও ব্যাটারিডিভাইসটিতে ৬ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ৩ হাজার ৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে উজ্জ্বল আলোতেও পর্দার কনটেন্ট স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।চোখের সুরক্ষার জন্য এতে টিইউভি রাইনল্যান্ড সনদপ্রাপ্ত আই কমফোর্ট প্রযুক্তি রয়েছে।ফোনটিতে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। শাওমির দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় দেড় দিনের বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। পাশাপাশি আইপি৬৮ রেটিংয়ের ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধাও রয়েছে।পারফরম্যান্স ও এআই সুবিধাপারফরম্যান্সের জন্য স্মার্টফোনটিতে—মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা প্রসেসরশাওমি হাইপারওএস ব্যবহার করা হয়েছেএ ছাড়া শাওমি হাইপারএআই, গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এবং ‘সার্কেল টু সার্চ’-এর মতো এআই সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।দাম ও বিক্রির তারিখশাওমি ১৭টি স্মার্টফোনটি ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাবে। দাম রাখা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।যে সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে —ভায়োলেটওপাল হোয়াইটব্ল্যাকআগামী ১১ জুন থেকে দেশের সব অনুমোদিত শাওমি স্টোরে এটি বিক্রি শুরু হবে।শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে শাওমির এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আনতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বমানের ফটোগ্রাফি প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।টেক বিশ্লেষকদের মতে, লাইকা ক্যামেরা ও শক্তিশালী ব্যাটারি এই ফোনটিকে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে। তবে ৮০ হাজার টাকার ঘরে বাংলাদেশি বাজারে এটি কতটা সাড়া পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১৪ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৮ মে ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন