ঢাকা    মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

১৩ রানের জন্য দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড হলো না শান্তর

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ক্যারিয়ারে তিনবার এক টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির সুযোগ মিস করলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ১৩ রানের জন্য হলো না এই বিরল রেকর্ড।নোমান আলীর ঘূর্ণিতে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হন শান্ত। ১৫০ বলে সাতটি বাউন্ডারিতে ৮৭ রান করে থেমেছে তার দ্বিতীয় ইনিংস। এর আগে প্রথম ইনিংসে শান্ত করেছিলেন ১০১ রান। ফলে দুই ইনিংস মিলিয়ে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৮ রান। আরও ১৩ রান করলে দুই ইনিংস মিলিয়ে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়তেন তিনি।মুমিনুলের ফিফটি ও ৫ হাজার রানের মাইলফলকদ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করে নিজের ক্যারিয়ারের ২৭তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন মুমিনুল হক। এই ফিফটির মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন মুমিনুল। এর আগে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।মুমিনুল ১২০ বলে ৫৬ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। দ্বিতীয় ইনিংসে সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় অল্প রানে ফিরে যান।শেষ দিনের সমীকরণপঞ্চম দিনে জয়ের জন্য আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। শুরুটা সেভাবেই হয়েছিল। তবে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। মুশফিক হাসান আলির বলে ২২ রান করে মিডঅফে ক্যাচ দেন। লিটন দাস শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ১১ রান করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হন।প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান ৩৮৬ রানে অলআউট হলে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ, পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৭ রান।
৪ ঘন্টা আগে

মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ‘ব্যাপক দুর্নীতি’ ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতের এসব অনিয়ম ও ঋণের বোঝা এখন দেশের ২০ কোটি মানুষের ওপর এসে পড়েছে।সোমবার (১১ মে) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অডিট প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী জানান, রূপপুর প্রকল্পে বিদেশিদের কোয়ার্টারের জন্য একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা এবং ৩০–৩৫ হাজার টাকার ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ৪–৫ লাখ টাকায়। তিনি বলেন, পাশের দেশে একই ধরনের প্রকল্পে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও বাংলাদেশে রূপপুরে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা।কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে টানেলের মুখে গাছ লাগানোর নামে ৫০ কোটি টাকা তোলা হলেও বাস্তবে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি। অপর প্রান্তে অপ্রয়োজনীয় লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করে শত শত কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।এলজিআরডির দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলাতেই কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। কয়েকটি বিভাগ মিলিয়ে একটি জেলাতেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার হদিস নেই।পদ্মা সেতুর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যমুনা সেতু বা ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতু ১৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে করা সম্ভব হলেও পদ্মা সেতুতে খরচ হয়েছে ৫৪–৫৬ হাজার কোটি টাকা। তারেক রহমান বলেন, “আজ যদি এই অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো না হতো, তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হতো।”পুলিশ কর্মকর্তাদের আবাসন, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের লুটপাটের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে ধৈর্য ধরতে হবে।একই দিনে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে হবে। নিরাপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে।তিনি আরও বলেন, সরকার চিরস্থায়ী নয়, একইভাবে কারও পদ-পদবীও ক্ষণস্থায়ী। তাই মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশবাহিনী গড়ে তুলতে হবে।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে অতীতের মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা উঠে এসেছে, অন্যদিকে বর্তমান পুলিশ বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তা দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
১৮ ঘন্টা আগে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে উত্তেজনা: তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তেহরান কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, মার্কিনিদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।রোববার (১০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করার পর সোমবার (১১ মে) ইরান থেকে কঠোর বার্তা আসে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেন, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ঘাঁটিগুলোই সংঘাত ও অস্থিরতার মূল কারণ।” তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যেসব দাবি করেছে তা একেবারেই অযৌক্তিক। অন্যদিকে ইরান যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি যৌক্তিক।”ইরান যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, জলদস্যুতা বন্ধ এবং জব্দকৃত অর্থ ও সম্পদ মুক্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এসব দাবি ন্যায্য।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমও জানায়, “ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য ইরানে কেউ কোনো প্রস্তাব লেখে না। আলোচকরা শুধু ইরানি জাতির অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেন। ট্রাম্প যদি এতে অসন্তুষ্ট হন, তাহলে সেটাই ভালো।” তারা অভিযোগ করে, ট্রাম্প বাস্তবতা মেনে নিতে পারেন না, তাই বারবার ইরানের কাছে পরাজিত হচ্ছেন।পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতায় ইরান যে জবাব দিয়েছিল, তা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি—পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।”গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু পরদিনই ট্রাম্প ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। ইরান বলছে, কোনো চুক্তিতে আসতে হলে প্রথমে অবরোধ তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিক।বর্তমানে দুই পক্ষের কঠিন অবস্থান ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা শর্ত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় পক্ষের সমঝোতা জরুরি হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
১৮ ঘন্টা আগে
রাজধানীতে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার, দুই আপন ভাই ও এক বোনজামাই

রাজধানীতে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার, দুই আপন ভাই ও এক বোনজামাই

 রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে ঘুরে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন আপন ভাই। অপরজন তাদের বোনজামাই। সোমবার (১১ মে) ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে চক্রের এক সদস্য আহত হন।গ্রেপ্তাররা হলেন পলাশ, সাকিব ও বিপ্লব হোসেন। পলাশ ও সাকিবের বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার হেমাদিঘী টিএনটি মোল্লা গ্যারেজ এলাকায়। বিপ্লব তাদের বোনজামাই বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ জানায়, রোববার গভীর রাত থেকে মোটরসাইকেলে ছিনতাই করা একটি চক্রকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। ভোরে ধানমন্ডি ২৭ এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে মোহাম্মদপুরের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে চক্রের এক সদস্যের পায়ে গুলি লাগে। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। তবে আরও দুই সদস্য পালিয়ে যান।অভিযানে তাদের কাছ থেকে ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, খেলনা পিস্তল ও ছিনতাই করা ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মীর আসাদুজ্জামান বলেন, চক্রটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ছিনতাই করছিল। তারা মূলত অটোরিকশার যাত্রী ও একা চলাচলকারী পথচারীদের টার্গেট করত।
৪ ঘন্টা আগে
মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ‘ব্যাপক দুর্নীতি’ ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতের এসব অনিয়ম ও ঋণের বোঝা এখন দেশের ২০ কোটি মানুষের ওপর এসে পড়েছে।সোমবার (১১ মে) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অডিট প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী জানান, রূপপুর প্রকল্পে বিদেশিদের কোয়ার্টারের জন্য একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা এবং ৩০–৩৫ হাজার টাকার ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ৪–৫ লাখ টাকায়। তিনি বলেন, পাশের দেশে একই ধরনের প্রকল্পে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও বাংলাদেশে রূপপুরে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা।কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে টানেলের মুখে গাছ লাগানোর নামে ৫০ কোটি টাকা তোলা হলেও বাস্তবে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি। অপর প্রান্তে অপ্রয়োজনীয় লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করে শত শত কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।এলজিআরডির দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলাতেই কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। কয়েকটি বিভাগ মিলিয়ে একটি জেলাতেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার হদিস নেই।পদ্মা সেতুর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যমুনা সেতু বা ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতু ১৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে করা সম্ভব হলেও পদ্মা সেতুতে খরচ হয়েছে ৫৪–৫৬ হাজার কোটি টাকা। তারেক রহমান বলেন, “আজ যদি এই অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো না হতো, তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হতো।”পুলিশ কর্মকর্তাদের আবাসন, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের লুটপাটের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে ধৈর্য ধরতে হবে।একই দিনে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে হবে। নিরাপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে।তিনি আরও বলেন, সরকার চিরস্থায়ী নয়, একইভাবে কারও পদ-পদবীও ক্ষণস্থায়ী। তাই মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশবাহিনী গড়ে তুলতে হবে।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে অতীতের মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা উঠে এসেছে, অন্যদিকে বর্তমান পুলিশ বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তা দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
১৮ ঘন্টা আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে উত্তেজনা: তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে উত্তেজনা: তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তেহরান কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, মার্কিনিদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।রোববার (১০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করার পর সোমবার (১১ মে) ইরান থেকে কঠোর বার্তা আসে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেন, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ঘাঁটিগুলোই সংঘাত ও অস্থিরতার মূল কারণ।” তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যেসব দাবি করেছে তা একেবারেই অযৌক্তিক। অন্যদিকে ইরান যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি যৌক্তিক।”ইরান যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, জলদস্যুতা বন্ধ এবং জব্দকৃত অর্থ ও সম্পদ মুক্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এসব দাবি ন্যায্য।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমও জানায়, “ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য ইরানে কেউ কোনো প্রস্তাব লেখে না। আলোচকরা শুধু ইরানি জাতির অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেন। ট্রাম্প যদি এতে অসন্তুষ্ট হন, তাহলে সেটাই ভালো।” তারা অভিযোগ করে, ট্রাম্প বাস্তবতা মেনে নিতে পারেন না, তাই বারবার ইরানের কাছে পরাজিত হচ্ছেন।পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতায় ইরান যে জবাব দিয়েছিল, তা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি—পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।”গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু পরদিনই ট্রাম্প ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। ইরান বলছে, কোনো চুক্তিতে আসতে হলে প্রথমে অবরোধ তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিক।বর্তমানে দুই পক্ষের কঠিন অবস্থান ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা শর্ত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় পক্ষের সমঝোতা জরুরি হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
১৮ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা দেখতে যতটা সহজ, তার প্রভাব ততটাই গভীর। কারণ এই ছোট পরীক্ষাই নির্ধারণ করে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবন কতটা স্বাভাবিক হবে, নাকি শুরু থেকেই লড়তে হবে থ্যালাসেমিয়া নামক এক কঠিন বংশগত রোগের বিরুদ্ধে।অনেকেই জানেন না, তারা নিজেরাই এই রোগের বাহক হতে পারেন, আর সেই অজান্তেই নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠেলে দিতে পারে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কষ্টের চক্রে। অথচ সময়মতো সচেতন হলে এই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসপ্রতি বছর ৮ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং থ্যালাসেমিয়া নামক মারাত্মক বংশগত রক্তরোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, রোগ প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।থ্যালাসেমিয়া এমন একটি জেনেটিক রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে সুস্থ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। ফলে রোগীকে সারাজীবন নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, যা তাদের জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।এ বছরের প্রতিপাদ্যএ বছরের প্রতিপাদ্য: ‘হিডেন নো মোর: ফাইন্ডিং দ্য আনডায়াগনোসড, সাপোর্টিং দ্য আনসিন’ (আর লুকিয়ে নয়: অজানা রোগীদের খুঁজে বের করা, অদেখা মানুষদের সহায়তা করা)।আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরে: থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ ও রোগীদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যম—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপবাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। এর প্রধান কারণ অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ জানেন না যে তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না।অথচ দুইজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে ক্যারিয়ার শনাক্ত করা।একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই জানা সম্ভব কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা। এই তথ্যটি জানা থাকলে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই কষ্টকর রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।কী করা জরুরিবিবাহ-পূর্ব রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এখন এসেছে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন সহজ নয়। নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, আয়রন চেলেশন থেরাপি এবং বিভিন্ন জটিলতার মোকাবিলা তাদের নিত্যসঙ্গী। অনেক পরিবার এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ রক্ত সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা রোগীদের জন্য অপরিহার্য।সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরিথ্যালাসেমিয়া রোগীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। অনেক সময় তারা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হন, যা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা।চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসায় নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেমন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। তবে এটি ব্যয়বহুল এবং সবার নাগালের মধ্যে নয়। তাই প্রতিরোধই এখানে সবচেয়ে কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত পথ।থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই পারে অনাগত শিশুর জীবনকে কষ্টমুক্ত রাখতে। অথচ অজ্ঞতার কারণেই বহু পরিবার এই রোগের কষ্ট বহন করতে বাধ্য হয়। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে না পারলে থ্যালাসেমিয়া নির্মূল করা সম্ভব নয়। আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা করা উচিত, নিজে সচেতন হব, অন্যকে সচেতন করব। তবেই গড়ে তুলতে পারব থ্যালাসেমিয়ামুক্ত সুস্থ সমাজ।
০৮ মে ২০২৬
বিশ্ব ব্র্যান্ডের অর্ডার ফেরাতে গার্মেন্টস জোন করার পরিকল্পনা

বিশ্ব ব্র্যান্ডের অর্ডার ফেরাতে গার্মেন্টস জোন করার পরিকল্পনা

নানা সংকটে হারিয়ে যাওয়া বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর অর্ডার ফেরাতে চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বহুতল ভবনভিত্তিক গার্মেন্টস জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। চট্টগ্রামের চারটি এলাকায় এ পরিকল্পনার আওতায় অন্তত ২৫টি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, নগরীর মুরাদপুর, বায়েজিদ, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদ এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে থাকবে একটি করে কারখানা। কমপ্লায়েন্স জটিলতা এড়াতে এসব ভবনে ফ্লোর স্পেসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জেনারেটর, গ্যাস ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা থাকবে। ইতিমধ্যে জায়গা বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘বিএনবিসি কোড মেনে কমপ্লায়েন্ট বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে। জেনারেটরসহ অন্যান্য কমন সুবিধার খরচ ভাগাভাগি করা হবে। এখনো প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। সম্ভব হলে ১০ বছরের সফট লোন দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্ত হলে তা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রকল্পটি আরও সহজ হবে। কারখানা পরিচালনার পাশাপাশি ভাড়ার অর্থ ডাউন পেমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় হবে এবং ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে জায়গাটি উদ্যোক্তার মালিকানায় চলে আসবে।’পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ছয়তলা ভবনের ওয়ার্কিং স্পেস হবে অন্তত ৩০ হাজার বর্গফুট। প্রতিটি কারখানায় সর্বনিম্ন ৬০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। এ জন্য নগরীর প্রতিটি জোনে তিন থেকে পাঁচ একর জায়গা বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিজিএমইএ।এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী বলেন, ‘পাঁচ থেকে সাতটি কারখানা একসঙ্গে স্থানান্তর করা গেলে সেখানে বর্তমানে ৩০০ শ্রমিকের জায়গায় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। একইসঙ্গে বড় বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা এখন অনেক কারখানা করতে পারছে না। ভালো ব্র্যান্ডের কাজ পেলে ভালো দামও পাওয়া যাবে। এতে নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হবে। বর্তমানে যেখানে প্রায় ৩০০ কারখানা রয়েছে, তা ভবিষ্যতে ৫০০ থেকে ৭০০ কারখানায় উন্নীত হতে পারে।’স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম থেকেই তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু হয়েছিল দেশে। তবে বিভিন্ন সংকটে গত চার দশকে এ খাতের রপ্তানি অংশীদারিত্ব ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে অন্তত ২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।বিজিএমইএর পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির মধ্যে চট্টগ্রামের অংশ ১০ থেকে ১২ শতাংশ। বন্দরকেন্দ্রিক অবস্থানের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য চট্টগ্রাম সবচেয়ে সম্ভাবনাময় কেন্দ্র।’চট্টগ্রামে বর্তমানে দুটি ইপিজেডসহ বিভিন্ন এলাকায় চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় সরাসরি প্রায় আট লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। চট্টগ্রাম থেকে বছরে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 
৩০ মার্চ ২০২৬
ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানতকারীদের স্মারকলিপি

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানতকারীদের স্মারকলিপি

৩০ মার্চ ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
৩০ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার