গণবার্তা

বাংলাদেশ-জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি চুক্তিতে সই করেন।  আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি হলো। যৌথভাবে নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখে এমন উদ্যোগে—এই সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে এবং যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মৌলিক নীতিমালাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থা, সমন্বিত দৃষ্টি ও সহযোগিতার প্রতিফলন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর কূটনীতির ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।  চুক্তিটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ সনদের নীতির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতি রেখে সম্পাদিত এই চুক্তি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণের পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে।  এ চুক্তির ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একইসাথে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।  এই চুক্তি শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৫ ঘন্টা আগে

এক দিনে দুই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ

বাংলাদেশে একই দিনে দুটি ভূমিকম্পে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সাতক্ষীরার কাছাকাছি একটি ভূমিকম্প এবং রাতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া আরেকটি ভূমিকম্পে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঁপন অনুভূত হয়।প্রথম ভূমিকম্পটি ঘটে ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভারতের হাওড়া শহর থেকেও এটি অনুভূত হয়, যা উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দূরে। তবে এ ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।একই দিন রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে দ্বিতীয় ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৯। উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে কাঁপন অনুভূত হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ায় এ ধরনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে নিয়মিত ছোট-বড় ভূমিকম্প ঘটে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভূমিকম্পে দেশের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই দিনে দুটি ভূমিকম্প বাংলাদেশে ভূমিকম্পপ্রবণতার বাস্তবতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
৬ ঘন্টা আগে

র‍্যাবের নাম পরিবর্তন, নতুন পরিচয়ে আসছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’

ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি:অন্তর্বর্তী সরকার দেশের এলিট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। র‍্যাবের নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, বাহিনীটির কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার পর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন নাম অনুযায়ী বাহিনীর জন্য নতুন পোশাক প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়েছে।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি বাহিনীটির কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, পেশাদার ও আইনসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর ভূমিকা আরও কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।উল্লেখ্য, র‍্যাবের যাত্রা শুরুর সময় এর নাম ছিল র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট)। পরবর্তীতে বাহিনীটি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) নামে আত্মপ্রকাশ করে। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই এলিট ফোর্সটি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং গুরুতর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।দীর্ঘদিন পর বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন পরিচয়ে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ) কীভাবে দায়িত্ব পালন করে—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
১৫ ঘন্টা আগে
বাংলার তাজমহল

বাংলার তাজমহল

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মিত বাংলার তাজমহল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপত্যকীর্তি। ভারতের আগ্রার বিখ্যাত তাজমহলের আদলে নির্মিত এই স্থাপনাটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুন এক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।নির্মাণ ইতিহাসবাংলার তাজমহল নির্মাণের উদ্যোগ নেন নারায়ণগঞ্জের শিল্পপতি ও চলচ্চিত্রকার আহসান উল্লাহ মনি। ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মূল ভবনটি দামি স্বচ্ছ পাথরে মোড়ানো এবং অভ্যন্তরে আহসান উল্লাহ মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়ার কবর সংরক্ষিত আছে।স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য মূল ভবনের চার কোণে চারটি মিনার রয়েছে, যা আগ্রার তাজমহলের প্রতিরূপ। সামনে রয়েছে পানির ফোয়ারা, ফুলের বাগান ও দর্শনার্থীদের বসার স্থান। বাংলার তাজমহলের পাশে নির্মিত হয়েছে মিসরের পিরামিডের প্রতিরূপ। রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য, ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্য। রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও, রেস্তোরাঁ, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল ও সেমিনার কক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ববাংলার তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হস্তশিল্পের দোকান, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনা ও অন্যান্য স্থানীয় পণ্যের বাজার। এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে এবং পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করছে।সময়সূচী ও টিকেট মূল্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তাজমহল ও পিরামিড একসাথে দেখার জন্য প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ১৫০ টাকা। যাতায়াত ব্যবস্থা ঢাকা থেকে দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি/অটোরিক্সায় যাওয়া যায়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে বরপা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি করে পৌঁছানো যায়। আশেপাশের দর্শনীয় স্থানএকদিনের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বাংলার তাজমহল ছাড়াও ঘুরে দেখা যায়ঃ পানাম নগর বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর জামদানি পল্লী মেঘনা নদীর তীর বারদী আশ্রমবাংলার তাজমহল শুধু একটি স্থাপত্যকীর্তি নয়, বরং বাংলাদেশের পর্যটন ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন। এটি স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করছে। আগ্রার তাজমহলের প্রতিরূপ হলেও বাংলার তাজমহল নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে আলাদা হয়ে উঠেছে।
৫ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ-জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ-জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি চুক্তিতে সই করেন।  আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি হলো। যৌথভাবে নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখে এমন উদ্যোগে—এই সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে এবং যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মৌলিক নীতিমালাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থা, সমন্বিত দৃষ্টি ও সহযোগিতার প্রতিফলন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর কূটনীতির ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।  চুক্তিটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ সনদের নীতির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতি রেখে সম্পাদিত এই চুক্তি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণের পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে।  এ চুক্তির ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একইসাথে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।  এই চুক্তি শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৫ ঘন্টা আগে
যুদ্ধ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত ইরানের

যুদ্ধ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত ইরানের

দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার পর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরমাণু আলোচনা পুনরুজ্জীবনের জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছেন।এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের মধ্যস্থতায় আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অংশ নিতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রস্তাবিত বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ তারা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনার একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।তিনি আরও জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং আলোচনার প্রতিটি ধাপ চূড়ান্ত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান। এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।এমন এক সময়ে এই তৎপরতা জোরালো হচ্ছে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই সরাসরি সামরিক সংঘাতের হুমকি থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পরমাণু আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে আলোচনার দরজা খোলা থাকার কথা বলেছেন। তবে একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখে সামরিক চাপও বজায় রাখা হয়েছে।ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এ বিষয়ে ভিন্নমত স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কঠোর অবস্থানেই রয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আজ মঙ্গলবার ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ইস্তাম্বুল বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
১৬ ঘন্টা আগে
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
আগামী নির্বাচনে আপনি হ্যা ভোট দিবেন নাকি না ভোট দিবেন?

আগামী নির্বাচনে আপনি হ্যা ভোট দিবেন নাকি না ভোট দিবেন?

  হ্যা ভোট
  না ভোট
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
শীত পড়তেই অসুস্থ হচ্ছেন বাড়ির বয়স্কেরা? দুর্বল হার্ট, শ্বাসকষ্ট থাকলে কী কী খাওয়াবেন

শীত পড়তেই অসুস্থ হচ্ছেন বাড়ির বয়স্কেরা? দুর্বল হার্ট, শ্বাসকষ্ট থাকলে কী কী খাওয়াবেন

শীত এলেই বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের অসুস্থতা যেন বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়। বাংলাদেশে শীতকালে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে প্রবীণদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়ে যায়—এমন তথ্য চিকিৎসকরাও নিয়মিত উল্লেখ করে থাকেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ৬০ পেরোলেই শরীরের ইমিউন সিস্টেম ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। এই অবস্থায় শীতকালীন সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, হাঁপানি অ্যাটাক কিংবা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।শীতকালে বয়স্করা কেন বেশি অসুস্থ হনবাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— ঠান্ডায় রক্তনালি সংকুচিত হয়, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায় শীতকালে পানি কম খাওয়ার কারণে ডিহাইড্রেশন ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় ঠান্ডা বাতাসে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় শরীর কম নড়াচড়া করায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয় বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই হার্ট দুর্বল, হাঁপানি বা ডায়াবিটিস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি দ্বিগুণ।‘ইটিং ডিজঅর্ডার’ বেশি হয় বয়স্কদেরইচিকিৎসকদের ভাষায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের মধ্যে Eating Disorder বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। বাংলাদেশে এটি বেশ সাধারণ একটি চিত্র— অনেক প্রবীণ নারী সংসারের কাজ সামলাতে গিয়ে নিজের খাবার বাদ দেন ওষুধ খাওয়ার সময় খাবার না খেয়ে ফেলেন আবার কেউ কেউ লুকিয়ে মিষ্টি, পিঠা, ভাজাপোড়া খেয়ে ফেলেন এর ফলেই দেখা দেয়— কোষ্ঠকাঠিন্য ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) গাঁটের ব্যথা হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া বারবার সংক্রমণ শীতকালে বয়স্কদের জন্য উপযোগী খাবার (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)১. হার্ট দুর্বল হলে গরম দুধ (চিনি ছাড়া) ওটস বা লাল চালের ভাত (পরিমিত) সামুদ্রিক মাছ (রুই, কাতলা, ইলিশ নয়—চর্বি বেশি) বাদাম (ভেজানো চিনাবাদাম বা কাজু অল্প) ২. শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি থাকলে আদা ও তুলসী দিয়ে হালকা গরম পানি মধু (১ চা চামচ) সবজি স্যুপ (লাউ, কুমড়া, গাজর) হলুদ মেশানো গরম দুধ (রাতে) চিকিৎসকেরা বলেন, ঠান্ডা দই, সফট ড্রিংক ও বরফ দেওয়া খাবার হাঁপানির রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। ৩. ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লাল আটা বা আটার রুটি শাকসবজি (পালং, লাল শাক, ডাটা শাক) পেঁপে, পেয়ারা, আপেল (পরিমিত) পর্যাপ্ত পানি (গরম বা কুসুম গরম) যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত অতিরিক্ত মিষ্টি ও পিঠা ভাজাপোড়া (শিঙাড়া, কচুরি) অতিরিক্ত লবণ ঠান্ডা পানীয় শীতকালে বয়স্কদের জন্য বাড়তি যত্ন নিয়মিত গরম কাপড় ব্যবহার সকালে হালকা রোদ পোহানো দিনে অন্তত ২০–৩০ মিনিট হাঁটা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার ও ওষুধ খাওয়া উপসংহারশীতকালে বয়স্কদের সুস্থ রাখা শুধু ওষুধের বিষয় নয়—সঠিক খাবার, নিয়মিত রুটিন ও পরিবারের যত্নই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা। সময়মতো খাওয়াদাওয়া ও সচেতন জীবনযাপন করলে হার্ট, শ্বাসকষ্ট বা ডায়াবিটিস থাকলেও ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাদ্য বা ওষুধে বড় পরিবর্তন না করাই উত্তম।
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বড় ধরনের আইনি সাফল্য পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিড/ইকসিড)।পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বৃহস্পতিবার এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক রায়ে ইকসিড টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কূপ খননের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০ থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় মোট নয়টি গ্যাস স্তর শনাক্ত করা হয়। এই গ্যাস ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে সরবরাহ করা হতো। প্রায় ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর কূপে পানি উঠে আসায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০০৩ সালে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গ্যাসক্ষেত্রটি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গ্যাসক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।এ ঘটনায় পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও কোম্পানিটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা এবং নাইকোর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টেও বাংলাদেশের পক্ষেই রায় আসে।এরপর আটকে রাখা গ্যাস বিল ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগে নাইকো ২০১০ সালে ইকসিডে দুটি মামলা করে। ২০১৪ সালের এক রায়ে ইকসিড পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেয়। পরে ২০১৬ সালে বাপেক্স নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (প্রায় ১১৭ কোটি মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবিতে ইকসিডে মামলা করে। সেই মামলার চূড়ান্ত রায়েই এবার ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ এলো।আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে উল্লেখ করেছে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাতেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থ হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে এসব ঘটনার জন্য নাইকো সরাসরি দায়ী।উল্লেখ্য, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম (টেংরাটিলা) নামে দুটি অংশে বিভক্ত। অগ্নিকাণ্ডে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের গ্যাস মজুদ অক্ষত রয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদ ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে ধারণা করা হয়। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত রয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকা হয়েছিল। এখন আইনজীবীদের মতামত নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২৫ নভেম্বর ২০২৫
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা অনুদান অনুমোদন

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা অনুদান অনুমোদন

২৫ নভেম্বর ২০২৫
ঘরেই বানান পুরান ঢাকার হাজির বিরিয়ানিঃ শতবর্ষের ঐতিহ্যের স্বাদ

ঘরেই বানান পুরান ঢাকার হাজির বিরিয়ানিঃ শতবর্ষের ঐতিহ্যের স্বাদ

পুরান ঢাকার হাজির বিরিয়ানি—নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুগন্ধি চাল, নরম গরুর মাংস, আলুর মোটা টুকরো আর ঘি-আতরের অনন্য সুবাস। শত বছরের ঐতিহ্যে গড়া এই বিরিয়ানির স্বাদ অন্য যেকোনো বিরিয়ানি থেকে একেবারেই আলাদা। আজ গণবার্তার পাঠকদের জন্য রইল ঘরে বসেই হাজির বিরিয়ানির কাছাকাছি স্বাদের সহজ ও অথেন্টিক রেসিপি।কেন হাজির বিরিয়ানি আলাদা?✔️ টমেটো একেবারেই ব্যবহার হয় না ✔️ ঝাল কম, সুগন্ধ বেশি ✔️ দই ও ঘি-নির্ভর রান্না ✔️ চাল ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে দমে রান্নাপ্রয়োজনীয় উপকরণ (৪–৫ জনের জন্য)গরুর মাংস ও মেরিনেশন গরুর মাংস (হাড়সহ, মাঝারি টুকরো) – ১ কেজি টক দই – ১ কাপ পেঁয়াজ বাটা – ১ কাপ আদা বাটা – ২ টেবিল চামচ রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ লবণ – স্বাদমতো লাল মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ (হালকা ঝাল) গোলমরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ জিরা গুঁড়া – ১ চা চামচ ধনে গুঁড়া – ১ চা চামচ জয়ত্রী গুঁড়া – ¼ চা চামচ জায়ফল গুঁড়া – ¼ চা চামচ ঘি – ½ কাপ কাঁচা মরিচ – ৬–৮টি (লম্বালম্বি ফাটা) মেরিনেট করার সহজ নিয়মসব উপকরণ একসঙ্গে একটি বড় বাটিতে নিয়ে ভালো করে হাত দিয়ে মাখিয়ে নিন। ঢেকে রেখে দিন কমপক্ষে ২–৩ ঘণ্টা, সময় পেলে রাতভর রাখলে স্বাদ আরও ভালো হবে। আলু বড় আলু – ৫–৬টি লবণ – সামান্য হলুদ – এক চিমটি তেল – ভাজার জন্য আলু অর্ধেক করে কেটে লবণ ও হলুদ মেখে হালকা বাদামি করে ভেজে আলাদা রাখুন।চাল বাসমতি বা চিনিগুঁড়া চাল – ৭৫০ গ্রাম লবণ – পরিমিত তেজপাতা – ৩টি দারুচিনি – ২ টুকরো এলাচ – ৫–৬টি লবঙ্গ – ৬–৭টি চাল ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।বড় হাঁড়িতে পানি ফুটিয়ে সব মসলা ও লবণ দিয়ে চাল ৭০% সেদ্ধ করুন।চাল ভেঙে গেলে নামিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।দম দেওয়ার প্রস্তুতি (সুগন্ধের আসল রহস্য) পেঁয়াজ বেরেস্তা – ১ কাপ ঘি – ৩–৪ টেবিল চামচ কেওড়া জল – ১ চা চামচ গোলাপ জল – ১ চা চামচ জাফরান বা মিঠা আতর – সামান্য (ঐচ্ছিক) রান্নার ধাপ (একদম সহজ করে)ধাপ–১চুলায় একটি ভারী তলার পাতিল বসান। পাতিলের তলায় মেরিনেট করা কাঁচা মাংস সমান করে বিছিয়ে দিন।ধাপ–২মাংসের ওপর ভাজা আলু সুন্দর করে সাজান।ধাপ–৩এর ওপর আধা সেদ্ধ চাল ঢেলে সমান করে দিন।ধাপ–৪চালের ওপর ছড়িয়ে দিন— ✔️ বেরেস্তা ✔️ ঘি ✔️ কেওড়া জল ✔️ গোলাপ জল ✔️ আতর বা জাফরান (যদি ব্যবহার করেন)ধাপ–৫পাতিলের মুখ শক্ত করে ঢেকে দিন। (ইচ্ছা করলে ঢাকনার চারপাশে আটার লেই দিয়ে সিল করতে পারেন)দম দেওয়ার নিয়ম (হাজির স্টাইল)- প্রথম ১০ মিনিট – মাঝারি আঁচ- পরের ৪৫–৫০ মিনিট – একদম অল্প আঁচ- এই সময় ঢাকনা খুলবেন নাচুলা বন্ধ করে আরও ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ধীরে ধীরে নিচ থেকে ওপরে তুলে মেশান।পরিবেশন করুন যেভাবে ঠান্ডা বোরহানি কাঁচা পেঁয়াজ শসা লেবু হালকা মিন্ট-চাটনি হাজিরের স্বাদ পেতে জরুরি টিপস✔️ টমেটো কখনোই দেবেন না ✔️ বেশি ঝাল নয়, সুগন্ধই আসল ✔️ মসলা কম, কিন্তু ব্যালান্স জরুরি ✔️ গরুর মাংস অবশ্যই ফ্রেশ ও হাড়সহউপসংহার পুরান ঢাকার হাজির বিরিয়ানি শুধু একটি খাবার নয়—এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আবেগের নাম। সঠিক উপকরণ, ধৈর্য আর দমের যত্ন নিলে ঘরেই তৈরি করা সম্ভব হাজির বিরিয়ানির সেই কিংবদন্তি স্বাদ।
১০ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলার তাজমহল

বাংলার তাজমহল

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মিত বাংলার তাজমহল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপত্যকীর্তি। ভারতের আগ্রার বিখ্যাত তাজমহলের আদলে নির্মিত এই স্থাপনাটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুন এক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।নির্মাণ ইতিহাসবাংলার তাজমহল নির্মাণের উদ্যোগ নেন নারায়ণগঞ্জের শিল্পপতি ও চলচ্চিত্রকার আহসান উল্লাহ মনি। ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মূল ভবনটি দামি স্বচ্ছ পাথরে মোড়ানো এবং অভ্যন্তরে আহসান উল্লাহ মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়ার কবর সংরক্ষিত আছে।স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য মূল ভবনের চার কোণে চারটি মিনার রয়েছে, যা আগ্রার তাজমহলের প্রতিরূপ। সামনে রয়েছে পানির ফোয়ারা, ফুলের বাগান ও দর্শনার্থীদের বসার স্থান। বাংলার তাজমহলের পাশে নির্মিত হয়েছে মিসরের পিরামিডের প্রতিরূপ। রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য, ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্য। রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও, রেস্তোরাঁ, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল ও সেমিনার কক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ববাংলার তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হস্তশিল্পের দোকান, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনা ও অন্যান্য স্থানীয় পণ্যের বাজার। এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে এবং পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করছে।সময়সূচী ও টিকেট মূল্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তাজমহল ও পিরামিড একসাথে দেখার জন্য প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ১৫০ টাকা। যাতায়াত ব্যবস্থা ঢাকা থেকে দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি/অটোরিক্সায় যাওয়া যায়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে বরপা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি করে পৌঁছানো যায়। আশেপাশের দর্শনীয় স্থানএকদিনের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বাংলার তাজমহল ছাড়াও ঘুরে দেখা যায়ঃ পানাম নগর বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর জামদানি পল্লী মেঘনা নদীর তীর বারদী আশ্রমবাংলার তাজমহল শুধু একটি স্থাপত্যকীর্তি নয়, বরং বাংলাদেশের পর্যটন ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন। এটি স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করছে। আগ্রার তাজমহলের প্রতিরূপ হলেও বাংলার তাজমহল নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে আলাদা হয়ে উঠেছে।
২৫ নভেম্বর ২০২৫
অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক ই–কমার্স বাজারে বড় সুযোগ উন্মুক্ত হলো। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানি বাড়াতে বিজনেস-টু-বিজনেস-টু-কনজিউমার (বি২বি২সি) মডেলের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে উদ্যোক্তারা এখন অ্যামাজন, আলিবাবা, ফ্লিপকার্টসহ আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।কী বলা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে?নতুন নিয়ম অনুযায়ী— দেশের যেকোনো রপ্তানিকারক এখন সুপরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস, সাবসিডিয়ারি বা তৃতীয় পক্ষের ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে পারবেন। বিদেশি কনসাইনি চূড়ান্ত ক্রেতা না হয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করতে পারবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা আন্তর্জাতিক ওয়্যারহাউসে রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণপত্র এডি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বি২বি২সি মডেলে স্বাভাবিক বিক্রয়চুক্তি না থাকায় প্রফর্মা ইনভয়েসের ভিত্তিতে ন্যায্যমূল্য ঘোষণা করা যাবে। ওয়্যারহাউজিং বা অন্যান্য সেবা প্রদানকারী কনসাইনির নামে শিপিং ডকুমেন্ট গ্রহণ করতে পারবে এডি ব্যাংক। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধাবাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে— রপ্তানি আয় স্বাভাবিক ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (যেমন PayPal, Payoneer ইত্যাদি) মাধ্যমে পাওয়া যাবে। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানিতে একাধিক চালানের অর্থ একত্রে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে এডি ব্যাংক ফার্স্ট-ইন, ফার্স্ট-আউট (FIFO) নীতিতে রপ্তানি আয় সমন্বয় করবে। কীভাবে উপকৃত হবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা?নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে— আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি হলো। ব্র্যান্ডিং, মূল্য নির্ধারণ, প্রোডাক্ট ক্যাটালগ—এসব উদ্যোক্তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রপ্তানির প্রয়োজন কমবে, লাভ বাড়বে। অ্যামাজন–আলিবাবা–ফ্লিপকার্টে নিজস্ব স্টোর খুলে রপ্তানির পথ সহজ হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতখাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে— আন্তসীমান্ত ই–কমার্স আরও সহজ হবে, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়বে, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল খুচরা বিক্রিতে বাংলাদেশি পণ্যের অংশগ্রহণ বাড়বে। তাদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি, মানসম্মত পণ্য, আধুনিক লজিস্টিকস এবং সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দ্রুতই অনলাইন রপ্তানির বড় খেলোয়াড় হতে পারে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত সমর্থন বাংলাদেশের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সরাসরি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রপ্তানি খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
অর্থনীতি প্রতিবেদক