গণবার্তা

জয়-পরাজয় মেনে নেয়ার আহ্বান সিইসির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে জয়-পরাজয়কে সহজভাবে মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।ভাষণের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি, আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”সিইসি উল্লেখ করেন, ভোটদান কেবল নাগরিক অধিকার নয়, বরং একটি দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের ভোটাররা সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সিইসি জানান, যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবেলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তিনি সকলকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।সিইসি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশবাসী একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সাক্ষী হবে।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দলের অবস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে আশাবাদী। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতির মধ্যে সামঞ্জস্য রাখাই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও জানান তিনি। নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, “আমরা আশা করছি, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।” তরুণদের আকৃষ্ট করার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির ইশতেহারে তরুণ, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রাখা হয়েছে। নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তা আরও উচ্চশ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি হলে দূরত্ব তৈরি হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে, কারণ একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রে অপজিশন থাকা জরুরি। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দলের প্রার্থীদের ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ব্যাংক ডিফল্ট ভিন্ন বিষয়। অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়েছিল, ফলে অনেকেই ডিফল্ট হয়েছেন। গুম-খুনের বিচার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকরা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। একটি সভ্য দেশে বিচারহীনতা চলতে পারে না, তাই দেশের আইন অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যক নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি জানিয়েছে, মোট ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তারা ভোটগ্রহণের আগে দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন—মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন। তাদের কাজ হবে নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করা। এ ছাড়া মোট ২,০৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তফশিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনি থানায় ন্যূনতম দুইজন করে ১,০৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং মোবাইল কোর্ট ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী আরও ১,০৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তারা ভোটগ্রহণের আগে চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন—মোট সাত দিন দায়িত্বে থাকবেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনে মোট ২,০৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের উপস্থিতি নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোট পর্যবেক্ষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ভোট পর্যবেক্ষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারা দেশের ভোটদানের চিত্র আজ দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।এর আগে সকালে তিনি গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেন। এরপর রাজধানীর বাড্ডা হাইস্কুল এবং মিরপুরের এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন।ভোট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকে আনন্দের দিন। ঈদের মতোই একটা উৎসব চলছে।” তিনি দেশবাসীকে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান জানিয়ে গণভোটে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেন। উপস্থিত সবাই তাকে ঈদ মোবারক বলে শুভেচ্ছা জানান।গুলশানের আসনটি ভিআইপি আসন হিসেবে গণ্য করা হয়। একই কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার স্ত্রী ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন।
২০ ঘন্টা আগে
ভোট পর্যবেক্ষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ভোট পর্যবেক্ষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারা দেশের ভোটদানের চিত্র আজ দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।এর আগে সকালে তিনি গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেন। এরপর রাজধানীর বাড্ডা হাইস্কুল এবং মিরপুরের এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন।ভোট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকে আনন্দের দিন। ঈদের মতোই একটা উৎসব চলছে।” তিনি দেশবাসীকে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান জানিয়ে গণভোটে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেন। উপস্থিত সবাই তাকে ঈদ মোবারক বলে শুভেচ্ছা জানান।গুলশানের আসনটি ভিআইপি আসন হিসেবে গণ্য করা হয়। একই কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার স্ত্রী ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন।
২০ ঘন্টা আগে
গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-এ যোগ দিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুনতাক এ ঘোষণা দেন। এর ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রথম দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া এগিয়ে এল।ইসরায়েলের সরকারি বেতার জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় রাফাহ ও খান ইউনিসের মাঝামাঝি এলাকায় ইন্দোনেশীয় বাহিনীর জন্য একটি ব্যারাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম কোনো বিদেশি বাহিনী গাজায় মোতায়েন হতে যাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিম দেশ সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংঘাতে যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে এটিকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।জেনারেল মারুলি জানিয়েছেন, একটি ব্রিগেড—অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার সেনা পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত হয়নি। সেনারা মূলত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ইতোমধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্বাস্থ্য ইউনিট প্রস্তুত করা হচ্ছে।ট্রাম্প গত বছর যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাহিনীর কথা তুলেছিলেন। তবে তাদের ভূমিকা এখনো স্পষ্ট নয়। অনেক দেশ হামাসকে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস-এ যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন। এই বোর্ড গাজা ও অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়া তদারকি করবে। বোর্ডের প্রথম পূর্ণ বৈঠক আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।এর আগে গত সেপ্টেম্বর প্রাবোও প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার সেনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
আগামী নির্বাচনে আপনি হ্যা ভোট দিবেন নাকি না ভোট দিবেন?

আগামী নির্বাচনে আপনি হ্যা ভোট দিবেন নাকি না ভোট দিবেন?

  হ্যা ভোট
  না ভোট
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ডিম খাওয়ার সীমাবদ্ধতা: কারা সতর্ক থাকবেন

ডিম খাওয়ার সীমাবদ্ধতা: কারা সতর্ক থাকবেন

ডিমকে বলা হয় “সুপারফুড”—এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন ও নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড। একটি ৫০ গ্রাম ওজনের ডিমে থাকে প্রায় ৬–৭ গ্রাম প্রোটিন। সাদা অংশে অ্যালবুমিন থাকে, যা পেশী ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে কুসুমে থাকে চর্বি, ভিটামিন A, D, E, K এবং কোলিন, যা মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সবার জন্য নিয়মিত ডিম খাওয়া উপযুক্ত নয়। অ্যালার্জি আক্রান্তরা: শিশুদের মধ্যে ডিম অ্যালার্জি বেশি দেখা যায়, যা ত্বকে ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট এমনকি অ্যানাফাইল্যাক্সিস ঘটাতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরল রোগীরা: কুসুমে কোলেস্টেরল থাকায় তাদের সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। যদিও সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১–২টি ডিম রক্তের লিপিডে বড় প্রভাব ফেলে না। লিভার রোগীরা: সিরোসিস বা লিভার ফেইলিউরে আক্রান্তদের খাদ্যে চর্বি কমাতে হয়। ফ্যাটি লিভার রোগীদের অতিরিক্ত কুসুম এড়িয়ে চলা উচিত। কিডনি রোগীরা: তাদের প্রোটিন গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে ডিমের সাদা অংশ খাওয়া নিরাপদ, যদি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনিক প্রোটিন নির্ধারিত হয়। উপসংহার: চিকিৎসক ড. দিন ট্রান নগক মাই জানিয়েছেন, সঠিক পরিমাণে খেলে ডিম অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিদিন ১–২টি ডিম খেতে পারেন। ক্রীড়াবিদ বা যাদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি তারা ৩–৪টি ডিম খেতে পারেন, তবে চর্বি ও কোলেস্টেরলের চিন্তা থাকলে সাদা অংশে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
১৬ ঘন্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি সই, নতুন হার ১৯ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি সই, নতুন হার ১৯ শতাংশ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রায় ৯ মাসের আলোচনার পর এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনার অচলাবস্থার অবসান হলো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হয়ে মোট শুল্কহার দাঁড়াবে ৩৪ শতাংশ।স্থানীয় সময় সোমবার রাতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর নিশ্চিত করেছে। এর আগে একই দিন বিকালে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছিলেন, রাতে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদনের পর চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়। উভয় দেশের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পর এটি কার্যকর হবে।চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ উপস্থিত ছিলেন।চুক্তির পর রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশি আলোচক দলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাকপণ্যে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা দেওয়ার জন্য পৃথক একটি প্রক্রিয়া চালুর কথাও জানানো হয়।বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মতে, শুল্ক কমানোয় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা পাবেন এবং পোশাক খাত আরও গতিশীল হবে।এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছিলেন, যা ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। সর্বশেষ আলোচনার পর তা আরও ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন তেল, তেলবীজ, ডাল, চিনি, বার্লি, এলএনজি ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগও রয়েছে। এভাবে বছরে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে।
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
গুণমান ও দামের কাছে পিছিয়ে ‘হালাল’ ব্র্যান্ডিং

গুণমান ও দামের কাছে পিছিয়ে ‘হালাল’ ব্র্যান্ডিং

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
রাতে দাঁত না মেজে ঘুমালে হতে পারে বড় ক্ষতি

রাতে দাঁত না মেজে ঘুমালে হতে পারে বড় ক্ষতি

রাতে দাঁত না মাজলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে মানুষ সাধারণত সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করেন, এরপর নাশতা করে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে দিনের শেষে রাতে অনেকেই দাঁত ব্রাশ না করেই শুয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা বলছেন, এই ছোট ভুল গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কুনাল সুধ জানিয়েছেন, রাতে দাঁত ব্রাশ না করলে মুখে ব্যাকটেরিয়া জমে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে। এতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা সময়ের সঙ্গে হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং হার্ট অ্যাটাকসহ বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি বলেন, মুখের স্বাস্থ্য দুর্বল হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। এটি সরাসরি হৃদরোগের কারণ না হলেও ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম উপাদান। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্বল মুখের স্বাস্থ্যবিধি হৃদরোগ ও হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। ডা. সুধ আরও জানান, যারা নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করেন তাদের হার্ট ভালো থাকে। প্রতিদিন অন্তত তিনবার দাঁত ব্রাশ করা এবং নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. জগদীশ হিরেমাথ বলেন, রাতে দাঁত ব্রাশ না করলে মুখে প্লাক ও ব্যাকটেরিয়া জমে, যা বিষাক্ত পদার্থ নির্গত করে এবং রক্তপ্রবাহে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা ধমনীতে প্লাক তৈরি করতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি আরও বলেন, হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করার পরিমাণ, পারিবারিক ইতিহাস, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও ধূমপানের মতো জীবনযাত্রার অভ্যাস বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করতে, বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে। পাশাপাশি ফ্লসিং বা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার এবং ছয় মাস অন্তর দাঁতের ডাক্তার দেখানোও জরুরি। তাদের মতে, মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা শুধু দাঁতের জন্য নয়, বরং হৃদস্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মহেড়া জমিদার বাড়ি: ইতিহাস, সৌন্দর্য আর স্মৃতির এক জীবন্ত দলিল

মহেড়া জমিদার বাড়ি: ইতিহাস, সৌন্দর্য আর স্মৃতির এক জীবন্ত দলিল

বাংলাদেশের স্থাপত্য ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে মহেড়া জমিদার বাড়ি এক অনন্য নাম। টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়, বরং শতবর্ষের ইতিহাস, জনকল্যাণ, নির্মম স্মৃতি ও অপরূপ প্রকৃতির এক সম্মিলিত সাক্ষ্য। সময়ের প্রবাহে বহু পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও মহেড়া জমিদার বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব ভাষ্যকার হয়ে।ইতিহাসের শিকড়উনিশ শতকের শেষভাগে, ১৮৯০ দশকের আগেই মহেড়া জমিদার বাড়ির পত্তন ঘটে। কলকাতার ব্যবসায়ী কালীচরণ সাহা ও আনন্দ সাহা—এই দুই ভাই লবণ ও ডালের ব্যবসা করে বিপুল সম্পদের মালিক হন। ব্যবসায়িক সাফল্যের পর তারা টাঙ্গাইলের মহেড়া গ্রামে এসে প্রায় ১ হাজার ১৭৪ শতাংশ জমির ওপর এই সুবিশাল জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন।পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার জমিদারি প্রথা চালু করলে সাহা পরিবারের উত্তরসূরিরা করটিয়ার ২৪ পরগনার জমিদারদের কাছ থেকে জমিদারির একটি অংশ ক্রয় করেন। তখন থেকেই মহেড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমিদারি শাসনের সূচনা হয়। কালীচরণ সাহা ও আনন্দ মোহন সাহার উত্তরাধিকারী রাজেন্দ্র রায় চৌধুরী পর্যায়ক্রমে জমিদারি পরিচালনা করেন।এই জমিদার পরিবার শুধু বিত্তশালীই ছিলেন না, ছিলেন প্রজাবৎসল ও জনহিতৈষী। বিদ্যালয়, মন্দির, রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, কূপ খনন—এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।স্থাপত্য ও নকশামহেড়া জমিদার বাড়ির স্থাপত্যে ইউরোপীয় প্রভাব স্পষ্ট। ধারণা করা হয়, স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে ভবনগুলো নির্মিত হয়েছিল। পুরো জমিদার বাড়ি প্রায় আট একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।প্রবেশপথের সামনেই চোখে পড়ে বিশাল দীঘি ‘বিশাখা সাগর’। এর পাশেই দুটি সুরম্য গেট দিয়ে মূল চত্বরে প্রবেশ করতে হয়। ভেতরে রয়েছে তিনটি প্রধান ভবন ও একাধিক সহায়ক স্থাপনা—নায়েব ভবন, কাছারি ঘর, গোমস্তাদের ঘর, লজ ও মন্দির।চার প্রধান ভবনচৌধুরী লজপ্রবেশ করলেই দেখা যায় গোলাপি রঙের চৌধুরী লজ। রোমান স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত এই দোতলা ভবনের পিলার ও ঢেউ খেলানো ছাদ আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। সামনে বিস্তৃত বাগান ও সবুজ মাঠ ভবনটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।মহারাজ লজবাইজেনটাইন ঘরানার এই ভবনের সামনে ছয়টি সুউচ্চ কলাম। বাঁকানো রেলিং ও ঝুলন্ত বারান্দা এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। ১২ কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনের পেছনে রয়েছে একটি টেনিস কোর্ট। বর্তমানে এটি নাটক ও চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।আনন্দ লজনীল-সাদা রঙের সংমিশ্রণে নির্মিত তিনতলা আনন্দ লজকে অনেকেই মহেড়া জমিদার বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবন বলেন। সামনে আটটি কলাম ও ঝুলন্ত বারান্দা রয়েছে। ভবনের সামনে হরিণ, বাঘ ও নানা পশু-পাখির ভাস্কর্যসহ একটি মনোরম বাগান রয়েছে।কালীচরণ লজ (রাণী ভবন)ইংরেজি ‘U’ আকৃতির এই ভবনটি ইংরেজ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। বিকেলের আলোয় ভেতর থেকে আলো-ছায়ার খেলায় ভবনটি অন্যরকম রূপ নেয়।প্রকৃতি ও পরিবেশজমিদার বাড়ির চারপাশ যেন এক জীবন্ত উদ্যান। বিশাখা সাগরের দক্ষিণ পাশে রয়েছে বিশাল আম্র কানন—ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ নানা জাতের আমগাছ। বর্তমান পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের প্রায় ৪৪ একর জমিজুড়ে ছড়িয়ে আছে আম, কাঁঠাল, নারিকেল, ছবেদা, জলপাইসহ নানা ফল ও ঔষধি গাছ।পাসরা পুকুর ও রানী পুকুর জমিদারদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছিল। ফুলে-ফলে, পাখির কলকাকলিতে মুখর এই পরিবেশ দর্শনার্থীদের এক ধরনের প্রশান্তি দেয়। শীতকালে এখানে প্রজাপতির মেলা বসে, যা ফটোগ্রাফারদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতিএই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ১৪ মে পাকিস্তানি বাহিনী মহেড়া জমিদার বাড়িতে হামলা চালায়। চৌধুরী লজের মন্দিরের পেছনে জমিদার পরিবারের কুলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ পাঁচজন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক বিমল কুমার সরকারসহ স্থানীয় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।এই হত্যাযজ্ঞের পর জমিদার পরিবার শত বছরের স্মৃতি ও বিপুল সম্পদ ফেলে লৌহজং নদীপথে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা বায়েজীদ সাহেবের নেতৃত্বে এখানে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপিত হয়।নতুন অধ্যায়: পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারস্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িটিকে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় সরকার। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯০ সালে এটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত হয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন স্থাপনা যুক্ত হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোর সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন থেকেছে, বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে।ভ্রমণ গাইডঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে নাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে সিএনজি বা বেবিট্যাক্সিতে মাত্র ৩–৪ কিলোমিটার পথ। মহাসড়কে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মহেড়া লেখা বড় সাইনবোর্ড রয়েছে।প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা। পিকনিক ও শুটিংয়ের জন্য স্থান ভাড়া আলোচনা সাপেক্ষে। ক্যান্টিন সুবিধা আছে, আগাম অর্ডারে খাবারও পাওয়া যায়। রাতে থাকার জন্য এসি ও নন-এসি ডাকবাংলো রয়েছে। সকাল ও বিকেলে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কসরত দেখাও এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।উপসংহারমহেড়া জমিদার বাড়ি কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও আত্মত্যাগের এক জীবন্ত স্মারক। একদিকে অপরূপ সৌন্দর্য, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বেদনাবিধুর স্মৃতি—সব মিলিয়ে মহেড়া জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনিবার্য নাম।
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক ই–কমার্স বাজারে বড় সুযোগ উন্মুক্ত হলো। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানি বাড়াতে বিজনেস-টু-বিজনেস-টু-কনজিউমার (বি২বি২সি) মডেলের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে উদ্যোক্তারা এখন অ্যামাজন, আলিবাবা, ফ্লিপকার্টসহ আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।কী বলা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে?নতুন নিয়ম অনুযায়ী— দেশের যেকোনো রপ্তানিকারক এখন সুপরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস, সাবসিডিয়ারি বা তৃতীয় পক্ষের ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে পারবেন। বিদেশি কনসাইনি চূড়ান্ত ক্রেতা না হয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করতে পারবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা আন্তর্জাতিক ওয়্যারহাউসে রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণপত্র এডি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বি২বি২সি মডেলে স্বাভাবিক বিক্রয়চুক্তি না থাকায় প্রফর্মা ইনভয়েসের ভিত্তিতে ন্যায্যমূল্য ঘোষণা করা যাবে। ওয়্যারহাউজিং বা অন্যান্য সেবা প্রদানকারী কনসাইনির নামে শিপিং ডকুমেন্ট গ্রহণ করতে পারবে এডি ব্যাংক। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধাবাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে— রপ্তানি আয় স্বাভাবিক ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (যেমন PayPal, Payoneer ইত্যাদি) মাধ্যমে পাওয়া যাবে। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানিতে একাধিক চালানের অর্থ একত্রে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে এডি ব্যাংক ফার্স্ট-ইন, ফার্স্ট-আউট (FIFO) নীতিতে রপ্তানি আয় সমন্বয় করবে। কীভাবে উপকৃত হবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা?নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে— আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি হলো। ব্র্যান্ডিং, মূল্য নির্ধারণ, প্রোডাক্ট ক্যাটালগ—এসব উদ্যোক্তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রপ্তানির প্রয়োজন কমবে, লাভ বাড়বে। অ্যামাজন–আলিবাবা–ফ্লিপকার্টে নিজস্ব স্টোর খুলে রপ্তানির পথ সহজ হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতখাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে— আন্তসীমান্ত ই–কমার্স আরও সহজ হবে, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়বে, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল খুচরা বিক্রিতে বাংলাদেশি পণ্যের অংশগ্রহণ বাড়বে। তাদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি, মানসম্মত পণ্য, আধুনিক লজিস্টিকস এবং সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দ্রুতই অনলাইন রপ্তানির বড় খেলোয়াড় হতে পারে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত সমর্থন বাংলাদেশের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সরাসরি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রপ্তানি খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
অর্থনীতি প্রতিবেদক