ঢাকা    রোববার, ১৭ মে ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১৭ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হামাসের সামরিক শাখার প্রধান এজেদ্দিন আল-হাদ্দাদ

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গাজায় পরিচালিত বিমান হামলায় হামাসের সামরিক শাখার প্রধান এজেদ্দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৬ মে) এ তথ্য জানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হামাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।ইসরায়েলের দাবি কীইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, আল-হাদ্দাদ ‘হাজার হাজার ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও সৈন্যদের হত্যা, অপহরণ এবং তাদের ক্ষতির জন্য দায়ী।’ এই দায়িত্বের কারণেই তাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।হামাসের নিশ্চিতকরণহামাসের কর্মকর্তারাও আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণকারী আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিস্তারিত বিবরণ জানায়নি হামাস।জানাজা ও স্ত্রী-মেয়ের মৃত্যুশনিবার মধ্য গাজার আল আকসা শহীদ মসজিদে আল-হাদ্দাদ, তার স্ত্রী এবং ১৯ বছর বয়সী মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে আল-হাদ্দাদের স্ত্রী ও মেয়ে কীভাবে মারা গেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ইসরায়েলি হামলায় তারা নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।গাজায় অন্যান্য হতাহতস্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, ইসরায়েল শুক্রবার (১৫ মে) গাজায় অন্তত দুটি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় তিন নারী ও এক শিশুসহ সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।নেতানিয়াহুর পূর্ববর্তী বিবৃতি১৫ মে এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তাদের সামরিক বাহিনী হামাস নেতাকে লক্ষ্য করে একটি বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে ওই বিবৃতিতে আল-হাদ্দাদের নিহত হওয়ার বিষয়টি তখন নিশ্চিত করা হয়নি।ইসরায়েলের দাবি ও হামাসের নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গাজায় হামাসের এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের মৃত্যুর খবর স্পষ্ট হয়েছে। তবে আল-হাদ্দাদের স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও স্পষ্টতা আসেনি। এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় ফিলিস্তিনি হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১০ ঘন্টা আগে

বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতি ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এখন জনগণের শাসন, কথা বলা এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে দেশকে গড়ে তোলা ও রাষ্ট্রকে পুনঃগঠন করা।শনিবার (১৬ মে) বিকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বিগত সরকারের শাসনের সমালোচনাপ্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি বিগত ১৭ বছর এদেশের মানুষের লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছিল এবং সম্পদ পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের প্রশাসনকে রাজনীতিকরণ করে তাদের দক্ষতা নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। অন্য দেশের চিকিৎসা সেবার সুবিধার জন্য দেশের চিকিৎসা সেবা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের অর্থ লুট করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যারা কাজ করবে তাদের জন্য বালিশ কেনা হয়েছিল ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। একটি বালিশের দাম কখনো আশি হাজার টাকা হতে পারে? জনগণের এ টাকাই বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।’আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিতাড়িততারেক রহমান বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম করে এবং অনেক জীবনের বিনিময়ে দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। আর বাংলাদেশের জনগণ সেই আন্দোলনে সফল হয়েছে।উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগপ্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের অর্থ লুট করা হয়েছে। গ্রামে উন্নয়ন হয়নি এবং শহরে গিয়ে দেখবেন কতগুলো ফ্লাইওভার হয়েছে, কিন্তু রাস্তাঘাট ভাঙা।এ প্রসঙ্গে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, এখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা থাকলেও গত একযুগে তা হয়নি। টেকনিক্যাল কলেজ হলে এ এলাকার যুবকরা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হবে এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান হবে।বিশ্বখাল পুনঃখননের গুরুত্বতিনি বলেন, আজকে আমরা যে বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছি, এটি বিগত এক যুগের অধিক সময় কেন সংস্কার করা হয়নি। এটি খনন হলে এ এলাকার মানুষ ও কৃষকরা উপকৃত হবে, কারণ গ্রামে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বসবাস করে।ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতিপ্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে বলেন, আমরা তরুণ-যুবকদের প্রশিক্ষিত এবং মেয়েদের শিক্ষিত করতে উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি মায়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা ধীরে ধীরে প্রত্যেকটি পরিবারের ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। পাশাপাশি সার-বীজ ক্রয় করার জন্য কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ।পরে বিকালে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কলেজ মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ল্যাপটপের বাটন টিপে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন ও বিতরণ করেন। এরপর সন্ধ্যায় তিনি চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপি আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।
১১ ঘন্টা আগে

হরমুজ প্রণালি সংকট: নিরাপত্তা পরিষদে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন-রাশিয়া

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ খসড়া প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, এই প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু এবং এটি উত্থাপনের সময় (টাইমিং) কোনোটিই উপযুক্ত নয়। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে এলে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা বাতিল করে দিতে পারে।টাইমিং ও বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের প্রশ্ন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু চং মার্কিন-বাহরাইনি এই যৌথ উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলি নিয়ে কাজ করা গণমাধ্যম ‘পাসব্লু’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই ধরনের একপেশে প্রস্তাব সংকট সমাধানের পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ফু চং স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমরা মনে করি না এই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সঠিক আছে, এমনকি এর জন্য বেছে নেওয়া সময়টিও উপযুক্ত নয়।"প্রস্তাবের পটভূমি ও ভেটোর আশঙ্কা আলোচ্য খসড়া প্রস্তাবে ইরানের প্রতি হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা এবং মাইন স্থাপন বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে জাতিসংঘের কূটনীতিকরা বলছেন, এই প্রস্তাব পাসের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কারণ, গত মাসেও প্রায় একই ধরনের একটি মার্কিন প্রস্তাব চীন ও রাশিয়ার ভেটোর কারণে ভেস্তে গিয়েছিল। সে সময় বেইজিং ও মস্কোর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, প্রস্তাবের ভাষা অত্যন্ত একপেশে এবং তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এককভাবে ইরানের ওপর দোষ চাপানোর জন্য তৈরি।সমাধানের পথ কেবল কূটনীতিতেই চীনা রাষ্ট্রদূতের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বর্তমান প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত সব পক্ষকে একটি আন্তরিক ও গভীর কূটনৈতিক সংলাপে বসতে উৎসাহিত করা। কোনো জোড়াতালির প্রস্তাব পাস করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা বেশি জরুরি।হরমুজ প্রণালির এই খসড়া প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও মেরুকরণ নতুন করে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
২১ ঘন্টা আগে
 দেশের ১৩ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ, সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশের ১৩ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ, সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশের ১৩ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাদারীপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে, সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।তাপপ্রবাহের অবস্থানআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, খুলনা বিভাগের পাশাপাশি মাদারীপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ আগামী কয়েক ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।বৃষ্টির পূর্বাভাসরোববার (১৭ মে) সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাআবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এসব এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।লঘুচাপের অবস্থানআবহাওয়া অফিস আরও জানায়, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এ ছাড়া অপর একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই দুই লঘুচাপের প্রভাবেই দেশের আবহাওয়ায় এ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।একদিকে ১৩ জেলায় তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস — এ যেন দুই মেরুর আবহাওয়া একসঙ্গে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় সক্রিয় দুই লঘুচাপের কারণেই এই জটিল আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার তারতম্য থাকতে পারে।
১০ ঘন্টা আগে
বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতি ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতি ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এখন জনগণের শাসন, কথা বলা এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে দেশকে গড়ে তোলা ও রাষ্ট্রকে পুনঃগঠন করা।শনিবার (১৬ মে) বিকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বিগত সরকারের শাসনের সমালোচনাপ্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি বিগত ১৭ বছর এদেশের মানুষের লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছিল এবং সম্পদ পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের প্রশাসনকে রাজনীতিকরণ করে তাদের দক্ষতা নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। অন্য দেশের চিকিৎসা সেবার সুবিধার জন্য দেশের চিকিৎসা সেবা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের অর্থ লুট করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যারা কাজ করবে তাদের জন্য বালিশ কেনা হয়েছিল ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। একটি বালিশের দাম কখনো আশি হাজার টাকা হতে পারে? জনগণের এ টাকাই বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।’আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিতাড়িততারেক রহমান বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম করে এবং অনেক জীবনের বিনিময়ে দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। আর বাংলাদেশের জনগণ সেই আন্দোলনে সফল হয়েছে।উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগপ্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের অর্থ লুট করা হয়েছে। গ্রামে উন্নয়ন হয়নি এবং শহরে গিয়ে দেখবেন কতগুলো ফ্লাইওভার হয়েছে, কিন্তু রাস্তাঘাট ভাঙা।এ প্রসঙ্গে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, এখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা থাকলেও গত একযুগে তা হয়নি। টেকনিক্যাল কলেজ হলে এ এলাকার যুবকরা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হবে এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান হবে।বিশ্বখাল পুনঃখননের গুরুত্বতিনি বলেন, আজকে আমরা যে বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছি, এটি বিগত এক যুগের অধিক সময় কেন সংস্কার করা হয়নি। এটি খনন হলে এ এলাকার মানুষ ও কৃষকরা উপকৃত হবে, কারণ গ্রামে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বসবাস করে।ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতিপ্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে বলেন, আমরা তরুণ-যুবকদের প্রশিক্ষিত এবং মেয়েদের শিক্ষিত করতে উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি মায়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা ধীরে ধীরে প্রত্যেকটি পরিবারের ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। পাশাপাশি সার-বীজ ক্রয় করার জন্য কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ।পরে বিকালে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কলেজ মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ল্যাপটপের বাটন টিপে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন ও বিতরণ করেন। এরপর সন্ধ্যায় তিনি চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপি আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।
১১ ঘন্টা আগে
গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হামাসের সামরিক শাখার প্রধান এজেদ্দিন আল-হাদ্দাদ

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হামাসের সামরিক শাখার প্রধান এজেদ্দিন আল-হাদ্দাদ

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গাজায় পরিচালিত বিমান হামলায় হামাসের সামরিক শাখার প্রধান এজেদ্দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৬ মে) এ তথ্য জানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হামাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।ইসরায়েলের দাবি কীইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, আল-হাদ্দাদ ‘হাজার হাজার ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও সৈন্যদের হত্যা, অপহরণ এবং তাদের ক্ষতির জন্য দায়ী।’ এই দায়িত্বের কারণেই তাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।হামাসের নিশ্চিতকরণহামাসের কর্মকর্তারাও আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণকারী আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিস্তারিত বিবরণ জানায়নি হামাস।জানাজা ও স্ত্রী-মেয়ের মৃত্যুশনিবার মধ্য গাজার আল আকসা শহীদ মসজিদে আল-হাদ্দাদ, তার স্ত্রী এবং ১৯ বছর বয়সী মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে আল-হাদ্দাদের স্ত্রী ও মেয়ে কীভাবে মারা গেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ইসরায়েলি হামলায় তারা নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।গাজায় অন্যান্য হতাহতস্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, ইসরায়েল শুক্রবার (১৫ মে) গাজায় অন্তত দুটি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় তিন নারী ও এক শিশুসহ সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।নেতানিয়াহুর পূর্ববর্তী বিবৃতি১৫ মে এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তাদের সামরিক বাহিনী হামাস নেতাকে লক্ষ্য করে একটি বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে ওই বিবৃতিতে আল-হাদ্দাদের নিহত হওয়ার বিষয়টি তখন নিশ্চিত করা হয়নি।ইসরায়েলের দাবি ও হামাসের নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গাজায় হামাসের এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের মৃত্যুর খবর স্পষ্ট হয়েছে। তবে আল-হাদ্দাদের স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও স্পষ্টতা আসেনি। এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় ফিলিস্তিনি হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১০ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ জন।একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।নিবিড় পর্যবেক্ষণে সরকারহামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানের জ্বর, সর্দি ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
১৪ মে ২০২৬
নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আশা জাগ্রত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এই কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত এই নবম পে স্কেলের একটি সম্ভাব্য খসড়া নিয়ে বর্তমানে সরকারি মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, তবুও এতে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।প্রস্তাবিত বেতন স্কেলের খসড়াগ্রেড ও বেতন স্কেল (টাকা):০১: ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)০২: ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০০৩: ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০০৪: ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০০৫: ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০০৬: ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০০৭: ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০০৮: ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০০৯: ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০১০: ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০১১: ২৫,০০০ – ৬০,৫০০১২: ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০১৩: ২৪,০০০ – ৫৮,০০০১৪: ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০১৫: ২২,৮০০ – ৫৫,২০০১৬: ২১,৯০০ – ৫২,৯০০১৭: ২১,৪০০ – ৫১,৯০০১৮: ২১,০০০ – ৫০,৯০০১৯: ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০২০: ২০,০০০ – ৪৮,৪০০উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার একটি অংশ মাত্র এবং এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। 
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

০৬ এপ্রিল ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার