ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে বুধবার চুক্তি সই করবে বিমান

ঢাকা: ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্যে আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ঢাকার একটি হোটেলে বহু কোটি ডলারের এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।চুক্তির আওতায় বিমান ৪টি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ৬টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ কিনবে। জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটির দূরপাল্লা ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল এয়ারবাসের এই ক্রয় প্যাকেজের মূল্যই ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাবে।এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ও ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে দুটি পৃথক চুক্তির মাধ্যমে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে বিমান। যার মোট মূল্য ধরা হয় প্রায় ৬৪০ কোটি ডলার। বোয়িং থেকে ১৫টি ওয়াইডবডি ও ১০টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে, যা ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। তবে অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালের মধ্যে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বিমান।বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পাইপলাইনে রয়েছে, যা বাংলাদেশ বিমানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ কার্যক্রম। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
০৫ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ঢাকা: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রস্তাব বিচ্ছিন্নভাবে না এনে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ নীতিমালার আওতায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবে, সেগুলো পরবর্তীতে জাতীয়করণের আওতায় আসবে।গত ১ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রস্তাব আসছিল। এভাবে একের পর এক প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রস্তাব আসার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিতে আসে। পরে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেন।জাতীয়করণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে, কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে এবং কোন কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে—নীতিমালায় এসব বিষয় স্পষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা।তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হলে ভবিষ্যতে ইচ্ছেমতো বা বিচ্ছিন্নভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সুযোগ থাকবে না। বরং নীতিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের জন্য বিবেচিত হবে। এতে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয়করণের প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করাও সহজ হবে।বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯২ হাজার ৩৯২টি। এরমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৬ হাজার ৫৮০টি ও নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান ৬৬ হাজার ২৮৭টি।
০৫ অক্টোবর ২০২৬

নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

ঢাকা: নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)। আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে অনলাইনে এ কাজ করতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অনলাইনে শুধু কয়েকটি তথ্য পূরণ করলেই হবে না; আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসহ চাকরির বিভিন্ন তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে।কারণ পে ফিক্সেশনে কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে নতুন মূল বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বকেয়া বা এরিয়ার পাওনার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশন করার আগে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য এবং এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও সচল থাকতে হবে।ভুল তথ্য দিলে যা হতে পারেপে ফিক্সেশনের সময় কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বাদ পড়লেও নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবে সমস্যা হতে পারে। তাই এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি।শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্য ও চাকরির নথি যাচাই করবে। তথ্যের সঙ্গে নথির অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধন করতে হতে পারে। তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।তথ্য দেওয়ার পরও থাকবে যাচাইঅনলাইনে তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কার্যালয় চাকরির নথির সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখবে। তথ্য সঠিক থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।অনুমোদনের পর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। এরপর চাকরির নথিতে যাচাই নম্বর ও নতুন নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করা হবে।অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলতে পারে বকেয়াপে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য হিসাব করে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার নির্ধারণ করা হবে।তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।এ কারণে পে ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি চাকরির আগের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
০৪ অক্টোবর ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ড পাবে না যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার

ফ্যামিলি কার্ড পাবে না যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার

ঢাকা: দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচিতে কারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুবিধা পাবেন এবং কোন শর্তে বাদ পড়বেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে।সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভান্ডার নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর বরাত দিয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হতদরিদ্র, ভূমিহীন, দিনমজুর ও অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আট ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পরিবার ও ব্যক্তি এ সুবিধা পাবেন না।কর্মসূচির খসড়া প্রণয়ন ও উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রকৃত অভাবী পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীতিমালায় কিছু বর্জনীয় শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার১. নির্ধারিত আয়ের চেয়ে সচ্ছল পরিবার: সরকার নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করা সচ্ছল, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবার এ সুবিধা পাবে না।২. সরকারি চাকরিজীবী পরিবার: পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না। একইভাবে, তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলেও এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।৩. পেনশনভোগী পরিবার: পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা পেলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রাপ্ত বিশেষ পেনশনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।৪. নির্দিষ্ট সীমার বেশি আর্থিক আমানত: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না। একইভাবে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো সদস্যের নামে ৫ লাখ টাকার বেশি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) বা সঞ্চয় থাকলেও পরিবারটি বাদ পড়বে।৫. মোটরযানের মালিক পরিবার: পরিবারের যেকোনো সদস্যের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক কিংবা সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলারের মতো যানবাহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।৬. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার লাইসেন্স: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে অথবা বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে ওই পরিবার এ সুবিধা পাবে না।৭. করযোগ্য আয় থাকা আয়করদাতা: পরিবারের যেকোনো সদস্য নিয়মিত আয়কর প্রদান করলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়বে।৮. নির্ধারিত সীমার বেশি জমির মালিক: বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া, পরিবারের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও এ সুবিধা দেওয়া হবে না।ফ্যামিলি কার্ড কারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন?ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা রয়েছে কয়েক ধরনের পরিবারের।হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবার: গ্রামীণ হতদরিদ্র, উপার্জনে সক্ষম সদস্যহীন পরিবার, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবার অগ্রাধিকার পাবে।নারীপ্রধান ও অসচ্ছল পরিবার: বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ে রয়েছে—এমন পরিবারও অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে।বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্য থাকা পরিবার: শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সদস্য রয়েছে—এমন পরিবারকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রত্যাগত অভিবাসী, বিশেষ করে নারী অভিবাসী সদস্য থাকা পরিবারও অগ্রাধিকার পেতে পারে।কাঁচা বাড়ি ও ভূমিহীন পরিবার: যেসব পরিবারের ঘরের দেয়াল মাটি, বাঁশ বা পাটকাঠি দিয়ে তৈরি, সেসব পরিবারকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, তবে কৃষিনির্ভর—এমন পরিবারও ভূমিহীন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা রয়েছে, কিন্তু কৃষিজমি নেই—এমন পরিবারও নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী বিবেচিত হবে।তবে এসব বৈশিষ্ট্য থাকলেই কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়। নির্ধারিত যোগ্যতা, তথ্য যাচাই ও বহির্ভুক্তির শর্ত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।
৫ ঘন্টা আগে
ফ্যামিলি কার্ড পাবে না যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার

ফ্যামিলি কার্ড পাবে না যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার

ঢাকা: দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচিতে কারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুবিধা পাবেন এবং কোন শর্তে বাদ পড়বেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে।সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভান্ডার নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর বরাত দিয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হতদরিদ্র, ভূমিহীন, দিনমজুর ও অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আট ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পরিবার ও ব্যক্তি এ সুবিধা পাবেন না।কর্মসূচির খসড়া প্রণয়ন ও উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রকৃত অভাবী পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীতিমালায় কিছু বর্জনীয় শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার১. নির্ধারিত আয়ের চেয়ে সচ্ছল পরিবার: সরকার নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করা সচ্ছল, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবার এ সুবিধা পাবে না।২. সরকারি চাকরিজীবী পরিবার: পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না। একইভাবে, তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলেও এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।৩. পেনশনভোগী পরিবার: পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা পেলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রাপ্ত বিশেষ পেনশনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।৪. নির্দিষ্ট সীমার বেশি আর্থিক আমানত: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না। একইভাবে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো সদস্যের নামে ৫ লাখ টাকার বেশি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) বা সঞ্চয় থাকলেও পরিবারটি বাদ পড়বে।৫. মোটরযানের মালিক পরিবার: পরিবারের যেকোনো সদস্যের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক কিংবা সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলারের মতো যানবাহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।৬. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার লাইসেন্স: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে অথবা বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে ওই পরিবার এ সুবিধা পাবে না।৭. করযোগ্য আয় থাকা আয়করদাতা: পরিবারের যেকোনো সদস্য নিয়মিত আয়কর প্রদান করলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়বে।৮. নির্ধারিত সীমার বেশি জমির মালিক: বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া, পরিবারের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও এ সুবিধা দেওয়া হবে না।ফ্যামিলি কার্ড কারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন?ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা রয়েছে কয়েক ধরনের পরিবারের।হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবার: গ্রামীণ হতদরিদ্র, উপার্জনে সক্ষম সদস্যহীন পরিবার, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবার অগ্রাধিকার পাবে।নারীপ্রধান ও অসচ্ছল পরিবার: বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ে রয়েছে—এমন পরিবারও অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে।বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্য থাকা পরিবার: শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সদস্য রয়েছে—এমন পরিবারকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রত্যাগত অভিবাসী, বিশেষ করে নারী অভিবাসী সদস্য থাকা পরিবারও অগ্রাধিকার পেতে পারে।কাঁচা বাড়ি ও ভূমিহীন পরিবার: যেসব পরিবারের ঘরের দেয়াল মাটি, বাঁশ বা পাটকাঠি দিয়ে তৈরি, সেসব পরিবারকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, তবে কৃষিনির্ভর—এমন পরিবারও ভূমিহীন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা রয়েছে, কিন্তু কৃষিজমি নেই—এমন পরিবারও নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী বিবেচিত হবে।তবে এসব বৈশিষ্ট্য থাকলেই কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়। নির্ধারিত যোগ্যতা, তথ্য যাচাই ও বহির্ভুক্তির শর্ত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।
৫ ঘন্টা আগে
তুবার বাবাকে অটোভ্যান দিল ওয়াব ফাউন্ডেশন

তুবার বাবাকে অটোভ্যান দিল ওয়াব ফাউন্ডেশন

বরিশাল: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে খুঁটির সাথে বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা-রুটি খাইয়ে আলোচনায় এসেছিল ছোট্ট তুবা বিনতে অরনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্যের পর তুবার পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টিও সামনে আসে। এবার সেই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়াব ফাউন্ডেশন। তুবার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি অটোভ্যান। এতে পরিবারের জন্য তৈরি হয়েছে নিয়মিত আয়ের সুযোগ।শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বামরাইলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তুবার পরিবারের হাতে অটোভ্যানটি তুলে দেওয়া হয়।পরিবারের সদস্যরা জানান, অটোভ্যান চালিয়ে আয় করে সংসারের খরচের পাশাপাশি তুবার পড়াশোনা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে পারবেন তার বাবা।ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য এস এম আকবরের উদ্যোগে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তুবার পরিবার পুরোপুরি স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তুবার শিক্ষা ও পরিবারের প্রয়োজনেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে।ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা বলেন, শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তুবার পরিবারের জন্য অটোভ্যান প্রদানও সেই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ।অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ওয়াবের বরিশাল প্রতিনিধি ইমরান এইচ শুভ, ফিরোজ আহমেদ, হাফিজুল ইসলাম ও সজলসহ সংগঠনের অন্য প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এককালীন অর্থ সহায়তার পাশাপাশি উপার্জনের একটি মাধ্যম তৈরি করে দিলে একটি পরিবার দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। তুবার পরিবারের হাতে অটোভ্যান তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি সেই সুযোগ তৈরি করেছে। এখন পরিবারের প্রত্যাশা, নতুন এই আয়ের পথ ধরে সংসারের অনিশ্চয়তা কাটবে এবং তুবার পড়াশোনাও নির্বিঘ্নে চলবে।স্থানীয় সমাজসেবক জিয়া আমিন রাড়ী বলেন, “তুবার পরিবারের হাতে এককালীন সহায়তা না দিয়ে কর্মসংস্থানের একটি মাধ্যম করে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারটি নিজেদের আয় দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। তুবার পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের জন্যও এটি ইতিবাচক উদ্যোগ।”উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, “তুবার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ওয়াব ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, একটি পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে তারা নিজেরাই আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারে। তুবার পড়াশোনা ও পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য অটোরিকশাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।”
০৩ অক্টোবর ২০২৬
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ঢাকা: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার ঢাকায় ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত একাদশ আয়ুর্বেদ দিবস পালন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বক্তৃতায় সামগ্রিক সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে চিরায়ত জ্ঞান ব্যবস্থার স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি একাডেমিক ও পেশাদার জ্ঞান বিনিময়ের পথ তৈরি করতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে থাকা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধন আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে আইজিসিসি পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ আয়ুর্বেদ দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’ এর ওপর আলোকপাত করেন। আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা (ন্যাচারোপ্যাথি), ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির প্রসারে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কলেজের অধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান খান, প্রাচী (পিআরএসিএইচআই) সদস্যদের প্রতিনিধি ড. মুখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ।একাডেমিক সেশনে নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বাবুল আক্তার এবং নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া একটি কর্মশালা পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। বাংলাদেশি শিল্পী শাহিন সোবহানা সুরভীর তৈরি পশমের ‘গণপতি ট্যাপেস্ট্রির’ প্রতীকী উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সূচনা হয়। এ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়ালশিল্পী রঞ্জন চন্দ্র সরকার। পরিবেশনা শেষে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

ঢাকা: নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)। আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে অনলাইনে এ কাজ করতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অনলাইনে শুধু কয়েকটি তথ্য পূরণ করলেই হবে না; আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসহ চাকরির বিভিন্ন তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে।কারণ পে ফিক্সেশনে কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে নতুন মূল বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বকেয়া বা এরিয়ার পাওনার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশন করার আগে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য এবং এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও সচল থাকতে হবে।ভুল তথ্য দিলে যা হতে পারেপে ফিক্সেশনের সময় কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বাদ পড়লেও নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবে সমস্যা হতে পারে। তাই এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি।শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্য ও চাকরির নথি যাচাই করবে। তথ্যের সঙ্গে নথির অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধন করতে হতে পারে। তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।তথ্য দেওয়ার পরও থাকবে যাচাইঅনলাইনে তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কার্যালয় চাকরির নথির সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখবে। তথ্য সঠিক থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।অনুমোদনের পর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। এরপর চাকরির নথিতে যাচাই নম্বর ও নতুন নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করা হবে।অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলতে পারে বকেয়াপে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য হিসাব করে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার নির্ধারণ করা হবে।তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।এ কারণে পে ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি চাকরির আগের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২৬ জুলাই ২০২৬
যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

২৬ জুলাই ২০২৬
৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

সাংহাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক চীনা নারীর বিরুদ্ধে। জানা যায়, এআই ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও এবং ছবি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে নিজেকে ২৯ বছর বয়সী ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করেন ওই নারী। আদতে তিনি একজন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এভাবে পাঁচ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান হাতিয়ে নেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, ৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম ইউ শিউঝেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেছিলেন। এরপর ফেস চেঞ্জিং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে সাংহাইয়ের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার এআই নির্মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।সাংহাইভিত্তিক একজন নির্মাণ ঠিকাদার লিউ হুই ২০২১ সালে তার ভুয়া অ্যাকাউন্টটি দেখতে পান। ইউ তাকে জানান যে, হাসপাতালে তার পদমর্যাদার কারণে তিনি বড় নির্মাণকাজের চুক্তি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতে পারবেন।ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার আশায় লিউ ইউয়ের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে লিউ বারবার দেখা করা বা ভিডিও কলে কথা বলার অনুরোধ করলেও ইউ প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করতেন।পরে ইউ আরও একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। এবার তিনি নিজেকে লিউয়ের কথিত প্রেমিকার মা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি লিউকে জানান যে, তার মা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করছেন। এরপর ভুয়া মা সেজে তিনি লিউয়ের কাছে তিন লাখ ইউয়ান বিয়ের যৌতুক দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় একটি বাড়ি কেনার দাবি করেন।লিউ তার কথা বিশ্বাস করে পাঁচ মাসে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান তাকে পাঠান। কিন্তু কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি না আসায় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ ইউকে শনাক্ত করে জানতে পারে যে তিনি আসলে ৬৫ বছর বয়সী একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুলিশ আরও জানতে পারে, এর আগে তিনি একটি প্রতারণার মামলাতেও জড়িত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, ইউয়ের আসল মা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তিনি কসমেটিক সার্জারি, দামি ত্বকের যত্নের পণ্য এবং নতুন পোশাক কেনার পেছনে খরচ করেন। পরে পুলিশ ইউয়ের ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ভিডিওগুলোর মধ্যে ছোট একটি সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।পুলিশ যখন লিউকে ওই সতর্কবার্তাটি দেখায়, তখন তিনি জানান যে আধুনিক এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে ভিডিওতে থাকা সতর্কবার্তাটি তার নজরে পড়েনি।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘অতীতে এভিয়েশন খাতে যাত্রী হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল, এসব সমাধানই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তার ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়ন ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো প্রযুক্তিগত সংস্কার আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পেতে একসময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। আমি পরিদর্শনে গিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি—যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গেই কার্গোর দরজাও খুলতে হবে, যাতে ২০ মিনিটের মধ্যে সব লাগেজ বেল্টে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এখন ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে না।’রশিদুজ্জামান আরও জানান, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রকল্প বাতিল করে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমান সরকার জাপানের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠক করে সেই প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘বাজেট এয়ারক্রাফট’ বা সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলেও তিনি জানান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র না থাকায় এভিয়েশন খাতে কোনো উপযুক্ত নীতি-পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও জাতীয় এয়ারলাইনকে শক্তিশালী করতে হবে।শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর ‘সফট ওপেনিং’ এবং আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের তুলনায় এবার আমরা এমন একটি “উইন-উইন” চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’কনক্লেভে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচকের সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক এবং ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে দেশি-বিদেশি চার শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
২৬ জুলাই ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন