ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

বিনা খরচে ওমরাহর সুযোগ দিচ্ছে সৌদি, নুসুক অ্যাপে কুইজে অংশ নিন

ঢাকা: ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য পবিত্র ওমরাহ পালন করা বহুল প্রতীক্ষিত আকাঙ্ক্ষা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা বা নানা আনুষঙ্গিক খরচের কারণে অনেকেরই সেই স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিনা খরচে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ দিচ্ছে সৌদি সরকার। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক’ (Nusuk) অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুবর্ণ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।এ সুযোগ পেতে ‘নুসুক’ অ্যাপের কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। পহেলা নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতা চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে প্রতিদিন লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীরা পাবেন সম্পূর্ণ বিনা খরচে ওমরাহ প্যাকেজ।ফ্রি ওমরাহ প্যাকেজে যা থাকছেলটারির মাধ্যমে নির্বাচিত সৌভাগ্যবান বিজয়ীদের সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে সৌদি সরকার। এই আকর্ষণীয় প্যাকেজে যা যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:বিমান টিকিট: নিজ দেশ থেকে সৌদি আরব যাওয়া-আসার ফ্রি বিমান টিকিট।ভিসা প্রসেসিং: ওমরাহ ভিসার ফি ও সরকারি যাবতীয় প্রক্রিয়া।আবাসন সুবিধা: মক্কা ও মদিনায় ১০ রাতের সুব্যবস্থা ও হোটেল খরচ।সহযাত্রীর সুযোগ (দুটি প্যাকেজ): এবারের বিশেষ অফারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—প্রতিদিনের বিজয়ী নিজের সঙ্গে পরিবার বা পছন্দের আরও একজনকে বিনামূল্যে ওমরাহতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।জমজমের পানির উপহার: এ ছাড়া প্রতিদিন লটারির মাধ্যমে আরও ১০ জন বিজয়ী পাবেন জমজমের পানির ২০টি করে বিশেষ কার্ড। যার মধ্যে ১০টি নিজের জন্য এবং ১০টি অন্যদের উপহার দেওয়ার জন্য।নুসুক অ্যাপের কুইজ প্রতিযোগিতায় যেভাবে অংশ নেবেনবিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মুসলিম ব্যবহারকারীরা এই লটারিতে অংশ নিতে পারবেন। সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে আবেদন করা যায়:অ্যাপ ডাউনলোড: প্রথমে স্মার্টফোনে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল Nusuk অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে।অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন: অ্যাপে প্রবেশ করে নিজের নাম, ই-মেইল, দেশের নাম এবং বৈধ পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সাইন-আপ করতে হবে। এরপর ই-মেইলে আসা ওটিপি (OTP) কোড দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে।চ্যালেঞ্জ সেকশনে প্রবেশ: অ্যাপের মেনু থেকে ‘Game Center’ বা ‘Nusuk Challenge’ অপশনে যেতে হবে।দৈনিক কুইজের উত্তর: সেখানে পবিত্র কোরআন, নবীজির সিরাত, ওমরাহর নিয়মকানুন বা ইসলামিক ইতিহাসের ওপর বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে প্রশ্ন করা হয়। একটি বিষয় বেছে নিয়ে ডিজিটাল চাবি সংগ্রহ করতে হবে এবং এমসিকিউ (MCQ) প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। সঠিক উত্তর দিলেই নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৈনিক লটারির (Raffle Draw) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।জেতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি: নিজের ইনভাইট কোড ব্যবহার করে বন্ধু বা পরিবারকে অ্যাপে আমন্ত্রণ জানালে অতিরিক্ত চাবি পাওয়া যায়, যা লটারিতে জেতার সুযোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য অবশ্যই নুসুক-এর অফিশিয়াল অ্যাপ বা ভেরিফাইড মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন আরও ১০ জন পাবেন জমজমের পানির বিশেষ কার্ড।
২২ ঘন্টা আগে

ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ট্রাম্প, জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক

ওয়াশিংটন: ইরানে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর প্রথম বৈঠকে বসেন তিনি।মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আপাতত ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে—নতুন করে সামরিক হামলা চালানো, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা অথবা তেহরানকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “এখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া এবং যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কিছু না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা কি আরও এগোব?” তিনি বলেন, “সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।”সামরিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যমার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই বড় ধরনের হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সম্ভাব্য অভিযানকে ‘স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র’ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।পেন্টাগনের কর্মকর্তা ও সামরিক নেতাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অভিযান শুরুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার বিমান ও নৌসেনা মোতায়েন রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।এদিকে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী ৯ নভেম্বর নতুন চাঁদ উঠবে। ঘুটঘুটে অন্ধকারের এই সুবিধা নিয়ে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য এই সময়টিকেই সবচেয়ে সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছেট্রাম্প যখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, তখন অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেন।কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। প্রস্তাবে দুই দিনের মধ্যে ধারাবাহিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং জব্দ করা কিছু অর্থ ছাড় করবে। বিনিময়ে ইরান আইএইএ-কে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাবে। দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে।তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাতটি শর্ত পূরণ না করলে হরমুজ খোলা হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না। তিনি মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলেও জানান।
২২ ঘন্টা আগে

যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি ভাইরাল

কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির রেশ কাটতে না কাটতেই সেখানে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা নিশ্চিত তথ্য শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী জানান, এ ধরনের একটি তথ্য তাদের কাছে এলেও সেখানে আদতে কোনো লাশ রয়েছে কি না বা থাকলে কতটি রয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম লাশের বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে বর্তমানে সেখানে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লাশের খবরটি তারা শুনেছেন এবং পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।যৌথ বাহিনীর অভিযানে সেনাসদস্য নিহতউল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর ওই অভিযানে সশস্ত্র মানবপাচারকারী দলের গুলিতে মো. তিতাস শেখ (২৮) নামের এক সেনা সদস্য নিহত হন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছিল, প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রাখার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল।আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয় এবং মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে ।নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখ বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।সেনাবাহিনী তার আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ।এদিকে পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর তল্লাশি ও অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২২ ঘন্টা আগে
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়াশিংটন: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং কর্মীদের তথ্য দিলে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত পুরস্কার এবং সম্ভাব্য পুনর্বাসনের সুযোগ ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি।শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) রিপোর্ট করেছিল, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার স্তর থেকে সামান্য একটি প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে।”বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, ইরান হলো “একমাত্র পরমাণু-অস্ত্রহীন দেশ যা এত উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম উৎপাদন করছে”, এবং বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আরও সমৃদ্ধ করা হলে এই পরিমাণ “বেশ কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য পর্যাপ্ত হতে পারে”।পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আইএইএ-এর সুরক্ষা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলতে ইরানি শাসনের ব্যর্থতার কারণে সেন্ট্রিফিউজসহ প্রধান প্রধান উপাদানের উৎপাদন ও সংগ্রহের বিষয়ে সংস্থাটি তাদের ‘জ্ঞানের ধারাবাহিকতা’ হারিয়েছে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই পুরস্কার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির “স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মী—যেমন বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের সদস্য—এবং এসবের যেকোনো চলাচল” সংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রযোজ্য। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্যের বিনিময়ে এই ২ কোটি ডলার পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো শর্ত উল্লেখ করা হয়নি।‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিটি ১৯৮৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জাতীয় নিরাপত্তা পুরস্কার কর্মসূচির অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—আমেরিকানদের জীবন ও স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক তথ্যের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা।
১০ ঘন্টা আগে
যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি ভাইরাল

যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি ভাইরাল

কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির রেশ কাটতে না কাটতেই সেখানে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা নিশ্চিত তথ্য শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী জানান, এ ধরনের একটি তথ্য তাদের কাছে এলেও সেখানে আদতে কোনো লাশ রয়েছে কি না বা থাকলে কতটি রয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম লাশের বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে বর্তমানে সেখানে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লাশের খবরটি তারা শুনেছেন এবং পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।যৌথ বাহিনীর অভিযানে সেনাসদস্য নিহতউল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর ওই অভিযানে সশস্ত্র মানবপাচারকারী দলের গুলিতে মো. তিতাস শেখ (২৮) নামের এক সেনা সদস্য নিহত হন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছিল, প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রাখার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল।আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয় এবং মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে ।নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখ বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।সেনাবাহিনী তার আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ।এদিকে পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর তল্লাশি ও অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২২ ঘন্টা আগে
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়াশিংটন: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং কর্মীদের তথ্য দিলে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত পুরস্কার এবং সম্ভাব্য পুনর্বাসনের সুযোগ ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি।শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) রিপোর্ট করেছিল, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার স্তর থেকে সামান্য একটি প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে।”বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, ইরান হলো “একমাত্র পরমাণু-অস্ত্রহীন দেশ যা এত উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম উৎপাদন করছে”, এবং বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আরও সমৃদ্ধ করা হলে এই পরিমাণ “বেশ কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য পর্যাপ্ত হতে পারে”।পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আইএইএ-এর সুরক্ষা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলতে ইরানি শাসনের ব্যর্থতার কারণে সেন্ট্রিফিউজসহ প্রধান প্রধান উপাদানের উৎপাদন ও সংগ্রহের বিষয়ে সংস্থাটি তাদের ‘জ্ঞানের ধারাবাহিকতা’ হারিয়েছে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই পুরস্কার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির “স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মী—যেমন বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের সদস্য—এবং এসবের যেকোনো চলাচল” সংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রযোজ্য। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্যের বিনিময়ে এই ২ কোটি ডলার পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো শর্ত উল্লেখ করা হয়নি।‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিটি ১৯৮৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জাতীয় নিরাপত্তা পুরস্কার কর্মসূচির অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—আমেরিকানদের জীবন ও স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক তথ্যের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা।
১০ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ঢাকা: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার ঢাকায় ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত একাদশ আয়ুর্বেদ দিবস পালন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বক্তৃতায় সামগ্রিক সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে চিরায়ত জ্ঞান ব্যবস্থার স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি একাডেমিক ও পেশাদার জ্ঞান বিনিময়ের পথ তৈরি করতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে থাকা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধন আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে আইজিসিসি পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ আয়ুর্বেদ দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’ এর ওপর আলোকপাত করেন। আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা (ন্যাচারোপ্যাথি), ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির প্রসারে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কলেজের অধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান খান, প্রাচী (পিআরএসিএইচআই) সদস্যদের প্রতিনিধি ড. মুখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ।একাডেমিক সেশনে নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বাবুল আক্তার এবং নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া একটি কর্মশালা পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। বাংলাদেশি শিল্পী শাহিন সোবহানা সুরভীর তৈরি পশমের ‘গণপতি ট্যাপেস্ট্রির’ প্রতীকী উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সূচনা হয়। এ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়ালশিল্পী রঞ্জন চন্দ্র সরকার। পরিবেশনা শেষে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

ঢাকা: নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)। আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে অনলাইনে এ কাজ করতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অনলাইনে শুধু কয়েকটি তথ্য পূরণ করলেই হবে না; আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসহ চাকরির বিভিন্ন তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে।কারণ পে ফিক্সেশনে কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে নতুন মূল বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বকেয়া বা এরিয়ার পাওনার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশন করার আগে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য এবং এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও সচল থাকতে হবে।ভুল তথ্য দিলে যা হতে পারেপে ফিক্সেশনের সময় কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বাদ পড়লেও নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবে সমস্যা হতে পারে। তাই এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি।শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্য ও চাকরির নথি যাচাই করবে। তথ্যের সঙ্গে নথির অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধন করতে হতে পারে। তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।তথ্য দেওয়ার পরও থাকবে যাচাইঅনলাইনে তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কার্যালয় চাকরির নথির সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখবে। তথ্য সঠিক থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।অনুমোদনের পর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। এরপর চাকরির নথিতে যাচাই নম্বর ও নতুন নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করা হবে।অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলতে পারে বকেয়াপে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য হিসাব করে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার নির্ধারণ করা হবে।তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।এ কারণে পে ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি চাকরির আগের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২৬ জুলাই ২০২৬
যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

২৬ জুলাই ২০২৬
৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

সাংহাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক চীনা নারীর বিরুদ্ধে। জানা যায়, এআই ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও এবং ছবি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে নিজেকে ২৯ বছর বয়সী ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করেন ওই নারী। আদতে তিনি একজন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এভাবে পাঁচ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান হাতিয়ে নেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, ৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম ইউ শিউঝেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেছিলেন। এরপর ফেস চেঞ্জিং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে সাংহাইয়ের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার এআই নির্মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।সাংহাইভিত্তিক একজন নির্মাণ ঠিকাদার লিউ হুই ২০২১ সালে তার ভুয়া অ্যাকাউন্টটি দেখতে পান। ইউ তাকে জানান যে, হাসপাতালে তার পদমর্যাদার কারণে তিনি বড় নির্মাণকাজের চুক্তি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতে পারবেন।ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার আশায় লিউ ইউয়ের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে লিউ বারবার দেখা করা বা ভিডিও কলে কথা বলার অনুরোধ করলেও ইউ প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করতেন।পরে ইউ আরও একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। এবার তিনি নিজেকে লিউয়ের কথিত প্রেমিকার মা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি লিউকে জানান যে, তার মা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করছেন। এরপর ভুয়া মা সেজে তিনি লিউয়ের কাছে তিন লাখ ইউয়ান বিয়ের যৌতুক দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় একটি বাড়ি কেনার দাবি করেন।লিউ তার কথা বিশ্বাস করে পাঁচ মাসে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান তাকে পাঠান। কিন্তু কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি না আসায় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ ইউকে শনাক্ত করে জানতে পারে যে তিনি আসলে ৬৫ বছর বয়সী একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুলিশ আরও জানতে পারে, এর আগে তিনি একটি প্রতারণার মামলাতেও জড়িত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, ইউয়ের আসল মা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তিনি কসমেটিক সার্জারি, দামি ত্বকের যত্নের পণ্য এবং নতুন পোশাক কেনার পেছনে খরচ করেন। পরে পুলিশ ইউয়ের ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ভিডিওগুলোর মধ্যে ছোট একটি সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।পুলিশ যখন লিউকে ওই সতর্কবার্তাটি দেখায়, তখন তিনি জানান যে আধুনিক এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে ভিডিওতে থাকা সতর্কবার্তাটি তার নজরে পড়েনি।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘অতীতে এভিয়েশন খাতে যাত্রী হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল, এসব সমাধানই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তার ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়ন ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো প্রযুক্তিগত সংস্কার আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পেতে একসময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। আমি পরিদর্শনে গিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি—যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গেই কার্গোর দরজাও খুলতে হবে, যাতে ২০ মিনিটের মধ্যে সব লাগেজ বেল্টে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এখন ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে না।’রশিদুজ্জামান আরও জানান, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রকল্প বাতিল করে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমান সরকার জাপানের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠক করে সেই প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘বাজেট এয়ারক্রাফট’ বা সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলেও তিনি জানান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র না থাকায় এভিয়েশন খাতে কোনো উপযুক্ত নীতি-পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও জাতীয় এয়ারলাইনকে শক্তিশালী করতে হবে।শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর ‘সফট ওপেনিং’ এবং আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের তুলনায় এবার আমরা এমন একটি “উইন-উইন” চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’কনক্লেভে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচকের সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক এবং ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে দেশি-বিদেশি চার শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
২৬ জুলাই ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন