ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

ফ্রিজ-এসিতে ভ্যাট অর্ধেকে নামছে, কমতে পারে দাম

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে। বর্তমানে দেশি ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। আগামী বাজেটে তা কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হতে পারে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।এনবিআরের কর কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, “উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বেশি থাকায় সম্প্রতি দেশে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির আমদানি বাড়ছিল। তাই আমদানি কমিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে ভ্যাট কমানো হচ্ছে। আর বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ও কিছুটা কমেছে বলে আমরা খবর পাচ্ছিলাম।”মোবাইল-ল্যাপটপে ভ্যাট সুবিধা বাড়ছে ২০৩০ সাল পর্যন্তমোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের উৎপাদন পর্যায়ে বৈশিষ্ট্যভেদে ভ্যাট সাড়ে ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধাটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে কোনো মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উৎপাদনকারী কোম্পানি যদি নিজেরা কমপক্ষে দুটি কম্পোনেন্ট বানায় এবং বাকি উপকরণ আমদানি করে দেশে সংযোজন করে, তাহলে উৎপাদন পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সব উপকরণ আমদানি করে শুধু দেশে সংযোজন করে, তাহলে ১০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়।জাহাজ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বহালজাহাজ আমদানির ক্ষেত্রেও ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখা হচ্ছে। সমুদ্রগামী বড় জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর দিতে হবে না। ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই অব্যাহতি সুবিধা থাকবে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে ৫ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার বেশি জাহাজ আমদানি করতে হবে। চলতি অর্থবছরে এই ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হলো।এ ছাড়া এলপিজি গ্যাস আমদানিতেও সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখা হচ্ছে আগামী অর্থবছরেও। বর্তমানে এলপি গ্যাস বাসাবাড়িতে রান্নার জ্বালানি, অটোগ্যাস স্টেশনে যানবাহনের জ্বালানি এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।দাম কতটা কমতে পারেবর্তমানে দেশে ওয়ালটন, ইলেকট্রোমার্ট, ট্রান্সকম, এসকোয়্যার, সিঙ্গার বাংলাদেশ, বাটারফ্লাই, র্যাংগ্স, ইলেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল, মিনিস্টার, ভিশন, এলজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে।এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ভ্যাটের হার ছিল ৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল।সরকারের ভ্যাট কমানোর এই সিদ্ধান্ত এ খাতের ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসি উৎপাদনে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল গণবার্তাকে বলেন, “এখন ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির চাহিদা বাড়ছে। ভ্যাট কমানো হলে সেটা স্থানীয় শিল্পের জন্যও ভালো হবে। ভ্যাট কমলে অবশ্যই দাম কমবে।”দাম কতটা কমবে—জানতে চাইলে তিনি জানান, ভ্যাটে যতটা ছাড় দেওয়া হবে, সেটা পুরোটাই গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে।খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান প্রচণ্ড গরমের কারণে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির চাহিদা বেড়েছে। তাই এ সময়ে নতুন করে ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রাহক পর্যায়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।চ্যালেঞ্জিং সময়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সুখবর বলে মনে করছেন উৎপাদনকারীরা। যমুনা ইলেকট্রনিকসের পরিচালক (বিপণন) সেলিম উল্যা সেলিম গণবার্তাকে বলেন, “দুই বছর ধরে এ খাত চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ৩০ শতাংশ পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এখন ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত হলে তাতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে।”তবে উৎপাদনকারীদের পক্ষ থেকে ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছিল এনবিআরের কাছে। নতুন বাজেটে সেই দাবি কতটা পূরণ হচ্ছে, তা নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়েছে খাতটির ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
৭ ঘন্টা আগে

সীমান্ত পাহারায় বিজিবির সঙ্গী গ্রাম পুলিশ, বাড়তি নিরাপত্তায় স্বস্তি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরাও। সীমান্ত আইন অমান্য করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও পুশইনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।জেলা সদর এলাকার ধলাহার, চকবরকতসহ পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর, ধরঞ্জী ও বাগজানা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালাচ্ছেন। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলগুলোতে বিএসএফের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মো. রুহুল আমিন এবং ধরঞ্জী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আব্দুর রাজ্জাক জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের নির্দেশে তারা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিজিবির সঙ্গে দলবদ্ধভাবে সীমান্ত এলাকায় টহল দিচ্ছেন।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএসএফ প্রায়ই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে শূন্যরেখার কাছাকাছি কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি পুশইনের অভিযোগও উঠেছে এসব এলাকায়। স্থানীয় লোকজন বলছেন, এসব প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে গ্রাম পুলিশের উপস্থিতি সীমান্তবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। বিজিবি ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।” উল্লেখ্য, সীমান্তে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা গণবার্তাকে বলেন, আগের চেয়ে এখন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে। গ্রাম পুলিশের উপস্থিতি থাকায় বিএসএফের তৎপরতা কিছুটা কমেছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির সঙ্গেই নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তারা।
৭ ঘন্টা আগে

জন্মের ২৭ বছর পর বাবার কাছ থেকে স্বীকৃতি পেলেন আরিয়ান

দীর্ঘ আইনি লড়াই ও বাধা পেরিয়ে অবশেষে ২৭ বছর আগে জন্ম নেওয়া আরিয়ান নামে এক যুবককে সন্তানের স্বীকৃতি দিয়েছেন তার বাবা। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা গ্রামের এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্ট দুই পরিবারে।জানা যায়, শিশুটির যখন জন্ম হয়, তখন বাবা বিদেশে ছিলেন। জন্মের আগেই মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। বাবাকে না দেখেই মামার বাড়িতে বড় হতে থাকে শিশুটি। বড় হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন তার বাবা বিদেশ থেকে ফিরে আরেকটি বিয়ে করেছেন এবং দেশেই আছেন।বাবার মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ছেলে। চান স্বীকৃতি। কিন্তু বাবা তাকে ছেলে হিসেবে মানতে নারাজ ছিলেন। একপর্যায়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা লিগ্যাল এইডের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে বাবার স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন আরিয়ান। অবশেষে মঙ্গলবার বাবার কাছ থেকে সেই স্বীকৃতি পেলেন তিনি।গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী সিভিল জজ) সুব্রত দাশের সভাপতিত্বে একটি মধ্যস্থতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আইন সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২১গ ধারার বিধান অনুযায়ী পিতা মুরশেদ ও তার ছেলে আরিয়ানের মধ্যে একটি মধ্যস্থতা চুক্তি সম্পাদিত হয়। চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের অফিস সহকারী মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আদালতের নির্দেশে মা, বাবা ও ছেলের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানেই নিশ্চিত হওয়া যায়, ছেলের দাবি সঠিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডিএনএ প্রতিবেদনটি লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে পাঠায়। মঙ্গলবার সেখানে বাবা ছেলেকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন।পাশাপাশি সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার, ঘর করার জন্য দুই লাখ টাকা, পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সন্তানকে পরিচয় করে দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকারনামাও করেন বাবা মুরশেদ।লিগ্যাল এইড চট্টগ্রাম কার্যালয়ের লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা সুব্রত দাশ বলেন, “বাবা তার সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। দুজন দুজনকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন।” লিগ্যাল এইড চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে তাদের দুজনকে টি-শার্ট উপহার দেওয়া হয় দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসায় এগিয়ে আসায়।চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্র জানায়, আরিয়ানের জন্ম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা গ্রামে। তার জন্মের সময় বাবা মুরশেদ প্রবাসে ছিলেন। জন্মের কিছুদিন পরই আরিয়ানের মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। পরে আরিয়ানের মা অন্যত্র বিয়ে করলে তিনি মামার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন।দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাবা মুরশেদের কাছ থেকে সন্তানের স্বীকৃতি পাননি। অবশেষে পিতৃত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় ২০২৪ সালে মাকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন আরিয়ান। সেখানে হাজির হন বাবা, কিন্তু ছেলেকে নিজ সন্তান হিসেবে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না।পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে প্রমাণ মেলে ছেলের দাবিই সঠিক। ডিএনএ প্রতিবেদন পেয়ে বাবা অবশেষে ছেলেকে মেনে নেন। টেনে নেন নিজের বুকে।জন্মের ২৭ বছর পর স্বীকৃতি পেয়ে খুশি আরিয়ান। তিনি বলেন, “এত বছর বাবার পরিচয় দিতে পারতাম না। লোকজন নানা কথা বলত। এখন বাবা সন্তান হিসেবে মেনে নেওয়ায় সমাজে আর কারও কটু কথা শুনতে হবে না। এটি অনেক বড় আনন্দের।”
৭ ঘন্টা আগে
ব্রেন টিউমারের লড়াইয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন: চিকিৎসা চলছে, উন্নতি এখনও আশানুরূপ নয়

ব্রেন টিউমারের লড়াইয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন: চিকিৎসা চলছে, উন্নতি এখনও আশানুরূপ নয়

একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, দর্শকহৃদয়ের নায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। আলোঝলমলে চলচ্চিত্রজীবন আর সামাজিক আন্দোলনের ব্যস্ত সময় পেরিয়ে তাঁর দিন কাটছে এখন হাসপাতাল, চিকিৎসা আর পরিবারের সান্নিধ্যে।ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে এখন মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলছে তাঁর চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরানো সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসক জানান, তাঁর ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়েছে।অস্ত্রোপচারের শেষে শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চলছে দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি এখন দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিচ্ছেন।অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নিএত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। তিনি গণবার্তাকে বলেন, “ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। উন্নতিও নেই। বর্তমানে যে থেরাপি চলছে, তা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে পরবর্তী করণীয় জানাবেন।”চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানান, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, এটি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকদের আশা, দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ হলে শারীরিক অবস্থার কিছু উন্নতি দেখা যেতে পারে।প্রতিদিনের লড়াই ও পরিবারের সান্নিধ্যপ্রতিদিনের বাস্তবতা সহজ নয়। লিটন এরশাদ জানান, কাঞ্চন ভাই এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর তিনি পুরো বাক্য শেষ করতে পারেন না। একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও কষ্ট হয় তাঁর। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটিও আগের মতো নেই।একসময় চলচ্চিত্রের শুটিং, সামাজিক কর্মসূচি আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যার দিন-রাত কেটে যেত, সেই মানুষটির সময় এখন কাটছে হাসপাতালের ফলোআপ আর মেয়ের লন্ডনের বাড়ির চারদেয়ালের মধ্যে। স্বভাবতই এই পরিবর্তন তাঁকে অস্থির করে তোলে। তবু পরিবারের ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।মেয়ে, জামাতা এবং নাতি–নাতনিদের সঙ্গেই কাটছে তাঁর বেশির ভাগ সময়। কখনো তাঁদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, কখনো পারিবারিক আড্ডা—এই ছোট ছোট মুহূর্তই কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে।সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু হাসিমুখের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুস্থতার পথ এখনো দীর্ঘ। আগামী ৩০ জুলাই শেষ হবে বর্তমান চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ। তারপর চিকিৎসকেরা নতুন করে জানাবেন, সামনের পথটা কী হতে চলেছে দেশবরেণ্য এই নায়কের জন্য।
৬ ঘন্টা আগে
সরকারি কর্মকর্তাদের স্বস্তি: আসছে নবম পে-স্কেল, জুনেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা

সরকারি কর্মকর্তাদের স্বস্তি: আসছে নবম পে-স্কেল, জুনেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধির এই কঠিন সময়ে দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে।অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে, চলতি জুন মাসের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।প্রস্তাবিত পে-স্কেলে বর্তমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল থাকলেও বেতনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে নিম্ন ও উচ্চ-উভয় পর্যায়ের সরকারি চাকরিজীবীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় কিছুটা সহায়তা করবে।ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন ও মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনাপে-স্কেল কমিশনের সব সুপারিশ একযোগে বাস্তবায়ন করতে সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থের প্রয়োজন। তাই দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও রাজস্ব আদায়ের গতি বিবেচনা করে সরকার একবারে শতভাগ বেতন না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে।প্রথম ধাপ (১ জুলাই): প্রাথমিকভাবে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হতে পারে।পরবর্তী দুই বছর: বাকি অংশ আগামী দুই বছরে ধাপে ধাপে সমন্বয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।গ্রেড বিন্যাস ও সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ বেতন কাঠামোপ্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে বর্তমানের ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখলেও ভেতরের অঙ্কে আসছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতন যেভাবে নির্ধারণের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে—সর্বনিম্ন গ্রেড (২০তম গ্রেড): বর্তমানের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।সর্বোচ্চ গ্রেড (১ম গ্রেড): প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।পেনশনভোগীদের জন্য বড় উপহার ও ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির সুযোগনতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে মানবিক ও চমকপ্রদ দিক হলো, এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। অতীতে যারা অবসরে গিয়েছেন এবং বর্তমানে নামমাত্র পেনশন পাচ্ছেন, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবারের বাজেটে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে।নতুন প্রস্তাবনায় কিছু ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে, যা প্রবীণদের জীবনে বড় ধরণের আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে।তবে সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল এক ধাপেই বাস্তবায়ন করা উচিত বলে দাবি করেছেন তারা।অর্থনীতিবিদরা জানান, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পাবে। তবে এর ফলে সরকারের ব্যয়ভারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।এখন পর্যন্ত নতুন পে-স্কেল ও গেজেট সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ হয়নি। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সরকারি প্রজ্ঞাপন ও বাজেট ঘোষণার দিকেই নজর রাখতে হবে।
৭ ঘন্টা আগে
যুদ্ধক্ষেত্রে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠছে হিজবুল্লাহ, বদলে গেছে কৌশল ও কমান্ড কাঠামো

যুদ্ধক্ষেত্রে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠছে হিজবুল্লাহ, বদলে গেছে কৌশল ও কমান্ড কাঠামো

গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও লেবানন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে একটি চুক্তির ঘোষণা দেয়, যার লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান ‘যুদ্ধবিরতি’ নবায়ন করা এবং একটি ‘সমন্বিত’ সমাধানের পথে এগোনো। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযান চলতে থাকলেও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী শুধু হিজবুল্লাহকেই তাদের হামলা বন্ধ করতে হবে। লেবাননের প্রতিরোধ সংগঠনটি দ্রুতই এ আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং একে ‘অযৌক্তিক, অপমানজনক ও অবমাননাকর’ বলে আখ্যা দেয়।১০ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হিজবুল্লাহ দক্ষিণে ইসরায়েলের নতুন আক্রমণের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত কিন্তু কার্যকর ক্ষয়যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এ যুদ্ধে তারা ড্রোন ও ছোট বিশেষায়িত ইউনিটের ওপর নির্ভর করে ইসরায়েলি বাহিনীকে ক্রমাগত ক্ষয় করছে, একই সঙ্গে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোও অক্ষুণ্ন রাখছে।বদলে যাওয়া হিজবুল্লাহ২০২৬ সালের মার্চে শুরু হওয়া সর্বশেষ সংঘাতের প্রায় ৭০ দিন পর এখন সতর্কতার সঙ্গে হলেও বলা যায়, বর্তমান হিজবুল্লাহ ২০২৪ সালে যুদ্ধ করা হিজবুল্লাহ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। অন্তত তাদের সামরিক সংগঠন, যুদ্ধক্ষেত্রের প্রস্তুতি এবং অভিযানের নমনীয়তার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন স্পষ্ট।এই পরিবর্তন শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা যুদ্ধকৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি কমান্ড কাঠামো, যুদ্ধনীতি, বাহিনী মোতায়েনের ধরন এবং এমনকি যুদ্ধের বিজয় ও পরাজয়ের সংজ্ঞা নিয়েও গভীর পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়।কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুনর্গঠনসম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটেছে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায়। ৬৬ দিনের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান দুর্বলতা ছিল তাদের যোগাযোগব্যবস্থার ভঙ্গুরতা এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড ও মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করার জটিলতা। যুদ্ধের কিছু পর্যায়ে এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিঘ্ন, প্রতিক্রিয়ায় বিলম্ব এবং যুদ্ধক্ষমতার ক্ষয় দেখা দিয়েছিল।কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধে একই সময়ে একাধিক ফ্রন্টে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হয়নি এবং যুদ্ধক্ষেত্র ও সদর দপ্তরের মধ্যে যোগাযোগও বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। তীব্র চাপ ও ভারী হামলার মধ্যেও তাদের সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি এবং কমান্ড চেইন তার সংহতি ধরে রাখতে পেরেছে।কেন্দ্রীয়কৃত কমান্ড, কিন্তু মাঠপর্যায়ে স্বাধীনতাএই পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে নতুন নেতৃত্বের অধিক কেন্দ্রীয়কৃত সামরিক কমান্ডনীতি। এতে বহুস্তরীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমানো হয়েছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ ও উদ্যমী কমান্ডারদের ক্ষমতায়ন করা হয়েছে এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে।একই সময়ে, আপাতদৃষ্টে এর বিপরীতধর্মী হলেও হিজবুল্লাহ মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে এবং মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডারদের আরও বেশি অপারেশনাল স্বাধীনতা দিয়েছে, যাতে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানকে অগ্রাধিকারপূর্ববর্তী যুদ্ধ থেকে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোর একটি হলো জনবল ও অস্ত্র ব্যবহারের পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন। প্রতিরোধ আন্দোলনটি সম্ভবত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা সমাবেশ, বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্রজুড়ে উপস্থিতি বজায় রাখা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অগ্নিশক্তি প্রয়োগের কৌশল শুধু অকার্যকরই নয়, বরং প্রাণহানির দিক থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুলও হতে পারে। ফলে এখন তারা সংখ্যার পরিবর্তে গুণগত মানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে—অর্থাৎ সীমিত কিন্তু বিশেষায়িত বাহিনী, যাদের হাতে রয়েছে নির্ভুল ও কার্যকর অস্ত্র।এই যুক্তিতে প্রস্তুতি ও সক্ষমতা সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, সহনশীলতা ও অপারেশনাল কার্যকারিতা এখন নিছক সংখ্যাগত শক্তির চেয়ে বেশি মূল্য পাচ্ছে। এ কারণেই বর্তমান যুদ্ধে প্রধান দায়িত্ব বহন করছে ড্রোন ইউনিট, ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী, অ্যান্টি-আর্মার ইউনিট এবং দ্রুত বিকাশমান ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোন ইউনিটগুলো।যুদ্ধনীতি বদলেছেহিজবুল্লাহর সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন সম্ভবত তাদের যুদ্ধনীতিতেই ঘটেছে। ২০২৪ সালের যুদ্ধে মূলনীতি ছিল যেকোনো মূল্যে ভূখণ্ড রক্ষা করা এবং শত্রুর অগ্রযাত্রা ঠেকানো, এমনকি এর জন্য ব্যাপক প্রাণহানিও মেনে নেওয়া। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন লক্ষণ থেকে বোঝা যায়, হিজবুল্লাহ ভিন্ন এক কৌশলের দিকে ঝুঁকেছে—যার লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য সব উপায়ে শত্রুর ওপর ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়া।ক্রমাগত ক্ষয় সৃষ্টি এবং শত্রুপক্ষের হতাহতের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই কৌশল যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় ও পরাজয়ের ধারণাকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এখন শত্রুকে কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান গড়ে তুলতে না দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।মনোবল পুনরুদ্ধারএই কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ মাঠপর্যায়ের যোদ্ধা এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তির মনোবলেও দৃশ্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ পুনরুদ্ধার ঘটিয়েছে। ৬৬ দিনের যুদ্ধ এবং বর্তমান সংঘাতের মধ্যবর্তী সময়ে হিজবুল্লাহর যোদ্ধা ও তাদের সমর্থকগোষ্ঠী নানা ধরনের মানসিক ও সুনামগত চাপের মুখে পড়ে।তবে এসব ঘটনাই এখন হিজবুল্লাহর সমর্থক ও কর্মীদের জন্য নতুন প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে বলে মনে হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সংগঠনের পুনর্গঠনের দৃশ্যমান ফলাফল—বিশেষত হিজবুল্লাহ প্রকাশিত এফপিভি ড্রোনের ভিডিও চিত্র—সংগঠনের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে এবং তাদের সামাজিক ভিত্তি ও সাংগঠনিক কাঠামোর মনোবল ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করেছে।সবচেয়ে বড় হুমকি যুদ্ধক্ষেত্র নয়, লেবাননের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতবে এসব সাফল্য সত্ত্বেও বর্তমানে হিজবুল্লাহর সামনে সবচেয়ে বড় হুমকি যুদ্ধক্ষেত্র নয়; বরং লেবাননের ভঙ্গুর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। শরণার্থী সংকট এবং এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব, পাশাপাশি বর্তমান লেবানন সরকারসহ কিছু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তির সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিজবুল্লাহর যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতা এবং সফল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।অতএব যুদ্ধক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর অভিযোজন ও পুনর্গঠনের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হলেও এ পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের গতিশীলতার ওপর; এটা এমন একটি পরিবেশ, যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধফ্রন্টের চেয়েও বেশি নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে।সূত্র: মিডলইস্ট আই
০৯ জুন ২০২৬
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ডিজিটাল বিশ্বের বন্দি চোখ: স্ক্রিনের নীরব বিপদ ও সমাধান

ডিজিটাল বিশ্বের বন্দি চোখ: স্ক্রিনের নীরব বিপদ ও সমাধান

আজকের পৃথিবী যেন একটি স্ক্রিনের ভেতর বন্দি। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমেই মোবাইল, সারাদিন অনলাইন ক্লাস বা কাজ, আর দিনের শেষে বিনোদন সবই যেন স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর অতি ব্যবহারের ফলে যে নীরব ক্ষতি হচ্ছে, তা আমরা অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছি না।বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম দেখা দেয়। এর লক্ষণ হিসেবে চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, এমনকি মাথাব্যথাও হতে পারে। সমস্যাটি এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে অনেকেই এটিকে আর অসুখ বলে মনে করেন না, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিচ্ছেন।কেন চোখের ক্ষতি হয়স্ক্রিন ব্যবহারের সময় আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম চোখের পলক ফেলি। ফলে চোখে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমে যায় এবং ড্রাই আই সমস্যা তৈরি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা প্রতি মিনিটে ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পলক ফেলি, কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ থেকে ৭ বার।এর পাশাপাশি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের ক্লান্তি বাড়ায় এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে। বিশেষ করে রাত জেগে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস তরুণ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা দেয়, ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের মানও খারাপ হয়।শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশিশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস, সামাজিক যোগাযোগ সবকিছুতেই স্ক্রিনের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে চোখের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে চোখের সমস্যায় ভুগছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।করোনা মহামারির পর থেকে অনলাইন শিক্ষার প্রসারের ফলে শিশু-কিশোরদের গড় স্ক্রিন টাইম কয়েকগুণ বেড়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।চোখ বাঁচাতে সহজ অভ্যাসএই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সচেতনতার বিকল্প নেই। খুব সহজ কিছু অভ্যাস আমাদের চোখকে রক্ষা করতে পারে—২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকিয়ে থাকুনপরিবেশের আলো ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সমান করে নিনঅপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টা করুননিয়মিত চোখের যত্ন নিন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিনস্ক্রিন দেখার সময় চোখের পলক ফেলার অভ্যাস করুনপ্রযুক্তিগত সমাধান আর অভ্যাস的改变বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনে ‘আই কম্ফোর্ট’ বা ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ অপশন যুক্ত করা হয়েছে, যা স্ক্রিন থেকে নির্গত ক্ষতিকর নীল আলো কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। তবে এটিকে সম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস পরিবর্তন না করলে এই ধরনের ফিচার একা চোখের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না।অনেক কম্পিউটার ও ল্যাপটপে ‘নাইট লাইট’ বা ‘নাইট শিফট’ মোডও থাকে, যা সন্ধ্যার পর স্ক্রিনের আলোকে উষ্ণ আভায় পরিবর্তন করে। এই ফিচারগুলো ব্যবহার করলে চোখের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।কখন ডাক্তার দেখাবেনযদি নিচের কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি—চোখে ঘন ঘন জ্বালাপোড়া বা ব্যথাঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশনমাথাব্যথা বিশেষ করে সামনের অংশেচোখ শুকিয়ে যাওয়া বা বেশি পানি পড়ারাতে গাড়ি চালাতে বা অন্ধকারে দেখতে কষ্ট হওয়াপ্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। অন্যথায় এই নীরব বিপদ একসময় বড় সমস্যায় পরিণত হবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো প্রজন্মের ওপর।একটু সচেতনতা আর দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন এনে আমরা আমাদের চোখকে স্ক্রিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারি। প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন, কিন্তু প্রযুক্তিকে আপনার নিয়ন্ত্রণ করতে দেবেন না।
৬ ঘন্টা আগে
ফ্রিজ-এসিতে ভ্যাট অর্ধেকে নামছে, কমতে পারে দাম

ফ্রিজ-এসিতে ভ্যাট অর্ধেকে নামছে, কমতে পারে দাম

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে। বর্তমানে দেশি ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। আগামী বাজেটে তা কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হতে পারে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।এনবিআরের কর কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, “উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বেশি থাকায় সম্প্রতি দেশে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির আমদানি বাড়ছিল। তাই আমদানি কমিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে ভ্যাট কমানো হচ্ছে। আর বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ও কিছুটা কমেছে বলে আমরা খবর পাচ্ছিলাম।”মোবাইল-ল্যাপটপে ভ্যাট সুবিধা বাড়ছে ২০৩০ সাল পর্যন্তমোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের উৎপাদন পর্যায়ে বৈশিষ্ট্যভেদে ভ্যাট সাড়ে ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধাটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে কোনো মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উৎপাদনকারী কোম্পানি যদি নিজেরা কমপক্ষে দুটি কম্পোনেন্ট বানায় এবং বাকি উপকরণ আমদানি করে দেশে সংযোজন করে, তাহলে উৎপাদন পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সব উপকরণ আমদানি করে শুধু দেশে সংযোজন করে, তাহলে ১০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়।জাহাজ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বহালজাহাজ আমদানির ক্ষেত্রেও ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখা হচ্ছে। সমুদ্রগামী বড় জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর দিতে হবে না। ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই অব্যাহতি সুবিধা থাকবে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে ৫ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার বেশি জাহাজ আমদানি করতে হবে। চলতি অর্থবছরে এই ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হলো।এ ছাড়া এলপিজি গ্যাস আমদানিতেও সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখা হচ্ছে আগামী অর্থবছরেও। বর্তমানে এলপি গ্যাস বাসাবাড়িতে রান্নার জ্বালানি, অটোগ্যাস স্টেশনে যানবাহনের জ্বালানি এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।দাম কতটা কমতে পারেবর্তমানে দেশে ওয়ালটন, ইলেকট্রোমার্ট, ট্রান্সকম, এসকোয়্যার, সিঙ্গার বাংলাদেশ, বাটারফ্লাই, র্যাংগ্স, ইলেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল, মিনিস্টার, ভিশন, এলজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে।এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ভ্যাটের হার ছিল ৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল।সরকারের ভ্যাট কমানোর এই সিদ্ধান্ত এ খাতের ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসি উৎপাদনে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল গণবার্তাকে বলেন, “এখন ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির চাহিদা বাড়ছে। ভ্যাট কমানো হলে সেটা স্থানীয় শিল্পের জন্যও ভালো হবে। ভ্যাট কমলে অবশ্যই দাম কমবে।”দাম কতটা কমবে—জানতে চাইলে তিনি জানান, ভ্যাটে যতটা ছাড় দেওয়া হবে, সেটা পুরোটাই গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে।খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান প্রচণ্ড গরমের কারণে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির চাহিদা বেড়েছে। তাই এ সময়ে নতুন করে ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রাহক পর্যায়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।চ্যালেঞ্জিং সময়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সুখবর বলে মনে করছেন উৎপাদনকারীরা। যমুনা ইলেকট্রনিকসের পরিচালক (বিপণন) সেলিম উল্যা সেলিম গণবার্তাকে বলেন, “দুই বছর ধরে এ খাত চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ৩০ শতাংশ পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এখন ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত হলে তাতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে।”তবে উৎপাদনকারীদের পক্ষ থেকে ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছিল এনবিআরের কাছে। নতুন বাজেটে সেই দাবি কতটা পূরণ হচ্ছে, তা নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়েছে খাতটির ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
০৭ এপ্রিল ২০২৬
ব্যাংকের সিদ্ধান্ত রাস্তার আন্দোলন দিয়ে হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র

ব্যাংকের সিদ্ধান্ত রাস্তার আন্দোলন দিয়ে হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র

০৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে হুন্দাই সান্তাফে

বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে হুন্দাই সান্তাফে

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই তাদের আধুনিক ও উচ্চমানের এসইউভি সান্তাফে দিয়ে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে। শক্তিশালী নকশা, উন্নত প্রযুক্তি এবং আরামদায়ক চালনার অভিজ্ঞতার কারণে গাড়িটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।নজরকাড়া নকশাসান্তাফের বাহ্যিক নকশা প্রথম দেখাতেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বড় গ্রিল, আধুনিক এলইডি বাতি এবং আভিজাত্যপূর্ণ কাঠামো গাড়িটিকে শক্তিশালী উপস্থিতি দেয়। ২০২১ সালে পঞ্চম প্রজন্মে আসার পর এর নকশা আরও সাহসী ও আলাদা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পেয়েছে।প্রশস্ত ও আরামদায়ক কেবিনগাড়িটির ভেতরে রয়েছে প্রশস্ত আসন, উন্নত মানের উপকরণ, বড় তথ্য-বিনোদন পর্দা এবং স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সাত আসনের ব্যবস্থা থাকায় বড় পরিবারের জন্য এটি আদর্শ। দীর্ঘ ভ্রমণে যাত্রীদের ক্লান্তি কম হয়, যা একে পারিবারিক ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী করে।কার্যক্ষমতা ও জ্বালানি সাশ্রয়সান্তাফে বাজারভেদে পেট্রোল, ডিজেল ও হাইব্রিড ইঞ্জিনে পাওয়া যায়। মসৃণ স্বয়ংক্রিয় গিয়ার ও উন্নত কম্পন-নিরোধক ব্যবস্থা চালনাকে স্থিতিশীল করে। হাইব্রিড সংস্করণ থাকায় এটি তুলনামূলকভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ী।উন্নত নিরাপত্তা সুবিধাগাড়িটিতে রয়েছে একাধিক এয়ারব্যাগ, এবিএস ব্রেক, বৈদ্যুতিক স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ, লেন ধরে রাখার সহায়তা ও ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং। এছাড়া সামনে ও পেছনে পার্কিং ক্যামেরা থাকায় শহরে গাড়ি রাখার সময় বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।প্রযুক্তি ও প্রিমিয়াম অনুভূতিসান্তাফে স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি, ওয়্যারলেস চার্জিংসহ আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রে এটি বিলাসবহুল এসইউভির কাছাকাছি সুবিধা দেয়।ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাব্যবসায়ী সামির জানান, সান্তাফে তার দৈনন্দিন জীবন ও দীর্ঘ ভ্রমণে আস্থা ও আরাম দিয়েছে। আধুনিক ডিজাইন ও ফিচার তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ইমেজকে আরও শক্তিশালী করেছে।বাংলাদেশে ফেয়ার টেকনোলজির উদ্যোগফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেড ইতোমধ্যে স্থানীয় প্ল্যান্টে হুন্দাই গাড়ি সংযোজন শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও মডেল সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দাম কমে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়। প্রতিষ্ঠানটি অরিজিনাল পণ্য, সঠিক কাগজপত্র ও নির্ভরযোগ্য সার্ভিসিং সুবিধা দিয়ে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করছে।উপসংহারসব মিলিয়ে, হুন্দাই সান্তাফে হলো একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক এসইউভি—যেখানে নকশা, আরাম, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা একসঙ্গে মিলেছে। বাংলাদেশে এখনো সীমিত পরিসরে থাকলেও এর চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়ছে।
০৯ জুন ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৭ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার