ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

হোয়াইট হাউসে ঢুকে ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে ইরান: আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে হুমকি দিয়েছেন ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক একজন শীর্ষ কমান্ডার। তার দাবি, প্রয়োজন হলে হোয়াইট হাউজের ভেতরেই প্রবেশ করে ট্রাম্পকে হত্যা করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।সোমবার (১৩ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।ইরানি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ফারারুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোকাদ্দাম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যদি ট্রাম্পকে হত্যা করাই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। প্রয়োজন দেখা দিলে সেই সামর্থ্য তাদের রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।সাক্ষাৎকারে কানানি মোকাদ্দাম তেহরান ও ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন। তার ভাষ্য, এই সংলাপের লক্ষ্য কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা।তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে ইরান শান্তির উদ্দেশ্যে আলোচনা করছে না। আলোচনার মাধ্যমে তারা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের জবাব দিতে চায়। একই সঙ্গে প্রতিশোধ ও পাল্টা জবাবের বিষয়টি এখনও ইরানের বিবেচনায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে কানানি মোকাদ্দামের এসব বক্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার এই হুমকি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের এই সময়ে এ ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১৪ ঘন্টা আগে

‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৭ ও ১৮ নম্বর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, কুইজ, বিতর্ক ও কাবিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উপজেলা থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে জাতীয় পর্যায়ে এসব প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের স্কুল পর্যায়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান করা হবে। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও সম্মাননা দেওয়া হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে ১৫টি ক্যাটাগরিতে দেশের ১২ হাজার ৩৮৪ জন এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটি ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার ৫৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা দেওয়া হবে।পদক প্রদান অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১৫ ঘন্টা আগে

ইয়ামালের জাদুতে স্পেনের ফাইনাল, ফ্রান্সের স্বপ্নভঙ্গ

ম্যাচের প্রথম কিক থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত মাঠ জুড়ে শুধুই লাল রাজত্ব! আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ফুটবলশৈলীর এক মাস্টারক্লাস দেখিয়ে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারালো স্পেন। ২০১০ সালের পর এই প্রথম এবং নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। আগামী রোববার মহাকাব্যিক ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের।বিরতির পর ফ্রান্সকে সুযোগই দেয়নি লা রিখারা। মাঝমাঠে রদ্রি ছিলেন বরাবরের মতোই রাজকীয়, লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়ার এনার্জি ছিল দেখার মতো। আর আক্রমণে দানি ওলমো ও লামিন ইয়ামাল ছড়িয়েছেন নান্দনিকতা। ২২ মিনিটে লুকা দিনিয়ের ভুলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে লিড এনে দেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। এরপর ৫৮ মিনিটে ওলমোর সাথে চোখধাঁধানো ওয়ান-টু খেলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাইট-ব্যাক পেদ্রো পোরো।অন্যদিকে, ফরাসিদের জন্য রাতটি ছিল একটি দুঃস্বপ্ন। লুকা দিনিয়ে পুরো ম্যাচেই ভুগেছেন, চুয়ামেনিকে ক্লান্ত লেগেছে, মাইকেল ওলিসে ছিলেন পুরোপুরি নিষ্প্রভ। আর অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে স্প্যানিশ ডিফেন্সের সামনে ছিলেন সম্পূর্ণ ধারহীন। ফ্রান্সের বিদায়ের পর ডাগআউটে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমকে যখন ফ্যাকাশে মুখে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, স্প্যানিশ ডাগআউটে দে লা ফুয়েন্তের চোখে-মুখে ছিল মর্যাদাপূর্ণ আনন্দের আভা।৫৮ মিনিট: গোল! ফ্রান্স ০-২ স্পেন – দারুণ এক দলীয় আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করলো স্পেন! মাঝমাঠ থেকে দানি ওলমো বল নিয়ে এগিয়ে পাস দেন ডান প্রান্তে থাকা পেদ্রো পোরোকে। পোরো ওলমোর সঙ্গে চমৎকার এক ওয়ান-টু-ওয়ান খেলে ফরাসি ডিফেন্স ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েন। এরপর ঠাণ্ডা মাথায় নিখুঁত সাইড-ফুটে ফরাসি কিপার মাইক মেনিয়কে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান এই রাইট-ব্যাক। ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে মহা বিপদে ফ্রান্স!হাফটাইম: ফ্রান্স ০-১ স্পেন – আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে স্পেন। মিকেল ওইয়ারজাবালের ২২ মিনিটের পেনাল্টি গোলটিই এখন পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলা লা রিখারা প্রথম ৪৫ মিনিটে ফরাসি রক্ষণভাগকে ভালোই চাপে রাখে। ২০ মিনিটে ফ্রান্সের লেফট-ব্যাক লুকা দিনিয়ের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নেন লামিন ইয়ামাল। দিনিয়ে বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ইয়ামালকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট-কিক থেকে ফরাসি কিপার মাইক মেনিয়কে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে স্পেনকে লিড এনে দেন ওইয়ারজাবাল। এই বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়লো ফ্রান্স।পিছিয়ে পড়ার পর ফ্রান্স দল কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে। এর ওপর বড় ধাক্কা আসে যখন চোটের কারণে রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ উইলিয়াম সালিবা মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। স্পেনের লিড দ্বিগুণ হতে পারত যদি বক্সে চমৎকার এক পাসিং মুভমেন্ট থেকে ফাবিয়ান রুইজ শট লক্ষ্যভ্রষ্ট না করতেন।২২ মিনিট: গোল! ফ্রান্স ০-১ স্পেন – সেমিফাইনালের মহারণে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে লিড এনে দিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল! ম্যাচের ২০ মিনিটে ঘটে আসল ঘটনা। ফ্রান্সের লেফট-ব্যাক লুকা দিনিয়ে একটি ক্লিয়ারিং হেড করতে গিয়ে বল মিস করেন, যা তার মাথার ওপর দিয়ে স্কিম করে পেছনে চলে যায়। বল হুক করে ক্লিয়ার করতে যখন তিনি ঘুরে শট নেন, তখন তিনি খেয়ালই করেননি যে তার ঠিক পেছন থেকে লামিন ইয়ামাল বলের নাগাল পেতে ঢুকে পড়েছেন। ফলে দিনিয়ের বুট সরাসরি আঘাত করে ইয়ামালকে, আর রেফারি কোনো দ্বিধা ছাড়াই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। নিজের মারাত্মক ভুলে তখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল দিনিয়েকে।ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে দাবি করেন যে বলটি ইয়ামালের হাতে লেগেছিল। তবে রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি তার স্লিভে (হাতে নয়) লেগেছে। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। পেনাল্টি থেকে ডান দিকের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো ও নিখুঁত এক শট নেন ওইয়ারজাবাল। ফরাসি কিপার মাইক মেনিয় সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও বলের গতি ও উচ্চতার কারণে তা স্পর্শ করতে পারেননি।বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে টেক্সাসের আর্লিংটনে মুখোমুখি হয় ইউরোপের দুই পরাশক্তি। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে জয়ী দল পৌঁছে যায় বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে। বিশ্বকাপে দীর্ঘ ইতিহাসে এটি দুই দলের মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। ২০০৬ বিশ্বকাপে সর্বশেষ দেখায় ফ্রান্স জেতে ৩-১ ব্যবধানে। তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালসহ বেশ কিছু বড় ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে এগিয়ে রয়েছে স্পেন।ম্যাচের আগে ফ্রান্স দলে এসেছে কৌশলগত পরিবর্তন। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ থেকে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে দিদিয়ের দেশমের দল। চোট সারিয়ে মাঝমাঠে ফিরেছেন অরেলিয়ে চুয়ামেনি, জায়গা পেয়েছেন ব্র্যাডলি বারকোলাও। অন্যদিকে, বেলজিয়ামকে হারানো অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। দুই রাউন্ডে ম্যাচ জেতানো সুপার-সাব মিকেল মেরিনোকে আজকেও বেঞ্চেই থাকতে হয়েছে। এটি ফ্রান্সের অষ্টম সেমিফাইনাল, যেখানে স্পেনের মাত্র দ্বিতীয়বার শেষ চারে খেলার অভিজ্ঞতা।ফ্রান্স একাদশ: মাইক মেনিয়ঁ (গোলকিপার), জুলস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, দায়োত উপামেকানো, লুকাস দিনিয়ে, আদ্রিয়া রাবিও, অরিলিয়ে চুয়ামেনি, ব্র্যাডলি বারকোলা, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে।স্পেন একাদশ: উনাই সিমন (গোলকিপার), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা, মিকেল ওইয়ারজাবাল।ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে মাথা নোয়ালেন। ঘাসের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অন্তত এক মিনিট। শরীর দিয়ে ঘাম ঝরছে। সতীর্থ আরও কয়েকজন মাঠ ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। সান্ত্বনা দেয়ার মতো কেউ নেই। পুরো টিমই বিধ্বস্ত। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের চিত্র এটাই। চারদিকে আলাপ ছিল- এই অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সকে কে থামাবে। কিন্তু স্পেন থামিয়েই দিলো। ফরাসি দৈনিক লেকিপ বলেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্রান্স সম্পূর্ণ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। স্পেনের কাছে হারাটা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। ২০২৪ ইউরোর পর ফরাসিদের বিপক্ষে আরও একবার নিজেদের আধিপত্যের পুনরাবৃত্তি ঘটালো স্প্যানিশরা। ফরাসি বাস্তিল দিবসে এই পরাজয়ে সবকিছু ম্লান হয়ে গেল। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছা হলো না তাদের। ম্যাচের কিছু অংশে স্পেনের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের সামনে ফ্রান্সের কোনো প্রতিরোধ গড়ে না ওঠায় তৈরি হয়েছিল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। পেনাল্টির আট মিনিট পর ফরাসি শিবিরে দুঃস্বপ্ন নেমে আসে। পিঠের ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। এরপর ফ্রান্স কেমন যেন খেলার গতি হারিয়ে ফেলে। স্পেনের গোটা টিমের বিল্ডআপ ছিল চমৎকার। কুকুরেয়ার নাম উল্লেখ করতেই হয়। পোরোর পাস দেয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাওয়াটাও ছিল দারুণ। যদিও ফ্রান্স কয়েকবার চেষ্টা করেছিল স্পেনের জালে বল পাঠাতে। কিন্তু সবই ছিল এলোমেলো, নিয়ন্ত্রণহীন। এমবাপ্পেকে যেমন খুঁজে পাওয়া যায়নি, পুরো টিমটার অবস্থাও ছিল নাজুক। ম্যাচটি শেষ হয় গ্যালারিতে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকদের বিপুল আনন্দধ্বনি আর ওলে ওলে স্লোগানের মধ্য দিয়ে। ফরাসি শিবিরে তখন কান্না।
১৫ ঘন্টা আগে
ভুল ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকে সতর্ক করল তথ্য অধিদপ্তর

ভুল ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকে সতর্ক করল তথ্য অধিদপ্তর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য উৎসকে সংবাদের সূত্র হিসেবে ব্যবহার করার কারণে অনেক গণমাধ্যম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে নিবন্ধনকৃত সব গণমাধ্যমকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর।বুধবার (১৫ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিছু গণমাধ্যম ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টসহ অসত্য খবর পরিবেশন করছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে মনে করে তথ্য অধিদপ্তর।তথ্য অধিদপ্তর বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য উৎসকে সংবাদের সূত্র হিসেবে ব্যবহার করার কারণে অনেক গণমাধ্যম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। ফলে অপতথ্য ও বিকৃত কনটেন্ট মূলধারার গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।এ কারণে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, পেশাদারী দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং ফ্যাক্ট চেক করা গণমাধ্যমের জন্য একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বলে মনে করেন অধিদপ্তর।একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে নিবন্ধনের নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে গণমাধ্যমগুলোকে ভেরিফায়েড ও বিশ্বস্ত সূত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং যে কোনো খবর প্রকাশের আগে তা যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। অন্যথায় ভুল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিজেরাই জনগণের আস্থা হারাতে পারে বলে সতর্ক করেছে তথ্য অধিদপ্তর।
১০ ঘন্টা আগে
ভুল ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকে সতর্ক করল তথ্য অধিদপ্তর

ভুল ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকে সতর্ক করল তথ্য অধিদপ্তর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য উৎসকে সংবাদের সূত্র হিসেবে ব্যবহার করার কারণে অনেক গণমাধ্যম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে নিবন্ধনকৃত সব গণমাধ্যমকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর।বুধবার (১৫ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিছু গণমাধ্যম ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টসহ অসত্য খবর পরিবেশন করছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে মনে করে তথ্য অধিদপ্তর।তথ্য অধিদপ্তর বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য উৎসকে সংবাদের সূত্র হিসেবে ব্যবহার করার কারণে অনেক গণমাধ্যম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। ফলে অপতথ্য ও বিকৃত কনটেন্ট মূলধারার গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।এ কারণে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, পেশাদারী দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং ফ্যাক্ট চেক করা গণমাধ্যমের জন্য একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বলে মনে করেন অধিদপ্তর।একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে নিবন্ধনের নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে গণমাধ্যমগুলোকে ভেরিফায়েড ও বিশ্বস্ত সূত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং যে কোনো খবর প্রকাশের আগে তা যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। অন্যথায় ভুল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিজেরাই জনগণের আস্থা হারাতে পারে বলে সতর্ক করেছে তথ্য অধিদপ্তর।
১০ ঘন্টা আগে
তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ১০ বছর: সেনাবাহিনী-বেসামরিক সম্পর্কে বড় পরিবর্তন

তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ১০ বছর: সেনাবাহিনী-বেসামরিক সম্পর্কে বড় পরিবর্তন

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নির্বাচিত সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালায়। ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে চালানো এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যর্থ হয়। দেশটির বড় শহরগুলোর রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে আসেন এবং বিদ্রোহীদের প্রতিহত করেন। ওই ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নিহত ও ২ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ ছিল—জনগণের প্রতিরোধ, অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করা তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং সেনাবাহিনীর নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।তুরস্কের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রভাব ছিল। সেনাবাহিনী ১৯৬০ ও ১৯৮০ সালে সরকার উৎখাত করে। ১৯৭১ সালে একটি সামরিক স্মারকের মাধ্যমে সরকারকে চাপের মুখে ফেলে এবং ১৯৯৭ সালে আরেকটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করে। তবে ২০১৬ সালের পর সামরিক বাহিনীতে বড় পরিবর্তন আসে।ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর সরকার সেনাবাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করে। সামরিক একাডেমিগুলো বন্ধ করে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়। হাজার হাজার সেনা সদস্য, বিচারক, পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষককে বরখাস্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়।অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল উনাল আতাবায় বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে সেনাবাহিনী, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পর্কের ধরন মৌলিকভাবে বদলে গেছে। সেনাবাহিনী নিজেদের ভেতরের নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী আবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী চারকোগলুর মতে, শুধু সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে আনা দিয়েই তুরস্কের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক কর্তৃত্বের অধীনে আনা সাফল্য হলেও যদি এর বিনিময়ে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা দুর্ভাগ্যজনক।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে বিরোধী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তদন্তগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে।২০০২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে একেপি প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান-পরবর্তী জরুরি অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকারের দাবি, রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা গোপন নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতে এমন হুমকি ঠেকানোর জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।
৮ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সংশয় থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং নিরাপদ উৎপাদন, সঠিক সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করা হলে ব্রয়লার মুরগি উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস হতে পারে।বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবারের একটি হলো ব্রয়লার মুরগি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাহানাজ বলেন, ব্রয়লার মুরগি নিজে কোনোভাবেই ক্ষতিকর নয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।তার ভাষ্য, ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ কি না, তা নির্ভর করে কীভাবে এটি পালন করা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং জবাই ও সংরক্ষণের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।অ্যান্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে ডা. সাহানাজ জানান, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। তবে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কিংবা জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিরতি না মানলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে হরমোন ব্যবহার করা হয়—এমন ধারণা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, এ দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আধুনিক ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি মূলত উন্নত জাত, সুষম খাদ্য এবং উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফল।তিনি আরও বলেন, খামারে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কিংবা জবাই ও সংরক্ষণের সময় অসতর্কতা থাকলে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাংসে থাকতে পারে। তাই ব্রয়লার মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত।ডা. সাহানাজের মতে, চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, দেশি ও ব্রয়লার—উভয় ধরনের মুরগিই ভালো প্রোটিনের উৎস। দেশি মুরগির স্বাদ ও গঠন ভিন্ন হলেও পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। মূল বিষয় হলো নিরাপদ উৎপাদন, ভালো মান এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্না।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্রয়লার মুরগি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন:বিশ্বস্ত দোকান বা অনুমোদিত খামার থেকে মুরগি কেনাদুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলাকাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখামাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাবিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব।
১৪ ঘন্টা আগে
মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদী নির্মাণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের স্থাপনা নির্মাণ এবং জাতীয় পর্যায়ে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।মন্ত্রী জানান, দেশের ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ‘মুজিববর্ষ উদযাপন বাবদ ব্যয় বিবরণী’র একটি কপিও তিনি সংসদে উপস্থাপন করেন।অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৩ কোটি ২০ হাজার টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে।সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের ব্যয় নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন খাতে হওয়া ব্যয় সরকার পর্যায়ক্রমে যাচাই করছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এক বছরে আপ্যায়ন ও খাবার খাতে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। এ ধরনের ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতের হিসাবও সরকার পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
১০ জুন ২০২৬
অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদকে উৎপাদনমুখী করতে সরকারের উদ্যোগ

অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদকে উৎপাদনমুখী করতে সরকারের উদ্যোগ

১০ জুন ২০২৬
গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে।মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সেটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারবে না। এছাড়া জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন।যখন কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সেট করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা চাইলে একটি Username Key নির্ধারণ করতে পারবেন, যা জানলে তবেই অন্য কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। তাই একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণে আগে থেকে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচার বন্ধ করতে বা নিজেদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন।হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কারণ ফোন নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।তবে প্রাথমিকভাবে ইউজারনেম অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। এখনই কিউআর কোড স্ক্যান করে শুধু ইউজারনেমের সাহায্যে যোগাযোগের সুবিধা থাকছে না।উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন পদক্ষেপ গোপনীয়তা সচেতন ব্যবহারকারীদের কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
০৯ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

আগামী ৭ আগস্ট ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি দৈনিক ফ্লাইট চালুর আগে আজ থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই রুটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এই দৈনিক ফ্লাইট বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটন সংযোগ আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে রিয়াদ এয়ারের সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সংযোগ নিশ্চিত করবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এই রুট দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান বিমান পরিবহন বাজারগুলোর একটির প্রতি রিয়াদ এয়ারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ-সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, আরএক্স০৭৬৩ ফ্লাইট রিয়াদ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফিরতি আরএক্স০৭৬৪ ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রিয়াদে অবতরণ করবে।রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, নতুন এই সেবা ব্যবসা, অবকাশ যাপন ও শিক্ষাসংক্রান্ত ভ্রমণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য রিয়াদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।এয়ারলাইন্সটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই রুট তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন। ফ্লাইটগুলো রিয়াদ এয়ারের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত হবে। উড়োজাহাজে বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি—এই চারটি কেবিন শ্রেণি থাকবে। এতে সর্বাধুনিক ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস সংযোগ এবং উন্নত যাত্রীসেবা সুবিধা থাকবে।সৌদি আরবের নতুন জাতীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার দেশটির বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বৃহত্তর বিমান পরিবহন কৌশলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
১০ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন