ঢাকা    সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

ইরানের সাথে হুথিদের ইসরায়েলে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা হুশিয়ারি দিয়েছে যে লোহিত সাগরে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আবারও তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হবে।সোমবার (৮ জুন) হুথিদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সংগঠনের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারে এই ঘোষণা দেন। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান বিমান হামলার কারণে গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি যখন চরম হুমকির মুখে, ঠিক তখনই হুথিদের এই নতুন উসকানি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধহুথিদের নতুন এই হুমকির ফলে লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং এই দুই জলপথকে যুক্ত করা সংকীর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ল। এর আগে গাজা যুদ্ধ চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগরে একশরও বেশি হামলা চালিয়ে অন্তত নয়জন নাবিককে হত্যা করেছিল এবং চারটি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। সেসব হামলার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছিল, যেখান দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি বছর প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য আনা-নেওয়া করা হতো।ইয়েমেন পুনর্গঠন থেকে সরে এসে ইরানের পক্ষে অবস্থানহুথিরা মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত থেকে দূরে ছিল এবং ইয়েমেনকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনাকে প্রাধান্য দিচ্ছিল। তবে চলমান উত্তেজনার মাঝে হুথিরা এবার ইসরায়েলের জাফা শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।ইয়েমেনের হুথি নেতৃত্ব, যা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত, এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি শত্রুদের জন্য সামুদ্রিক নেভিগেশন সম্পূর্ণ এবং পরমভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। এই বিবৃতি প্রকাশের পর থেকে শত্রুপক্ষের যেকোনো চলাচল আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে’।তারা আরও স্পষ্ট করেছে যে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং তাদের এই সামরিক অভিযান প্রতিরোধ অক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হচ্ছে।দুই প্রণালি বন্ধের হুমকিইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন যে বাব আল-মানদাব প্রণালির বর্তমান নিরাপত্তা দেখে শত্রুদের কোনো ভুল হিসাব করা উচিত হবে না, কারণ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দুটি জলপথই বন্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে।হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালি একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেলে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যকার বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যিক যোগাযোগ পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।ইরানের কারুন পেট্রোকেমিক্যাল ক্ষতিগ্রস্তঅন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতাউদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে বিশ্ব কূটনীতিকদের সঙ্গে রাতভর যোগাযোগ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত ফোনালাপ করেছেন বলে জানা গেছে।
৮ ঘন্টা আগে

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ইসরাইলের পাল্টা হামলা

ইরানের হামলার পর এবার পালটা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সোমবার (৮ জুন) ভোরের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী।আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানে অন্তত দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ইসফাহান শহরে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানি বার্তাসংস্থা মেহের নিউজও জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন জায়গায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। আইআরআইবি সম্প্রচারকারী সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।এর আগে রোববার (৭ জুন) রাতে দখলদারদের লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছিল ইরান। ধারণা করা হচ্ছে, ওই মিসাইল হামলার জবাবেই ইসরাইল পালটা হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় হামলা চালায় ইসরাইল। এর জবাবেই ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে মিসাইল ছুড়ে তেহরান।রোববার রাতে ইসরাইলে হামলার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এক বিবৃতিতে বলেছিল, তারা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনকে আর সহ্য করবে না। এর অংশ হিসেবেই মিসাইল ছোড়া হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড ওই সময় সতর্কতা দেয়, ইসরাইল যদি আবারও কোনো হামলা চালায় তাহলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।ইরানের এই হামলার পরই ইসরাইল সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তবে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন।
১৪ ঘন্টা আগে

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প, আতঙ্কে মানুষ ঘর ছেড়েছেন

রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রোববার (৭ জুন) রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত পৌনে ১২টার দিকে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন অনুভূত হয়। এতে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ও উঁচু দালান থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন।রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।উৎপত্তিস্থল ও মাত্রাঅ্যানড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ভুটানের পুনাখার ৫ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।ভূম্পিকম্পে ভুটান, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও চীনেও কম্পন হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, মাত্রা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সাধারণ মানুষের আতঙ্করাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার পর মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। অনেকেই ভূমিকম্পের তীব্রতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।ভূমিকম্পটি স্বল্প সময়ের জন্য হলেও দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী সময়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
২২ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধনকুবের ৩০ বিলিয়ন ডলারের মেগা বিনিয়োগ ভারতে

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধনকুবের ৩০ বিলিয়ন ডলারের মেগা বিনিয়োগ ভারতে

ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধনকুবের রবিন খুদার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাংক। এআই ও ক্লাউড সেবার সম্প্রসারণে এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।জানা গেছে, ভারতের প্রযুক্তি অবকাঠামো খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (তিন লাখ কোটি রুপি) বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এয়ারট্রাংক। প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা, যিনি এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জোয়ারকে কাজে লাগাতেই এই মেগা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম ‘ব্ল্যাকস্টোন’ এই প্রকল্পে এয়ারট্রাংককে অর্থায়ন ও সহযোগিতা করছে।এয়ারট্রাংক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় পাঁচ গিগাওয়াট সক্ষমতার ডেটা সেন্টার অবকাঠামো নির্মাণ করবে তারা। এই মেগা বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশটি যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে। রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে রায়গড়ে দুই লাখ কোটি রুপি ব্যয়ে একটি তিন গিগাওয়াটের ডেটা সেন্টার হাব তৈরি করবে এয়ারট্রাংক। কোম্পানিটি এরই মধ্যে প্রকল্পটির জন্য জমি কেনার সম্মতিপত্রে সই করেছে।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রবিন খুদার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর গত ৫ জুন এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা আসে। বিনিয়োগের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, এ ধরনের বিনিয়োগ ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআইয়ের গ্লোবাল হাব হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অভ্যন্তরীণ সাপ্লাই চেইনকে সমৃদ্ধ করবে এবং উদ্ভাবন-নির্ভর প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।ফোর্বস এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রবিন খুদা বলেন, ‘ভারত হলো বিশ্বের এমন কয়েকটি বাজারের একটি, যেখানে ভবিষ্যৎ চাহিদার পরিমাপ আমাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। প্রতিটি বাজারেরই নিজস্ব শক্তি থাকে, তবে ভারতের প্রবৃদ্ধির গতিপথ অনন্য। এখানকার বিশাল জনসংখ্যা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং এআই নিয়ে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার যে সংমিশ্রণ তৈরি হয়েছে, তা অন্য কোথাও সহজে পাওয়া সম্ভব নয়।’রবিন খুদা বলেন, ‘লুমিনার মাধ্যমে ভারতের বাজারে প্রবেশের আগে থেকেই আমরা এখানকার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ছিলাম। চলতি সপ্তাহে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর আমরা আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিকে আরও দ্বিগুণ করতে চলেছি। ভারত সরকার আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।’ফোর্বসের রিয়েল-টাইম ডাটা অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রবিন খুদার বর্তমান নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২১০ কোটি (২.১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।রবিন খুদা ২০১৫ সালে এয়ারট্রাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুতই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শীর্ষ ডেটা সেন্টার অপারেটরদের কাতারে জায়গা করে নেয়। ২০২৪ সালে ১৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ব্ল্যাকস্টোন ও কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ডের একটি জোট কোম্পানিটির অধিকাংশ মালিকানা কিনে নিলেও রবিন খুদা এখনো উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধরে রেখেছেন।বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি ভারতেও নিজেদের নেটওয়ার্ক দ্রুত বাড়াচ্ছে এয়ারট্রাংক। চলতি বছরের এপ্রিলে তারা মুম্বাই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার ডেভেলপার লুমিনা ক্লাউডইনফ্রাকে অধিগ্রহণ করে। এই লুমিনা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ৬০০ মেগাওয়াটের ডেটা সেন্টার তৈরির কাজ করছে।
১ ঘন্টা আগে
অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার

অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার

অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন ও পরিচালনার জন্য সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এছাড়া দুর্বল প্রকাশনা রেকর্ড থাকা জেলা-ভিত্তিক সংবাদপত্রগুলোকে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের (ডিএফপি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।জেলা সংবাদপত্রের তালিকা পর্যালোচনাপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করে দেখছি, ওই সংবাদপত্রগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তালিকাভুক্ত হয়েছিল কি না। কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’তিনি জানান, অনলাইন সংবাদ পোর্টালের নিবন্ধন ও পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান সংবাদমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে কথিত ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে সেগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। নতুন নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে অনলাইন পোর্টালগুলোর নিবন্ধন ও পরিচালনা প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৩ ঘন্টা আগে
প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি উভয় দিকই বজায় রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, একদিকে দেশ নিজের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে অনড় রয়েছে, পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও চালিয়ে যাচ্ছে।সোমবার (৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দেশের জাতীয় শক্তির দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা। এই দুই ক্ষেত্রেই ইরান সক্রিয় রয়েছে।পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান কখনোই যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের অবস্থান থেকে সরে যায়নি, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আলোচনা ও সংলাপের পথও খোলা রেখেছে।’ তিনি আরও জানান, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার নীতিতেই অটল রয়েছে তেহরান।সামরিক অভিযান সমাপ্ত, কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারিইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সমাপ্ত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। তবে লেবাননে নতুন করে কোনো হামলা হলে ইসরায়েলকে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, বর্তমান সামরিক অভিযান শেষ হলেও পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।পাল্টাপাল্টি হামলাআল জাজিরা ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের পর রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ ও ইস্পাহান শহরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল বলে অভিযোগ করে উত্তর ইসরায়েলের দিকে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। তখন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, এটি তাদের ধারাবাহিক হামলা অভিযানের সূচনা।ট্রাম্পের উদ্বেগএদিকে এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন। ইরান কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছে বললেও মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
৪৬ মিনিট আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ জন।একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।নিবিড় পর্যবেক্ষণে সরকারহামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানের জ্বর, সর্দি ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
১৪ মে ২০২৬
ব্যাংকের সিদ্ধান্ত রাস্তার আন্দোলন দিয়ে হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র

ব্যাংকের সিদ্ধান্ত রাস্তার আন্দোলন দিয়ে হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্তই রাস্তার কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। যে কোনো ইস্যুতে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন বা মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ারও এখতিয়ার আছে। আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই সিদ্ধান্ত হবে।গতকাল সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। আরিফ হোসেন খান জানান, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে।তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে একজন ব্যক্তির তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই এবং নিয়োগের আগে এসব বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক।ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে (জুমে) আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে গভর্নর নিজেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির স্থায়িত্ব ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিক্ষোভ ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যালোচনা করছে কোনো ব্যাংক বিশেষ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সংকটে পরিণত হচ্ছে কি না।বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, কোনো ব্যাংকই কোনো রাজনৈতিক দলের হতে পারে না এবং রাজনৈতিক পরিচয় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ব ব্র্যান্ডের অর্ডার ফেরাতে গার্মেন্টস জোন করার পরিকল্পনা

বিশ্ব ব্র্যান্ডের অর্ডার ফেরাতে গার্মেন্টস জোন করার পরিকল্পনা

০৬ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উল্কা বিস্ফোরণে সৃষ্টি হয় ‘সনিক বুম’

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উল্কা বিস্ফোরণে সৃষ্টি হয় ‘সনিক বুম’

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের আকাশে প্রকাণ্ড একটি উল্কাখণ্ড বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর প্রায় ৩০০ টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমপরিমাণ প্রচণ্ড শক্তি উৎপন্ন করে সশব্দে বিস্ফোরিত হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এই বিরল মহাকাশীয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।আনুমানিক ৩ মিটার চওড়া এই মহাজাগতিক পাথরটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর বাতাসের তীব্র ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে এবং একটি বিশাল আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড শব্দ বা ‘সনিক বুম’ পুরো অঞ্চল জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়।কী ঘটেছিলশনিবার (৩০ মে) মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ০৬ মিনিটে নিউ ইংল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আকাশে এই তীব্র আলোর ঝলকানি ও বিস্ফোরণটি ঘটে। বিশেষ করে বোস্টন শহরের বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিস্ফোরণের অসংখ্য বিবরণ প্রকাশ করেছেন।অনেক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে সেটির কম্পনে তাদের ঘরবাড়ি পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল।নাসার তথ্যমহাকাশ সংস্থার ডেপুটি নিউজ চিফ জেনিফার ডুরেন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এই উল্কাটি বর্তমানে সক্রিয় থাকা কোনো সাধারণ উল্কাবৃষ্টির অংশ ছিল না, বরং এটি সম্পূর্ণ একটি প্রাকৃতিক বস্তু ছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি মানবসৃষ্ট কোনো মহাকাশ বর্জ্য বা কৃত্রিম উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ ছিল না।নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশ শিলাটি যখন ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ মাইল (৬৪ কিলোমিটার) উচ্চতায় বিস্ফোরিত হয়, তখন সেটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ হাজার মাইল বা ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। বায়ুমণ্ডলে এই আকস্মিক ভেঙে যাওয়ার সময় যে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়েছিল তা প্রায় ৩০০ টন টিএনটি-র সমান, যা মূলত এই ভয়াবহ শব্দের সৃষ্টি করেছে।বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণআমেরিকান মেটিওর সোসাইটির ফায়ারবল প্রোগ্রাম মনিটর রবার্ট লুনসফোর্ড মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানিয়েছেন, দেলাওয়ার থেকে মন্ট্রিয়ল পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছ থেকে তারা এই দ্বি-স্তরের বিস্ফোরণের শব্দের ডজন খানেক সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন পেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এটি স্বাভাবিক উল্কার চেয়ে আকারে বেশ বড় ছিল।পাথরটির গতিপথ ও গতিবেগ বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এর বেশিরভাগ অংশই মাটিতে পড়ার আগে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যদি কোনো অংশ অবশিষ্ট থেকে থাকে তবে তা সোজা আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে।স্যাটেলাইটে ধারণ করা হয়েছেনোয়া-এর অত্যাধুনিক ‘গোয়েস-১৯’ স্যাটেলাইটও এই অদ্ভুত আলোর ঝলকানি নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দী করেছে, যা কোনো বজ্রঝড়ের আলো ছিল না। মহাকাশ বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ নিক স্টুয়ার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, বোস্টনের আকাশে অনাকাঙ্ক্ষিত এই আলোর ঘনত্ব বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি অতি শক্তিশালী বোলিড বা উল্কার পুনঃপ্রবেশের ঘটনা ছিল।মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আরও স্পষ্ট করেছে, সাধারণত ভূগর্ভের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ঘটা ভূমিকম্পের চেয়ে এই আকাশীয় সনিক বুমের ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ এটি বায়ুমণ্ডলের একটি সরল রৈখিক পথ ধরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।নাসা স্পেস অ্যালার্টের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিউ ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার অসংখ্য মানুষ এই বিরল মহাজাগতিক আলোর ঝলকানি ও তীব্র বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী হয়েছেন।সূত্র: এনডিটিভি, সিএনএন
০২ জুন ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার