ঢাকা    সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

ভারত যা চাইবে তাই পাবে, আমি মোদির অনেক বড় ভক্ত: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সরাসরি ফোনে যুক্ত হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদিকে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ ও ‘বড় ভক্ত’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে এবং দেশটি যা চাইবে তা-ই পাবে।রোববার (২৪ মে) দিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। অনুষ্ঠানের বিশাল পর্দায় ফোনকলে সরাসরি কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। মোদি অসাধারণ, তিনি আমার বন্ধু।’ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ককে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ভারতের উদ্দেশে বলেন, ‘ভারত আমাদের ওপর শতভাগ ভরসা রাখতে পারে। ভারতের যদি কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, তবে তারা ভালো করেই জানে কোথায় ফোন করতে হবে। ভারত যা চাইবে, তা-ই পাবে।’অনুষ্ঠানে নিজের দেশের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘সেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।এদিকে ভারত সফররত মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তার মতে, এই চুক্তি উভয় দেশের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা বয়ে আনবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বাণিজ্য বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায়ে ট্রাম্পের ‘ভারত যা চাইবে তাই পাবে’ মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। মোদিকে ‘বড় ভক্ত’ ও ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি রুবিওকে ‘ইতিহাসের সেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ বলাটা ট্রাম্পের প্রশংসায় কৃপণ নয়। বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে। তবে এই ঘনিষ্ঠতা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে কীরকম প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষা।
৭ ঘন্টা আগে

সীতাকুণ্ডে র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা: গুলি, বুলডোজার ও রাস্তা কেটে প্রতিরোধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গভীর রাতে র‍্যাবের একটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য অন্তত তিনটি স্থানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে ফেলা হয়। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত দুইটার দিকে আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পে হামলা চালায়। ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে র‍্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান। তিনি জানান, অতিরিক্ত ফোর্স প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করে। র‍্যাব কর্মকর্তা কামাল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখান, কীভাবে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে ফেলা হয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যান চলাচল ঠেকাতেই এসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। ফলে বাহিনীর সদস্যদের অনেক দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে ঘটনাস্থলে যেতে হয়।র‍্যাব জানিয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও অভিযান চালিয়ে কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। হামলার জন্য ইয়াসিন বাহিনীকে দায়ী করছে বাহিনীটি।জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর সরকার সেখানে পুলিশ ও র‍্যাবের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয়। আলীনগরে নির্মাণাধীন র‍্যাব ক্যাম্পটিই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।যৌথ অভিযানের সময় ২২ জন গ্রেপ্তার হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এখনো পলাতক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে নির্মাণাধীন র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা ও অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাস্তা কেটে ফেলে বাহিনীর অগ্রযাত্রা রোধের কৌশল সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত দেয়। পাল্টা অভিযানে কয়েকজন আটক হলেও মূল হোতা ইয়াসিন ও রোকন পলাতক। এলাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি অভিযান ও স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি।
৭ ঘন্টা আগে

টাঙ্গাইলের সোরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৭ জন নিহত

টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সোমবার (২৫ মে) ভোরে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফুয়াদ রোহানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পূর্বের প্রতিবেদনে ১৭ জন নিহতের তথ্য উল্লেখ করা হলেও পরে তিনি সংশোধিত তথ্য দিয়ে জানান, নিহত হয়েছেন ১৫ জন।দুর্ঘটনার বিবরণওসি ফুয়াদ রোহানী জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক ভোর ৫টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি সড়কে উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক এস এম হুমায়ুন কারনায়েকও নিহত ১৫ ও আহত ১০ জনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।নিহতদের পরিচয়তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ১৫ জনের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০)একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫)রাজশাহীর তানুর উপজেলার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯)চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল (৬০)চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মামুন (৪৫)নওগাঁর নেয়ামতপুর উপজেলার সাইদুলের ছেলে সারিকুল (২৫)নওগাঁর মান্দা উপজেলার আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারি (২১)একই উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (৩২)আহতরা হলেন— নওগাঁর মান্দা উপজেলার মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), একই উপজেলার আব্দুল রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান (৩৫), নাটোরের মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (৩২), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), একই উপজেলার ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬), শহিদুলের ছেলে সমেজ।আহত তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চারজন রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার জন্য দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের অলংকার মোড়ে দাঁড়িয়েছিলাম। চট্টগ্রামে দৈনিক ভিত্তিতে আমরা শ্রমিকের কাজ করি। ঈদ উপলক্ষে পরিবার পরিজনের জন্য কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিলাম। দুপুর দুইটার সময় আমরা চারজনে ২ হাজার ৩০০ টাকা মিটিয়ে ট্রাকে উঠি। ট্রাকে লোহার এঙ্গেল বার ছিল, তার ওপর ত্রিপল বিছানো ছিল। ট্রাকটি বিকাল সাড়ে ৫টায় ফেনি এসে পৌঁছায়, এ সময় সেখান থেকে আরও ২২ জন উঠে। আবার ঢাকা থেকেও আরও চারজন ট্রাকে ওঠে। সবাই গাদাগাদি করে এঙ্গেল বারের ওপর বসা ছিলাম। ঢাকা পার হওয়ার পর আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ট্রাকটি কখন উল্টে যায় বুঝতে পারিনি। পরে দেখি আমি হাসপাতালে।’নওগাঁর মান্দা থানার আব্দুল রহমান বলেন, ‘আমরা ১৮ জন নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জে লেস-ফিতা, শিশুদের খেলনা, কানের দুলসহ নানা জিনিসপত্র ফেরি করে বিক্রি করি। প্রায় দুই মাস আগে আমরা বাড়ি থেকে বেগমগঞ্জ এসে ব্যবসা করি। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার জন্য বাড়ি ফিরছিলাম। বিকেল সাড়ে ৫টার সময় ফেনী থেকে প্রতিজনে ৩৫০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে ট্রাকে উঠি। ফেনী থেকে আসার সময় চালক তিনবার গাড়ি থামান। আমরা নেমে চা-বিস্কুট খাই। গাজীপুর আসার পর ঘুমের ভাব হচ্ছিল। ভোরে টাঙ্গাইল ছাড়ার পর অনেকেই ঘুমিয়ে পড়ে। এলেঙ্গা পাড় হওয়ার কিছুক্ষণ পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। আমি ছিটকে পড়ি। যারা ঘুমিয়ে ছিল তারা অনেকেই রডের নিচে চাপা পড়ে। পরে পুলিশ ও লোকজন এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে ১৫ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এছাড়া মুমুর্ষু অবস্থায় আরও ৪ জনকে আনা হয়েছে। তারা বর্তমানে ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি ফুয়াদ রোহানী জানান, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।ঈদুল আজহার আগে চট্টগ্রামে শ্রমিকের কাজ করা মানুষজন কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেনী ও ঢাকা থেকে পথে পথে যাত্রী তোলা ট্রাকটি শেষ পর্যন্ত বিপর্যয় ডেকে আনল। লোহার এঙ্গেল বারের ওপর গাদাগাদি করে বসা যাত্রীদের অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন, আর ঘুম থেকেই চিরতরে না জাগার ঘুমে ঢলে পড়লেন। নিহত ১৫ জনের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় মিলেছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে।
৭ ঘন্টা আগে
আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ ছাড়তে চান না শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ ছাড়তে চান না শেখ হাসিনা

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেড় বছর পার হলেও রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো কার্যকর পথ খুঁজে পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে শেখ হাসিনা পুরোনো অবস্থানেই অনড় থাকায় ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশুদ্ধ দল গঠনের যে আলোচনা উঠেছিল, তা কার্যত মৃত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষমতার স্বাদ হারিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো দলটির নেতারা এখন এক অনিশ্চিত ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ সময় পার করছেন।সংস্কারের উদ্যোগ কেন মৃত?আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই বন্ধুপ্রতিম দেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা দলের সংস্কারের মাধ্যমে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্যদের নেতৃত্বে আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সভাপতি শেখ হাসিনা তার পদ ছাড়তে নারাজ। বড়জোর সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প হিসেবে নিজের পছন্দের ও বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি, যা সংস্কারপন্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। ফলে দলের ভেতরে সংস্কারের যাবতীয় সম্ভাবনা আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে।নেতাকর্মীদের হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তাবর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অধিকাংশ নেতাকর্মীর মধ্যে তীব্র হতাশা কাজ করছে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এবং বিএনপি সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ আছে এমন সাবেক এমপি ও জ্যেষ্ঠ নেতারা এখন রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যেতে চাইছেন। অনেকে জামিন পাওয়ার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফেরার কথা ভাবলেও, বর্তমান বাস্তবতায় সরকার তাদের কোনো ছাড় দেবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।বিদেশে নেতাদের দুর্দশাবিদেশে অবস্থানরত নেতাদের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য মিলেছে যে, ভারত, ইউরোপ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া নেতাদের অনেকেই আর্থিকভাবে সংকটে আছেন। ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক ভালো হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়া বা সাইপ্রাসের মতো ভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।কট্টরপন্থীরা এখনো হাসিনার বিকল্প দেখছেন নাদলের অভ্যন্তরে এখনো কট্টরপন্থী নেতারা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তারা শেখ হাসিনার বিকল্প দেখছেন না এবং কোনো ধরনের ভুল স্বীকার বা অনুশোচনার পথে যেতে নারাজ। তাদের ধারণা, বর্তমান সরকার বড় কোনো ভুল করলে বা অজনপ্রিয় হয়ে উঠলে তারা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে যে ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগের আলোচনা ছিল, তা এখন আর নেই। কট্টরপন্থীদের মতে, দল পুনরায় কাজ করার অনুমতি পেলে সংস্কারের বিষয়টি ভাবা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন কাঠামোতেই হতে হবে।বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের সতর্কতারাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, গায়ের জোরে রাজনীতিতে ফেরার চিন্তা আওয়ামী লীগের জন্য আরও বিপদ বয়ে আনবে। তার মতে, আওয়ামী লীগের উচিত ছিল গত ১৫ বছরের শাসন ও অপরাধের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং জবাবদিহি করা। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি গায়ের জোরে ফিরে আসার চেষ্টা করে, তবে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি যৌথভাবে তাদের মোকাবিলা করবে, যা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার চেয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো যেত। এখন নিষেধাজ্ঞা থাকায় দলটি নিজেদের ‘ভিকটিম’ বা ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছে।সংগঠিত করার চেষ্টাবর্তমানে দলের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম দেশে ও আত্মগোপনে থাকা নেতাদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, কলকাতার একটি পক্ষ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি একটি অংশ অনলাইনে দলীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাস্তবে রাজনৈতিক অবস্থান, সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।ক্ষমতা হারানোর দেড় বছর পরও আওয়ামী লীগ পুরনো কাঠামো নিয়েই ফেরার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু শেখ হাসিনার অনড় অবস্থান ও সংস্কার উদ্যোগ মৃতপ্রায় হওয়ায় দলটি ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ দিন কাটাচ্ছে। নেতাকর্মীদের হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা, বিদেশি নেতাদের আর্থিক সংকট, এবং গায়ের জোরে ফেরার চেষ্টায় যৌথ প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারের মুখে। দল যদি সত্যিই ফিরতে চায়, তাহলে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও জবাবদিহির পথে না হেঁটে গত পথেই হাঁটবে কি না, সময়ই বলে দেবে। সূত্রঃ প্রথম আলো 
৪ ঘন্টা আগে
৯ম পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ছে?

৯ম পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ছে?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল) অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। আগামী ১ জুলাই থেকেই এটি বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের (বেসিক) ওপর গড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে। একই সঙ্গে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মীদের জন্য শতভাগ বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।১ম থেকে ১০ম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য চিত্র (৫০% বৃদ্ধি ধরে)নবম পে-স্কেল নিয়ে গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্তমানে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ২য় গ্রেডের ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ৯৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা। ৩য় গ্রেডের ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা বেড়ে হবে ৮৪ হাজার ৭৫০ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা।৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে ৭১ হাজার ২০০ টাকা বেড়ে হবে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ৫ম গ্রেডের ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৫ টাকা। ৬ষ্ঠ গ্রেডের ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫৩ হাজার ২৫০ থেকে ১ লাখ ৫১৫ টাকা।৭ম গ্রেডের ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা বেড়ে হবে ৪৩ হাজার ৫০০ থেকে ৯৫ হাজার ১১৫ টাকা। ৮ম গ্রেডের ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৮৩ হাজার ২০৫ টাকা। ৯ম গ্রেডের ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেড়ে হবে ৩৩ হাজার থেকে ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা। ১০ম গ্রেডের ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার থেকে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকা।১১ থেকে ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য চিত্র (৫০% বৃদ্ধি ধরে)১১তম গ্রেডের বর্তমান বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। ৫০% বৃদ্ধি পেলে তা দাঁড়াবে ১৮ হাজার ৭৫০ থেকে ৪৫ হাজার ৩৪৫ টাকা। ১২তম গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৯৫০ থেকে ৪০ হাজার ৯৫০ টাকা। ১৩তম গ্রেডের ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ৩৯ হাজার ৮৮৫ টাকা।১৪তম গ্রেডের ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেড়ে হবে ১৫ হাজার ৩০০ থেকে ৩৭ হাজার ২০ টাকা। ১৫তম গ্রেডের ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৫৫০ থেকে ৩৫ হাজার ২৩৫ টাকা। ১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে হবে ১৩ হাজার ৯৫০ থেকে ৩৩ হাজার ৭৩৫ টাকা।১৭তম গ্রেডের ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩২ হাজার ৭০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডের ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার ২০০ থেকে ৩১ হাজার ৯৬৫ টাকা। ১৯তম গ্রেডের ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১২ হাজার ৭৫০ থেকে ৩০ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২০তম গ্রেডের ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৭৫ থেকে ৩০ হাজার ১৫ টাকা।১১ থেকে ২০তম গ্রেডে শতভাগ বৃদ্ধির সম্ভাবনাএদিকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে প্রশাসনে জোর আলোচনা চলছে। এই গ্রেডে বেসিক শতভাগ বৃদ্ধি পেলে ১১তম গ্রেডের ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা বেড়ে হবে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৪৬০ টাকা। ১২তম গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে হবে ২২ হাজার ৬০০ থেকে ৫৪ হাজার ৬০০ টাকা। ২০তম গ্রেডের ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ৪০ হাজার ২০ টাকা।নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডে শতভাগ বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা পূরণের সম্ভাবনা রাখে। তবে চূড়ান্ত সুপারিশ ও বাজেট বরাদ্দের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে কতটুকু বাস্তবায়ন হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে তা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১০ ঘন্টা আগে
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র করতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকলেন মমতা

বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র করতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকলেন মমতা

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে লড়াই আরও তীব্র করতে জুনের প্রথম সপ্তাহে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডেকেছেন। রোববার (২৪ মে) সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন। মমতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিরোধী শক্তিগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় আন্দোলন গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।তিনি বলেন, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য বিজেপি-বিরোধী দল ও শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। মমতার মতে, বিজেপির আসল চেহারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন খুবই জরুরি।বাংলায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান-পতনের পর তৃণমূলের ভেতরে কিছুটা চাপ ও অস্বস্তি তৈরি হলেও মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— এখন মূল লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে। দলের কঠিন সময়ে যারা সরে যেতে চাইছেন, তাদের নিয়ে তৃণমূল চিন্তিত নয়। বরং আদর্শে দৃঢ় ও নিবেদিত কর্মীদের নিয়েই নতুন করে লড়াই গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতিকে আবার চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন মমতা। বিজেপি-বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রোধ করা এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতেই ইন্ডিয়া জোটকে ফের সক্রিয় করতে চাইছেন তিনি।তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিজেপি বলছে, বিরোধী জোটের ভেতরেই এখন গভীর মতভেদ রয়েছে, বিশেষ করে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে তৃণমূলের নেতারা দাবি করছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বার্থে বৃহত্তর ঐক্য এখন অত্যন্ত জরুরি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুনের এই বৈঠক শুধু একটা সাধারণ আলোচনা সভা নয়, আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির দিকনির্দেশ অনেকটাই করে দিতে পারে। বিরোধী জোট কতটা সক্রিয়ভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে একসঙ্গে নামতে পারে, সেদিকেই এখন সবার নজর।কঠিন সময়ের মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র করতে এবং বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রোধ করতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্কের টানাপোড়েন ও অন্যান্য জটিলতা কাটিয়ে ঐক্য কতটা বাস্তবায়ন করা যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনের রণকৌশল নির্ধারিত হবে।
৪ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ জন।একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।নিবিড় পর্যবেক্ষণে সরকারহামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানের জ্বর, সর্দি ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
১৪ মে ২০২৬
নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আশা জাগ্রত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এই কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত এই নবম পে স্কেলের একটি সম্ভাব্য খসড়া নিয়ে বর্তমানে সরকারি মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, তবুও এতে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।প্রস্তাবিত বেতন স্কেলের খসড়াগ্রেড ও বেতন স্কেল (টাকা):০১: ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)০২: ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০০৩: ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০০৪: ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০০৫: ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০০৬: ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০০৭: ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০০৮: ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০০৯: ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০১০: ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০১১: ২৫,০০০ – ৬০,৫০০১২: ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০১৩: ২৪,০০০ – ৫৮,০০০১৪: ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০১৫: ২২,৮০০ – ৫৫,২০০১৬: ২১,৯০০ – ৫২,৯০০১৭: ২১,৪০০ – ৫১,৯০০১৮: ২১,০০০ – ৫০,৯০০১৯: ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০২০: ২০,০০০ – ৪৮,৪০০উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার একটি অংশ মাত্র এবং এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। 
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

০৬ এপ্রিল ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার