ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

সমুদ্রবিলাস রূপ নিল বিষাদে: ইনানী রিসোর্টে আগুনে একই পরিবারের ৬ জনসহ নিহত ১০

কক্সবাজার: অসুস্থ স্ত্রীর অবসাদ কাটাতে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সমুদ্রের পাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন নূর আলম। সঙ্গে নিয়েছিলেন শিশুপুত্র, শ্যালক ও তিন শ্যালিকাসহ পরিবারের ১০ সদস্যকে। উঠেছিলেন সমুদ্রের কোলে গড়ে ওঠা ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে। অফিসের কাজে পরিবারের সদস্যদের রেখে শুক্রবার ফিরেছিলেন চুয়াডাঙ্গায় নূর আলম। ভায়রা আশিকুল ইসলামের কাছে পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে আসেন। কিন্তু শনিবার সকালে মুহূর্তেই তাদের পরিবারের সমুদ্রবিলাস রূপ নেয় বিষাদে।দাউদাউ আগুনের আঁচ বুঝতে পেরে দোতলা থেকে লাফ দেন আশিকুল। তিনি বেঁচে গেলেও বাঁচাতে পারেননি পরিবারের ছয় সদস্যকে। আগুনের লেলিহান শিখা ঘিরে ফেলে পুরো রিসোর্টটিকে। মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় নূর আলমের স্ত্রী, পুত্র, শ্যালক ও তিন শ্যালিকা। ভয়াবহ এই আগুনে নূর আলমের পরিবারের ৬ সদস্যের সঙ্গে প্রাণ হারান আরও চারজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীও। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ছয়জন।ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ছিল না। গত জুনেই কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—চুয়াডাঙ্গার নূর আলমের স্ত্রী ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহম্মেদ, ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। এরমধ্যে নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী, লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং মিলিতা মেহেজাবিন আলভী ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।শনিবার সন্ধ্যায় নিহত ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। সেখানে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। মরদেহগুলো পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় স্বজনদের অনেকেই তাদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করতে পারছেন না। নিহত ১০ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় বাকি ৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।এদিকে দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।যেভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতস্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। তিনতলা রিসোর্টটির উপরের তলা ছিল টিনের তৈরি। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্থাপনায়। আগুন লাগার পর রিসোর্ট থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে এসি ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পুড়ে যায় পুরো ভবন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া পর্যটকদের খোঁজে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ফায়ার সার্ভিস, টুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও সিআইডি'র সদস্যরা এতে অংশ নেন। একে একে উদ্ধার করা হয় ১০ জনের মরদেহ। দুপুর ৩টার দিকে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হয়।ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, রিসোর্টের টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পানি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমন জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এরমধ্যে এসি ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। তবে শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঠিক কখন আগুন লেগেছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেই আগুনের সূত্রপাত হয়। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি বলেন, সমুদ্রের তীব্র বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রিসোর্টটিতে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না।দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন আশিকুলপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ছুটি কাটাতে কক্সবাজার গিয়েছেন মো. আশিকুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা ও স্ত্রীর ছোট বোন লায়লা জাহান নাবিলাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। আশিকুল ইসলামের এক স্বজন জানান, আগুন লাগার পর আশিকুল ইসলাম দোতলা থেকে লাফ দিয়েছেন। তিনি বেঁচে আছেন। তবে আশিকুলের স্ত্রী, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। একই পরিবারের সদস্য হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)।ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান মিমঢাকার সাভার থেকে আসা আইরিন জাহান মিম জানান, পূজার ছুটিতে তিনি দুই বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন। শুক্রবার তারা ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। শনিবার ভোরে তিনি ও তার এক বান্ধবী সৈকতে বেড়াতে যান। তাদের আরেক বান্ধবী নাসরিন আক্তার তখন রিসোর্টের কক্ষেই ছিলেন। আইরিন বলেন, কিছুক্ষণ পর সৈকত থেকে দেখতে পান, হঠাৎ তাদের হোটেলটিতে আগুন ধরে যায়। বিকট বিস্ফোরণের শব্দের পর পুরো হোটেলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।‘আমাদের আর কেউ রইলো না, কী নিয়ে বেঁচে থাকবো আমরা’‘আমাদের আর কেউ রইলো না, কী নিয়ে বেঁচে থাকবো আমরা’—কথাগুলো বলতে বলতে নির্বাক হয়ে যান মো. জিয়াদুল কবির ও কাজল রেখা। টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে তাদের একমাত্র ছেলে নাফিস তেহামী (২৬), একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির (৩২) ও নাতি ফাইজান আহম্মেদ নূর (৫) মারা গেছেন। জিয়াদুল কবির বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা।মোবাইল ফোনে জিয়াদুল কবির বলেন, “আমার এখন বাঁইচ্যা থাইক্যা লাভ কি? কি নিয়া আমি বাঁচমু? সবতো আমার শেষ হয়ে গ্যাছে।” স্ত্রী কাজল রেখা বলেন, “ছেলে, মেয়ে, নাতি সব শ্যাষ অইয়া গ্যাছে, আমরা আর দুনিয়ায় বাঁইচ্যা থাইক্যা কী করমু। ও আল্লাহ আমাদেরও এখন নিয়া যাও।” মেয়ে ফারিহা কবিরের স্বামী নূর আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্ত্রী, ছেলে, শ্যালক গ্যাছে, আল্লাহ মোরে এহন বাঁচাইয়া রাখছো কেন? ওগো লগে আমারেও নিয়া গ্যালেও বাঁইচ্যা যাইতাম।”তদন্ত কমিটি গঠনকক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতালে মোট সাতজন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি, পূর্ব সতর্কতার পরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু থাকা এবং প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে।
১৮ ঘন্টা আগে

কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে রিসোর্টটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আহত সাত থেকে আটজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।শনিবার সকাল সাতটার দিকে ওই রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল আটটার দিকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সেখানে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। নিহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে।”
১৭ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফকে ছয়টি গুলি, হত্যা মামলা দায়ের

নেত্রকোনা: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের (৪৪) লাশের ময়নাতদন্তে শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমার করা মামলায় সাত থেকে আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।গতকাল শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে আলিফের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লুৎফুজ্জামানের মরদেহ দাফন করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান। তিনি বলেন, আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ সাংবাদিকদের জানান, লুৎফুজ্জামানের বুকে তিনটি গুলির আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। অন্যটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ছাড়া কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে একটি গুলি মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি দুটি গুলির একটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে ওই চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন লুৎফুজ্জামান। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। থাকতেন তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে।স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথাগতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে আটটার দিকে দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ানকে স্ত্রীর কোলে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হন লুৎফুজ্জামান। বের হওয়ার আগে স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে বলেছিলেন, “বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।” কে জানত, সেটিই হবে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা। রাতের খাবার খেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী। এর মধ্যে শুনলেন স্বামীর মৃত্যুসংবাদ।স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন আনন্দিতা। ছেলেকে কোলে নিয়ে স্বামীর মরদেহের পাশে বসে কেঁদে কেঁদে তিনি বলেন, “এভাবে যে একজন মানুষকে কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলি করে মেরে ফেলবে, তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি। বাচ্চাদের যখন ভাত খাওয়াচ্ছিলাম, তখন গুলির শব্দ পেয়ে প্রথমে ভাবছিলাম কেউ হয়তো ফটকা ফুটাচ্ছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মানুষ বলাবলি করল, তাকে মেরে ফেলছে।”স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আনন্দিতা বলেন, “আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাব না। তবে যারা তাকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” তাদের দুই সন্তান—চার বছর বয়সী মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ান।যেভাবে হত্যা করা হয়প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আটটার দিকে তেলনজিয়া এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চা পান করেন আলিফ। চা খেয়ে বিরিশিরি উতরাইল বাজারের উদ্দেশে বের হন। নিজের মুঠোফোন দোকানে ফেলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে মিনিট তিনেকের মধ্যে আবার ফিরে আসেন। মুঠোফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক ওই দোকানে এসে দোকানদারের কাছে সিগারেট চান। এরপর আলিফকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন তারা। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।তেলনজিয়ার ওই দোকানি রবিন রাংসা বলেন, “আমি তখন চায়ের কাপ ধুচ্ছিলাম। লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে যাওয়ার সময় মুঠোফোন ফেলে যাওয়ায় আবার ফিরে আসেন। তিনি ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক এসে আমার কাছে সিগারেট চায়। এরপর লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে। আমি পরপর চারটি গুলির শব্দ শুনেছি। ভয়ে বাসায় গিয়ে ঢুকে পড়ি।” তার ভাষ্য, দুই যুবকের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হবে। একজনের পরনে লুঙ্গি, অন্যজনের পরনে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ছিল। কাছ থেকেই গুলি করা হয়েছে।লুৎফুজ্জামানের ফুফুশাশুড়ি নিরালা রেমা ও রুলি রেমা জানান, তারা তখন ঘরের বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনে দোকানের কাছে গিয়ে দেখেন লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে। তার মাথা, গলা ও বুক থেকে রক্ত ঝরছে।পুলিশের তৎপরতাঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাহফুজা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান এবং দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাতসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর জেলার সব থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।আগেও হামলার শিকারএর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করেছিল। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়। ঘটনা আলিফ বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ নাম উল্লেখ করা দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত রয়েছে।আলিফের বড় ভাই শহীদ ইসলাম ফকির বলেন, সাংবাদিকতা করার কারণে তার ভাইয়ের অনেক শত্রু হয়েছিল। তার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
১৭ অক্টোবর ২০২৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল: ১৬ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল: ১৬ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

লস অ্যাঞ্জেলেস: যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে তীব্র বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ছয়টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আগুনের বিস্তার রুখতে প্রায় ছয় হাজার বাড়িঘরের অন্তত ১৬ হাজার বাসিন্দাকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অরেঞ্জ কাউন্টির উপকূলীয় শহর সান ক্লেমেন্তে থেকে ‘নর্তে ফায়ার’ নামের এই দাবানল শুরু হয়। পরে তা দ্রুত পার্শ্ববর্তী সান হুয়ান ক্যাপিস্ত্রানো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ‘ক্যাল ফায়ার’ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ দাবানলে প্রায় ২৩১ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমি ও এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য উভয় শহরেই জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাতিরিক্ত ঘাটতি এবং ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা শুষ্ক ‘সান্তা আনা’ বাতাসের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শনিবার রাত পর্যন্ত সেখানে চরম গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে নতুন করে আগুনের সূত্রপাত প্রতিরোধ করতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কয়েক হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। দমকল বিভাগ আশঙ্কা করছে, ঝোড়ো বাতাসে বৈদ্যুতিক তারে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে দাবানলের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ড্রপ-পদ্ধতিতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পাশাপাশি কয়েক শ অগ্নিনির্বাপক কর্মী মাটিতে নেমে কাজ করছেন।একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে আরও দুটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছেন দমকলকর্মীরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মালিবু সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘ব্রাইসন ফায়ার’-এ পুড়েছে প্রায় ৫৯ হেক্টর এলাকা, যার মাত্র ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে সান দিয়েগো কাউন্টির ‘হেন্ডারসন ফায়ার’-এ ৮৪২ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং আগুনের ২০ শতাংশ আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়েছে। এ দাবানলের কারণে মার্কিন মেরিন কোরের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি ‘ক্যাম্প পেন্ডলটন’ এলাকায় বড় প্রভাব পড়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের একাধিক মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
১৭ ঘন্টা আগে
সমুদ্রবিলাস রূপ নিল বিষাদে: ইনানী রিসোর্টে আগুনে একই পরিবারের ৬ জনসহ নিহত ১০

সমুদ্রবিলাস রূপ নিল বিষাদে: ইনানী রিসোর্টে আগুনে একই পরিবারের ৬ জনসহ নিহত ১০

কক্সবাজার: অসুস্থ স্ত্রীর অবসাদ কাটাতে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সমুদ্রের পাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন নূর আলম। সঙ্গে নিয়েছিলেন শিশুপুত্র, শ্যালক ও তিন শ্যালিকাসহ পরিবারের ১০ সদস্যকে। উঠেছিলেন সমুদ্রের কোলে গড়ে ওঠা ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে। অফিসের কাজে পরিবারের সদস্যদের রেখে শুক্রবার ফিরেছিলেন চুয়াডাঙ্গায় নূর আলম। ভায়রা আশিকুল ইসলামের কাছে পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে আসেন। কিন্তু শনিবার সকালে মুহূর্তেই তাদের পরিবারের সমুদ্রবিলাস রূপ নেয় বিষাদে।দাউদাউ আগুনের আঁচ বুঝতে পেরে দোতলা থেকে লাফ দেন আশিকুল। তিনি বেঁচে গেলেও বাঁচাতে পারেননি পরিবারের ছয় সদস্যকে। আগুনের লেলিহান শিখা ঘিরে ফেলে পুরো রিসোর্টটিকে। মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় নূর আলমের স্ত্রী, পুত্র, শ্যালক ও তিন শ্যালিকা। ভয়াবহ এই আগুনে নূর আলমের পরিবারের ৬ সদস্যের সঙ্গে প্রাণ হারান আরও চারজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীও। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ছয়জন।ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ছিল না। গত জুনেই কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—চুয়াডাঙ্গার নূর আলমের স্ত্রী ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহম্মেদ, ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। এরমধ্যে নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী, লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং মিলিতা মেহেজাবিন আলভী ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।শনিবার সন্ধ্যায় নিহত ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। সেখানে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। মরদেহগুলো পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় স্বজনদের অনেকেই তাদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করতে পারছেন না। নিহত ১০ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় বাকি ৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।এদিকে দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।যেভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতস্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। তিনতলা রিসোর্টটির উপরের তলা ছিল টিনের তৈরি। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্থাপনায়। আগুন লাগার পর রিসোর্ট থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে এসি ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পুড়ে যায় পুরো ভবন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া পর্যটকদের খোঁজে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ফায়ার সার্ভিস, টুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও সিআইডি'র সদস্যরা এতে অংশ নেন। একে একে উদ্ধার করা হয় ১০ জনের মরদেহ। দুপুর ৩টার দিকে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হয়।ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, রিসোর্টের টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পানি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমন জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এরমধ্যে এসি ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। তবে শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঠিক কখন আগুন লেগেছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেই আগুনের সূত্রপাত হয়। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি বলেন, সমুদ্রের তীব্র বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রিসোর্টটিতে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না।দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন আশিকুলপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ছুটি কাটাতে কক্সবাজার গিয়েছেন মো. আশিকুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা ও স্ত্রীর ছোট বোন লায়লা জাহান নাবিলাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। আশিকুল ইসলামের এক স্বজন জানান, আগুন লাগার পর আশিকুল ইসলাম দোতলা থেকে লাফ দিয়েছেন। তিনি বেঁচে আছেন। তবে আশিকুলের স্ত্রী, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। একই পরিবারের সদস্য হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)।ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান মিমঢাকার সাভার থেকে আসা আইরিন জাহান মিম জানান, পূজার ছুটিতে তিনি দুই বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন। শুক্রবার তারা ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। শনিবার ভোরে তিনি ও তার এক বান্ধবী সৈকতে বেড়াতে যান। তাদের আরেক বান্ধবী নাসরিন আক্তার তখন রিসোর্টের কক্ষেই ছিলেন। আইরিন বলেন, কিছুক্ষণ পর সৈকত থেকে দেখতে পান, হঠাৎ তাদের হোটেলটিতে আগুন ধরে যায়। বিকট বিস্ফোরণের শব্দের পর পুরো হোটেলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।‘আমাদের আর কেউ রইলো না, কী নিয়ে বেঁচে থাকবো আমরা’‘আমাদের আর কেউ রইলো না, কী নিয়ে বেঁচে থাকবো আমরা’—কথাগুলো বলতে বলতে নির্বাক হয়ে যান মো. জিয়াদুল কবির ও কাজল রেখা। টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে তাদের একমাত্র ছেলে নাফিস তেহামী (২৬), একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির (৩২) ও নাতি ফাইজান আহম্মেদ নূর (৫) মারা গেছেন। জিয়াদুল কবির বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা।মোবাইল ফোনে জিয়াদুল কবির বলেন, “আমার এখন বাঁইচ্যা থাইক্যা লাভ কি? কি নিয়া আমি বাঁচমু? সবতো আমার শেষ হয়ে গ্যাছে।” স্ত্রী কাজল রেখা বলেন, “ছেলে, মেয়ে, নাতি সব শ্যাষ অইয়া গ্যাছে, আমরা আর দুনিয়ায় বাঁইচ্যা থাইক্যা কী করমু। ও আল্লাহ আমাদেরও এখন নিয়া যাও।” মেয়ে ফারিহা কবিরের স্বামী নূর আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্ত্রী, ছেলে, শ্যালক গ্যাছে, আল্লাহ মোরে এহন বাঁচাইয়া রাখছো কেন? ওগো লগে আমারেও নিয়া গ্যালেও বাঁইচ্যা যাইতাম।”তদন্ত কমিটি গঠনকক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতালে মোট সাতজন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি, পূর্ব সতর্কতার পরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু থাকা এবং প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে।
১৮ ঘন্টা আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল: ১৬ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল: ১৬ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

লস অ্যাঞ্জেলেস: যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে তীব্র বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ছয়টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আগুনের বিস্তার রুখতে প্রায় ছয় হাজার বাড়িঘরের অন্তত ১৬ হাজার বাসিন্দাকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অরেঞ্জ কাউন্টির উপকূলীয় শহর সান ক্লেমেন্তে থেকে ‘নর্তে ফায়ার’ নামের এই দাবানল শুরু হয়। পরে তা দ্রুত পার্শ্ববর্তী সান হুয়ান ক্যাপিস্ত্রানো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ‘ক্যাল ফায়ার’ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ দাবানলে প্রায় ২৩১ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমি ও এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য উভয় শহরেই জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাতিরিক্ত ঘাটতি এবং ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা শুষ্ক ‘সান্তা আনা’ বাতাসের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শনিবার রাত পর্যন্ত সেখানে চরম গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে নতুন করে আগুনের সূত্রপাত প্রতিরোধ করতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কয়েক হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। দমকল বিভাগ আশঙ্কা করছে, ঝোড়ো বাতাসে বৈদ্যুতিক তারে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে দাবানলের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ড্রপ-পদ্ধতিতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পাশাপাশি কয়েক শ অগ্নিনির্বাপক কর্মী মাটিতে নেমে কাজ করছেন।একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে আরও দুটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছেন দমকলকর্মীরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মালিবু সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘ব্রাইসন ফায়ার’-এ পুড়েছে প্রায় ৫৯ হেক্টর এলাকা, যার মাত্র ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে সান দিয়েগো কাউন্টির ‘হেন্ডারসন ফায়ার’-এ ৮৪২ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং আগুনের ২০ শতাংশ আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়েছে। এ দাবানলের কারণে মার্কিন মেরিন কোরের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি ‘ক্যাম্প পেন্ডলটন’ এলাকায় বড় প্রভাব পড়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের একাধিক মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
১৭ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ঢাকা: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার ঢাকায় ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত একাদশ আয়ুর্বেদ দিবস পালন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বক্তৃতায় সামগ্রিক সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে চিরায়ত জ্ঞান ব্যবস্থার স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি একাডেমিক ও পেশাদার জ্ঞান বিনিময়ের পথ তৈরি করতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে থাকা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধন আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে আইজিসিসি পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ আয়ুর্বেদ দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’ এর ওপর আলোকপাত করেন। আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা (ন্যাচারোপ্যাথি), ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির প্রসারে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কলেজের অধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান খান, প্রাচী (পিআরএসিএইচআই) সদস্যদের প্রতিনিধি ড. মুখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ।একাডেমিক সেশনে নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বাবুল আক্তার এবং নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া একটি কর্মশালা পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। বাংলাদেশি শিল্পী শাহিন সোবহানা সুরভীর তৈরি পশমের ‘গণপতি ট্যাপেস্ট্রির’ প্রতীকী উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সূচনা হয়। এ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়ালশিল্পী রঞ্জন চন্দ্র সরকার। পরিবেশনা শেষে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

ঢাকা: নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)। আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে অনলাইনে এ কাজ করতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অনলাইনে শুধু কয়েকটি তথ্য পূরণ করলেই হবে না; আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসহ চাকরির বিভিন্ন তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে।কারণ পে ফিক্সেশনে কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে নতুন মূল বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বকেয়া বা এরিয়ার পাওনার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশন করার আগে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য এবং এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও সচল থাকতে হবে।ভুল তথ্য দিলে যা হতে পারেপে ফিক্সেশনের সময় কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বাদ পড়লেও নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবে সমস্যা হতে পারে। তাই এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি।শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্য ও চাকরির নথি যাচাই করবে। তথ্যের সঙ্গে নথির অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধন করতে হতে পারে। তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।তথ্য দেওয়ার পরও থাকবে যাচাইঅনলাইনে তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কার্যালয় চাকরির নথির সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখবে। তথ্য সঠিক থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।অনুমোদনের পর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। এরপর চাকরির নথিতে যাচাই নম্বর ও নতুন নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করা হবে।অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলতে পারে বকেয়াপে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য হিসাব করে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার নির্ধারণ করা হবে।তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।এ কারণে পে ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি চাকরির আগের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২৬ জুলাই ২০২৬
যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

২৬ জুলাই ২০২৬
৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

সাংহাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক চীনা নারীর বিরুদ্ধে। জানা যায়, এআই ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও এবং ছবি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে নিজেকে ২৯ বছর বয়সী ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করেন ওই নারী। আদতে তিনি একজন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এভাবে পাঁচ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান হাতিয়ে নেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, ৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম ইউ শিউঝেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেছিলেন। এরপর ফেস চেঞ্জিং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে সাংহাইয়ের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার এআই নির্মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।সাংহাইভিত্তিক একজন নির্মাণ ঠিকাদার লিউ হুই ২০২১ সালে তার ভুয়া অ্যাকাউন্টটি দেখতে পান। ইউ তাকে জানান যে, হাসপাতালে তার পদমর্যাদার কারণে তিনি বড় নির্মাণকাজের চুক্তি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতে পারবেন।ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার আশায় লিউ ইউয়ের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে লিউ বারবার দেখা করা বা ভিডিও কলে কথা বলার অনুরোধ করলেও ইউ প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করতেন।পরে ইউ আরও একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। এবার তিনি নিজেকে লিউয়ের কথিত প্রেমিকার মা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি লিউকে জানান যে, তার মা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করছেন। এরপর ভুয়া মা সেজে তিনি লিউয়ের কাছে তিন লাখ ইউয়ান বিয়ের যৌতুক দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় একটি বাড়ি কেনার দাবি করেন।লিউ তার কথা বিশ্বাস করে পাঁচ মাসে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান তাকে পাঠান। কিন্তু কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি না আসায় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ ইউকে শনাক্ত করে জানতে পারে যে তিনি আসলে ৬৫ বছর বয়সী একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুলিশ আরও জানতে পারে, এর আগে তিনি একটি প্রতারণার মামলাতেও জড়িত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, ইউয়ের আসল মা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তিনি কসমেটিক সার্জারি, দামি ত্বকের যত্নের পণ্য এবং নতুন পোশাক কেনার পেছনে খরচ করেন। পরে পুলিশ ইউয়ের ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ভিডিওগুলোর মধ্যে ছোট একটি সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।পুলিশ যখন লিউকে ওই সতর্কবার্তাটি দেখায়, তখন তিনি জানান যে আধুনিক এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে ভিডিওতে থাকা সতর্কবার্তাটি তার নজরে পড়েনি।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘অতীতে এভিয়েশন খাতে যাত্রী হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল, এসব সমাধানই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তার ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়ন ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো প্রযুক্তিগত সংস্কার আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পেতে একসময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। আমি পরিদর্শনে গিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি—যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গেই কার্গোর দরজাও খুলতে হবে, যাতে ২০ মিনিটের মধ্যে সব লাগেজ বেল্টে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এখন ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে না।’রশিদুজ্জামান আরও জানান, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রকল্প বাতিল করে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমান সরকার জাপানের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠক করে সেই প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘বাজেট এয়ারক্রাফট’ বা সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলেও তিনি জানান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র না থাকায় এভিয়েশন খাতে কোনো উপযুক্ত নীতি-পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও জাতীয় এয়ারলাইনকে শক্তিশালী করতে হবে।শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর ‘সফট ওপেনিং’ এবং আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের তুলনায় এবার আমরা এমন একটি “উইন-উইন” চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’কনক্লেভে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচকের সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক এবং ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে দেশি-বিদেশি চার শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
২৬ জুলাই ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন