গণবার্তা
সর্বশেষ

ইরান অবরোধে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ ২৬ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব আরও সুসংহত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান ইরান অবরোধ কার্যকর করার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কৌশলগত অবস্থান থেকে যুদ্ধজাহাজগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন সেনারা, যার মধ্যে দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয় পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে। সর্বশেষ বুধবার রাতে ভারত মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহন করছিল।বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ১৯টি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই বিশাল নৌবহরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুটি বিমানবাহী রণতরি—ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। তাদের সঙ্গে পাহারায় রয়েছে ১২টি ডেস্ট্রয়ার: ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস টমাস হাডনার, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক, ইউএসএস মাইকেল মারফি, ইউএসএস মিটশার, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মিলিয়াস, ইউএসএস চার্চিল, ইউএসএস ট্রাক্সটন ও ইউএসএস মাহান।এছাড়া এই বহরে যুক্ত রয়েছে ইউএসএস ক্যানবেরা ও ইউএসএস তুলসা নামক দুটি কমব্যাট শিপ এবং ইউএসএস ত্রিপোলি, ইউএসএস নিউ অরলিন্স ও ইউএসএস রাশমোর নিয়ে গঠিত অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আলাদাভাবে টহল দিচ্ছে আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ: ইউএসএস জন ফিন, ইউএসএস পিঙ্কনি, ইউএসএস হিগিন্স, ইউএসএস মাস্টিন, ইউএসএস ম্যাকফল, ইউএসএস জন এল ক্যানলি এবং ইউএসএস সান্তা বারবারা।সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর এই বিপুল উপস্থিতি ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার এবং ওই এলাকায় নিজেদের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।
৫ ঘন্টা আগে

পূর্বাচল এখন ঢাকার অংশ: মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। এ প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ঢাকা ওয়াসার আওতায় আনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও গাজীপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত পূর্বাচলের অংশগুলোকে ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকা তিনটি জেলার মধ্যে বিভক্ত থাকায় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছিল। বিশেষ করে পুলিশি নিরাপত্তা, পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ড্রেন উন্নয়নসহ নানা সেবা দিতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল।এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পূর্বাচল এলাকায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, সড়কবাতি, মশক নিয়ন্ত্রণসহ আধুনিক নগরসেবা সহজলভ্য হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পূর্বাচল এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাভুক্ত করা প্রয়োজন। একইভাবে কার্যকর ও সুষ্ঠু পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য এলাকাটি ঢাকা ওয়াসার অধিক্ষেত্রাধীন করা আবশ্যক।প্রকল্প এলাকার নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ ও সুষ্ঠু প্রশাসনিক ও ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা ও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রকল্পের অংশ ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক। এসব যুক্তি বিবেচনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবগুলো নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এছাড়া বৈঠকে আন্তর্জাতিক চা দিবসের সঙ্গে মিল রেখে ২১ মে ‘জাতীয় চা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
৫ ঘন্টা আগে

ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত, চরম সংকটের মুখে পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী অস্ত্রভাণ্ডার ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের বিশাল অংশ শেষ হয়ে গেছে, যা পেন্টাগনকে তাদের এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ডের অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে বাধ্য করছে।যুদ্ধব্যয় ও অস্ত্রের ঘাটতিপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট ব্যয় এখনো জানায়নি হোয়াইট হাউস। তবে স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধে ব্যয় ইতিমধ্যে ২৮ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রায় ৪০ দিনের এই সংঘাতে প্রতিদিন গড়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার।ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে নির্ভুল লক্ষ্যভেদে সক্ষম প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস গ্রাউন্ড-ভিত্তিক মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুতে। অত্যাধুনিক এসব সমরাস্ত্র উৎপাদন করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় স্বল্প সময়ে শূন্যতা পূরণ কঠিন বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রভাবসামরিক বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্রের এই সংকটের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ায় অঞ্চলগুলোর মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে গিয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।পেন্টাগন বর্তমানে প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করলেও বর্তমান চাহিদার তুলনায় তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। পুরো বিশ্ব এখন নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তাদের এই সামরিক ও আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠে।সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য মিডল ইস্ট আই
৫ ঘন্টা আগে
১৩ বছরেও শেষ হয়নি রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বিচার

১৩ বছরেও শেষ হয়নি রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বিচার

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে ধসে পড়েছিল সাভারের আটতলা ভবন রানা প্লাজা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ১৩৫ জন পোশাক শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ। এ ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি মামলাগুলোর বিচার। অধিকাংশ মামলা আটকে আছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। ২০১৫ সালে সিআইডি ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। বিচার শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর একের পর এক আসামি হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ সাল পর্যন্ত।আদালত সূত্রে জানা যায়, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩৬ জন এবং আহত প্রায় এক হাজার জন। এ ঘটনায় সাভার থানায় দায়ের করা মামলায় ২০১৫ সালের ২৪ মে সিআইডি সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে। বর্তমানে ৩৮ জন আসামির মধ্যে সোহেল রানা কারাগারে, ১৩ জন পলাতক এবং বাকিরা জামিনে আছেন। হত্যা মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মাত্র ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। দীর্ঘ সময় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ও সাক্ষী সংকটের কারণে বিচার কার্যক্রম বারবার পিছিয়েছে।একই ঘটনায় ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার মধ্যে কেবল দুদকের একটি মামলার রায় হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত সোহেল রানার তিন বছর এবং তার মায়ের ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়। অন্য মামলাগুলো এখনো বিচারাধীন। বর্তমানে হত্যা মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে চলতি বছরেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে রায় দেওয়া সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসামিপক্ষ ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ভুক্তভোগীরা এখনো ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় আছেন।হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫৯৪ জন সাক্ষী থাকলেও এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও মাঝে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে প্রায় ছয় বছর বিচার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। নির্ধারিত অনেক তারিখেই সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে শুনানি পেছাতে হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল। রাষ্ট্রপক্ষের আশা, চলতি বছরেই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে।আদালত সূত্রে মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল রানা প্লাজা ভবনে ফাটল দেখা দেয়। পরদিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চারটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। জেনারেটর চালু হওয়ার পরপরই ভবনটি ধসে পড়ে। ঘটনার পরদিন সাভার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।ঢাকা জেলা ও দায়রা আদালতের আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহবুব জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা খুনের শাস্তি নির্ধারণ করে, ৩২১ ধারা ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, ১১৪ ধারা প্ররোচণাকারীর উপস্থিতিতে তাকে মূল অপরাধী হিসেবে গণ্য করা এবং ৩৪ ধারা অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধ করলে সবাই সমানভাবে দায়ী হয়।মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৪ মে সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ভবন মালিক মো. সোহেল রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক, মা মর্জিনা বেগম এবং সাভার পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. রেফাত উল্লাহসহ অন্যরা। তবে সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় কল-কারখানা পরিদর্শন পরিদপ্তরের চার কর্মকর্তা এবং রাজউকের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া যায়নি। এ ছাড়া বিদেশি নাগরিক ডেভিড মেয়র রিকোসহ আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।২০১৬ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে ৪১ জন আসামির মধ্যে কেবল সোহেল রানা কারাগারে আছেন। তার বাবা-মা মারা গেছেন। ১৩ জন পলাতক এবং জামিনে আছেন ২৫ জন। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অষ্টম আদালতে বিচারাধীন, যেখানে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুহাম্মদ মুনির হোসাইন।সাক্ষীদের দ্রুত উপস্থিত করা গেলে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সরকারপক্ষের আইনজীবী। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিগত সরকারের সময় মামলাটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমান সরকার এটিকে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এক বছরে প্রায় ১৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব সাক্ষীর মধ্যে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।তিনি আরো বলেন, আগামী ধার্য তারিখের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক সমন জারি করা হয়েছে। এতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বুয়েটের প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের সাক্ষ্যগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্যেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে রায় ঘোষণার আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ভবন মালিক সোহেল রানা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভবন মালিক সোহেল রানার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ বা দোষ প্রমাণের মতো অভিযোগ উপস্থাপন করা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কারাগারে আছেন।ধসে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনরা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তারা পাননি যথাযথ ক্ষতিপূরণ। আহত শ্রমিক মাসুদা বেগম জানান, দুর্ঘটনার পর কিছু অনুদান পেলেও এখনো তিনি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাননি। তিনি বলেন, সরকার আসে আর যায়, কিন্তু যারা ভুক্তভোগী তারা কখনো মামলার রায় বা ন্যায়বিচার পায় না। নিলুফা ইয়াসমিন নামে আরেক আহত শ্রমিক বলেন, দীর্ঘ বছর পার হলেও ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার এখনো নিশ্চিত হয়নি তাদের।এদিকে শুক্রবার সকালে রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং শ্রমিক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তারা। সকালে দিবসটি উপলক্ষ্যে রানা প্লাজার সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
২ ঘন্টা আগে
১৩ বছরেও শেষ হয়নি রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বিচার

১৩ বছরেও শেষ হয়নি রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বিচার

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে ধসে পড়েছিল সাভারের আটতলা ভবন রানা প্লাজা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ১৩৫ জন পোশাক শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ। এ ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি মামলাগুলোর বিচার। অধিকাংশ মামলা আটকে আছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। ২০১৫ সালে সিআইডি ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। বিচার শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর একের পর এক আসামি হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ সাল পর্যন্ত।আদালত সূত্রে জানা যায়, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩৬ জন এবং আহত প্রায় এক হাজার জন। এ ঘটনায় সাভার থানায় দায়ের করা মামলায় ২০১৫ সালের ২৪ মে সিআইডি সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে। বর্তমানে ৩৮ জন আসামির মধ্যে সোহেল রানা কারাগারে, ১৩ জন পলাতক এবং বাকিরা জামিনে আছেন। হত্যা মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মাত্র ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। দীর্ঘ সময় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ও সাক্ষী সংকটের কারণে বিচার কার্যক্রম বারবার পিছিয়েছে।একই ঘটনায় ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার মধ্যে কেবল দুদকের একটি মামলার রায় হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত সোহেল রানার তিন বছর এবং তার মায়ের ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়। অন্য মামলাগুলো এখনো বিচারাধীন। বর্তমানে হত্যা মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে চলতি বছরেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে রায় দেওয়া সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসামিপক্ষ ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ভুক্তভোগীরা এখনো ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় আছেন।হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫৯৪ জন সাক্ষী থাকলেও এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও মাঝে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে প্রায় ছয় বছর বিচার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। নির্ধারিত অনেক তারিখেই সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে শুনানি পেছাতে হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল। রাষ্ট্রপক্ষের আশা, চলতি বছরেই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে।আদালত সূত্রে মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল রানা প্লাজা ভবনে ফাটল দেখা দেয়। পরদিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চারটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। জেনারেটর চালু হওয়ার পরপরই ভবনটি ধসে পড়ে। ঘটনার পরদিন সাভার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।ঢাকা জেলা ও দায়রা আদালতের আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহবুব জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা খুনের শাস্তি নির্ধারণ করে, ৩২১ ধারা ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, ১১৪ ধারা প্ররোচণাকারীর উপস্থিতিতে তাকে মূল অপরাধী হিসেবে গণ্য করা এবং ৩৪ ধারা অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধ করলে সবাই সমানভাবে দায়ী হয়।মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৪ মে সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ভবন মালিক মো. সোহেল রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক, মা মর্জিনা বেগম এবং সাভার পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. রেফাত উল্লাহসহ অন্যরা। তবে সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় কল-কারখানা পরিদর্শন পরিদপ্তরের চার কর্মকর্তা এবং রাজউকের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া যায়নি। এ ছাড়া বিদেশি নাগরিক ডেভিড মেয়র রিকোসহ আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।২০১৬ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে ৪১ জন আসামির মধ্যে কেবল সোহেল রানা কারাগারে আছেন। তার বাবা-মা মারা গেছেন। ১৩ জন পলাতক এবং জামিনে আছেন ২৫ জন। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অষ্টম আদালতে বিচারাধীন, যেখানে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুহাম্মদ মুনির হোসাইন।সাক্ষীদের দ্রুত উপস্থিত করা গেলে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সরকারপক্ষের আইনজীবী। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিগত সরকারের সময় মামলাটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমান সরকার এটিকে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এক বছরে প্রায় ১৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব সাক্ষীর মধ্যে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।তিনি আরো বলেন, আগামী ধার্য তারিখের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক সমন জারি করা হয়েছে। এতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বুয়েটের প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের সাক্ষ্যগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্যেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে রায় ঘোষণার আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ভবন মালিক সোহেল রানা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভবন মালিক সোহেল রানার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ বা দোষ প্রমাণের মতো অভিযোগ উপস্থাপন করা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কারাগারে আছেন।ধসে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনরা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তারা পাননি যথাযথ ক্ষতিপূরণ। আহত শ্রমিক মাসুদা বেগম জানান, দুর্ঘটনার পর কিছু অনুদান পেলেও এখনো তিনি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাননি। তিনি বলেন, সরকার আসে আর যায়, কিন্তু যারা ভুক্তভোগী তারা কখনো মামলার রায় বা ন্যায়বিচার পায় না। নিলুফা ইয়াসমিন নামে আরেক আহত শ্রমিক বলেন, দীর্ঘ বছর পার হলেও ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার এখনো নিশ্চিত হয়নি তাদের।এদিকে শুক্রবার সকালে রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং শ্রমিক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তারা। সকালে দিবসটি উপলক্ষ্যে রানা প্লাজার সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
২ ঘন্টা আগে
এবার ট্রাম্পের বিলিয়ন ডলারের গাঁজা ব্যবসায় নজর

এবার ট্রাম্পের বিলিয়ন ডলারের গাঁজা ব্যবসায় নজর

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো কঠোর মাদক নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মারিজুয়ানা বা গাঁজাজাত পণ্যকে এখন থেকে তুলনামূলক কম বিপজ্জনক ড্রাগ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যানচে এই প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে গাঁজা এতদিন হেরোইনের মতো শিডিউল-১ ভুক্ত ড্রাগ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন তা শিডিউল-৩ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হবে, যেখানে সাধারণত টাইলেনল বা ব্যথানাশকের মতো ওষুধ থাকে।বাজার বিশ্লেষক সংস্থা বিডিএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ গাঁজা বিক্রির বাজার ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফেডারেল পর্যায়ের এই আইনি পরিবর্তনের ফলে গাঁজা ব্যবসায়ীরা এখন থেকে মার্কিন ট্যাক্স কোডের ২৮০-ই ধারার কড়াকড়ি থেকে মুক্তি পাবেন, যা তাদের ব্যবসায়িক খরচগুলো কর থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এর ফলে কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতদিন ফেডারেল নিষেধাজ্ঞার কারণে জেপি মরগান বা গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো বড় ব্যাংকগুলো এই খাতে ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করলেও এখন থেকে মূলধন সংগ্রহ ও ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া অনেক সহজ হবে। ক্যানোপি গ্রোথ ও ট্রুলিভের মতো বড় কোম্পানিগুলো এই সুযোগে তাদের ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে।এই নীতি পরিবর্তনের ফলে চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং মানসিক রোগের চিকিৎসায় গাঁজার ব্যবহার নিয়ে এখন থেকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানো অনেক সহজ হবে, যা বায়োটেক ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর জন্য শতকোটি ডলারের নতুন বাজার তৈরি করবে। এই ঘোষণার পরপরই মার্কিন শেয়ারবাজারে ক্যানাবিস কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম এক লাফে ৬ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন এই খাতকে উচ্চ ঝুঁকির বদলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে বিবেচনা করছেন।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, নাগরিকদের সিবিডি পণ্যের পূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করতে এই আইনকে আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন অনেক রিপাবলিকান নেতা। সিনেটর টম কটন সতর্ক করে বলেছেন, গাঁজার ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ফলে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে, যা সড়ক দুর্ঘটনা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আগামী ২৯ জুন থেকে এই পরিবর্তনের চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে, যেখানে জনশুনানি ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তালিকার চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। যদিও ফেডারেল পর্যায়ে গাঁজা এখনো পুরোপুরি বৈধ করা হয়নি, তবুও এই পদক্ষেপকে একটি বৈশ্বিক বিলিয়ন ডলারের শিল্পের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বিবিসি
১ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী শনাক্ত ১২৯

হাম পরিস্থিতি নিয়ে দেশে উদ্বেগ কাটছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২২৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। একই সময়ের মধ্যে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৯৮ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯২ জন।
২২ এপ্রিল ২০২৬
ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নোট গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার (১২ এপ্রিল) এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করতে হবে এবং এর বিপরীতে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগে থেকেই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো এ ধরনের নোটের আধিক্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ এবং নির্ধারিত কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গ্রাহকদের এসব নোটের পরিবর্তে ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট দিতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক শাখা যদি এ সেবা দিতে অনীহা বা গাফিলতি দেখায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
২৮ মার্চ ২০২৬
আমদানি বেড়ে কমেছে রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

আমদানি বেড়ে কমেছে রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

২৮ মার্চ ২০২৬
৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার মানুষের চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার ঐতিহাসিক মিশন সম্পন্ন হলো।সমুদ্রে অবতরণের পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীদের অবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’নভোচারী উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরুমার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল বলেছেন, সমুদ্রে অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হবে। এরপর তাঁদের মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিকেল বেতে পৌঁছে দেওয়া হবে।কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নভোচারীদের প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুলের সঙ্গে যুক্ত একটি ভেলায় আনা হবে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ফ্রন্ট পোর্চ’। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হবে। নাসার ফ্লাইট কন্ট্রোলার জেফ রাডিগান জানিয়েছেন, সমুদ্র শান্ত থাকলে ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।জাহাজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বিমানে করে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।ইতিহাসের পাতায় আর্টেমিস-২এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হলো ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান। ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।মিশনটি একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল। এটি ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) ভেঙে দিয়েছে।এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। নভোচারীরা এই চন্দ্রাভিযানে চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।আর্টেমিস-২ অভিযানটি ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন ফেলার নাসার পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক ধাপ। নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।সূত্র: এএফপি ও সিএনএন
১১ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
২৮ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার