গণবার্তা
সর্বশেষ

সরকারের দুই মাসে ৬০ পদক্ষেপ: কৃষক কার্ড থেকে পেপাল, শিক্ষায় খেলাধুলা বাধ্যতামূলক

বর্তমান সরকারের মেয়াদ দুই মাস পূর্ণ হয়েছে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল)। গত দুই মাসে রাষ্ট্র সংস্কার, জনকল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি নাগরিকের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের নেওয়া ৬০টি বিশেষ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সরকার।শনিবার (১৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকারের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষানারীর ক্ষমতায়নে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ১০টি জেলার ২২ হাজার কৃষককে ১০টি সুবিধা সংবলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।সংসদ ও আইনি সংস্কারসংসদীয় গণতন্ত্রের নজির স্থাপন করে প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ক অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাইয়ের পর বিল আকারে আসবে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।জ্বালানি, পরিবেশ ও অবকাঠামো৫৪টি জেলায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও ভর্তুকি বাড়িয়ে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। রুফটপ সোলারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে; ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ এর পাইলটিং শুরু হয়েছে।৪ হাজার ৯০৮ জন ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত ও যাজকদের মাসিক সম্মানী প্রদান শুরু হয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।প্রবাসী ও ধর্মীয় সেবাযাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ঈদ উপলক্ষে অসহায়দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। প্রবাসীদের জন্য শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হজের খরচ টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে এবং ‘নুসুক হজ কার্ড’ চালু হয়েছে।কর্মসংস্থান ও শিল্পসরকারি অফিসের ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্যপদ পূরণে ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ধ চিনিকল, রেশম ও পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইকোনমিক জোন ও হাই-টেক পার্কগুলোতে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে।অর্থনীতি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার ৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। ঈদের আগে সব শ্রমিকের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করা হয়েছে।শ্রমবাজার ও জনশক্তি রপ্তানিমালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং অভিবাসন ব্যয় হ্রাস করা হয়েছে। ইউরোপের ৭টিসহ মোট ৮টি দেশের সঙ্গে নতুন শ্রমবাজারের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশজুড়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বহুমুখী দক্ষতা বৃদ্ধির কারিকুলাম চালু করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গকে ‘অ্যাগ্রো প্রসেসিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবাপে-পাল (PayPal) ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে বাংলাদেশে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। স্বাস্থ্যসেবায় ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও হাসপাতালে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।শিক্ষা ও ক্রীড়াপুনঃভর্তি ফি বাতিল এবং সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় বিদেশ গমনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৮ জন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু করা হয়েছে।২ লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস ও জুতা প্রদান এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। মাদ্রাসায় স্মার্ট ক্লাসরুম ও কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১০০ জন ক্রীড়াবিদকে স্পোর্টস অ্যালাউন্স প্রদান করা হয়েছে।পরিবেশ ও বনায়ন৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ বছর ১ কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। খালের পাশে হাঁটার রাস্তা ও নেটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।মিতব্যয়িতা ও সুশাসনপ্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ভবনের বদলে নিজ বাড়ি ব্যবহার করছেন এবং যাতায়াতের খরচ নিজ তহবিল থেকে বহন করছেন। প্রটোকল সীমিত করে ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সরকারি সফরে আড়ম্বর হ্রাস করা হয়েছে। জমি নামজারিতে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক ও ২৪/৭ হটলাইন চালু করা হয়েছে। মরুপ্রক্রিয়া রোধে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে।মন্ত্রী-এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি খাতে পাটজাত পণ্য ব্যবহারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।জনস্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলাডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়েছে। হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হয়েছে। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় ইলেকট্রিক বাস ও নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস চালু করা হয়েছে।নদী দখলদারদের ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে আইন সংশোধন করা হয়েছে। সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ও এসি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ১১টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নিয়োগ ও উন্নয়নএনটিআরসি-র মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগে মেধাভিত্তিক পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে, যা ২০২৯ সালে চালু হবে। ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।গণমাধ্যম ও অধিকারঅবাধ বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফ্রি ইন্টারনেট চালু করা হয়েছে। চলন্ত ট্রেন ও হাজার হাজার মাদ্রাসা-কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হয়েছে।কূটনীতি ও বিচারব্যবস্থাপ্রবাসীদের কল্যাণ ও বাণিজ্য প্রসারে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’র ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও পানি বণ্টনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ১০টি দেশের সঙ্গে আইনি সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মানবাধিকার রক্ষা ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।বিবৃতিতে মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
৭ ঘন্টা আগে

‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালি খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া সামরিক সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আলোচনার টেবিলে সদিচ্ছার পরিচয় দিয়ে এর আগে সম্পাদিত সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকানরা তাদের পুরনো ইতিহাস অনুযায়ী আবারো বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। তারা তথাকথিত অবরোধের দোহাই দিয়ে সমুদ্রপথে জলদস্যুতা ও চুরির মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কৌশলগত পানিপথটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান অভিমুখী এবং ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর অবাধ চলাচলের পথে বাধা দূর না করবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আগের মতোই কঠোর থাকবে।’বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণকে দর-কষাকষির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের বেশি পরিবহন হয়। এই প্রণালি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।সূত্র: আল-জাজিরা
৭ ঘন্টা আগে

গাজার মতো দক্ষিণ লেবাননে ‘হলুদ রেখা’ টানার ঘোষণা ইসরাইলি বাহিনীর

গাজা উপত্যকার মতো দক্ষিণ লেবাননেও একটি ‘হলুদ রেখা’ বা বিভাজন রেখা টানার কথা জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। মূলত ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলকে আলাদা করতেই এই রেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এই রেখা অতিক্রম করে তাদের সৈন্যদের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করায় বেশ কয়েকজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধার ওপর ইতিমধ্যে হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো লেবাননে এমন রেখার কথা উল্লেখ করল তারা।সেনাবাহিনী জানায়, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননের ‘ইয়েলো লাইন’-এর দক্ষিণে দায়িত্বরত সেনারা কয়েকজন সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করেছে, যারা উত্তর দিক থেকে রেখা অতিক্রম করে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তারা সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শনাক্ত করার পরপরই হুমকি নির্মূল করতে সেনারা দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় ওই সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালায়।’ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, যুদ্ধবিরতি চললেও যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডটিও একইভাবে একটি ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা দিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। এর এক অংশ ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং অন্য অংশ হামাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন লেবাননের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগ করছে ইসরাইল।সূত্র: আল-জাজিরা
৯ ঘন্টা আগে
ডিজেল-পেট্রোলের দাম বাড়ল: প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা

ডিজেল-পেট্রোলের দাম বাড়ল: প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মূল্য সমন্বয়ের কথা জানানো হয়। নতুন মূল্য আজ রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে।নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা। আগের দাম ছিল ১০০ টাকা। অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেই এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে এতে জনজীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।
৬ ঘন্টা আগে
ডিজেল-পেট্রোলের দাম বাড়ল: প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা

ডিজেল-পেট্রোলের দাম বাড়ল: প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মূল্য সমন্বয়ের কথা জানানো হয়। নতুন মূল্য আজ রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে।নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা। আগের দাম ছিল ১০০ টাকা। অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেই এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে এতে জনজীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।
৬ ঘন্টা আগে
‘শত্রুপক্ষকে আরও পরাজয়ের স্বাদ দেওয়া হবে’

‘শত্রুপক্ষকে আরও পরাজয়ের স্বাদ দেওয়া হবে’

< ইরানের নৌবাহিনী শত্রুপক্ষকে আবারও কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত—এমনই বার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে উদ্দেশ করে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘অবিশ্বাসী’ ও ‘চরমপন্থী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।‘ড্রোন হামলা বজ্রপাতের মতো আঘাত হেনেছে’টেলিগ্রামে প্রকাশিত ওই বার্তায় খামেনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি বিশ্ববাসীর সামনে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ইরানের ড্রোন হামলা শত্রুদের ওপর আকস্মিক ও শক্তিশালী আঘাত হেনেছে। তাঁর ভাষায়, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর বজ্রপাতের মতো আঘাত হেনেছে।এছাড়া তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের নৌবাহিনী ভবিষ্যতে শত্রুদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি শত্রুপক্ষকে আরও একটি ‘পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় খামেনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা উন্মোচন করেছে বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, ইরানের সাহসী নৌবাহিনী শত্রুদের বিরুদ্ধে নতুন করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর জবাব দেবে।
৭ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৬ দিনে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজার ছাড়িয়েছে

২৬ দিনে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজার ছাড়িয়েছে

দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ২৬ দিনে হাম নিশ্চিত এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ২৪১ জন শিশু। বুধবার (৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন এবং নিশ্চিত আক্রান্ত হয়ে ১ জনসহ মোট ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।নিশ্চিত ও সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যাতথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিত হামে ২৩ জন এবং সন্দেহজনক লক্ষণে আরও ১৪৩ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ২৪১ জন এবং সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৩২০ জন।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এর পরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই ১৫০ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে আরও ৫০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনাপরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সব অভিভাবককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। টিকাবিহীন কোনো শিশু থাকলে দ্রুত টিকা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে। তাই সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। অভিভাবকদের সন্তানের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসায় না থেকে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
০৯ এপ্রিল ২০২৬
ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নোট গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার (১২ এপ্রিল) এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করতে হবে এবং এর বিপরীতে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগে থেকেই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো এ ধরনের নোটের আধিক্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ এবং নির্ধারিত কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গ্রাহকদের এসব নোটের পরিবর্তে ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট দিতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক শাখা যদি এ সেবা দিতে অনীহা বা গাফিলতি দেখায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
১৫ মার্চ ২০২৬
আমদানি বেড়ে কমেছে রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

আমদানি বেড়ে কমেছে রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

১৫ মার্চ ২০২৬
৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

৫২ বছর পর চাঁদ ঘুরে এল মানুষ, সফল আর্টেমিস-২ মিশন

চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার মানুষের চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার ঐতিহাসিক মিশন সম্পন্ন হলো।সমুদ্রে অবতরণের পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীদের অবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’নভোচারী উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরুমার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল বলেছেন, সমুদ্রে অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হবে। এরপর তাঁদের মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিকেল বেতে পৌঁছে দেওয়া হবে।কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নভোচারীদের প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুলের সঙ্গে যুক্ত একটি ভেলায় আনা হবে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ফ্রন্ট পোর্চ’। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হবে। নাসার ফ্লাইট কন্ট্রোলার জেফ রাডিগান জানিয়েছেন, সমুদ্র শান্ত থাকলে ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।জাহাজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বিমানে করে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।ইতিহাসের পাতায় আর্টেমিস-২এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হলো ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান। ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।মিশনটি একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল। এটি ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) ভেঙে দিয়েছে।এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। নভোচারীরা এই চন্দ্রাভিযানে চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।আর্টেমিস-২ অভিযানটি ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন ফেলার নাসার পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক ধাপ। নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।সূত্র: এএফপি ও সিএনএন
১১ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
১৫ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার