ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

বাঙালি পরিচয়ের জন্য কারও সার্টিফিকেট দরকার নেই: তথ্যমন্ত্রী

বাঙালি পরিচয়ের জন্য সীমান্তের ওপারের কারও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ভাষার মিল থাকলেও সাংস্কৃতিক মনোজগতে পার্থক্য আছে। সেটি অস্বীকারের উপায় নেই।শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসই বাঙালির পরিচয়ের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। আর ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা শেষ পর্যন্ত টেকে না। ইতিহাস যেখানে সঠিক কথা বলে, বিকৃতকারীরা সেখানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখন পরিচ্ছন্ন ম্যান্ডেটের ওপর কাজ করছে। কেউ কৃত্রিম বয়ান তৈরি করতে চাইলে তাতে মান-অভিমান বা আক্রোশ পোষণ করি না। তবে আমরা সঠিক ইতিহাসকেই বয়ান হিসেবে রাখতে চাই।ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জনসংখ্যা এক করার প্রসঙ্গে কী বললেন তথ্যমন্ত্রী?তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে এক করার কথা যারা বলেন, তাদের বলতে চাই, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মোট জনগোষ্ঠী ২২০ কোটির বেশি। যারা সার্কের ঐক্য চায় না, তারা শুধু দুই দেশের ঐক্যের কথা বললে আমরা সন্দেহের চোখে দেখবো।তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জাতিসংঘ, সার্ক ও বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোনো কাঠামোর কথা বললে আমরা তা সন্দেহের চোখে দেখবো।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।আলোচনা সভায় জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তাঁর এ বক্তব্যকে সময়োপযোগী ও স্পষ্টভাষী বলে মন্তব্য করেছেন।
৩ ঘন্টা আগে

আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এএন-৩২ বিধ্বস্ত, নিহত ৫

ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি এএন-৩২ পরিবহন উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামের জোরহাট এয়ার ফোর্স স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বিমানবাহিনী জানিয়েছে, নিয়মিত উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজটি অবতরণের মুহূর্তে স্টেশন প্রাঙ্গণেই বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই এএন-৩২ উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই পাঁচজন প্রাণ হারান।নিহতরা হলেন—স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিংফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমারসার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মাঅগ্নিবীর কর্মসূচির আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত খেমারাম কুমাবতঅগ্নিবীর কর্মসূচির আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত দানিশ আলমবিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত সদস্যদের পরিবারের পাশে থাকা হবে।প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে জানিয়ে বিমানবাহিনী বলেছে, এখন পর্যন্ত বিধ্বস্তের কারণ জানা যায়নি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই বিপর্যয় ঘটতে পারে।এএন-৩২ দুই ইঞ্জিনের সোভিয়েত আমলের সামরিক পরিবহন বিমান। পাহাড়ি এলাকা ও গরম-আর্দ্র আবহাওয়ায় দারুণ দক্ষতার জন্য ভারতীয় বিমানবাহিনীতে এটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রায় সাড়ে সাত টন মালামাল, ৫০ জন সৈন্য বা ৪২ জন প্যারাট্রুপার বহন করতে পারে এটি। বাহিনীর কাছে বর্তমানে প্রায় ১০০টি এএন-৩২ রয়েছে।আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই আসামের কার্বি আংলং জেলায় একটি এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছিলেন। তার অল্প সময়ের মধ্যেই এই নতুন দুর্ঘটনা ঘটল। এ নিয়ে বিমানবাহিনীতে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে দমকল ও সেনা কর্মীরা। লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিমানবাহিনী পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
৪ ঘন্টা আগে

প্যারাগুয়েকে ৪-১ উড়িয়ে ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে তারা। প্রথমার্ধেই তিন গোলের লিড নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই ম্যাচ দিয়ে তারা ইতিহাস গড়েছে—বিশ্বকাপের আসরে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের জালে চারবার বল জড়ানোর রেকর্ড তাদের।আজ শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপের এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে স্বাগতিকরা।ম্যাচের শুরুটাই দারুণ হয় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। সপ্তম মিনিটেই তারা এগিয়ে যায়। তবে গোলটি আসে কিছুটা অঘটনে। স্বাগতিকদের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন।এই গোল পেয়ে আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের আক্রমণের চাপে বারবার নড়বড়ে হতে থাকে প্যারাগুয়ের রক্ষণ। ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোলারিন বালোগান। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের বাড়ানো পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ডান পায়ের নিচু শটে জাল খুঁজে নেন তিনি।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূরণ করেন বালোগান। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বল খুঁজে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সামনে থাকা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে দেন।৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধে প্যারাগুয়েকে বলার মতো কোনো আক্রমণই করতে দেয়নি তারা।দ্বিতীয়ার্ধে এসে কিছুটা বদলে যায় চিত্র। আক্রমণের ধার কমিয়ে নিজেদের ডিফেন্স সামলানোর ওপর জোর দেয় যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে প্যারাগুয়েও খুঁজতে থাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।৭৩তম মিনিটে সেই সুযোগ পেয়ে যায় তারা। এন্সিওর পাস থেকে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বলে পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জালে বল জড়িয়ে দেন মৌরিসিও। এই গোল কিছুটা স্বস্তি দেয় প্যারাগুয়েকে।তবে ম্যাচের একেবারে অন্তিম সময়ে এসে আবারও নিজেদের আক্রমণের ফ্ল্যাভার দেখায় স্বাগতিকরা। জিওভানি রেইনা বক্সের মধ্যে থেকে কার্ল শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস গড়া চতুর্থ গোল।প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল মাঝে বেশ কয়েকটি দারুণ সেভ করলেও দলকে বড় হার থেকে বাঁচাতে পারেননি।এই জয়ের মধ্য দিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের সম্ভাবনার জানান দিল যুক্তরাষ্ট্র। ভক্তরা আশা করছেন, মঞ্চ ছাড়ার আগে আরও বড় বড় রেকর্ড গড়বে স্বাগতিকরা।ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ বলেছেন, “এটা আমাদের জন্য বড় এক অর্জন। তবে এখানেই থেমে থাকার পাত্র আমরা নই।”
১০ ঘন্টা আগে
মানুষের জন্য বিএনপির রাজনীতিঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মানুষের জন্য বিএনপির রাজনীতিঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকার সহায়তা দেওয়া হবে।শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজারের পাতালী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের রাজনীতি হচ্ছে এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আমরা জানি গ্রামে-গঞ্জে মিলিয়ে বাংলাদেশে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ খেটে খাওয়া মানুষ।”প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছেন।“এই নারীরা যদি স্বাবলম্বী না হয়, তাহলে পুরুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে না এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। সে জন্য এই নারীদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বর্তমান সরকার ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো করবে তাদেরকে আমরা উপবৃত্তিও দেব, সে ব্যবস্থাও আমরা রেখেছি।”এর আগে, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন।বেলা ১১টার দিকে বাপের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। নিজের হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে মাসুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত কক্সবাজারের শহিদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পেকুয়া পৌরসভা ও নতুন মাতামুহুরী উপজেলার অবকাঠামোগত কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।রাজনৈতিকভাবে সফরের সবচেয়ে আলোচিত আয়োজন হতে যাচ্ছে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠের জনসভা। বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।দিনের শেষ ভাগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে একটি সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে রাতেই বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।এদিকে আগামী বাজেটে মদ ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধী দলের পছন্দ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পথসভায় তিনি বলেন, “বিরোধী দলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না। সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব জমিকে আবাদযোগ্য করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”বিএনপি আমজনতার দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন তরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ ঠিক রাখতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।সভায় সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজারের দুঃখ বাঁকখালী নদী। এ নদীর বাঁকে বাঁকে ভাঙন দুইকূলের মানুষকে ভোগায়, ভাসিয়ে নেয় ফসল। নদীর দুই কূলে টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান তিনি।জলবায়ু উদ্বাস্তু ও ভূমিহীন প্রসঙ্গে এমপি কাজল বলেন, অনেকের বসবাস পাহাড়ের ওপর বা পাদদেশে। তারা সব সময় আতঙ্কে থাকেন, কখন উচ্ছেদ হচ্ছেন। উচ্ছেদের আগে যেন পুনর্বাসন করা হয় বা তাদের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়।এতে আরও বক্তব্য রাখেন—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদপানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানিপানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনপিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি প্রমুখএদিকে টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেখতে খালপাড়ে ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ।প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা, জনসভা আয়োজন এবং সরকারি কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আগেই কক্সবাজারে পৌঁছে সফর-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।
৩ ঘন্টা আগে
মানুষের জন্য বিএনপির রাজনীতিঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মানুষের জন্য বিএনপির রাজনীতিঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকার সহায়তা দেওয়া হবে।শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজারের পাতালী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের রাজনীতি হচ্ছে এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আমরা জানি গ্রামে-গঞ্জে মিলিয়ে বাংলাদেশে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ খেটে খাওয়া মানুষ।”প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছেন।“এই নারীরা যদি স্বাবলম্বী না হয়, তাহলে পুরুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে না এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। সে জন্য এই নারীদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বর্তমান সরকার ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো করবে তাদেরকে আমরা উপবৃত্তিও দেব, সে ব্যবস্থাও আমরা রেখেছি।”এর আগে, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন।বেলা ১১টার দিকে বাপের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। নিজের হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে মাসুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত কক্সবাজারের শহিদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পেকুয়া পৌরসভা ও নতুন মাতামুহুরী উপজেলার অবকাঠামোগত কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।রাজনৈতিকভাবে সফরের সবচেয়ে আলোচিত আয়োজন হতে যাচ্ছে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠের জনসভা। বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।দিনের শেষ ভাগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে একটি সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে রাতেই বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।এদিকে আগামী বাজেটে মদ ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধী দলের পছন্দ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পথসভায় তিনি বলেন, “বিরোধী দলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না। সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব জমিকে আবাদযোগ্য করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”বিএনপি আমজনতার দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন তরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ ঠিক রাখতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।সভায় সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজারের দুঃখ বাঁকখালী নদী। এ নদীর বাঁকে বাঁকে ভাঙন দুইকূলের মানুষকে ভোগায়, ভাসিয়ে নেয় ফসল। নদীর দুই কূলে টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান তিনি।জলবায়ু উদ্বাস্তু ও ভূমিহীন প্রসঙ্গে এমপি কাজল বলেন, অনেকের বসবাস পাহাড়ের ওপর বা পাদদেশে। তারা সব সময় আতঙ্কে থাকেন, কখন উচ্ছেদ হচ্ছেন। উচ্ছেদের আগে যেন পুনর্বাসন করা হয় বা তাদের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়।এতে আরও বক্তব্য রাখেন—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদপানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানিপানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনপিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি প্রমুখএদিকে টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেখতে খালপাড়ে ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ।প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা, জনসভা আয়োজন এবং সরকারি কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আগেই কক্সবাজারে পৌঁছে সফর-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।
৩ ঘন্টা আগে
ভারতের পরবর্তী সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

ভারতের পরবর্তী সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৩০ জুন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর অবসরের পর তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।শনিবার (১৩ জুন) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ধীরাজ শেঠ ২০২৮ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই পদে থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠের সামরিক জীবন দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। প্রায় চার দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি অপারেশনাল, কৌশলগত, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।তার নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো—সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক কোর সুদর্শন চক্র কোরের নেতৃত্ব দেওয়াদিল্লি অঞ্চলের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনগুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামরিক বিষয় এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব সামলানোআর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত হওয়ার পর ধীরাজ শেঠ সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ড এবং সাউদার্ন কমান্ডের নেতৃত্ব দেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পদে থেকে তিনি অপারেশনাল পরিকল্পনা, বাহিনী ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধীরাজ শেঠের এই নিয়োগ ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনবে। বিশেষ করে সীমান্ত উত্তেজনা ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার সময়ে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী ২০২৪ সালের জুন মাসে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন। তার ঠিক পরের দিন থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন ধীরাজ শেঠ।প্রসঙ্গত, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সেনাপ্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া বেশ জটিল। বরিষ্ঠতা ও যোগ্যতা—দুটো বিষয়ই এখানে বিবেচিত হয়। ধীরাজ শেঠ বর্তমান উপপ্রধান হিসেবে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পেলেন।সূত্র: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ভারত
৪ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ডিজিটাল বিশ্বের বন্দি চোখ: স্ক্রিনের নীরব বিপদ ও সমাধান

ডিজিটাল বিশ্বের বন্দি চোখ: স্ক্রিনের নীরব বিপদ ও সমাধান

আজকের পৃথিবী যেন একটি স্ক্রিনের ভেতর বন্দি। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমেই মোবাইল, সারাদিন অনলাইন ক্লাস বা কাজ, আর দিনের শেষে বিনোদন সবই যেন স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর অতি ব্যবহারের ফলে যে নীরব ক্ষতি হচ্ছে, তা আমরা অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছি না।বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম দেখা দেয়। এর লক্ষণ হিসেবে চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, এমনকি মাথাব্যথাও হতে পারে। সমস্যাটি এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে অনেকেই এটিকে আর অসুখ বলে মনে করেন না, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিচ্ছেন।কেন চোখের ক্ষতি হয়স্ক্রিন ব্যবহারের সময় আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম চোখের পলক ফেলি। ফলে চোখে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমে যায় এবং ড্রাই আই সমস্যা তৈরি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা প্রতি মিনিটে ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পলক ফেলি, কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ থেকে ৭ বার।এর পাশাপাশি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের ক্লান্তি বাড়ায় এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে। বিশেষ করে রাত জেগে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস তরুণ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা দেয়, ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের মানও খারাপ হয়।শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশিশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস, সামাজিক যোগাযোগ সবকিছুতেই স্ক্রিনের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে চোখের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে চোখের সমস্যায় ভুগছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।করোনা মহামারির পর থেকে অনলাইন শিক্ষার প্রসারের ফলে শিশু-কিশোরদের গড় স্ক্রিন টাইম কয়েকগুণ বেড়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।চোখ বাঁচাতে সহজ অভ্যাসএই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সচেতনতার বিকল্প নেই। খুব সহজ কিছু অভ্যাস আমাদের চোখকে রক্ষা করতে পারে—২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকিয়ে থাকুনপরিবেশের আলো ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সমান করে নিনঅপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টা করুননিয়মিত চোখের যত্ন নিন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিনস্ক্রিন দেখার সময় চোখের পলক ফেলার অভ্যাস করুনপ্রযুক্তিগত সমাধান আর অভ্যাস的改变বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনে ‘আই কম্ফোর্ট’ বা ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ অপশন যুক্ত করা হয়েছে, যা স্ক্রিন থেকে নির্গত ক্ষতিকর নীল আলো কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। তবে এটিকে সম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস পরিবর্তন না করলে এই ধরনের ফিচার একা চোখের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না।অনেক কম্পিউটার ও ল্যাপটপে ‘নাইট লাইট’ বা ‘নাইট শিফট’ মোডও থাকে, যা সন্ধ্যার পর স্ক্রিনের আলোকে উষ্ণ আভায় পরিবর্তন করে। এই ফিচারগুলো ব্যবহার করলে চোখের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।কখন ডাক্তার দেখাবেনযদি নিচের কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি—চোখে ঘন ঘন জ্বালাপোড়া বা ব্যথাঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশনমাথাব্যথা বিশেষ করে সামনের অংশেচোখ শুকিয়ে যাওয়া বা বেশি পানি পড়ারাতে গাড়ি চালাতে বা অন্ধকারে দেখতে কষ্ট হওয়াপ্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। অন্যথায় এই নীরব বিপদ একসময় বড় সমস্যায় পরিণত হবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো প্রজন্মের ওপর।একটু সচেতনতা আর দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন এনে আমরা আমাদের চোখকে স্ক্রিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারি। প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন, কিন্তু প্রযুক্তিকে আপনার নিয়ন্ত্রণ করতে দেবেন না।
১০ জুন ২০২৬
ব্যবসা শুরু করতে সাত দিনে লাইসেন্স, ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন

ব্যবসা শুরু করতে সাত দিনে লাইসেন্স, ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন

বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ী সেবা সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজীকরণ উদ্যোগের অংশ হিসাবে তিনি এ সব কথা বলেন।পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড সেবাঅর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু সহজ করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া যৌক্তিকীকরণ করা হবে এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ড অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় আবেদন দাখিল, যাচাই, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা একই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে।পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি অনুমোদন ও লাইসেন্স সেবার জন্য নির্ধারিত সেবা স্তর চুক্তি নির্ধারণ করা হবে।স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের ব্যবস্থানির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, না-দাবি, অনাপত্তি বা ছাড়পত্র না দিলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সম্মতি আছে ধরে নিয়ে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পদ্ধতিতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানে মনিটরিং, জবাবদিহি ও কমপ্লায়েন্স নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।ছোট ও নতুন ব্যবসার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন এবং ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও প্রতিপালন সম্পন্ন করতে পারেন।৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধনকোম্পানির নামের ছাড়পত্র নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদান অনলাইনে সম্পন্ন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় সপ্তাহ খানেক সময় লেগে যায়।বিদেশি কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাবিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।যোগ্য বিনিয়োগকারী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি বিনিয়োগকারী ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়তা কাঠামোবড় ও কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন সমন্বয় করতে বিডিএর পাশাপাশি বেজা, বেপজা ও বিসিকেও সহায়তা কর্মকর্তা, সহায়তা দল বা প্রকল্পভিত্তিক কেস ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে।বিনিয়োগকারীর প্রশ্ন, অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করা হবে। খুদে বার্তা, ই-মেইল, হেল্প নম্বর ও অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদনের অগ্রগতি জানানো হবে।আন্তর্জাতিক চুক্তি জোরদারবিনিয়োগকারীর আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যমান চুক্তিসমূহের কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।স্থানীয় পর্যায়েও ডিজিটালাইজেশনস্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়িক অনুমোদন সহজ করতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আবেদন, ফি পরিশোধ, নবায়ন, লাইসেন্স প্রদান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ অনলাইনে করা হবে, যাতে স্থানীয় অফিসে বারবার যাওয়া ও নবায়নজনিত বিলম্ব কমে।প্লাগ অ্যান্ড প্লে সুবিধা প্যাকেজনির্ধারিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লাগ অ্যান্ড প্লে শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালু করা হবে। এর আওতায় জমি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক সংযোগ ও প্রাথমিক অনুমোদন আগেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু করতে পারেন।দ্রুত নিরাপত্তা ছাড়পত্রবিদেশি কর্মীর নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াও পৃথকভাবে অনলাইনভিত্তিক ও নির্ধারিত সময়সীমার আওতায় আনা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই বজায় রেখেই অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
০৭ এপ্রিল ২০২৬
বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

০৭ এপ্রিল ২০২৬
ইলন মাস্ক ইতিহাস গড়লেন, তিনিই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার

ইলন মাস্ক ইতিহাস গড়লেন, তিনিই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার

প্রযুক্তি দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক এখন ইতিহাস গড়েছেন। স্পেসএক্স, টেসলা ও এক্সের মালিক এই উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক। শুক্রবার (১২ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।ট্রিলিয়ন ডলার মানে এক হাজার বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১ এর পর ১২টি শূন্য। বাংলায় যাকে বলা যায় প্রায় এক লাখ কোটি ডলার। এই বিরাট অঙ্কের সম্পদ অর্জন করে রেকর্ড গড়লেন মাস্ক।ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে মাস্ক প্রথমবারের মতো অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার (৫০০ বিলিয়ন) নিট সম্পদের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। এক মাস পর টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য এক অসাধারণ পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করে, যার মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।কিন্তু আসল পরিবর্তনটা আসে ২০২৬ সালের জুনে। তার রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স (যার অধীনে এক্স, গ্রোক ও স্টারলিংকও রয়েছে) পাবলিক কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর মাস্কের সম্পদ বিলিয়ন থেকে সরাসরি ট্রিলিয়ন ডলারের স্তরে পৌঁছে যায়।শুধু টাকার অঙ্কেই নয়, মাস্ককে নিয়ে আলোচনা হয় তার সাহসী স্বপ্ন ও বিতর্কিত মতামতের জন্যও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিয়মিত মানবজাতির ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তি, পরিবেশ থেকে শুরু করে রাজনীতি সবকিছু নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন।সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তার রাজনৈতিক সক্রিয়তাও বেড়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী হতে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তার এক্স প্ল্যাটফর্ম কীভাবে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলছে, সে নিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাজনীতিবিদদের সমালোচনারও শেষ নেই।তবুও যারা মাস্কের ভক্ত তারা বলেন, তিনি শুধু ধনী নন, তিনি মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন। মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানো থেকে শুরু করে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট—তার কোম্পানিগুলো প্রতিনিয়ত দুনিয়া বদলে দিচ্ছে।ইলন মাস্কের এই ট্রিলিয়ন ডলার অর্জনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় ধনীর তালিকায় আছেন ফ্রান্সের লুই ভিটনের মালিক বার্নার্ড আর্নল্ট। তার সম্পদ এখনও ট্রিলিয়ন ডলারের অনেক নিচে। অর্থাৎ মাস্ক এখন ব্যবধান তৈরি করে শীর্ষে অবস্থান করছেন।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো একক ব্যক্তির এত বিপুল সম্পদ জমা হওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কেউ কেউ এটিকে প্রযুক্তি খাতের অপরিমেয় সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে এত বিপুল সম্পদ নিয়ে আর্থিক বৈষম্যের প্রশ্নও তুলছেন।ইলন মাস্ক নিজে এখন পর্যন্ত এই অর্জন নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। তবে তার এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি একটি রকেটের ইমোজি পোস্ট করেছেন, যা ভক্তরা “ট্রিলিয়ন-ডলার ক্লাবে পৌঁছানোর সংকেত” বলে ব্যাখ্যা করছেন।ইলন মাস্কের এই যাত্রা দেখিয়ে দিচ্ছে, সাহস, ঝুঁকি নেওয়া ও অবিরাম উদ্ভাবন কতটা বড় সম্পদ তৈরি করতে পারে।
৩ ঘন্টা আগে
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৭ এপ্রিল ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন