ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন থালাপতি বিজয়

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি জোসেফ বিজয়। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরের কোনো রাজনৈতিক শক্তি সরকার গঠন করল।১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম রাজ্যের শাসনভার এমন একটি দলের হাতে গেল, যারা দীর্ঘদিনের দুই প্রধান দ্রাবিড় রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে অবস্থান করছে। ফলে বিজয়ের শপথকে তামিল রাজনীতির নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টিরি কাঝাগাম (টিভিকে) অভাবনীয় সাফল্য পেয়ে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে কয়েকদিন ধরে তুমুল রাজনৈতিক আলোচনা ও দর-কষাকষি চলে। রাজ্যপালের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক এবং সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা শেষে অবশেষে সরকার গঠনের পথ সুগম হয়।২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় টিভিকের নিজস্ব আসনের পাশাপাশি কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআইএম এবং আইইউএমএলের সমর্থনে মোট ১২১ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করছেন বিজয়। তবে বিজয় নিজে দুটি আসনে জয় পাওয়ায় একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। ফলে কার্যকরভাবে জোটের শক্তি দাঁড়াচ্ছে ১২০ জনে।বিজয়ের এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণকে ঘিরে চেন্নাইজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তার সমর্থকরা এটিকে তামিল রাজনীতির এক ‘নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে দেখছেন।তবে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বিজয়ের নতুন মন্ত্রিসভা। কারণ, এই মন্ত্রিসভার বড় একটি অংশই গঠিত হচ্ছে তরুণ ও নতুন মুখ দিয়ে।টিভিকের নির্বাচনি সাফল্যের বড় ভিত্তি ছিল তরুণ ভোটাররা। দলটির ১০৭ জন বিধায়কের মধ্যে ৯৩ জনই প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, খোদ দলপ্রধান বিজয়ের জন্যও এটিই ছিল প্রথম নির্বাচনি লড়াই।দলটির বিধায়কদের গড় বয়স মাত্র ৪৫ বছর। সবচেয়ে কম বয়সী বিধায়কের বয়স ২৮ বছর। ৪০ বছরের নিচে রয়েছেন ৪১ জন বিধায়ক। আর ৬০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যের সংখ্যা মাত্র ১০ জন।দলের এক তরুণ নেতা জানিয়েছেন, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে টিভিকে তরুণদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। অন্য দলগুলোতে যেখানে প্রবীণদের প্রাধান্য বেশি, সেখানে বিজয় তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের বিশাল তরুণ ভক্তগোষ্ঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগ তৈরির কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রাখতে অন্যান্য দল থেকে আসা অভিজ্ঞ নেতাদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজয়ের দলে এমন আটজন বিধায়ক রয়েছেন, যারা এর আগেও বিধানসভার সদস্য ছিলেন।এদের মধ্যে এআইএডিএমকের সাবেক মন্ত্রী কে এ সেনগোট্টাইয়ান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সাবেক ডিএমকে নেতা ভি এস বাবু এবারের নির্বাচনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনকে পরাজিত করে বড় চমক দেখিয়েছেন। অভিজ্ঞদের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক এআইএডিএমকে মন্ত্রী এন সুব্রামানিয়ান, পুদুচেরির সাবেক বিধায়ক ও টিভিকের সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দ এবং জে সি ডি প্রভাকর।দলটির বিধায়কদের পেশাগত বৈচিত্র্যও বেশ লক্ষণীয়। নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, ৪৬ জন ব্যবসায়ী, ১৯ জন আবাসন খাতের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া রয়েছেন ৯ জন চিকিৎসক, ৮ জন আইনজীবী এবং বিনোদন জগত থেকে আসা ৭ জন প্রতিনিধি।শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও বেশ বৈচিত্র্য দেখা গেছে। দলটির ৬৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৭ জন বিধায়ক স্নাতক ডিগ্রিধারী। বিজয়সহ ১৫ জন উচ্চমাধ্যমিক পাস এবং ২৪ জন মাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন।তবে এই নতুন দলের বিধায়কদের মধ্যে বিতর্কও রয়েছে। নির্বাচনি তথ্য অনুযায়ী, ১০৭ জনের মধ্যে ৪০ জনের বিরুদ্ধে অন্তত একটি করে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বাকি ৬৭ জনের রেকর্ড সম্পূর্ণ স্বচ্ছ।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলচ্চিত্রজগতের জনপ্রিয়তা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আসা বিজয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রশাসনিক দক্ষতা প্রমাণ করা, জোটের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।শপথের পর খুব দ্রুতই নতুন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সরকারের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণও দিতে হবে বিজয়কে। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই পরিবর্তন কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
৫ ঘন্টা আগে

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজনের মৃত্যু

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চুরির অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। রোববার (১০ মে) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় চোর চক্রের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি সশস্ত্র চোর চক্র পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাগচালা এলাকায় একটি বাড়িতে হানা দেয়। চোরদের উপস্থিতি টের পেয়ে গৃহকর্তা চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে তিনজনকে ধরে ফেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন দেয়।খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ও ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তিনজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়, যেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
৫ ঘন্টা আগে

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর ঘাটতি নেই, চাহিদার চেয়ে ২২ লাখ বেশি পশু দেশেই মজুদ আছে

দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা ১ কোটি ২ লাখ। আর আছে কোরবানিযোগ্য পশু ১ কোটি ২৩ লাখ। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ২২ লাখ বেশি পশু দেশেই মজুদ আছে। তাই পশু আমদানি তো দূরের কথা, বরং উদ্বৃত্ত পশু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানির জন্য চিন্তা করছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শনিবার (৯ মে) নাটোরের গুরুদাসপুরে মৎস্যচাষি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে বিকেলে নাটোর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা কোরবানিকে কেন্দ্র করে পশুপালন করেন। তাদের রক্ষায় পশু আমদানির কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং সীমান্তে নজরদারি এড়িয়ে অবৈধভাবে কোরবানির পশু ঢোকার চেষ্টা করলে তা রুখতে বিজিবিকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বর্তমান সরকারের সময়ে কোনো পশু আমদানি হয়নি। জনগণ যাতে স্বল্পমূল্যে পশু কিনতে পারে, সেজন্য বিজিবি ও পুলিশের টিম কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। নাটোরে চলনবিলের মাছ সংরক্ষণ ও চাষের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে। সংরক্ষণের অভাবে মাছ নষ্ট যাতে না হয়, সেজন্য ‘ফিস প্রসেসিং সেন্টার’ ও ‘মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। 
৫ ঘন্টা আগে
দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার, শুরু সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার, শুরু সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়েছে এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রাথমিক বরাদ্দও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান চাপ এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা বিবেচনায় দুটি নতুন সেতু নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি সরকারের নতুন পরিকল্পনাকে ত্বরান্বিত করেছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে, আর দ্বিতীয় যমুনা সেতু হবে বিদ্যমান যমুনা সেতুর কাছাকাছি একটি নতুন অ্যালাইনমেন্টে।বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সেতু দুটির রুট, অ্যালাইনমেন্ট, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, ব্যয় এবং রেল সংযোগের সম্ভাবনা চূড়ান্ত করা হবে। এ কাজের জন্য ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া এবং বাংলাদেশের যৌথ অংশীদারিত্বে একটি পরামর্শক দল কাজ করছে। তাদের ২০২৭ সালের মধ্যে সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস জানিয়েছেন, দেশে সড়ক যোগাযোগে যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়ছে এবং নতুন সেতু নির্মাণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সে কারণেই আগেভাগে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে।তিনি বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সমীক্ষা শেষে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে, যেখানে ব্যয়, অবস্থান ও সময়কালসহ সবকিছু নির্ধারণ হবে।সরকারের উন্নয়ন বাজেটেও এ প্রকল্প দুটি জায়গা পেয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর প্রাথমিক কাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ কোটি টাকা।সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানেও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং এতে রেলপথও যুক্ত থাকবে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা।বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বর্তমানে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, যশোর, মাগুরা, গোপালগঞ্জ ও আশপাশের জেলার মানুষকে এখনো দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময় ও ব্যয়—দুইই বাড়ছে।অন্যদিকে, বিদ্যমান যমুনা সেতুর ওপর চাপ বাড়তে থাকায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে দ্বিতীয় যমুনা সেতুকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে সরকার।পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় আগামী ৯ মে নতুন এডিপি উপস্থাপন করা হবে। এরপর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
৪ ঘন্টা আগে
দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার, শুরু সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার, শুরু সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়েছে এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রাথমিক বরাদ্দও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান চাপ এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা বিবেচনায় দুটি নতুন সেতু নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি সরকারের নতুন পরিকল্পনাকে ত্বরান্বিত করেছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে, আর দ্বিতীয় যমুনা সেতু হবে বিদ্যমান যমুনা সেতুর কাছাকাছি একটি নতুন অ্যালাইনমেন্টে।বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সেতু দুটির রুট, অ্যালাইনমেন্ট, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, ব্যয় এবং রেল সংযোগের সম্ভাবনা চূড়ান্ত করা হবে। এ কাজের জন্য ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া এবং বাংলাদেশের যৌথ অংশীদারিত্বে একটি পরামর্শক দল কাজ করছে। তাদের ২০২৭ সালের মধ্যে সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস জানিয়েছেন, দেশে সড়ক যোগাযোগে যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়ছে এবং নতুন সেতু নির্মাণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সে কারণেই আগেভাগে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে।তিনি বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সমীক্ষা শেষে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে, যেখানে ব্যয়, অবস্থান ও সময়কালসহ সবকিছু নির্ধারণ হবে।সরকারের উন্নয়ন বাজেটেও এ প্রকল্প দুটি জায়গা পেয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর প্রাথমিক কাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ কোটি টাকা।সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানেও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং এতে রেলপথও যুক্ত থাকবে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা।বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বর্তমানে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, যশোর, মাগুরা, গোপালগঞ্জ ও আশপাশের জেলার মানুষকে এখনো দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময় ও ব্যয়—দুইই বাড়ছে।অন্যদিকে, বিদ্যমান যমুনা সেতুর ওপর চাপ বাড়তে থাকায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে দ্বিতীয় যমুনা সেতুকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে সরকার।পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় আগামী ৯ মে নতুন এডিপি উপস্থাপন করা হবে। এরপর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
৪ ঘন্টা আগে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন থালাপতি বিজয়

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন থালাপতি বিজয়

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি জোসেফ বিজয়। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরের কোনো রাজনৈতিক শক্তি সরকার গঠন করল।১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম রাজ্যের শাসনভার এমন একটি দলের হাতে গেল, যারা দীর্ঘদিনের দুই প্রধান দ্রাবিড় রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে অবস্থান করছে। ফলে বিজয়ের শপথকে তামিল রাজনীতির নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টিরি কাঝাগাম (টিভিকে) অভাবনীয় সাফল্য পেয়ে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে কয়েকদিন ধরে তুমুল রাজনৈতিক আলোচনা ও দর-কষাকষি চলে। রাজ্যপালের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক এবং সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা শেষে অবশেষে সরকার গঠনের পথ সুগম হয়।২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় টিভিকের নিজস্ব আসনের পাশাপাশি কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআইএম এবং আইইউএমএলের সমর্থনে মোট ১২১ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করছেন বিজয়। তবে বিজয় নিজে দুটি আসনে জয় পাওয়ায় একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। ফলে কার্যকরভাবে জোটের শক্তি দাঁড়াচ্ছে ১২০ জনে।বিজয়ের এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণকে ঘিরে চেন্নাইজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তার সমর্থকরা এটিকে তামিল রাজনীতির এক ‘নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে দেখছেন।তবে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বিজয়ের নতুন মন্ত্রিসভা। কারণ, এই মন্ত্রিসভার বড় একটি অংশই গঠিত হচ্ছে তরুণ ও নতুন মুখ দিয়ে।টিভিকের নির্বাচনি সাফল্যের বড় ভিত্তি ছিল তরুণ ভোটাররা। দলটির ১০৭ জন বিধায়কের মধ্যে ৯৩ জনই প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, খোদ দলপ্রধান বিজয়ের জন্যও এটিই ছিল প্রথম নির্বাচনি লড়াই।দলটির বিধায়কদের গড় বয়স মাত্র ৪৫ বছর। সবচেয়ে কম বয়সী বিধায়কের বয়স ২৮ বছর। ৪০ বছরের নিচে রয়েছেন ৪১ জন বিধায়ক। আর ৬০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যের সংখ্যা মাত্র ১০ জন।দলের এক তরুণ নেতা জানিয়েছেন, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে টিভিকে তরুণদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। অন্য দলগুলোতে যেখানে প্রবীণদের প্রাধান্য বেশি, সেখানে বিজয় তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের বিশাল তরুণ ভক্তগোষ্ঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগ তৈরির কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রাখতে অন্যান্য দল থেকে আসা অভিজ্ঞ নেতাদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজয়ের দলে এমন আটজন বিধায়ক রয়েছেন, যারা এর আগেও বিধানসভার সদস্য ছিলেন।এদের মধ্যে এআইএডিএমকের সাবেক মন্ত্রী কে এ সেনগোট্টাইয়ান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সাবেক ডিএমকে নেতা ভি এস বাবু এবারের নির্বাচনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনকে পরাজিত করে বড় চমক দেখিয়েছেন। অভিজ্ঞদের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক এআইএডিএমকে মন্ত্রী এন সুব্রামানিয়ান, পুদুচেরির সাবেক বিধায়ক ও টিভিকের সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দ এবং জে সি ডি প্রভাকর।দলটির বিধায়কদের পেশাগত বৈচিত্র্যও বেশ লক্ষণীয়। নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, ৪৬ জন ব্যবসায়ী, ১৯ জন আবাসন খাতের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া রয়েছেন ৯ জন চিকিৎসক, ৮ জন আইনজীবী এবং বিনোদন জগত থেকে আসা ৭ জন প্রতিনিধি।শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও বেশ বৈচিত্র্য দেখা গেছে। দলটির ৬৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৭ জন বিধায়ক স্নাতক ডিগ্রিধারী। বিজয়সহ ১৫ জন উচ্চমাধ্যমিক পাস এবং ২৪ জন মাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন।তবে এই নতুন দলের বিধায়কদের মধ্যে বিতর্কও রয়েছে। নির্বাচনি তথ্য অনুযায়ী, ১০৭ জনের মধ্যে ৪০ জনের বিরুদ্ধে অন্তত একটি করে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বাকি ৬৭ জনের রেকর্ড সম্পূর্ণ স্বচ্ছ।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলচ্চিত্রজগতের জনপ্রিয়তা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আসা বিজয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রশাসনিক দক্ষতা প্রমাণ করা, জোটের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।শপথের পর খুব দ্রুতই নতুন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সরকারের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণও দিতে হবে বিজয়কে। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই পরিবর্তন কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
৫ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা দেখতে যতটা সহজ, তার প্রভাব ততটাই গভীর। কারণ এই ছোট পরীক্ষাই নির্ধারণ করে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবন কতটা স্বাভাবিক হবে, নাকি শুরু থেকেই লড়তে হবে থ্যালাসেমিয়া নামক এক কঠিন বংশগত রোগের বিরুদ্ধে।অনেকেই জানেন না, তারা নিজেরাই এই রোগের বাহক হতে পারেন, আর সেই অজান্তেই নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠেলে দিতে পারে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কষ্টের চক্রে। অথচ সময়মতো সচেতন হলে এই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসপ্রতি বছর ৮ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং থ্যালাসেমিয়া নামক মারাত্মক বংশগত রক্তরোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, রোগ প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।থ্যালাসেমিয়া এমন একটি জেনেটিক রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে সুস্থ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। ফলে রোগীকে সারাজীবন নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, যা তাদের জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।এ বছরের প্রতিপাদ্যএ বছরের প্রতিপাদ্য: ‘হিডেন নো মোর: ফাইন্ডিং দ্য আনডায়াগনোসড, সাপোর্টিং দ্য আনসিন’ (আর লুকিয়ে নয়: অজানা রোগীদের খুঁজে বের করা, অদেখা মানুষদের সহায়তা করা)।আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরে: থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ ও রোগীদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যম—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপবাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। এর প্রধান কারণ অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ জানেন না যে তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না।অথচ দুইজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে ক্যারিয়ার শনাক্ত করা।একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই জানা সম্ভব কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা। এই তথ্যটি জানা থাকলে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই কষ্টকর রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।কী করা জরুরিবিবাহ-পূর্ব রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এখন এসেছে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন সহজ নয়। নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, আয়রন চেলেশন থেরাপি এবং বিভিন্ন জটিলতার মোকাবিলা তাদের নিত্যসঙ্গী। অনেক পরিবার এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ রক্ত সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা রোগীদের জন্য অপরিহার্য।সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরিথ্যালাসেমিয়া রোগীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। অনেক সময় তারা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হন, যা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা।চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসায় নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেমন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। তবে এটি ব্যয়বহুল এবং সবার নাগালের মধ্যে নয়। তাই প্রতিরোধই এখানে সবচেয়ে কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত পথ।থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই পারে অনাগত শিশুর জীবনকে কষ্টমুক্ত রাখতে। অথচ অজ্ঞতার কারণেই বহু পরিবার এই রোগের কষ্ট বহন করতে বাধ্য হয়। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে না পারলে থ্যালাসেমিয়া নির্মূল করা সম্ভব নয়। আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা করা উচিত, নিজে সচেতন হব, অন্যকে সচেতন করব। তবেই গড়ে তুলতে পারব থ্যালাসেমিয়ামুক্ত সুস্থ সমাজ।
০৮ মে ২০২৬
বিশ্ব ব্র্যান্ডের অর্ডার ফেরাতে গার্মেন্টস জোন করার পরিকল্পনা

বিশ্ব ব্র্যান্ডের অর্ডার ফেরাতে গার্মেন্টস জোন করার পরিকল্পনা

নানা সংকটে হারিয়ে যাওয়া বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর অর্ডার ফেরাতে চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বহুতল ভবনভিত্তিক গার্মেন্টস জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। চট্টগ্রামের চারটি এলাকায় এ পরিকল্পনার আওতায় অন্তত ২৫টি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, নগরীর মুরাদপুর, বায়েজিদ, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদ এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে থাকবে একটি করে কারখানা। কমপ্লায়েন্স জটিলতা এড়াতে এসব ভবনে ফ্লোর স্পেসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জেনারেটর, গ্যাস ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা থাকবে। ইতিমধ্যে জায়গা বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘বিএনবিসি কোড মেনে কমপ্লায়েন্ট বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে। জেনারেটরসহ অন্যান্য কমন সুবিধার খরচ ভাগাভাগি করা হবে। এখনো প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। সম্ভব হলে ১০ বছরের সফট লোন দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্ত হলে তা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রকল্পটি আরও সহজ হবে। কারখানা পরিচালনার পাশাপাশি ভাড়ার অর্থ ডাউন পেমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় হবে এবং ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে জায়গাটি উদ্যোক্তার মালিকানায় চলে আসবে।’পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ছয়তলা ভবনের ওয়ার্কিং স্পেস হবে অন্তত ৩০ হাজার বর্গফুট। প্রতিটি কারখানায় সর্বনিম্ন ৬০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। এ জন্য নগরীর প্রতিটি জোনে তিন থেকে পাঁচ একর জায়গা বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিজিএমইএ।এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী বলেন, ‘পাঁচ থেকে সাতটি কারখানা একসঙ্গে স্থানান্তর করা গেলে সেখানে বর্তমানে ৩০০ শ্রমিকের জায়গায় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। একইসঙ্গে বড় বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা এখন অনেক কারখানা করতে পারছে না। ভালো ব্র্যান্ডের কাজ পেলে ভালো দামও পাওয়া যাবে। এতে নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হবে। বর্তমানে যেখানে প্রায় ৩০০ কারখানা রয়েছে, তা ভবিষ্যতে ৫০০ থেকে ৭০০ কারখানায় উন্নীত হতে পারে।’স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম থেকেই তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু হয়েছিল দেশে। তবে বিভিন্ন সংকটে গত চার দশকে এ খাতের রপ্তানি অংশীদারিত্ব ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে অন্তত ২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।বিজিএমইএর পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির মধ্যে চট্টগ্রামের অংশ ১০ থেকে ১২ শতাংশ। বন্দরকেন্দ্রিক অবস্থানের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য চট্টগ্রাম সবচেয়ে সম্ভাবনাময় কেন্দ্র।’চট্টগ্রামে বর্তমানে দুটি ইপিজেডসহ বিভিন্ন এলাকায় চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় সরাসরি প্রায় আট লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। চট্টগ্রাম থেকে বছরে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 
৩০ মার্চ ২০২৬
ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানতকারীদের স্মারকলিপি

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানতকারীদের স্মারকলিপি

৩০ মার্চ ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
৩০ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার