ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হচ্ছে শিগগির: ডিএমপি

ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে শিগগির কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস)’ আওতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে শিগগির প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২০ বছরের অধিক পুরোনো, ফিটনেসবিহীন ও অকেজো যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং যত্রতত্র গাড়ি থামানো বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সড়কে যানজট কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সড়কের বাম পাশের লেন সচল রাখা, উল্টোপথে যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া গাড়ি থামানো বন্ধে ট্রাফিক পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।মো. আনিছুর রহমান গাড়িচালকদের ট্রাফিক আইন ও নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার পাশাপাশি বাম লেন সচল রাখা এবং যত্রতত্র গাড়ি না থামানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, চালক, মালিক ও সকল সড়ক ব্যবহারকারীর সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই নগরীর সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এসময় তিনি যানবাহনে জিপিএস সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান। অনুষ্ঠানে ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বিআইজিআরএসর আওতায় গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপের সহায়তায় বিমানবন্দর সড়ক, ৩০০ ফিট সড়ক এবং লেক রোড- এই তিনটি সড়কে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ডিএমপি। এসব সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তার অন্যান্য বিষয়ও নিয়মিত তদারকি করা হবে।বিআইজিআরএস কো-অর্ডিনেটর ও অতিরিক্ত সচিব (অব.) মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনভেদে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করেছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং অন্যান্য সড়কে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। শহর এলাকায় মোটরসাইকেলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার। এসময় অডিওভিজুয়াল চিত্র উপস্থাপন, গ্রাফ এবং বিভিন্ন দেশের গবেষণালব্ধ তথ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জিআরএসপির সিনিয়র রোড পুলিশিং উপদেষ্টা পিটার জোনসসহ ডিএনসিসি, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট, বিআইজিআরএস এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি। এছাড়া ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকার সড়কে মারাত্মক একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলো প্রায়ই ট্রাফিক আইন অমান্য করে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রিকশাচালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, রিকশা বন্ধের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে প্রধান সড়কগুলোতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে রাজধানীর সড়কে যানজট কিছুটা কমবে এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০ ঘন্টা আগে

মোবাইল অপারেটরদের কাছে সরকারের ১৩ হাজার কোটি টাকা পাওনা

দেশের শীর্ষ চার মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, টেলিটক, রবি ও বাংলালিংকের কাছে সরকারের প্রায় ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কক্সবাজার-৩ আসনের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।সংসদে মন্ত্রী বলেন, দেশে চারটি মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওনা রয়েছে। তিনি জানান, টেলিটকের কাছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, গ্রামীণফোনের ৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা, রবি আজিয়াটার ৬১৫ কোটি টাকা ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনসের কাছে ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে।ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, টেলিটকের কাছে লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বাবদ ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বকেয়া আছে। টেলিটক কর্তৃক ৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ইকুইটি কনভার্সনের আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। গ্রামীণফোনের বকেয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি বাবদ বিটিআরসির মোট পাওনা ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই কিস্তিতে ২ হাজার ৩৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে গ্রামীণফোন। বর্তমানে বকেয়া ৬ হাজার ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। রবির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি ও পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর মূসক বাবদ বিটিআরসির মোট পাওনা ৬৭৮ কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশে রবি আজিয়াটা পাঁচ কিস্তিতে ১৮৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। অবশিষ্ট টাকা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বাংলালিংকের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি ও পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর মূসক বাবদ বিটিআরসির পাওনা ৪৭৩ কোটি টাকা। ৩৮১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। অবশিষ্ট টাকা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।মন্ত্রী আরও জানান, সরকার পাওনা আদায়ে বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে বেশিরভাগ পাওনা আদালতে মামলা থাকায় তা দ্রুত আদায় সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় গুরুত্বপূর্ণ, আর এই খাতের অপারেটররা যাতে তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করে সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও মোবাইল অপারেটরদের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, পাওনা আদায়ে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মোবাইল অপারেটরদের এই বিপুল বকেয়া সরকারের রাজস্ব সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে টেলিটক, যা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, তার কাছ থেকেও ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা পাওনা থাকা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলে জানা গেছে। আগামী দিনগুলোতে এই বকেয়া আদায়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
২০ ঘন্টা আগে

১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর এই ক্যাম্পেইন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, নির্ধারিত দিনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রে যেসব শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাদের জন্য ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
২৪ জুন ২০২৬
‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ বন্ধ না হলে আদালতে যাবার ঘোষণা ইসরায়েলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের

‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ বন্ধ না হলে আদালতে যাবার ঘোষণা ইসরায়েলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, বিচারক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি প্রভাবশালী দল। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি চিঠিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ইসরায়েলের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট ও এহুদ বারাক, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক প্রধান, সাবেক বিচারক, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী এবং দেশটির খ্যাতিমান সাহিত্যিকসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি।তাঁরা সরকারের প্রতি ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ দিয়ে বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও অন্যান্য অপরাধ বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই সহিংসতা শুধু ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে না, দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করছে এবং বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে।স্বাক্ষরকারীরা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর অতি-ডানপন্থী জোটসঙ্গীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে হামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছেন। তাঁদের মতে, পশ্চিম তীরে জাতিগত নির্মূল এবং ভবিষ্যতে ওই অঞ্চল যুক্ত করার লক্ষ্যেই এমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, এটি কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা নয় বরং সরকারের নীতিরই প্রতিফলন। সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। স্বাক্ষরকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেন, তাহলে তাঁরা ইসরায়েলের উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।চিঠিটি প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। চিঠিতে জাতিসংঘের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু রয়েছে। এসব ঘটনার কোনো ক্ষেত্রেই এখন পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। এদিকে চিঠিতে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের দেওয়া বক্তব্যকে যথেষ্ট বলে মনে করেননি স্বাক্ষরকারীরা। তাঁদের মতে, কেবল বক্তব্য নয়, কার্যকর পদক্ষেপই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে। তবে চিঠি সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।এই চিঠি ইসরায়েলি সমাজ ও রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, নিরাপত্তা প্রধান ও বিচারকদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন, যা বিরল ঘটনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চিঠি নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে। তবে সরকারের অতি-ডানপন্থী অংশ এই চিঠিকে ‘বামপন্থী ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেছেন, তারা ইসরায়েলি নাগরিকদের এই অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন এবং আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও এই চিঠিকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখেছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নাগরিক সমাজের এই অবস্থান ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সহায়ক হতে পারে। তবে ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, শুধু চিঠি বা আইনি হুমকি যথেষ্ট নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দরকার। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই চিঠির কোনো প্রভাব পড়ে কিনা, সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
২০ ঘন্টা আগে
ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হচ্ছে শিগগির: ডিএমপি

ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হচ্ছে শিগগির: ডিএমপি

ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে শিগগির কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস)’ আওতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে শিগগির প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২০ বছরের অধিক পুরোনো, ফিটনেসবিহীন ও অকেজো যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং যত্রতত্র গাড়ি থামানো বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সড়কে যানজট কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সড়কের বাম পাশের লেন সচল রাখা, উল্টোপথে যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া গাড়ি থামানো বন্ধে ট্রাফিক পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।মো. আনিছুর রহমান গাড়িচালকদের ট্রাফিক আইন ও নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার পাশাপাশি বাম লেন সচল রাখা এবং যত্রতত্র গাড়ি না থামানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, চালক, মালিক ও সকল সড়ক ব্যবহারকারীর সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই নগরীর সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এসময় তিনি যানবাহনে জিপিএস সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান। অনুষ্ঠানে ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বিআইজিআরএসর আওতায় গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপের সহায়তায় বিমানবন্দর সড়ক, ৩০০ ফিট সড়ক এবং লেক রোড- এই তিনটি সড়কে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ডিএমপি। এসব সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তার অন্যান্য বিষয়ও নিয়মিত তদারকি করা হবে।বিআইজিআরএস কো-অর্ডিনেটর ও অতিরিক্ত সচিব (অব.) মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনভেদে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করেছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং অন্যান্য সড়কে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। শহর এলাকায় মোটরসাইকেলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার। এসময় অডিওভিজুয়াল চিত্র উপস্থাপন, গ্রাফ এবং বিভিন্ন দেশের গবেষণালব্ধ তথ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জিআরএসপির সিনিয়র রোড পুলিশিং উপদেষ্টা পিটার জোনসসহ ডিএনসিসি, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট, বিআইজিআরএস এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি। এছাড়া ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকার সড়কে মারাত্মক একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলো প্রায়ই ট্রাফিক আইন অমান্য করে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রিকশাচালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, রিকশা বন্ধের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে প্রধান সড়কগুলোতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে রাজধানীর সড়কে যানজট কিছুটা কমবে এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০ ঘন্টা আগে
‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ বন্ধ না হলে আদালতে যাবার ঘোষণা ইসরায়েলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের

‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ বন্ধ না হলে আদালতে যাবার ঘোষণা ইসরায়েলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, বিচারক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি প্রভাবশালী দল। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি চিঠিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ইসরায়েলের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট ও এহুদ বারাক, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক প্রধান, সাবেক বিচারক, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী এবং দেশটির খ্যাতিমান সাহিত্যিকসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি।তাঁরা সরকারের প্রতি ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ দিয়ে বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও অন্যান্য অপরাধ বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই সহিংসতা শুধু ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে না, দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করছে এবং বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে।স্বাক্ষরকারীরা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর অতি-ডানপন্থী জোটসঙ্গীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে হামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছেন। তাঁদের মতে, পশ্চিম তীরে জাতিগত নির্মূল এবং ভবিষ্যতে ওই অঞ্চল যুক্ত করার লক্ষ্যেই এমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, এটি কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা নয় বরং সরকারের নীতিরই প্রতিফলন। সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। স্বাক্ষরকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেন, তাহলে তাঁরা ইসরায়েলের উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।চিঠিটি প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। চিঠিতে জাতিসংঘের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু রয়েছে। এসব ঘটনার কোনো ক্ষেত্রেই এখন পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। এদিকে চিঠিতে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের দেওয়া বক্তব্যকে যথেষ্ট বলে মনে করেননি স্বাক্ষরকারীরা। তাঁদের মতে, কেবল বক্তব্য নয়, কার্যকর পদক্ষেপই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে। তবে চিঠি সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।এই চিঠি ইসরায়েলি সমাজ ও রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, নিরাপত্তা প্রধান ও বিচারকদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন, যা বিরল ঘটনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চিঠি নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে। তবে সরকারের অতি-ডানপন্থী অংশ এই চিঠিকে ‘বামপন্থী ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেছেন, তারা ইসরায়েলি নাগরিকদের এই অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন এবং আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও এই চিঠিকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখেছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নাগরিক সমাজের এই অবস্থান ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সহায়ক হতে পারে। তবে ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, শুধু চিঠি বা আইনি হুমকি যথেষ্ট নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দরকার। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই চিঠির কোনো প্রভাব পড়ে কিনা, সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
২০ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর এই ক্যাম্পেইন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, নির্ধারিত দিনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রে যেসব শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাদের জন্য ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
২৪ জুন ২০২৬
চিনের ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

চিনের ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।’ ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই আলোচনার গতি বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে এবং বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।এই বিশেষ প্রতিরক্ষা আলোচনাটি মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর অংশ। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে একধাপ উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।দুই দেশের এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহারের অভাবে ভুগছিল। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মংলার এই বিশেষ শিল্প পার্কটি মূলত এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি মুম্বাই-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের জন্য অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে যার ফলে মংলার এই জমিটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো। এই সিদ্ধান্তের ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি বা ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’ তিনি আরও যোগ করেন যে চীন থেকে বড় বড় উৎপাদনকারী শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারলে তা দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে। অবশ্য কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের অত্যন্ত নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং দুই দেশ বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো প্রধান বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন যা দিল্লির সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করত। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক বা ব্যালেন্সড পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিটি সচল রেখেছে। সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ঢাকা মূলত আমেরিকার শক্তিশালী কৃষি লবিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে। ঢাকার এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়ার মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানাবে যেখানে চীন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তাত্ত্বিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নয়া দিল্লির সাথে এই সম্পর্ক মেরামতের পথটি যে বেশ জটিল তা সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করছেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব পুনর্নির্ধারণ করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
০৮ মে ২০২৬
চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

০৮ মে ২০২৬
লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

দেশের বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা শাওমি। লাইকা ইমেজিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্রিপল ক্যামেরা, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আসা হয়েছে নতুন এই ডিভাইসটি।মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য মোমেন্ট বিয়ন্ড সাইট’ প্রতিপাদ্যে স্মার্টফোনটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি সাংবাদিক, টেক রিভিউয়ার, আলোকচিত্রী এবং শাওমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ক্যামেরা সিস্টেমে কি বিশেষত্ব আছে?নতুন এই স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম। এতে রয়েছে—৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা (লাইকা সামিলুক্স অপটিক্যাল লেন্সযুক্ত)৫০ মেগাপিক্সেলের লাইকা ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা (১২০ গুণ পর্যন্ত এআই আল্ট্রা জুম সমর্থিত)লাইভ মোমেন্ট ও স্টেজ মোড সুবিধা (সৃজনশীল ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য)ডিসপ্লে ও ব্যাটারিডিভাইসটিতে ৬ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ৩ হাজার ৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে উজ্জ্বল আলোতেও পর্দার কনটেন্ট স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।চোখের সুরক্ষার জন্য এতে টিইউভি রাইনল্যান্ড সনদপ্রাপ্ত আই কমফোর্ট প্রযুক্তি রয়েছে।ফোনটিতে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। শাওমির দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় দেড় দিনের বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। পাশাপাশি আইপি৬৮ রেটিংয়ের ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধাও রয়েছে।পারফরম্যান্স ও এআই সুবিধাপারফরম্যান্সের জন্য স্মার্টফোনটিতে—মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা প্রসেসরশাওমি হাইপারওএস ব্যবহার করা হয়েছেএ ছাড়া শাওমি হাইপারএআই, গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এবং ‘সার্কেল টু সার্চ’-এর মতো এআই সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।দাম ও বিক্রির তারিখশাওমি ১৭টি স্মার্টফোনটি ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাবে। দাম রাখা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।যে সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে —ভায়োলেটওপাল হোয়াইটব্ল্যাকআগামী ১১ জুন থেকে দেশের সব অনুমোদিত শাওমি স্টোরে এটি বিক্রি শুরু হবে।শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে শাওমির এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আনতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বমানের ফটোগ্রাফি প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।টেক বিশ্লেষকদের মতে, লাইকা ক্যামেরা ও শক্তিশালী ব্যাটারি এই ফোনটিকে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে। তবে ৮০ হাজার টাকার ঘরে বাংলাদেশি বাজারে এটি কতটা সাড়া পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১৪ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৮ মে ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন