গণবার্তা – সর্বশেষ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, বিশ্লেষণ ও রিয়েল টাইম আপডেট
সর্বশেষ

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাহরাইনে বড় বিস্ফোরণ, হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা ব্রিটেনের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ১৬তম দিনে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ব্রিটেন।ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাইরানের অভ্যন্তর থেকে নিজেদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ রোববার (১৫ মার্চ) দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, আকাশপথে আসা এ হুমকি মোকাবিলায় তাদের ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়’ রয়েছে।একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলের তেল আবিব শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে গোলাবারুদ বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার ঘটনা তদারকি করছে দেশটির পুলিশ। এক পুলিশ মুখপাত্র বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো আলাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে পুলিশ সদস্য ও বোমা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।মানামায় বড় বিস্ফোরণবাহরাইনের রাজধানী মানামায় ভোরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বাহরাইন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ইরানের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে তারা। এসব হামলায় বাহরাইনে এ পর্যন্ত দুজন এবং পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরও ২৪ জন নিহত হয়েছেন।ইরানকে ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া: জেলেনস্কিযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহারের জন্য ইরানকে ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করছে রাশিয়া। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল শনিবার সাক্ষাৎকারের এই অংশটি প্রচারিত হয়।সিএনএনের ফরিদ জাকারিয়াকে জেলেনস্কি বলেন, এটি ‘শতভাগ সত্য’ যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ইরান রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে চালানো হামলার সঙ্গেও শাহেদ ড্রোনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।মূলত ইরানই প্রথম এ শাহেদ ড্রোন তৈরি করে, যা ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। ইউক্রেনের দাবি, ২০২২ সালের শরৎকাল থেকে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণে এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। শুরুতে ইরান এসব ড্রোন সরবরাহ করলেও এখন রাশিয়া নিজেই শাহেদ ড্রোন তৈরি করছে।হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা ব্রিটেনেরবিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য কমাতে সেখানে মাইন শনাক্তকারী ড্রোন পাঠানোর কথা ভাবছে ব্রিটেন। এর আগে ওই অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর সুরক্ষায় মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘নানা ধরনের বিকল্প’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।দ্য সানডে টাইমস জানায়, ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ‘মাইন অ্যান্ড থ্রেট এক্সপ্লোয়েটেশন গ্রুপ’ থেকে এসব ড্রোন মোতায়েন করা হতে পারে; যারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। এদিকে দ্য সানডে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা ব্রিটিশ ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রতিহত করতেও ব্যবহার করা হতে পারে।
২ ঘন্টা আগে

সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

সকল ধর্মের মানুষের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি। এক কাতারে রয়েছি। এটিই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে। মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী আমরা সবাই মিলেই ভালো থাকবো।’আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজ থেকে চালু হলো খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে এই সহায়তা দেয়া হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে।’বগুড়ার বায়তুল রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম হোসাইন আহমেদ আবদুল্লাহর হাতে সম্মানীর চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে আইবাস সিস্টেমে ‘সেন্ট বাটন’ প্রেস করে সম্মানীর টাকা নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া হয়।প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘বিভিন্ন ধর্মের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানিত ভাতা দেয়ার যে কর্মসূচি সরকার চালু করেছে, এই কর্মসূচির অধীনে প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং স্কিমের আওতায় মোট ৪ হাজার ৯০৮ টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪ টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’নাগরিক কিছু দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, আমি আশা করি, আগামী ১০ বছরে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পাবো ইনশাআল্লাহ।’দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা কেউ মসজিদে কিংবা যার যার ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদেরকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে চাইলে আপনাদের সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নেও সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মিটিংয়ে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। আমি বার বার একটি কথা বলি, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।’শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী’ চালু করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মসজিদ রয়েছে। আমরা সারাদেশের এই মসজিদগুলোকে ধর্মীয় সামাজিক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে পারি।তিনি বলেন, ‘১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দেশে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু হয়েছিল। বর্তমান সরকারও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের একটি নির্দিষ্ট হারে সম্মানী ভাতা প্রদানের পাশাপাশি আপনাদের যোগ্যতাকে আরো কিভাবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানো যায় সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।’ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে হয়তো আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায় কিংবা দয়া, এই সকল বৈশিষ্টগুলো অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে না। এ ধরনের মানবিক বৈশিষ্টগুলো অর্জনের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া জরুরি।’‘যার আমানতদারি নেই, যার কাছে নিরাপত্তা নেই, সে প্রকৃত ইমানদার নয়। যার ওয়াদা ঠিক নেই, তার কোনো ধর্মই নেই’ পবিত্র হাদিসের এই উক্তি টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সমাজ এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ থেকে অর্জিত আচরণ থেকেই মানুষ তার শুদ্ধ জীবন এবং সুস্থ চিন্তার মানসিক নির্দেশনা পায়।’তিনি বলেন, ‘প্রতিহিংসা এবং সহিংসতা’ মুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে ধর্মের এই উদারনৈতিক শিক্ষণীয় বক্তব্যগুলো অতুলনীয়। আমার বিশ্বাস, একটি নৈতিকতা সমৃদ্ধ মানব সমাজের গঠনের জন্য প্রতিটি ধর্মেই এ ধরণের ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। সুতরাং, একটি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানসিকতা তৈরীর ক্ষেত্রে আপনাদের মতো ধর্মীয় জ্ঞান সম্পন্ন মানুষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুনিয়ার কল্যাণের পাশাপাশি আখেরাতের কল্যাণের জন্য প্রার্থনার কথা পবিত্র কোরআনে কারীমে রয়েছে। ইহকালীন পরকালীন কল্যাণ বিষয়ক নির্দেশনা নিঃসন্দেহে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ীও নির্দেশিত রয়েছে। সুতরাং, ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকেই আপনারা আপনাদের শিক্ষা-দীক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে কিভাবে আরো বেশি করে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারেন সেই চিন্তা এবং চেষ্টা অব্যাহত রাখাও জরুরি।
১৪ ঘন্টা আগে

আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, সবাই বিএনপির নেতা

বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পাঁচ সিটি করপোরেশনে যারা প্রশাসক নিয়োগ পেয়েছেন তারা হলেন—বরিশাল সিটি করপোরেশন: অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন রাজশাহী সিটি করপোরেশন: মো. মাহফুজুর রহমান ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন: মো. রুকুনোজ্জামান রোকন রংপুর সিটি করপোরেশন: মাহফুজ উন নবী চৌধুরী (ডন) কুমিল্লা সিটি করপোরেশন: মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু) সবাই বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতানিয়োগ পাওয়া পাঁচ প্রশাসকই বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতা বলে জানা গেছে ।বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।মাহফুজুর রহমান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।রুকুনোজ্জামান রোকন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব।মাহফুজ উন নবী চৌধুরী (ডন) রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব। তিনি ছাত্রজীবনে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং পরবর্তীতে রংপুর মহানগর যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রংপুরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু) কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি মানবিক সংগঠন ‘বিবেক’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। করোনা মহামারির সময় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ৪৭৬টি লাশ দাফনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।আইনি কাঠামো ও ক্ষমতাপ্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা 'স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪'-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন ।'স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪'-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১) অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যক্তিবর্গকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে ।নবনিযুক্তদের প্রতিক্রিয়াকুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ। আমি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। আমি নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকব। কুমিল্লার সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য আমি সর্বস্তরের নাগরিক ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি"।এদিকে ইউসুফ মোল্লা টিপুকে কুসিকের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষ ও যুবসমাজের প্রত্যাশা বুঝবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সঠিক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আশা করি তিনি সফল হবেন"।দ্বিতীয় দফায় প্রশাসক নিয়োগএর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার । এ নিয়ে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে চট্টগ্রাম বাদে বাকি ১১টিতেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রশাসকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের পর তাঁরা নবনির্বাচিত মেয়রের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
১৪ ঘন্টা আগে
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি ইরানের

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিশানা করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।আজ রোববার (১৫ মার্চ) আইআরজিসির নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু সম্পর্কে বলা হয়, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাঁকে ধাওয়া ও হত্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’যুদ্ধের পটভূমিদুই সপ্তাহ আগে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের ডাক দিয়ে দেশটির সঙ্গে এ যুদ্ধ শুরু করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পুত্র আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।নেতানিয়াহুর পূর্বের বক্তব্যচলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কী ব্যবস্থা নিতে পারে? জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি এই ‘‘সন্ত্রাসী’’ নেতাদের কারোরই জীবনবিমার নিশ্চয়তা দেব না।’আইআরজিসির এই হুমকি ইরান-ইসরায়েল চলমান যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিবৃতি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
১ ঘন্টা আগে
‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা নাঈম আহমাদের

‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা নাঈম আহমাদের

 ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) সদ্যসাবেক প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের নাম রাখা হয়েছে ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি’ (জেডিপি)। আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে এই দল।শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।কেন নতুন দলএ সময় নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি ‘ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তির’ কার্যত অবসানের ফলে এই শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু ইসলামপন্থি দল আংশিকভাবে এই শূন্যতা পূরণ করলেও দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী মূলধারার একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে নতুন রাজনৈতিক বলয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।দলের অবস্থান ও আদর্শনাঈম আহমাদ জানান, নতুন দলের রাজনৈতিক অবস্থান হবে মধ্যপন্থা থেকে মধ্য-ডানপন্থায়। দলের আদর্শ হিসেবে তিনি বাংলাদেশপন্থা, সংস্কারপন্থা এবং বাংলাদেশি বাস্তবতায় সামাজিক গণতন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন।১২ দফা কর্মসূচিতিনি বলেন, জেডিপির অগ্রাধিকারমূলক ১২ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১. ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা২. জুলাই সনদের বাস্তবায়ন৩. বিদেশি আগ্রাসন থেকে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা৪. পানি-প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষা৫. বিনামূল্যে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা৬. সর্বজনীন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা৭. ন্যায্য ও পাচারমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা৮. ব্যবসা-বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি৯. কৃষি ও আইটিসহ নতুন শিল্পের উন্নয়ন১০. পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ১১. প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা১২. নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষাআনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশতিনি জানান, আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র ও কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটবে। আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের আগ পর্যন্ত তিনি জেডিপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিসংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাঈম আহমাদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই জাতীয় দলিল বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা জরুরি।‘শিবির’ ও ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ নিয়ে বক্তব্যনাঈম আহমাদ আরও বলেন, হাসিনা সরকারের সময় ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে অনেক মানুষের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। এখন আবার ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে নতুন করে হয়রানির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কেউ প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করলে এবং তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অপরাধের অভিযোগ বা মামলা না থাকলে তাকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির সংগঠক নজরুল ইসলাম, মো. আহছান উল্লাহ, সাদমান আলম, নাকিবুর রহমান, ইমরান হোসেন রাহাত, মুত্তাকী বিন মনির, নূরা জেরিন, নাজমুন নাহার, আবুল বাশার, রাকিব হাসান, আসাদ মৃধা, অ্যাডভোকেট রুবেল ইসলাম খান, শেখ সাদী, মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইমরান হোসাইন, জিহাদ আরাফাত, এরশাদ আলীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
৯ ঘন্টা আগে
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি ইরানের

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিশানা করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।আজ রোববার (১৫ মার্চ) আইআরজিসির নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু সম্পর্কে বলা হয়, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাঁকে ধাওয়া ও হত্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’যুদ্ধের পটভূমিদুই সপ্তাহ আগে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের ডাক দিয়ে দেশটির সঙ্গে এ যুদ্ধ শুরু করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পুত্র আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।নেতানিয়াহুর পূর্বের বক্তব্যচলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কী ব্যবস্থা নিতে পারে? জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি এই ‘‘সন্ত্রাসী’’ নেতাদের কারোরই জীবনবিমার নিশ্চয়তা দেব না।’আইআরজিসির এই হুমকি ইরান-ইসরায়েল চলমান যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিবৃতি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
১ ঘন্টা আগে
১৫ মার্চ ২০২৬, ০১:১২ পিএম
বিএনপি কি সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি মেনে নিবে?

বিএনপি কি সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি মেনে নিবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
চোখের নীরব ঘাতক গ্লুকোমায় আক্রান্ত ৮০ লাখ মানুষ দেশে

চোখের নীরব ঘাতক গ্লুকোমায় আক্রান্ত ৮০ লাখ মানুষ দেশে

: গ্লুকোমা চোখের এক নীরব ঘাতক রোগ, যা চোখ ও মস্তিষ্কের মধ্যে সংযোগকারী অপটিক স্নায়ুর ক্ষতি করে। বর্তমানে দেশে গ্লুকোমা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ এবং সন্দেহভাজন রোগী ৬০ লাখ। সবমিলে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ চোখের গ্লুকোমাজনিত সমস্যায় ভুগছেন।বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান।গ্লুকোমা কী ও কতটা ভয়াবহঅনুষ্ঠানে সোসাইটির মহাসচিব ডা. শাহনাজ বেগম গ্লুকোমা রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব কিন্তু নিরাময় করা সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীর মতো সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।২০২৪ সালের দেশব্যাপী এক জরিপে দেখা গেছে যে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সি বাংলাদেশীদের মধ্যে গ্লুকোমার প্রবণতা ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যার মধ্যে আনুমানিক ২০ লাখ আক্রান্ত এবং ৬০ লাখ সন্দেহভাজন রোগী। প্রাথমিক ওপেন-এঙ্গেল গ্লুকোমা সবচেয়ে সাধারণ ধরণ (৭৮ শতাংশ) যার প্রকোপ বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে বেশি। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে আক্রান্তদের মধ্যে ৫০ শতাংশই রোগটি সম্পর্কে সচেতন নয়, যার ফলে রোগ নির্ণয় বিলম্বিত হয়।বিশ্ব পরিস্থিতিডা. শাহনাজ বেগম আরও বলেন, গ্লুকোমা বিশ্বে স্থায়ী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বের ৮ কোটি মানুষ গ্লুকোমায় আক্রান্ত যার মধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ গ্লুকোমার কারণে অন্ধ। বিশ্বে ৯০ ভাগ মানুষ এ রোগ সম্পর্কে জানে না, যার মধ্যে বেশিরভাগ স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে। ২০৪০ সাল নাগাদ প্রায় ১২ কোটি মানুষ গ্লুকোমায় আক্রান্ত হবে।ঝুঁকিতে যারাবক্তারা জানান, বাংলাদেশে অন্ধত্বের কারণ হিসেবে ছানি প্রথম এবং গ্লুকোমা দ্বিতীয় কারণ। কিন্তু গ্লুকোমা আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি মানুষই জানেন না যে তারা এই রোগে ভুগছেন। যাদের ঝুঁকি বেশি—৬০ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তিপরিবারের কারো গ্লুকোমা থাকলেডায়াবেটিস রোগীঅতিরিক্ত মাইনাস পাওয়ারের চশমা ব্যবহারকারীলক্ষণ ও শনাক্তকরণশুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না, তবে অগ্রসর হলে নিচের উপসর্গগুলো দেখা যেতে পারে—পার্শ্ববর্তী দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়াচোখের ব্যথাচোখ লাল হওয়াআলোর চারপাশে রংধনু বলয় দেখাচোখের চাপ পরীক্ষা, অপটিক স্নায়ু পরীক্ষা এবং ফিল্ড টেস্টের মাধ্যমে এটি শনাক্ত করা হয়। চোখে ড্রপ, লেজার বা সার্জারির মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়।বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহের কর্মসূচিপ্রতিবছর ৮ থেকে ১৪ মার্চ বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ পালন করা হয়। এবারও বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটি সারা দেশে সপ্তাহব্যাপী গ্লুকোমা সচেতনতামূলক লিফলেট, পোস্টার ও ব্যানার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে।এর অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জিননুরাইন (নিউটন) ধানমন্ডির হারুন আই ফাউন্ডেশন হাসপাতালে সোসাইটির কার্যালয়ের সন্দেহভাজন রোগীদের বিনামূল্যে গ্লুকোমা স্ক্রিনিং ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। এরপর চিকিৎসক রোগীদের নিয়ে সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে জনসাধারণের মধ্যে গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যসভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম। তিনি গ্লুকোমা রোগের গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং গ্লুকোমা রোগ প্রতিরোধে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা কামনা করেন।প্রধান অতিথি বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবউদ্দিন এবং মহাসচিব ডা. মো. জিননুরাইন (নিউটন) গ্লুকোমা রোগের ভয়াবহতা ও চিকিৎসা সম্পর্কে বক্তব্য দেন।অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এম নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মো. আরিফ মিয়া, ডা. এম জিয়াউল করিম, অধ্যাপক ডা. হাসান শহীদ ও অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা সহীদ, বারডেম হাসপাতালের দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. অরুপ রতন চৌধুরী ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম শাহি আলম গ্লুকোমা রোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
৯ ঘন্টা আগে
ঈদুল ফিতরে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

ঈদুল ফিতরে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সব ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সচল রাখতে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), ই-পেমেন্ট গেটওয়ে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ সব ধরনের সেবায় নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।এটিএম বুথে কী নির্দেশনাপ্রজ্ঞাপনে ব্যাংকগুলোকে নিম্নলিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এটিএম বুথগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবেকারিগরি ত্রুটি হলে দ্রুত সমাধান করতে হবেবুথে নিরাপত্তা জোরদার করতে পাহারাদারদের সতর্ক অবস্থানে রাখতে হবেগ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবেডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সচল রাখার নির্দেশনাগ্রাহকদের সুবিধার্থে পিওএস সেবাও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। জালিয়াতি প্রতিরোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার জন্যও ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।এছাড়া ই-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ ও অ্যাকাউন্টভিত্তিক লেনদেনে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ ব্যবস্থা চালু রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসবিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো অঙ্কের লেনদেনের তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহরে আসা মানুষ এবং ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের মধ্যে নগদ লেনদেনের চাহিদা বেড়ে যায়। এই চাহিদা মেটাতে এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য ব্যাগেজ সুবিধা: শুল্ক পরিশোধে টিভি, ফ্রিজ, এসিসহ ১১ পণ্য আনার সুযোগ

বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য ব্যাগেজ সুবিধা: শুল্ক পরিশোধে টিভি, ফ্রিজ, এসিসহ ১১ পণ্য আনার সুযোগ

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘প্যারেন্ট ম্যানেজড অ্যাকাউন্ট’ চালু করল হোয়াটসঅ্যাপ

১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘প্যারেন্ট ম্যানেজড অ্যাকাউন্ট’ চালু করল হোয়াটসঅ্যাপ

 ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ ‘প্যারেন্ট ম্যানেজড অ্যাকাউন্ট’ ফিচার চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এই ফিচারের মাধ্যমে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।কোম্পানির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্যারেন্ট ম্যানেজড অ্যাকাউন্টে শিশুদের জন্য শুধু মেসেজিং ও কলিং ফিচার উপলব্ধ থাকবে। ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই ফিচারের মূল লক্ষ্য।কী কী সুবিধা পাবেন অভিভাবকরাকোম্পানি জানিয়েছে, এই অ্যাকাউন্টগুলোতে ডিফল্টভাবে কঠোর সেটিংস প্রয়োগ করা হবে এবং অভিভাবকদের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ সুবিধা থাকবে। যেমন—কারা তাদের সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন তা নির্ধারণ করতে পারবেন অভিভাবকরাতাদের সন্তানরা কোন গ্রুপে যোগ দিতে পারবে তা নির্ধারণের সুবিধাকোন প্রাইভেসি সেটিংস তারা অ্যাডজাস্ট করতে পারবে তা ঠিক করার ক্ষমতাসুরক্ষা ও সীমাবদ্ধতাহোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, শিশুদের অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথোপকথন এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে। তবে শিশুদের অ্যাকাউন্টে মেটা এআই, চ্যানেল বা স্ট্যাটাসের মতো ফিচারগুলোতে অ্যাক্সেস থাকবে না।কীভাবে কাজ করবেএই অ্যাকাউন্টের জন্য অভিভাবকের একটি ডিভাইস এবং শিশুর একটি ডিভাইসের প্রয়োজন হবে। উভয় অ্যাকাউন্ট কিউআর কোডের মাধ্যমে লিঙ্ক করা যাবে এবং একবার সংযুক্ত হলে, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।বয়স ১৩ হলে কী হবেযখন শিশুর বয়স ১৩ বছর পূর্ণ হবে, তখন অভিভাবকরা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানতে পারবেন যে তারা ম্যানেজড অ্যাকাউন্টটিকে স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করতে পারেন।কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই ফিচারটি সব ব্যবহারকারীর জন্য উপলব্ধ হবে।
১৪ ঘন্টা আগে
ডেমু বদলে কমিউটার, আসছে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন

ডেমু বদলে কমিউটার, আসছে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন

ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি, অকেজো ডেমু ট্রেনকে স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর এবং জনপ্রিয় রুটে বেসরকারি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়নযোগ্য অংশগুলোর কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে চায়।প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ঢাকা-পাবনা-ঢাকা ও ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস চালুর কথা বলা হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে আনা ২০০টি কোচের প্রথম চালান আগামী মে-জুন মাসে এসে পৌঁছাবে। নতুন এই কোচগুলো আসার পরই সম্ভবত নতুন ট্রেন সার্ভিস দুটি চালু করা হবে।পরিকল্পনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো রেলওয়ের অকেজো ও অব্যবহৃত ডেমু ট্রেনগুলোর পুনর্ব্যবহার। সেগুলোকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর করতে আগ্রহী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ডেমু ট্রেন সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে সেরা কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি বাকি ডেমু ট্রেনগুলো সংস্কারের কাজ পাবে।এছাড়া, জনপ্রিয় রুটে বেসরকারি অংশীদারদের সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বেসরকারি ট্রেন চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সভার আলোচ্য সূচিতে আরও রয়েছে:ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডরে যাত্রার সময় ৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা।** টঙ্গী-আখাউড়া ও লাকসাম-চট্টগ্রাম সেকশনের ২২৭ কিলোমিটার আগামী চার বছরের মধ্যে ডুয়েলগেজ লাইনে রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ ও কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপের (সিএলডব্লিউ) আধুনিকায়ন এবং নতুন ইউনিট স্থাপন।  রেলের নিজস্ব জমিতে ইঞ্জিন ও বগি উৎপাদনের নতুন কারখানা স্থাপনে বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি অংশীদারত্ব উৎসাহিত করা।ঢাকা শহরের যানজট কমাতে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস/ওভারপাস নির্মাণ।   শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাড়া ছাড়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, _‘রেলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এসব দিকনির্দেশনার বাইরেও আরও কিছু যুক্ত হতে পারে।’বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, _‘রেল উন্নয়নের উদ্যোগগুলো প্রয়োজনীয়। তবে বাস্তবায়নের আগে রেলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ইঞ্জিন-কোচের সংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তি বোঝার মতো মানবসম্পদও দরকার। ডেমু ট্রেন পুনরায় চালুর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেটি টেকসই ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে কি না তা যাচাই করা জরুরি।’_ তিনি রেল পরিচালনায় অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উদ্যোগগুলো পর্যালোচনার পরামর্শ দেন।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হযরত ওসমান (রাঃ) এর দান আজও বহমান

হযরত ওসমান (রাঃ) এর দান আজও বহমান

মহানবী (সাঃ) নবুওয়াত প্রাপ্তির ১৩তম বছর। মুসলমানরা মাত্র মক্কা ছেড়ে মদিনায় এসেছেন। অচেনা পরিবেশে দেখা দেয় সুপেয় পানির তীব্র সংকট।মদিনায় ‘বিরে রুমা’ বা রুমার কূপ নামে ইহুদিদের একটি কূপ ছিল। ইহুদিরা এ সুযোগে কূপের পানি মুসলমানদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতে শুরু করলেন। সাহাবারা রাসূলকে (স) এ বিষয়ে অবগত করলে তিনি বললেন—“তোমাদের মধ্যে কে আছ যে, এই কূপ মুসলমানদের জন্য ক্রয় করে দেবে। মুসলমানদের এই কূপ যে খরিদ করে দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে ঝর্ণা দান করবেন।”রাসূলের (স) কথায় হজরত ওসমান (র) ইহুদির কাছে এই কূপ ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। ইহুদি তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে তিনি বললেন, পুরো কূপ বিক্রি না করলে অর্ধেক বিক্রি করুন। এতে একদিন কূপের মালিক হবেন তিনি আর আরেক দিন ইহুদি। ওসমান (র) অর্ধেক কূপ ক্রয় করে বিনামূল্যে পানি বিতরণ করতে লাগলেন। লোকজন ওসমানের (র) ক্রয় করা নির্ধারিত দিনে পানি সংগ্রহ করত এবং পরের দিনের জন্যও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত করে রাখত।ইহুদির দিনে কেউ পানি সংগ্রহ করতে যেত না। ফলে তার পানির ব্যবসা মন্দা হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সে নিজেই পুরো কূপ বিক্রির জন্য ওসমানের (র) কাছে প্রস্তাব পেশ করে। ওসমান (র) ৩৫ হাজার রৌপ্য মুদ্রায় কূপটি কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দেন।এক ধনী লোক দ্বিগুণ দামে কূপটি কিনতে চাইলে তিনি বলেন—“আমার চাহিদা এর চেয়ে আরও অনেক বেশি।” লোকটি মূল্য বাড়াতে থাকলে ওসমান (র) বলেন—“আমার আল্লাহ আমাকে প্রতি নেকিতে ১০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।”হজরত ওসমানের (র) শাসনামলে এই কূপের চারপাশে খেজুর বাগান তৈরি হয়। সময়ের চাকা ঘুরে বহু উত্থান-পতনের পর সৌদি রাজপরিবার ক্ষমতায় আসার সময়ে বাগানে খেজুরগাছের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৫০টিতে। সরকার বাগানের চারদিকে দেয়াল তৈরি করে দেয়। এই ভূসম্পত্তি ওসমানের (র) নামে দলিল করে দেয় এবং তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, সৌদি আরবে এখনো তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমানের (র) নামে দলিল করা প্রপার্টি রয়েছে। রয়েছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। আরও মজার বিষয় হলো— মাস ফুরালে এখনো তার নামেই আসে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল।সৌদির কৃষি মন্ত্রণালয় এই বাগানের খেজুর বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ওসমানের (র) অ্যাকাউন্টে জমা রাখে। সঞ্চিত অর্থ দিয়ে মদিনায় একটি বড় প্রপার্টি ক্রয় করা হয়। সেখানে নির্মিত হয় “হোটেল ওসমান বিন আফফান” নামে একটি আবাসিক হোটেল।হোটেলটির নির্মাণকাজ ২০১৪-১৫ সালে সমাপ্ত হয় এবং বর্তমানে এটি চালু রয়েছে। হোটেলের নেমপ্লেটে লেখা আছে—“মালিক সাইয়্যিদুনা উসমান (র)।” যেহেতু তার ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থে এটি নির্মিত, তাই মালিক হিসেবে তার নামই উল্লেখ করা হয়েছে।এই হোটেল থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন রিয়াল আয় হবে বলে আশা করছে সৌদি সরকার। হোটেলের আয়ও ওসমানের (র) অন্য সম্পদের মতো একভাগ এতিম-মিসকিনদের দান করা হয় এবং আরেক ভাগ তার নামে পরিচালিত অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। অর্থের অর্ধেক অসহায়-দুস্থদের মানবতার সেবায় ব্যয় করা হয়, আর অর্ধেক হজরত ওসমানের (র) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সুবহান আল্লাহ। হজরত ওসমান (র) এর দান আল্লাহ এমনভাবে গ্রহণ করেছেন যে, কেয়ামত পর্যন্ত তা চালু থাকবে। তার আখেরাতের অ্যাকাউন্টে তো সওয়াব জমা হচ্ছেই, দুনিয়ার অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সও ফুরাবার নয়।
অনলাইন ডেস্ক