ঢাকা    রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

এশিয়ার প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী বাংলাদেশে আসছেন

এশিয়ার প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও বিশিষ্ট আলেম আল্লামা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী বাংলাদেশে আসছেন। আজ রোববার (১২ জুলাই) থেকে তাঁর ১১ দিনের সফর শুরু হবে। এই সফরকে ঘিরে দেশের আলেম-উলামা, গবেষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ইসলামপ্রেমী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।সফরকালে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত দ্বীনি সেমিনার, ইসলামী চিন্তা ও গবেষণাবিষয়ক মতবিনিময় সভা, তরুণদের উদ্দেশে দাওয়াহভিত্তিক কর্মসূচি এবং আলেম-উলামাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি সমসাময়িক ইসলামী চিন্তা, শিক্ষা ও সমাজসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।আগামী ১৮ জুলাই রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) কনফারেন্সে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। একই অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিতে ‘ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) স্মারকগ্রন্থ’-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হবে।রাজধানীর কর্মসূচির পাশাপাশি চট্টগ্রাম সফরেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। এ সময় তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী দুটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—হাটহাজারী ও পটিয়ার মতো দেশের বৃহৎ দুটি মাদরাসা পরিদর্শন করবেন এবং সেখানকার আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।উল্লেখ্য, ১৯৫৫ সালে ভারতের লখনউয়ে জন্মগ্রহণকারী আল্লামা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী উপমহাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের খাস কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি মুম্বাইয়ের ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং জামিয়া দারুল উলুম ইমামে রব্বানী-এর পরিচালক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।ইসলামী গবেষণা, শিক্ষা, সমসাময়িক মুসলিম সমাজ ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে তাঁর অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও ব্যাপকভাবে সমাদৃত। তাঁর এই সফর বাংলাদেশের ইসলামী চিন্তাচর্চা ও গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬ ঘন্টা আগে

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগ

‘বানের স্রোতের মতো বাড়িতে পানি ঢুকছে। পানির মোটর আর রিজার্ব ট্যাংকে ময়লা পানি ঢুকেছে, কী করবো বুঝতে পারছি না, জলদি আসেন।’ রাজধানীর নিউমার্কেট-সংলগ্ন ৩৮/এ কলেজ এরিয়ার একটি বাড়ির কেয়ারটেকার জামাল উদ্দিন উদ্বিগ্ন কণ্ঠে মোবাইল ফোনে বাড়ির মালিককে এভাবেই জানাচ্ছিলেন বৃষ্টির দুর্ভোগের কথা।বাড়ির মালিক এক স্যানিটারি মিস্ত্রিকে ডেকে আনার আগেই পুরো রিজার্ব ট্যাংক পানিতে ডুবে যায়। চালু পানির মোটরও বন্ধ হয়ে যায়। লাইনে পানি সরবরাহ না থাকায় রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে যায় কিছুক্ষণ পর। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে জামাল উদ্দিন বলেন, ‘রিজার্ব ট্যাংকে ময়লা পানি ঢুকে পড়েছে। পানি না নামা পর্যন্ত কিছুই করার নেই। রিজার্ব ট্যাংক পরিষ্কার না করা পর্যন্ত এ দুর্ভোগ আর কমবে না।’তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর সংস্কারের নামে রাস্তাঘাট খোঁড়া হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। নিয়মিত ট্যাক্স দিলেও নাগরিক সুবিধা পাই না।জামাল উদ্দিন একা নন, রাজধানীর নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকার অসংখ্য বাসিন্দা তার মতো দুর্ভোগে পড়েছেন। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরবাসীর অনেকের প্রশ্ন সংস্কারের সুফল আসলে কোথায়?রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার মধ্যরাত থেকে কখনও প্রবল, কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে পুরো এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বিজিবি-৩ নম্বর গেট থেকে আজিমপুর পুরোনো কবরস্থান গেট, নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।নিউমার্কেটের ভেতর দোকানের সামনেও থই থই করছে পানি। আজিমপুর কবরস্থানের ভেতরেও পানি ঢুকেছে। বিপরীত পাশের আইয়ুব আলী কলোনির গলিতে হাঁটুপানি। নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ও পোস্ট অফিসসংলগ্ন সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে।জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেকের গাড়ির ইঞ্জিন মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়, এতে আরও কষ্ট কয়েক দফা বেড়ে যায়। অনেক অফিসগামী মানুষকে পানিতে ভিজেই চলাচল করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ভ্যানচালকরা ১০ টাকা করে ভাড়া নিয়ে পারাপার করছেন।নিউমার্কেটের দোকান মালিক আলী হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন দোকান খুললেই একটা খরচ থাকে। কিন্তু সকাল থেকে এক টাকাও বিক্রি করতে পারিনি। নিউমার্কেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা এখন নিয়তি। বিভিন্ন সময় সংস্কার হলেও তার সুফল পাই না।’শুধু নিউমার্কেট নয়, মিরপুর, ধানমন্ডি, লালবাগ, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান, গ্রিন রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে টানা বৃষ্টিতে। মিরপুর-১০ থেকে কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া পর্যন্ত সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ধানমন্ডির ১২, ২৭, ৩২ ও ৮/এ নম্বর সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি জমেছে। কারওয়ান বাজার মোড়, হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান ও গ্রিন রোডের অলিগলিতে কোথাও কোথাও হাঁটুপানি।জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি স্কুল-কলেজে নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেননি। কর্মজীবী মানুষেরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরেই সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।এদিকে, ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল আর উজান থেকে নেমে আসা পানিতে থই থই করছে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই জেলায় ৪৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বন্যাজনিত কারণে। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতেও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ।
৬ ঘন্টা আগে

আওয়ামীলীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের প্রকল্প নিয়েছিল: শিক্ষামন্ত্রী

একটি জাতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারমাণবিক বা নিউক্লিয়ার বোমার প্রয়োজন নেই, বরং সেই জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়াই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় গাজীপুরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। যার প্রভাবে ২০০৬ সালের তুলনায় আমাদের বর্তমান শিক্ষা খাত অনেক বেশি পিছিয়ে পড়েছে।'২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'কারিগরি, মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার কমন বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।' তিনি জানান, এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য কমবে এবং সব ধারার শিক্ষার্থী একই মানদণ্ডে মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ পাবে।শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, 'বরিশালে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল করতে মব তৈরি করেছে। তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।' তিনি স্পষ্ট জানান, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নকলের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ওরিয়েন্টেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। ওরিয়েন্টেশনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ৫৪৬ জন নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
২১ ঘন্টা আগে
জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সাথে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতি পর্যালোচনাসভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।আশ্রয়কেন্দ্র ও বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রতি নির্দেশনাএকইসাথে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্দেশআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।' পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সমন্বিত উদ্যোগ ও পর্যবেক্ষণসভায় দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।এসময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।
৫ ঘন্টা আগে
জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সাথে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতি পর্যালোচনাসভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।আশ্রয়কেন্দ্র ও বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রতি নির্দেশনাএকইসাথে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্দেশআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।' পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সমন্বিত উদ্যোগ ও পর্যবেক্ষণসভায় দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।এসময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।
৫ ঘন্টা আগে
গোরক্ষকদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া মুসলিম বিচারক হুমকির মুখে

গোরক্ষকদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া মুসলিম বিচারক হুমকির মুখে

ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৪ জন স্বঘোষিত ‘গোরক্ষককে’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর মুসলিম বিচারক তাবাসসুম খান অনলাইনে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন।গত ১২ জুন মধ্যপ্রদেশের একটি আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান ১৪ জনকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা ও অবৈধভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। ওই সময় ৫০ বছর বয়সি নজির আহমদ রাতে গরু পরিবহণ করছিলেন। পথে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে একদল স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’ তার গাড়ির গতিরোধ করে। গরু পাচারের সন্দেহে নজির আহমদ ও তার দুই সঙ্গীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত নজির আহমদ পরে মারা যান। তার দুই সঙ্গী বেঁচে যান এবং আদালতে ঘটনার সাক্ষ্য দেন।রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান এটিকে ‘স্পষ্ট গণপিটুনির ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন।রায়ের পর বিক্ষোভ ও হুমকিরায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন। তারা দাবি করেন, ‘গরু রক্ষা করার’ কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারককে নিয়ে একের পর এক বিদ্বেষমূলক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী প্রভাবশালী ব্যক্তি বিচারককে সাম্প্রদায়িক ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেন।একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলেন, ১০ দিনের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি না দিলে দেশে ‘রক্তপাত’ ঘটবে।গণমাধ্যমের ভূমিকাডানপন্থী হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সুদর্শন নিউজের’ এক উপস্থাপক দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দর্শকদের ‘গোরক্ষকদের পক্ষে লড়াইয়ে’ নামার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন গোরক্ষা ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। পাঞ্জাবে ‘গৌ রক্ষা পরিষদ’-এর বিক্ষোভে বিচারক তাবাসসুম খানের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে উত্তরপ্রদেশেও ‘রাষ্ট্রীয় বজরং দল’ দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়াভারতের সাবেক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মার্কণ্ডে কাটজু বলেন, এই হামলাগুলো শুধু রায়ের সমালোচনা নয়; বরং বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তার বিচারিক কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা। তার ভাষায়, বিচারকের ধর্ম নয়, রায়ের আইনগত ভিত্তির আলোকে সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন হওয়া উচিত।এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (এসসিএওআরএ) ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ)। সংগঠন দুটির দাবি, হুমকিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এসসিবিএর সভাপতি বিকাশ সিং বলেন, বিচারকদের ভয়ভীতি দেখানো গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিচারক যদি নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।পুলিশের পদক্ষেপপুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার ইউনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক ভিডিওগুলোর উৎস শনাক্তে কাজ করছে।আদালতের নির্দেশমধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিচারক তাবাসসুম খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। একই সঙ্গে তার জন্য দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
৫ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস, যা হেমোরয়েড নামেও পরিচিত, একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি মলদ্বারের রক্তনালী ফুলে যাওয়া এবং প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা বা অত্যধিক চাপের কারণে হতে পারে। পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই হারবাল ঔষধ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেন। হারবাল ঔষধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় এগুলো দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।পাইলসের লক্ষণপাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো অনুভব করে থাকেন:মলত্যাগের সময় রক্তপাতমলদ্বারের চারপাশে চুলকানি ও জ্বালাপোড়ামলদ্বারের কাছাকাছি ফুলে যাওয়া বা পিণ্ডের উপস্থিতিতীব্র ব্যথা, বিশেষত মলত্যাগের সময়পাইলসের হারবাল চিকিৎসার গুরুত্বপ্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হারবাল ঔষধ পাইলসের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার, যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। অস্ত্রোপচার বা কেমিক্যালজাত ওষুধের তুলনায় হারবাল চিকিৎসা অনেকটাই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।পাইলসের জন্য জনপ্রিয় হারবাল ঔষধ১. ত্রিফলা চূর্ণত্রিফলা চূর্ণ তিনটি ফল—আমলকি, হরীতকি এবং বহেরা—থেকে তৈরি একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ঔষধ। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। পাইলসের ক্ষেত্রে এটি মলত্যাগ সহজ করে এবং প্রদাহ কমায়।ব্যবহার পদ্ধতি: প্রতিদিন রাতে এক চামচ ত্রিফলা চূর্ণ উষ্ণ পানির সাথে সেবন করুন।২. অ্যালোভেরাঅ্যালোভেরা একটি প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক ও ব্যথা কমানোর এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটি পাইলসের ফোলাভাব কমাতে এবং মলদ্বারের সংবেদনশীলতা হ্রাস করতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মলদ্বারের চারপাশে প্রয়োগ করুন। এটি ঠান্ডা ও আরামদায়ক প্রভাব প্রদান করে।৩. নিমনিম তার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণের জন্য সুপরিচিত। এটি পাইলসের প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: নিমপাতা সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধোয়া যেতে পারে। অথবা নিমের নির্যাস ধারণ করে এমন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।৪. হলুদহলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন নামক উপাদান, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণসম্পন্ন। এটি পাইলসের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।ব্যবহার পদ্ধতি: এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন। অথবা হলুদবাটা সরাসরি আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা যেতে পারে।৫. ঘৃতকুমারী ও মধুঘৃতকুমারী ও মধুর সংমিশ্রণ পাইলসের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ, যা সংক্রমণ রোধ করে।ব্যবহার পদ্ধতি: ঘৃতকুমারী জেলের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।৬. ওল্ডেনল্যান্ডিয়া ডিফুসা (Oldenlandia Diffusa)এই ভেষজটি চীনা হারবাল মেডিসিনে বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিটিউমার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। পাইলসের ফোলা ও ব্যথা কমাতে এটি বেশ কার্যকর।সতর্কতাহারবাল ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রতিটি মানুষের শরীরের ধরন ভিন্ন, তাই সবার জন্য একই ঔষধ সমান কাজ করে না। গর্ভাবস্থায় বা অন্য কোনো রোগ থাকলে সতর্কতার সাথে হারবাল ঔষধ সেবন করুন।পাইলস একটি অস্বস্তিকর ও বেদনাদায়ক রোগ। তবে সঠিক হারবাল চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এর উপশম সম্ভব। ত্রিফলা, অ্যালোভেরা, নিম, হলুদসহ বিভিন্ন ভেষজ উপাদান পাইলসের চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখায়। প্রাকৃতিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এই সমাধানগুলো গ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদি আরাম পাওয়া যায়। তবে কঠিন বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
০৮ জুলাই ২০২৬
জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান আনছে সরকার

জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান আনছে সরকার

জাল নোট তৈরি, পরিবহন, বাজারজাত বা লেনদেনের পাশাপাশি জেনেশুনে নিজের কাছে জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন আনছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে।আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত আট পৃষ্ঠার এই খসড়া ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জনমত জানতে খসড়াটি বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।খসড়া আইনে জাল নোট তৈরি, তৈরির চেষ্টা, বিশেষ কাগজ, কালি বা নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহ, জাল নোট আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি ও বাজারজাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেনেশুনে জাল নোট নিজের কাছে রাখা বা লেনদেনে ব্যবহার করলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বর্তমানে দণ্ডবিধিসহ বিভিন্ন আইনে জাল মুদ্রাসংক্রান্ত বিধান থাকলেও সেগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে সব ধরনের অপরাধকে একক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।খসড়ায় জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টিং মেশিন, বিশেষ কাগজ, কালি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ এবং আদালতের নির্দেশে সেগুলো ধ্বংস করার বিধানও রাখা হয়েছে। ফলে শুধু জাল নোট উদ্ধার নয়, উৎপাদন ব্যবস্থাও ভেঙে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো জাল মুদ্রার বিভিন্ন ধরন আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—টেম্পার্ড নোট: আসল নোটে কারসাজি করে মূল্যমান বা নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনব্লিচড নোট: রাসায়নিক ব্যবহার করে আসল নোটের ছাপ মুছে নতুনভাবে ছাপানোমিসম্যাচড নোট: বিভিন্ন নোটের অংশ বা সিরিয়াল নম্বর জোড়া দিয়ে নতুন নোট তৈরিএর ফলে সম্পূর্ণ নকল নোটের পাশাপাশি আসল নোট বিকৃত করে প্রতারণার ঘটনাও একই আইনের আওতায় আসবে।খসড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত কারেন্সি অফিসারকে সন্দেহজনক নোট পরীক্ষা করে সেটি জাল কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আদালতে এই প্রত্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।প্রস্তাবিত আইনে অধিকাংশ অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফলে পুলিশ সরাসরি মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করতে পারবে এবং সহজে জামিন বা আপসের সুযোগ থাকবে না।২০১৫ সালের পর থেকে দেশে জাল নোট তৈরির কৌশলে বড় পরিবর্তন এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক কম্পিউটার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রঙিন প্রিন্টার ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল নোট তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। ঈদসহ বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে জাল নোটের বিস্তার রোধে র্যাব, সিআইডি, ডিবি ও বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।বাংলাদেশ ব্যাংকও ব্যাংকগুলোতে নোট যাচাই যন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা, গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে লেনদেনের পরামর্শ দিয়ে আসছে। চলতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে রাজধানীর টঙ্গী ও গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, 'মতামত গ্রহণ শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।'
১৪ মে ২০২৬
নবম বেতনকাঠামো: গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সুবিধা

নবম বেতনকাঠামো: গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সুবিধা

১৪ মে ২০২৬
গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে।মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সেটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারবে না। এছাড়া জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন।যখন কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সেট করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা চাইলে একটি Username Key নির্ধারণ করতে পারবেন, যা জানলে তবেই অন্য কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। তাই একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণে আগে থেকে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচার বন্ধ করতে বা নিজেদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন।হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কারণ ফোন নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।তবে প্রাথমিকভাবে ইউজারনেম অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। এখনই কিউআর কোড স্ক্যান করে শুধু ইউজারনেমের সাহায্যে যোগাযোগের সুবিধা থাকছে না।উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন পদক্ষেপ গোপনীয়তা সচেতন ব্যবহারকারীদের কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
০৯ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

আগামী ৭ আগস্ট ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি দৈনিক ফ্লাইট চালুর আগে আজ থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই রুটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এই দৈনিক ফ্লাইট বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটন সংযোগ আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে রিয়াদ এয়ারের সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সংযোগ নিশ্চিত করবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এই রুট দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান বিমান পরিবহন বাজারগুলোর একটির প্রতি রিয়াদ এয়ারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ-সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, আরএক্স০৭৬৩ ফ্লাইট রিয়াদ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফিরতি আরএক্স০৭৬৪ ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রিয়াদে অবতরণ করবে।রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, নতুন এই সেবা ব্যবসা, অবকাশ যাপন ও শিক্ষাসংক্রান্ত ভ্রমণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য রিয়াদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।এয়ারলাইন্সটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই রুট তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন। ফ্লাইটগুলো রিয়াদ এয়ারের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত হবে। উড়োজাহাজে বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি—এই চারটি কেবিন শ্রেণি থাকবে। এতে সর্বাধুনিক ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস সংযোগ এবং উন্নত যাত্রীসেবা সুবিধা থাকবে।সৌদি আরবের নতুন জাতীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার দেশটির বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বৃহত্তর বিমান পরিবহন কৌশলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
১৪ মে ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন