ঢাকা    সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

বাংলাদেশের পাসপোর্ট বিশ্ব সূচকে ৯৬তম

লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রতিবছর বিশ্বের পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের সক্ষমতা ও ভ্রমণ স্বাধীনতার একটি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড।২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্ট সূচকে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী নাগরিকরা বিশ্বের ৩৬টি দেশ ও অঞ্চলে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছেন।এই সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ, অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং কিছু ক্ষেত্রে ই-ভিসা সুবিধা। ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে দেশগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:এশিয়াভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া এবং তিমুর লিস্তে।ক্যারিবিয়ান অঞ্চলবাহামাস, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।আফ্রিকাবুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কোমোরো আইল্যান্ডস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিচিলিস, সিয়েরা লিওন এবং গাম্বিয়া।ওশেনিয়া অঞ্চলকুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউই, সামোয়া, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু।ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা নীতিতে যেকোনো সময় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভ্রমণের পূর্বে সরকারি ওয়েবসাইট অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান আগের বছরের তুলনায় কিছুটা উন্নত হলেও বিশ্বের শীর্ষ পাসপোর্টগুলোর থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
৩ ঘন্টা আগে

তানজিদের ফিফটিতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

১৪৪ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল মন্থর। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই চড়াও হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। বাঁহাতি ব্যাটার ইমন ফিরলেও তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দেন দলনেতা তাওহীদ হৃদয়। ততক্ষণে জয়ের বন্দরেই অবস্থান করছিল টাইগাররা।কিন্তু শেষ ওভারে দরকার যখন ৫ রান, তখন দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে জয়ের স্বপ্ন দেখান ব্র্যান্ড ইভান্স। পেতে পারতেন হ্যাটট্রিকও তবে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছিলেন শেখ মেহেদী হাসান। কিন্তু বলটি ডেড ঘোষণা করেন আম্পায়ার। পরে আর ভুল করেননি মেহেদী। চার হাঁকিয়ে দলকে জয়ের স্বাদ এনে দেন তিনি।এদিকে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে সংগ্রহ করেছিল ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান। পরে সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে তানজিদ তামিমের ব্যাটে ভর করে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা।শুরুতে ধাক্কা, পরে জয়ের ভিত১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। আর পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে মাত্র ৩০ রান। তবে পরের উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে তোলেন ৫৫ রান। হৃদয়ের সঙ্গে তানজিদের জুটিটা ছিল ৬৩ রানের। ততক্ষণে জয়ের ভিত পেয়ে যায় টাইগাররা।ইমন ও হৃদয় দুজনই ফিরেছেন ২৪ রান করে। আর আউট হওয়ার আগে ১০ রান করেন ইয়াসির আলি রাব্বি। শেষ ওভারে ফেরেন মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন। এদিকে শেখ মেহেদীকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ। ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণের পর তিনি অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। আর ৪ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী।জিম্বাবুয়ের ইনিংসবুলাওয়েতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। দলীয় ৬ রানেই ওপেনিং জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি পায় স্বাগতিকরা। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৪৭ রানে থামেন বেনেট।এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মায়ার্স। তার ইনিংস থামে ৭২ রানে। ৫২ বলে খেলা এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো। এরপর বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত আর কেউই ব্যক্তিগত রান দুই অঙ্কের ঘরে নিয়ে যেতে পারেননি। দলনেতা সিকান্দার রাজা ৩, রায়ার্ন বার্ল ৭, ব্র্যান্ড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদানদে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। আর মিল্টন সুম্বা ৪ ও মাপোসা শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন তিনজন বোলার। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দল সিরিজ জয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। তানজিদ হাসান তামিম তার দারুণ ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
৩ ঘন্টা আগে

শাপলা চত্বরে হেফাজত সমাবেশে হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন। প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীরের নামও রয়েছে। সেই সঙ্গে তৎকালীন পুলিশ ও র্যাব প্রধানসহ ডিএমপি কমিশনারকেও এতে আসামি করা হয়েছে।রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি হাতে পায় প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেটি পর্যালোচনার কাজ চলছে।আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এছাড়া এ মামলার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে কিছুক্ষণ পর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে।চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।এদিকে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের মামলার অগ্রগতি জানতে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এসেছেন দলটির শীর্ষ নেতাসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল। রোববার সকালে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর সাহেব) নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দলটি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে শাপলা চত্বর খালি করে। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আগামী ২১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে তা দাখিল করা হবে। এরপর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও বিচার কার্যক্রম শুরু করবে। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৩ ঘন্টা আগে
ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'-কে।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৩ ঘন্টা আগে
তুরস্কের সরকারি সফরে গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান

তুরস্কের সরকারি সফরে গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান

তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে দেশটির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তিনি তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।আইএসপিআর জানায়, সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ ও জোরদারের লক্ষ্যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন।সফর শেষে আগামী সপ্তাহে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থিত তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সফর দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১২ ঘন্টা আগে
মালিতে তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের হামলায় ৫০ সেনা নিহত

মালিতে তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের হামলায় ৫০ সেনা নিহত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। আরও অন্তত ২৪ সেনাকে বন্দী করা হয়েছে বলে স্থানীয় ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।রোববার (১৯ জুলাই) এএফপিকে সূত্রগুলো জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় শহর আনেফিস থেকে সেনারা সরে যাওয়ার সময় তাদের বহরে হামলা চালানো হয়।ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, 'হামলায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। অন্তত ২৪ জনকে বন্দী করা হয়েছে।'স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মালির সেনাবাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি এটি।এদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে মালি সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। তারা দেশটির উত্তরের বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসছে।মালির সামরিক জান্তা এখনও এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সেনা সদর দপ্তর থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং মালির স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।
৩ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সংশয় থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং নিরাপদ উৎপাদন, সঠিক সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করা হলে ব্রয়লার মুরগি উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস হতে পারে।বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবারের একটি হলো ব্রয়লার মুরগি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাহানাজ বলেন, ব্রয়লার মুরগি নিজে কোনোভাবেই ক্ষতিকর নয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।তার ভাষ্য, ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ কি না, তা নির্ভর করে কীভাবে এটি পালন করা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং জবাই ও সংরক্ষণের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।অ্যান্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে ডা. সাহানাজ জানান, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। তবে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কিংবা জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিরতি না মানলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে হরমোন ব্যবহার করা হয়—এমন ধারণা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, এ দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আধুনিক ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি মূলত উন্নত জাত, সুষম খাদ্য এবং উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফল।তিনি আরও বলেন, খামারে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কিংবা জবাই ও সংরক্ষণের সময় অসতর্কতা থাকলে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাংসে থাকতে পারে। তাই ব্রয়লার মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত।ডা. সাহানাজের মতে, চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, দেশি ও ব্রয়লার—উভয় ধরনের মুরগিই ভালো প্রোটিনের উৎস। দেশি মুরগির স্বাদ ও গঠন ভিন্ন হলেও পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। মূল বিষয় হলো নিরাপদ উৎপাদন, ভালো মান এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্না।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্রয়লার মুরগি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন:বিশ্বস্ত দোকান বা অনুমোদিত খামার থেকে মুরগি কেনাদুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলাকাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখামাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাবিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব।
১৫ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য চাপে রয়েছে। আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।সফর শেষে আইভো ক্রজনার বলেন, 'বাংলাদেশ এখনও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এসব চ্যালেঞ্জকে আরও তীব্র করেছে'। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে দেশে আবারও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আগেই সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।আইএমএফ জানিয়েছে, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক খাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী রয়েছে, তারপরও ভারসাম্য রক্ষায় চাপ অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটি আরও মন্তব্য করেছে যে ব্যাংকিং খাতের চাপও এখনও উদ্বেগজনক।প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কাবাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাস উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির কর্মীদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ২০২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, আর্থিক সক্ষমতা সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।আইএমএফের মতে, ব্যাংকিং খাতের চাপ, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক খাতের ঝুঁকি একে অপরকে আরও তীব্র করতে পারে। নতুন সম্ভাব্য আইএমএফ কর্মসূচির পরিধি, অর্থায়নের আকার এবং এর সঙ্গে যুক্ত সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
১০ জুন ২০২৬
চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

১০ জুন ২০২৬
ফেসবুক-মেসেঞ্জার অচল, ওয়েব ভার্সনে বিপত্তি

ফেসবুক-মেসেঞ্জার অচল, ওয়েব ভার্সনে বিপত্তি

হঠাৎ করেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছেন বিশ্বজুড়ে অনেক ব্যবহারকারী। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১টা ৪০-এর পর থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে অচল অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেকে । মোবাইল অ্যাপে সমস্যা না থাকলেও ওয়েব ভার্সনে বার্তা পাঠানো, নিউজফিড দেখার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সমস্যা ।ওয়েব ভার্সনে প্রবেশের চেষ্টা করলে অনেককে 'অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ' বা 'আপনি যে লিংকে ক্লিক করেছেন সেটি হয়তো ভাঙা বা পৃষ্ঠাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে'—এ ধরনের বার্তা দেখতে হচ্ছে । মেসেঞ্জারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা; পাঠানো বার্তা যাচ্ছে না বা দীর্ঘ সময় ধরে 'সেন্ডিং' দেখাচ্ছে । তবে ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তেমন কোনো সমস্যা লক্ষ্য করা যায়নি ।ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ওপর নজর রাখা ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ৩ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী সমস্যার কথা জানিয়েছেন । এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, বিশ্বব্যাপী দেখা যাচ্ছে ।ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাববিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার প্রভাব শুধু বিনোদন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে অনেক ছোট ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোক্তা, সংবাদমাধ্যম ও ফ্রিল্যান্সাররা ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কয়েক ঘণ্টার সমস্যাও তাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।মেটা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমস্যার কারণ বা সমাধানের বিষয়ে কিছু জানায়নি । তবে জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে মেসেঞ্জারের স্ট্যান্ডঅ্যালোন ওয়েবসাইটটি ধাপে ধাপে বন্ধ করে ফেসবুকের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে । এই পরিবর্তনের কারণেই সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
১০ ঘন্টা আগে
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'-কে।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১০ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন