ঢাকা    শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম

 ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে অবসরগামী ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।ডিএমপি সূত্র জানায়, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার পর সরকার আর কাউকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়নি। সে সময় পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে মো. সরওয়ার ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব পান। বৃহস্পতিবার তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। চাকরি জীবনের শেষ দিনে তিনি অবসরকালীন ছুটিতে যান।নিয়মানুযায়ী, পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম ডিএমপির নতুন ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। পুলিশের ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের এই কর্মকর্তাকে ‘নীরব কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর একজন সংগঠক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীকে পুনরায় সংগঠিত ও কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে তার ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণ শুধু একটি প্রশাসনিক পদায়ন নয়, বরং অভিজ্ঞতা, সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা এবং মানবিক নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা বহন করে। তিনি একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। 
৩ ঘন্টা আগে

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেন শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। বেইজিংয়ে দুই নেতার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না এবং জ্বালানি সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালির ওপর কোনো প্রকার সামরিক নিয়ন্ত্রণ বা টোল আরোপের বিরোধী বেইজিং। হোয়াইট হাউসের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে সে বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল, এলএনজি ও সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি ২০০টি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা গেছে। শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে সামান্যতম ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধে চীনের অবস্থান অত্যন্ত প্রভাবশালী। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় তাদের মধ্যস্থতার প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বেইজিং তাদের প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে একটি গ্রহণযোগ্য পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করাবে।শেষ অনুচ্ছেদে বলা যায়, বৈঠকে সহযোগিতার নতুন দুয়ার খুললেও তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা দুই পরাশক্তির সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে। ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চীনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
৩ ঘন্টা আগে

নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু ইসির, ডিসেম্বর থেকে ভোটাভুটির সম্ভাবনা

নির্দলীয় স্থানীয় সরকারের (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো। ইতিমধ্যে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। নির্দলীয় এই নির্বাচনে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে ইসি।আইনি সংশোধনী ও প্রস্তুতিআগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আইনি সংশোধনীর কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রচারণায় পোস্টার থাকছে না—এমনটাই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইসির নীতিনির্ধারকরা। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন ইসির সংশ্লিষ্টরা।নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, কমিশনের সামনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা। এ নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাদেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯০টির মতো উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টির মতো পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এগুলো এখনই নির্বাচন করার উপযোগী। এসব নির্বাচন আয়োজনে আইনগত কোনো জটিলতা নেই। এছাড়া সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার যে ১৮০ দিন সময়সীমা রয়েছে, তা এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরো ২ হাজার ৮০০-এর বেশি ইউনিয়ন পরিষদের সময়সীমা শুরু হবে।দলীয় প্রতীক বাতিল, নির্দলীয় নির্বাচনজুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিলের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন আইনের ৩২(ক), পৌরসভা আইনের ২০(ক), উপজেলা পরিষদ আইনের ১৬(ক), এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ১৯(ক) ধারা বাতিল করে সংসদে পৃথক আইন পাশ হয়। ঐ আইন অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনের পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনার কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের আগে এসব সংশোধনী আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।মাঠ প্রশাসনকে প্রস্তুতির নির্দেশজেলা প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছে ইসি। তাদেরকে আরো বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে মানের হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই মানের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চার নির্বাচন কমিশনার তাদের বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন। এর মধ্য দিয়ে মূলত মাঠ প্রশাসনকে নির্বাচনের আগাম বার্তা দিল কমিশন।নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনস্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ না রাখার পক্ষে ইসি। ফলে পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় মনোনয়নপত্রের ফরমে পরিবর্তন, প্রার্থীর বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করা এবং দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হওয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত করার বিধান বাতিল করতে যাচ্ছে ইসি।আচরণ বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের নতুন বিধান যুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি।প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হচ্ছেইসির কর্মকর্তারা জানান, পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধনী আসলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হবে। নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এসব নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের প্রয়োজন হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষরসহ নামের তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা থাকবে না। ফলে আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ প্রার্থী হতে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। সব প্রার্থী নির্দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন।রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতিবিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তাদের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে সয়লাব হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অলিগলি ও জনসমাগমস্থল।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলীয় প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দলীয় পূর্ণ শক্তি নিয়ে সবাই ভোটের মাঠে নামবে।’জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনে তরুণ নির্ভর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’অন্যদিকে, এনসিপি প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা ও রাজনীতির বাইরে থাকা যোগ্য ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করে এই প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
১৫০ বছরের পুরাতন পৌরসভা এখন বগুড়া সিটি করপোরেশন

১৫০ বছরের পুরাতন পৌরসভা এখন বগুড়া সিটি করপোরেশন

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়া অবশেষে সিটি করপোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা এখন দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশনে রূপ নিল। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটে। এ খবরে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।গেজেটে যা বলা হয়েছেরাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত গেজেটে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩(৩) অনুযায়ী বর্তমান বগুড়া পৌরসভা এবং আশপাশের সম্প্রসারিত এলাকা যুক্ত করে নতুন এ সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে। নতুন সিটি করপোরেশনের সীমানা ও ওয়ার্ড বিন্যাসও নির্ধারণ করা হয়েছে।ওয়ার্ড ও আওতাধীন এলাকানতুন সিটি করপোরেশনে মোট ২১টি ওয়ার্ড রাখা হয়েছে। এতে বগুড়া পৌর এলাকার পাশাপাশি সদর উপজেলা ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফুলবাড়ি, নিশিন্দারা, কাটনারপাড়া, সুত্রাপুর, চকবৃন্দাবন, মালগ্রাম, ঠনঠনিয়া, গাড়ামাড়া, মালতিনগর, লতিফপুর, ফুলদীঘি, বেতগাড়ীসহ আরও কয়েকটি অঞ্চল।জনমত গ্রহণের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তএর আগে সম্প্রসারিত এলাকা নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণ করা হয়। পরে মতামত ও প্রশাসনিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের আশাস্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন এ প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে নগদ ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণার দাবিতে আলোচনা চলছিল।মেয়র পদে দৌড়ঝাঁপ শুরুদেশের ১৩তম বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ হওয়ার আগে থেকেই এর প্রশাসক বা মেয়র হওয়ার জন্য বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১০ জন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বা তাদের সমর্থকদের মাধ্যমে সিটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার টানিয়ে দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ পত্রিকায় সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশ করাচ্ছেন। ঢাকায় দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন।সম্ভাব্য প্রার্থীরাসম্ভাব্য প্রশাসক বা মেয়র হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে—অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান (বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য)সাইফুল ইসলাম (জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)জয়নাল আবেদীন চাঁন (জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক)ফজলুল বারী তালুকদার বেলালআলী আজগর তালুকদার হেনাহামিদুল হক চৌধুরী হিরু (জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি)কেএম খায়রুল বাশার (জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক)জাহাঙ্গীর আলম (জেলা যুবদলের সভাপতি)এছাড়া জামায়াতে ইসলামীও বগুড়া সিটিতে এককভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে কার ভাগ্যে এই সম্মানজনক পদটি অপেক্ষা করছে, তা কেবল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানেন।
২ ঘন্টা আগে
নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু ইসির, ডিসেম্বর থেকে ভোটাভুটির সম্ভাবনা

নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু ইসির, ডিসেম্বর থেকে ভোটাভুটির সম্ভাবনা

নির্দলীয় স্থানীয় সরকারের (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো। ইতিমধ্যে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। নির্দলীয় এই নির্বাচনে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে ইসি।আইনি সংশোধনী ও প্রস্তুতিআগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আইনি সংশোধনীর কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রচারণায় পোস্টার থাকছে না—এমনটাই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইসির নীতিনির্ধারকরা। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন ইসির সংশ্লিষ্টরা।নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, কমিশনের সামনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা। এ নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাদেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯০টির মতো উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টির মতো পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এগুলো এখনই নির্বাচন করার উপযোগী। এসব নির্বাচন আয়োজনে আইনগত কোনো জটিলতা নেই। এছাড়া সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার যে ১৮০ দিন সময়সীমা রয়েছে, তা এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরো ২ হাজার ৮০০-এর বেশি ইউনিয়ন পরিষদের সময়সীমা শুরু হবে।দলীয় প্রতীক বাতিল, নির্দলীয় নির্বাচনজুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিলের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন আইনের ৩২(ক), পৌরসভা আইনের ২০(ক), উপজেলা পরিষদ আইনের ১৬(ক), এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ১৯(ক) ধারা বাতিল করে সংসদে পৃথক আইন পাশ হয়। ঐ আইন অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনের পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনার কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের আগে এসব সংশোধনী আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।মাঠ প্রশাসনকে প্রস্তুতির নির্দেশজেলা প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছে ইসি। তাদেরকে আরো বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে মানের হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই মানের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চার নির্বাচন কমিশনার তাদের বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন। এর মধ্য দিয়ে মূলত মাঠ প্রশাসনকে নির্বাচনের আগাম বার্তা দিল কমিশন।নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনস্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ না রাখার পক্ষে ইসি। ফলে পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় মনোনয়নপত্রের ফরমে পরিবর্তন, প্রার্থীর বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করা এবং দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হওয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত করার বিধান বাতিল করতে যাচ্ছে ইসি।আচরণ বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের নতুন বিধান যুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি।প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হচ্ছেইসির কর্মকর্তারা জানান, পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধনী আসলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হবে। নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এসব নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের প্রয়োজন হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষরসহ নামের তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা থাকবে না। ফলে আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ প্রার্থী হতে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। সব প্রার্থী নির্দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন।রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতিবিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তাদের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে সয়লাব হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অলিগলি ও জনসমাগমস্থল।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলীয় প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দলীয় পূর্ণ শক্তি নিয়ে সবাই ভোটের মাঠে নামবে।’জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনে তরুণ নির্ভর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’অন্যদিকে, এনসিপি প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা ও রাজনীতির বাইরে থাকা যোগ্য ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করে এই প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও অবকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ভারত-আমিরাতের

প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও অবকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ভারত-আমিরাতের

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অবকাঠামো বিনিয়োগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে ভারতীয় অবকাঠামো খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে আবুধাবি।রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এটি তার পাঁচ দেশ সফরের প্রথম ধাপ। শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি বিনিময় করা হয়।প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারচুক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভারত-আমিরাত কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কাঠামো সংক্রান্ত সমঝোতা। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন মাইলফলকএছাড়া কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ নিয়েও দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এতে উপসাগরীয় দেশটির সঙ্গে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।জাহাজ মেরামত শিল্পকেন্দ্র স্থাপনআরেকটি চুক্তির আওতায় ভারতের গুজরাটের ভাদিনারে জাহাজ মেরামত শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য সামুদ্রিক অবকাঠামো ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানো।৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগপৃথকভাবে আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে, তারা ভারতের অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি আরবিএল ব্যাংক এবং সাম্মান ক্যাপিটালে মোট ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোরআমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে মোদি আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে ‘সংলাপ ও কূটনীতি’র গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য দেখানোর জন্য আমিরাতের প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেন।সেইসঙ্গে আমিরাতের ওপর হওয়া হামলার নিন্দা জানিয়ে মোদি বলেন, ‘ভারত সবসময় আমিরাতের পাশে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, আমিরাতে বসবাসরত ভারতীয়দের দেশটির সরকার ‘পরিবারের সদস্যের মতো’ দেখভাল করছে।এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অঞ্চলের উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগই সবচেয়ে জরুরি।
৪২ মিনিট আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে নিহত ৪৩৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ জন।একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।নিবিড় পর্যবেক্ষণে সরকারহামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানের জ্বর, সর্দি ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
২৩ ঘন্টা আগে
নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের খসড়া প্রকাশ

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আশা জাগ্রত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এই কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত এই নবম পে স্কেলের একটি সম্ভাব্য খসড়া নিয়ে বর্তমানে সরকারি মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, তবুও এতে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।প্রস্তাবিত বেতন স্কেলের খসড়াগ্রেড ও বেতন স্কেল (টাকা):০১: ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)০২: ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০০৩: ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০০৪: ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০০৫: ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০০৬: ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০০৭: ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০০৮: ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০০৯: ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০১০: ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০১১: ২৫,০০০ – ৬০,৫০০১২: ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০১৩: ২৪,০০০ – ৫৮,০০০১৪: ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০১৫: ২২,৮০০ – ৫৫,২০০১৬: ২১,৯০০ – ৫২,৯০০১৭: ২১,৪০০ – ৫১,৯০০১৮: ২১,০০০ – ৫০,৯০০১৯: ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০২০: ২০,০০০ – ৪৮,৪০০উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার একটি অংশ মাত্র এবং এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। 
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

০৬ এপ্রিল ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৬ এপ্রিল ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার