ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফকে ছয়টি গুলি, হত্যা মামলা দায়ের

নেত্রকোনা: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের (৪৪) লাশের ময়নাতদন্তে শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমার করা মামলায় সাত থেকে আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।গতকাল শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে আলিফের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লুৎফুজ্জামানের মরদেহ দাফন করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান। তিনি বলেন, আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ সাংবাদিকদের জানান, লুৎফুজ্জামানের বুকে তিনটি গুলির আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। অন্যটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ছাড়া কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে একটি গুলি মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি দুটি গুলির একটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে ওই চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন লুৎফুজ্জামান। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। থাকতেন তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে।স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথাগতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে আটটার দিকে দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ানকে স্ত্রীর কোলে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হন লুৎফুজ্জামান। বের হওয়ার আগে স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে বলেছিলেন, “বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।” কে জানত, সেটিই হবে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা। রাতের খাবার খেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী। এর মধ্যে শুনলেন স্বামীর মৃত্যুসংবাদ।স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন আনন্দিতা। ছেলেকে কোলে নিয়ে স্বামীর মরদেহের পাশে বসে কেঁদে কেঁদে তিনি বলেন, “এভাবে যে একজন মানুষকে কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলি করে মেরে ফেলবে, তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি। বাচ্চাদের যখন ভাত খাওয়াচ্ছিলাম, তখন গুলির শব্দ পেয়ে প্রথমে ভাবছিলাম কেউ হয়তো ফটকা ফুটাচ্ছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মানুষ বলাবলি করল, তাকে মেরে ফেলছে।”স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আনন্দিতা বলেন, “আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাব না। তবে যারা তাকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” তাদের দুই সন্তান—চার বছর বয়সী মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ান।যেভাবে হত্যা করা হয়প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আটটার দিকে তেলনজিয়া এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চা পান করেন আলিফ। চা খেয়ে বিরিশিরি উতরাইল বাজারের উদ্দেশে বের হন। নিজের মুঠোফোন দোকানে ফেলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে মিনিট তিনেকের মধ্যে আবার ফিরে আসেন। মুঠোফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক ওই দোকানে এসে দোকানদারের কাছে সিগারেট চান। এরপর আলিফকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন তারা। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।তেলনজিয়ার ওই দোকানি রবিন রাংসা বলেন, “আমি তখন চায়ের কাপ ধুচ্ছিলাম। লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে যাওয়ার সময় মুঠোফোন ফেলে যাওয়ায় আবার ফিরে আসেন। তিনি ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক এসে আমার কাছে সিগারেট চায়। এরপর লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে। আমি পরপর চারটি গুলির শব্দ শুনেছি। ভয়ে বাসায় গিয়ে ঢুকে পড়ি।” তার ভাষ্য, দুই যুবকের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হবে। একজনের পরনে লুঙ্গি, অন্যজনের পরনে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ছিল। কাছ থেকেই গুলি করা হয়েছে।লুৎফুজ্জামানের ফুফুশাশুড়ি নিরালা রেমা ও রুলি রেমা জানান, তারা তখন ঘরের বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনে দোকানের কাছে গিয়ে দেখেন লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে। তার মাথা, গলা ও বুক থেকে রক্ত ঝরছে।পুলিশের তৎপরতাঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাহফুজা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান এবং দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাতসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর জেলার সব থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।আগেও হামলার শিকারএর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করেছিল। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়। ঘটনা আলিফ বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ নাম উল্লেখ করা দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত রয়েছে।আলিফের বড় ভাই শহীদ ইসলাম ফকির বলেন, সাংবাদিকতা করার কারণে তার ভাইয়ের অনেক শত্রু হয়েছিল। তার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
১৬ ঘন্টা আগে

গয়না-বিনিয়োগের বাইরেও সোনা ব্যবহার হচ্ছে খাবার, প্রযুক্তি, মহাকাশ ও চিকিৎসায়

ঢাকা: সোনার কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে গয়না কিংবা মূল্যবান ধাতু হিসেবে এর ব্যবহার। তবে অলংকার ও বিনিয়োগের বাইরেও আধুনিক জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সোনার ব্যবহার রয়েছে। স্মার্টফোন ও কম্পিউটার থেকে শুরু করে মহাকাশযান, চিকিৎসা এমনকি খাবারেও ব্যবহৃত হয় এই মূল্যবান ধাতু।সোনা সহজে ক্ষয় বা মরিচা ধরে না। একই সঙ্গে এটি বিদ্যুৎ পরিবহনে কার্যকর এবং অত্যন্ত পাতলা পাত বা সূক্ষ্ম তারে রূপ দেওয়া যায়। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই প্রযুক্তি থেকে চিকিৎসা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সোনার ব্যবহার দেখা যায়।খাবারেও ব্যবহৃত হয় সোনাসোনা শুধু পরার জন্য নয়, খাওয়ার জন্যও ব্যবহার করা হয়। খাবারে ব্যবহৃত সোনা সাধারণত ২২ থেকে ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ এবং অত্যন্ত পাতলা হয়। ‘এডিবল গোল্ড’ নামে পরিচিত এই সোনা সুশি, মিষ্টি, চকলেট, কেক, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন দামি খাবার সাজাতে ব্যবহার করা হয়।ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাবারে ব্যবহৃত সোনা ‘ই১৭৫’ নামে অনুমোদিত একটি ফুড অ্যাডিটিভ। তবে সোনা খেলে বিশেষ কোনো পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়—এমন প্রমাণ নেই। ধাতব সোনার দ্রাব্যতা খুব কম হওয়ায় মানুষের পরিপাকতন্ত্রে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে শোষিতও হয় না।মূলত খাবারে সোনা ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো সৌন্দর্য ও বিলাসিতার প্রকাশ। দক্ষিণ এশিয়ায় মিষ্টি সাজাতে সোনা বা রুপার পাত ব্যবহারেরও দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে, যা সাধারণভাবে ‘ভারক’ বা ‘ওয়ার্ক’ নামে পরিচিত।খাবারে সোনা ব্যবহারের স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ২০২৩ সালে ‘পার্টিকল অ্যান্ড ফাইবার টক্সিকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত ইঁদুরের ওপর ৯০ দিনের এক গবেষণায় সোনা খাওয়ানোর পর লিভার, প্লীহা বা অন্ত্রে সরাসরি কোনো ক্ষতি পাওয়া যায়নি। তবে অন্ত্রের জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা হয়েছিল।স্মার্টফোন ও কম্পিউটারেও রয়েছে সোনাহাতের স্মার্টফোনে থাকা সোনার পরিমাণ খুবই সামান্য হলেও এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার, ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সার্কিট বোর্ড, কানেক্টর, সুইচ ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সংযোগস্থলেও সোনা ব্যবহার করা হয়।সোনার মধ্য দিয়ে সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং এতে সহজে মরিচা বা ক্ষয় ধরে না। ফলে দীর্ঘ সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ কার্যকর রাখতে এটি উপযোগী।একেকটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রে সোনার পরিমাণ অল্প হলেও বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে মোট সোনার ব্যবহার কম নয়। পুরোনো মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে সোনা সংগ্রহ করে পুনরায় ব্যবহারের ব্যবস্থাও রয়েছে।মহাকাশ প্রযুক্তিতেও সোনার ব্যবহারমহাকাশ গবেষণাতেও সোনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আলো ও তাপ বিকিরণ ভালোভাবে প্রতিফলিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন উজ্জ্বলতা ধরে রাখার ক্ষমতার কারণে মহাকাশ প্রযুক্তিতে এটি ব্যবহার করা হয়।জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের আয়নাগুলোতে সোনার অত্যন্ত পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইনফ্রারেড আলো প্রতিফলনে সোনা কার্যকর হওয়ায় টেলিস্কোপটি দূরবর্তী নক্ষত্র, ছায়াপথ ও মহাজাগতিক বস্তুর তথ্য সংগ্রহে এটি ব্যবহার করে।মহাকাশচারীদের হেলমেটেও সোনার ব্যবহার রয়েছে। হেলমেটের চোখ-মুখ ঢেকে রাখা স্বচ্ছ অংশে সোনার পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়, যা অনেকটা সানগ্লাসের মতো কাজ করে এবং সূর্যের তীব্র ও ক্ষতিকর রশ্মি থেকে মহাকাশচারীদের সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।এ ছাড়া সোনার বিদ্যুৎ পরিবাহী ক্ষমতা ও ক্ষয় প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে মহাকাশযানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক সংযোগেও এটি ব্যবহৃত হয়।রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসায় সোনার ব্যবহারচিকিৎসাবিজ্ঞানে সোনার ব্যবহারও নতুন নয়। একসময় সোনার কিছু যৌগ বা ‘গোল্ড সল্ট’ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে আরও কার্যকর ওষুধ পাওয়ায় এ ক্ষেত্রে সোনার ব্যবহার অনেক কমে গেছে।তবে আধুনিক চিকিৎসায় সোনার নতুন ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে। অতি ক্ষুদ্র ‘গোল্ড ন্যানোপার্টিকল’ ব্যবহার করে রোগ শনাক্তকরণ, শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এবং ক্যান্সার শনাক্ত ও চিকিৎসার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে।কিছু দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিটেও গোল্ড ন্যানোপার্টিকল ব্যবহার করা হয়। এসব কিটে ফলাফল বোঝাতে যে রঙিন রেখা দেখা যায়, তা তৈরিতে সোনার ক্ষুদ্র কণা ভূমিকা রাখে।দাঁতের চিকিৎসাতেও দীর্ঘদিন ধরে সোনা ব্যবহার হয়ে আসছে। সহজে ক্ষয় না হওয়া ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে দাঁত মেরামত বা পুনর্গঠনে সোনা ও সোনার সংকর ধাতু ব্যবহার করা হয়। তবে উচ্চমূল্য এবং বিকল্প উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে এ ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কমেছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভেও সোনাঅলংকার, প্রযুক্তি কিংবা চিকিৎসার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও সোনার গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি রিজার্ভ হিসেবে বিপুল পরিমাণ সোনা সংরক্ষণ করে।একসময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের বড় অংশই সোনা দিয়ে গঠিত ছিল। এমনকি বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মূল্যও তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা সোনার মজুতের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।বর্তমানেও বহু দেশ তাদের বৈদেশিক সম্পদের একটি অংশ সোনা হিসেবে সংরক্ষণ করে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সোনার রিজার্ভ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। দেশটির মজুতে রয়েছে প্রায় ৮ হাজার ১৩৩ টন সোনা।আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৬ হাজার ৪০০ টন সোনা ছিল। এসব দেশের বৈদেশিক রিজার্ভের ৭০ শতাংশের বেশি সোনা দিয়ে গঠিত।সোনা কিনছে চীনওসোনার রিজার্ভ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের তৎপরতাও উল্লেখযোগ্য। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েক বছর ধরে অন্যান্য সম্পদের পাশাপাশি সোনার মজুত বাড়াচ্ছে।ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে চীনের সোনার রিজার্ভ ছিল প্রায় ২ হাজার ২৭৯ টন। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটি আরও প্রায় ১৯ টন সোনা কিনেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো সোনা কেনেনি। এর আগে ২০২৩ সালেও চীন প্রায় ৮৮ টন সোনা কিনেছিল।গয়না ও বিনিয়োগের পরিচিত ব্যবহারের বাইরে এসব ক্ষেত্র দেখিয়ে দেয়, আধুনিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও মহাকাশ গবেষণায় সোনার গুরুত্ব কতটা বিস্তৃত।
১৭ ঘন্টা আগে

সাত বছর পর ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ, আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছে টাইগাররা

আবুধাবি: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের একমাত্র ট্রফিটা এসেছিল ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই। নিজেদের দীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সেই একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল টাইগাররা। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে জিতেছিল শিরোপা।এরপর কেটে গেছে সাত বছরের বেশি সময়। এই সময়ে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বড় আসরে খেলেছে দল; কিন্তু তিন দলের ওয়ানডে সিরিজে আর দেখা যায়নি। সেই সাথে দেখা মেলেনি শিরোপারও।আজ শনিবার শেষ হচ্ছে সেই অপেক্ষা। আবুধাবিতে ফের ত্রিদেশীয় সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। আর এই সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে লিটন দাসের ওয়ানডে অধিনায়কত্ব অধ্যায়।বাংলাদেশ এই সিরিজে কিছুটা ফেভারিট হলেও সাম্প্রতিক ওয়ানডে সময়টা খুব একটা স্বস্তির নয়। শুরুতেই সামনে সেই জিম্বাবুয়ে, যাদের বিপক্ষে গত জুলাইয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ।আবার আরেক প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের বিপক্ষেও সাম্প্রতিক স্মৃতি সুখকর নয়। এই আরব আমিরাতেই গত বছরের অক্টোবরে আফগানদের কাছে ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হয় মেহেদী মিরাজের দল।তাই সাত বছর পর ত্রিদেশীয় সিরিজে ফেরার আনন্দের সাথে পুরোনো হারের জবাব দেওয়ার তাগিদও থাকছে। তবে এই সিরিজে শুধু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ই যথেষ্ট নয়। তিন দলের লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচের ফলই গুরুত্বপূর্ণ।একটি হারই ফাইনালে ওঠার সমীকরণে এনে দিতে পারে রানরেটের জটিল হিসাব। বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাস। তার মতে, সাধারণ দ্বিপক্ষীয় সিরিজের চেয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চাপটা বেশি।লিটন বলেন, “ত্রিদেশীয় সিরিজ খেললে একটা বাড়তি চাপ থাকে। তিনটা দলের জন্য একইরকম চাপ থাকবে যে ফাইনালে উঠতে হবে। আপনি যখন সাধারণ সিরিজ খেলেন, তখন অতটা চাপ থাকে না; কারণ আপনি জানেন প্রথম ম্যাচ হেরে গেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু এখানে হেরে গেলেই রানরেটের জটিল হিসাব চলে আসে।”এদিকে এই সিরিজ দিয়েই পূর্ণ মেয়াদে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে লিটনের। মেহেদী মিরাজের কাছ থেকে নেতৃত্ব পাওয়ার পর বড় কোনো ওয়ানডে আসরের আগে এটাই তার প্রথম পরীক্ষা। যদিও নিজের দল নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।লিটন বলেন, “আপনি যদি দেখেন এই দলটা অনেক ভালো ভালো সিরিজ খেলেছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে অনেক ভালো খেলেছে। আমার কাছে মনে হয় এই দলটাতে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে আর সাথে আমরা যারা সিনিয়র আছি—যদি সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারি তাহলে সবকিছু সম্ভব।”বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা হতে পারে দলে অভিজ্ঞতার উপস্থিতি। লিটনের সাথে ব্যাটিংয়ে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকাররা। বোলিং আক্রমণে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানদের ওপর থাকবে বড় দায়িত্ব।চোটের কারণে নেই নাহিদ রানা। আর দলে থাকা আলিস আল ইসলাম পেতে পারেন ওয়ানডেতে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ। আর অলরাউন্ডার ভূমিকায় মেহেদী মিরাজ হতে পারেন দলের চালিকাশক্তি।উল্লেখ্য, আবুধাবিতে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ। এটি দিয়েই পর্দা উঠবে ত্রিদেশীয় সিরিজের।
১৭ ঘন্টা আগে
কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে রিসোর্টটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আহত সাত থেকে আটজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।শনিবার সকাল সাতটার দিকে ওই রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল আটটার দিকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সেখানে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। নিহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে।”
১৬ ঘন্টা আগে
দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ জানতে চেয়ে সৌদিকে ঢাকার চিঠি

দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ জানতে চেয়ে সৌদিকে ঢাকার চিঠি

ঢাকা: মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যে খবর দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ, তা জানানো হয়নি বাংলাদেশ মিশনকে। গণমাধ্যমে খবর আসার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, মামলা ও আদালতের রায়ের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।বৃহস্পতিবার জেদ্দার পররাষ্ট্র দপ্তরে এই চিঠি পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দা কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা।জেদ্দা কনস্যুলেটের কর্মকর্তা বলেন, গণমাধ্যমে যে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হচ্ছে, তাদের বিচার চলা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক পত্র বা তথ্য দূতাবাসকে জানানো হয়নি।উল্লেখ্য, মক্কায় একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগে গত বুধবার নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য দিয়েছে সৌদির গণমাধ্যম।
১৭ ঘন্টা আগে
তুবার বাবাকে অটোভ্যান দিল ওয়াব ফাউন্ডেশন

তুবার বাবাকে অটোভ্যান দিল ওয়াব ফাউন্ডেশন

বরিশাল: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে খুঁটির সাথে বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা-রুটি খাইয়ে আলোচনায় এসেছিল ছোট্ট তুবা বিনতে অরনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্যের পর তুবার পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টিও সামনে আসে। এবার সেই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়াব ফাউন্ডেশন। তুবার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি অটোভ্যান। এতে পরিবারের জন্য তৈরি হয়েছে নিয়মিত আয়ের সুযোগ।শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বামরাইলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তুবার পরিবারের হাতে অটোভ্যানটি তুলে দেওয়া হয়।পরিবারের সদস্যরা জানান, অটোভ্যান চালিয়ে আয় করে সংসারের খরচের পাশাপাশি তুবার পড়াশোনা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে পারবেন তার বাবা।ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য এস এম আকবরের উদ্যোগে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তুবার পরিবার পুরোপুরি স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তুবার শিক্ষা ও পরিবারের প্রয়োজনেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে।ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা বলেন, শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তুবার পরিবারের জন্য অটোভ্যান প্রদানও সেই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ।অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ওয়াবের বরিশাল প্রতিনিধি ইমরান এইচ শুভ, ফিরোজ আহমেদ, হাফিজুল ইসলাম ও সজলসহ সংগঠনের অন্য প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এককালীন অর্থ সহায়তার পাশাপাশি উপার্জনের একটি মাধ্যম তৈরি করে দিলে একটি পরিবার দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। তুবার পরিবারের হাতে অটোভ্যান তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি সেই সুযোগ তৈরি করেছে। এখন পরিবারের প্রত্যাশা, নতুন এই আয়ের পথ ধরে সংসারের অনিশ্চয়তা কাটবে এবং তুবার পড়াশোনাও নির্বিঘ্নে চলবে।স্থানীয় সমাজসেবক জিয়া আমিন রাড়ী বলেন, “তুবার পরিবারের হাতে এককালীন সহায়তা না দিয়ে কর্মসংস্থানের একটি মাধ্যম করে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারটি নিজেদের আয় দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। তুবার পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের জন্যও এটি ইতিবাচক উদ্যোগ।”উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, “তুবার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ওয়াব ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, একটি পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে তারা নিজেরাই আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারে। তুবার পড়াশোনা ও পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য অটোরিকশাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।”
০৩ অক্টোবর ২০২৬
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ঢাকা: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার ঢাকায় ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত একাদশ আয়ুর্বেদ দিবস পালন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বক্তৃতায় সামগ্রিক সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে চিরায়ত জ্ঞান ব্যবস্থার স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়ুর্বেদ গবেষণা কেন্দ্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি একাডেমিক ও পেশাদার জ্ঞান বিনিময়ের পথ তৈরি করতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে থাকা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধন আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে আইজিসিসি পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ আয়ুর্বেদ দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’ এর ওপর আলোকপাত করেন। আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা (ন্যাচারোপ্যাথি), ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির প্রসারে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কলেজের অধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান খান, প্রাচী (পিআরএসিএইচআই) সদস্যদের প্রতিনিধি ড. মুখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ।একাডেমিক সেশনে নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বাবুল আক্তার এবং নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মামুন মিয়া একটি কর্মশালা পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। বাংলাদেশি শিল্পী শাহিন সোবহানা সুরভীর তৈরি পশমের ‘গণপতি ট্যাপেস্ট্রির’ প্রতীকী উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সূচনা হয়। এ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়ালশিল্পী রঞ্জন চন্দ্র সরকার। পরিবেশনা শেষে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার, শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবরের মধ্যে

ঢাকা: নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)। আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে অনলাইনে এ কাজ করতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অনলাইনে শুধু কয়েকটি তথ্য পূরণ করলেই হবে না; আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসহ চাকরির বিভিন্ন তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে।কারণ পে ফিক্সেশনে কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে নতুন মূল বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বকেয়া বা এরিয়ার পাওনার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশন করার আগে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য এবং এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও সচল থাকতে হবে।ভুল তথ্য দিলে যা হতে পারেপে ফিক্সেশনের সময় কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বাদ পড়লেও নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবে সমস্যা হতে পারে। তাই এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি।শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্য ও চাকরির নথি যাচাই করবে। তথ্যের সঙ্গে নথির অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধন করতে হতে পারে। তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।তথ্য দেওয়ার পরও থাকবে যাচাইঅনলাইনে তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কার্যালয় চাকরির নথির সঙ্গে অনলাইনে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখবে। তথ্য সঠিক থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।অনুমোদনের পর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। এরপর চাকরির নথিতে যাচাই নম্বর ও নতুন নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করা হবে।অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলতে পারে বকেয়াপে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য হিসাব করে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার নির্ধারণ করা হবে।তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।এ কারণে পে ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি চাকরির আগের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২৬ জুলাই ২০২৬
যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

যেসব কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন না

২৬ জুলাই ২০২৬
৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

৬৫ বছরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এআই দিয়ে ২৯ বছরের ডাক্তার সেজে প্রতারণা

সাংহাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক চীনা নারীর বিরুদ্ধে। জানা যায়, এআই ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও এবং ছবি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে নিজেকে ২৯ বছর বয়সী ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করেন ওই নারী। আদতে তিনি একজন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এভাবে পাঁচ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান হাতিয়ে নেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, ৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম ইউ শিউঝেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেছিলেন। এরপর ফেস চেঞ্জিং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে সাংহাইয়ের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার এআই নির্মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।সাংহাইভিত্তিক একজন নির্মাণ ঠিকাদার লিউ হুই ২০২১ সালে তার ভুয়া অ্যাকাউন্টটি দেখতে পান। ইউ তাকে জানান যে, হাসপাতালে তার পদমর্যাদার কারণে তিনি বড় নির্মাণকাজের চুক্তি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতে পারবেন।ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার আশায় লিউ ইউয়ের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে লিউ বারবার দেখা করা বা ভিডিও কলে কথা বলার অনুরোধ করলেও ইউ প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করতেন।পরে ইউ আরও একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। এবার তিনি নিজেকে লিউয়ের কথিত প্রেমিকার মা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি লিউকে জানান যে, তার মা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করছেন। এরপর ভুয়া মা সেজে তিনি লিউয়ের কাছে তিন লাখ ইউয়ান বিয়ের যৌতুক দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় একটি বাড়ি কেনার দাবি করেন।লিউ তার কথা বিশ্বাস করে পাঁচ মাসে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান তাকে পাঠান। কিন্তু কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি না আসায় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ ইউকে শনাক্ত করে জানতে পারে যে তিনি আসলে ৬৫ বছর বয়সী একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুলিশ আরও জানতে পারে, এর আগে তিনি একটি প্রতারণার মামলাতেও জড়িত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, ইউয়ের আসল মা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তিনি কসমেটিক সার্জারি, দামি ত্বকের যত্নের পণ্য এবং নতুন পোশাক কেনার পেছনে খরচ করেন। পরে পুলিশ ইউয়ের ভিডিওগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ভিডিওগুলোর মধ্যে ছোট একটি সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।পুলিশ যখন লিউকে ওই সতর্কবার্তাটি দেখায়, তখন তিনি জানান যে আধুনিক এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে ভিডিওতে থাকা সতর্কবার্তাটি তার নজরে পড়েনি।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

ভঙ্গুর এভিয়েশন খাত পেয়েছে বর্তমান সরকার: বিমানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘অতীতে এভিয়েশন খাতে যাত্রী হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল, এসব সমাধানই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তার ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়ন ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো প্রযুক্তিগত সংস্কার আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পেতে একসময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। আমি পরিদর্শনে গিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি—যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গেই কার্গোর দরজাও খুলতে হবে, যাতে ২০ মিনিটের মধ্যে সব লাগেজ বেল্টে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এখন ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে না।’রশিদুজ্জামান আরও জানান, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রকল্প বাতিল করে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমান সরকার জাপানের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠক করে সেই প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু এবং পিপিপি মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘বাজেট এয়ারক্রাফট’ বা সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলেও তিনি জানান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র না থাকায় এভিয়েশন খাতে কোনো উপযুক্ত নীতি-পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও জাতীয় এয়ারলাইনকে শক্তিশালী করতে হবে।শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর ‘সফট ওপেনিং’ এবং আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের তুলনায় এবার আমরা এমন একটি “উইন-উইন” চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’কনক্লেভে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচকের সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক এবং ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে দেশি-বিদেশি চার শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
২৬ জুলাই ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন