ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজ সালমানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে যুবরাজের আমন্ত্রণপত্র তার হাতে তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া। সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের পাঠানো একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। এ সময় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। সোমবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি চিঠি তার হাতে তুলে দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া। পরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং শিগগিরই একটি সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফর করবেন বলে জানিয়েছেন। সফরকালে তিনি সৌদি যুবরাজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌদি আরব সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আমরা এই সফরের জন্য আন্তরিকভাবে অপেক্ষা করছি।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগেও সৌদি আরব সফর করেছেন। ওই সফরে তিনি সৌদি যুবরাজের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এবারের সফরও তেমনই ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বহুমুখী। দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতা রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌদি সফর নিয়ে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সফরের সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে নতুন চুক্তি হতে পারে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। সেখানে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। তাদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা হয়। এই সফরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রবাসীদের সুরক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সৌদি সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে এবং নতুন নতুন সহযোগিতার পথ খুলে দেবে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা আশা করেন, এই সফর ফলপ্রসূ হবে এবং দুই দেশের জনগণ এর সুফল পাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে পারে। এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের এই আমন্ত্রণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং আগামী দিনগুলোতে এই সফর নিয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। সংশ্লিষ্ট সবাই এই সফরকে সফল করতে কাজ করছেন। আশা করা যায়, এই সফর বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এখন অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিনক্ষণের। সেটি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথ তৈরি করবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আর এই সফর তারই প্রমাণ। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সৌদি আরবের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরের মাধ্যমে সেই সহায়তা আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান অর্জন করছে। এই সফর সেই সম্মানকে আরও বাড়াবে। সব মিলিয়ে, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সফল হোক—এই প্রত্যাশা সবার। সবাই এই সফরের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হোক—এটাই সবার কামনা। এই সম্পর্কের মাধ্যমে দুদেশের জনগণ উপকৃত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সেই লক্ষ্য পূরণ করবে বলে আশা করা যায়। সব মিলিয়ে, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। সবাই এই সফরের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে তার অবস্থান আরও মজবুত করবে। এই সফর তারই একটি উদাহরণ। ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের সফর আসবে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভূমিকা আরও বাড়াবে। এই প্রত্যাশা সবার। সবার সহযোগিতায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এই সফর সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ধাপ অতিক্রম করতে প্রস্তুত। সবাই তার জন্য শুভকামনা জানায়। এই সফর সফল হোক—এই প্রার্থনা সবার। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত থাকুক। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও উচ্চতায় পৌঁছুক। এই প্রত্যাশা নিয়েই সবাই এগিয়ে চলি।
৮ ঘন্টা আগে

নরমাল ডেলিভারির জন্য লেবার রুম বাধ্যতামূলক, নির্দেশনা না মানলে হাসপাতাল বন্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে নরমাল ডেলিভারির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। এ সময় নরমাল ডেলিভারির জন্য মিডওয়াইফারি নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও নির্দেশনা দেন তিনি। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বন্ধ করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি প্রসূতি মায়ের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে মানসম্মত লেবার রুম থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। বর্তমানে অনেক বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা থাকলেও নরমাল ডেলিভারির জন্য পর্যাপ্ত লেবার রুম নেই, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ বাড়াতে এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমাতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, গত দুই মাস ধরে উপজেলাপর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে দ্রুত লেবার রুম ও মিডওয়াইফারি নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সঠিক বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তারা আশা করছেন, এসব পদক্ষেপ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর মনিটরিং করবে এবং কোনো হাসপাতাল বিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই নির্দেশনা কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে। তারা আশা করেন, এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করবে।
১০ ঘন্টা আগে

হলান্ডের জোড়া গোলে বিদায় নিল ব্রাজিল, কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

নেইমার কাঁদছেন! তাঁকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে এসেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু ভিনিসিয়ুসকে সান্ত্বনা দেবে কে? বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে অনেকটাই একাই লড়ে গেলেন এই উইঙ্গার। কিন্তু আজ আর কিছুতেই কিছু হলো না। আজ সবাইকে একাই ছায়ায় ঢেকে দিলেন অবিশ্বাস্য আর্লিং হলান্ড। তাঁর জোড়া গোলেই নরওয়ের কাছে ২–১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে এত তাড়াতাড়ি বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। অন্যদিকে নরওয়ে গড়েছে নতুন ইতিহাস। বিশ্বকাপে এটিই তাদের সেরা সাফল্য। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার তাদের প্রতিপক্ষ হবে মেক্সিকো কিংবা ইংল্যান্ড।নিউ জার্সিতে ম্যাচের শুরু থেকেই মন্থর গতির ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। প্রেসিংয়ে না গিয়ে নরওয়েকে বলের দখল রাখতে দিয়েছে তারা এবং চেষ্টা করেছে বল পেলে আক্রমণে যেতে। তেমনই এক আক্রমণ থেকে ম্যাচের শুরুতে বক্সের ভেতর মাতেউস কুনিয়া ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কিন্তু সেই পেনাল্টিকে গোলে রূপান্তর করতে পারেননি ব্রুনো গিমারাইস। শুরুতে সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হলেও ধীরে ধীরে আক্রমণে গিয়ে ব্রাজিলকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেছে নরওয়ে। ব্রাজিল পেনাল্টি মিসের পর দুই–একবার গোলের কাছাকাছি গেলেও শেষ পর্যন্ত গোল পায়নি। বিরতির পরও আক্রমণ ও প্রতি–আক্রমণে জমে উঠছিল ম্যাচ। এর মধ্যে মাতেউস কুনিয়াকে তুলে নিয়ে বদলি হিসেবে এনদ্রিককে নামান কার্লো আনচেলত্তি। নেমেই ম্যাচের সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছিলেন এনদ্রিক। ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ এক পাসে বল পান এই তরুণ স্ট্রাইকার। তাঁর সামনে ছিল শুধুই গোলরক্ষক। কিন্তু এমন সুযোগ পোস্টের বাইরে বল মেরে নষ্ট করেন এনদ্রিক। এরপর ম্যাচের ৬৮ মিনিটে মাঠে আসেন নেইমারও। তবে নেইমার থিতু হওয়ার আগেই চমক নিয়ে হাজির হন হলান্ড। ৭৯ মিনিটে হলান্ডের দুর্দান্ত হেডে করা গোলেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা ব্রাজিলকে হলান্ড দ্বিতীয় ধাক্কা দেন ৯০ মিনিটে। অসাধারণ এক শটে গোল করে লিড ২–০ করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ৭ গোল নিয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির পাশে উঠে এসেছেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার। মূলত এই গোলের পরই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ব্রাজিল। শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে নেইমার এক গোল শোধ করেন। কিন্তু সেটি ছিল শুধু সান্ত্বনা।ম্যাচের আগে সবার নজর ছিল আর্লিং হলান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের দ্বৈরথে। আর্সেনালে খেলা গ্যাব্রিয়েল ও ম্যানচেস্টার সিটিতে হলান্ডের লড়াই প্রিমিয়ার লিগের দর্শকদের কাছে বহুবার দেখা। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁদের নতুন এই মুখোমুখি লড়াই নিয়েও তাই ছিল বাড়তি আগ্রহ। তবে ম্যাচের শুরুতে সেই লড়াই খুব একটা জমে ওঠেনি। প্রথম উল্লেখযোগ্য দ্বৈরথটি আসে আধা ঘণ্টা পার হওয়ার পর, যেখানে মাঠে পড়ে যান গ্যাব্রিয়েল। আর বিরতির পর গ্যাব্রিয়েলকে কুপোকত করেই গোল দুটি করেন হলান্ড। অন্যদিকে এই হারে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুরো ম্যাচে ব্রাজিল বলের দখলে ছিল মাত্র ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ সময়। দলটি মূলত পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করলেও তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ব্রাজিল ম্যাচে ১৪টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র ৪টি। তাদের প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল ২.৭৩। অথচ নরওয়ের এক্সজি ছিল মাত্র ০.৮৪। অর্থাৎ তুলনামূলক কম সুযোগ তৈরি করেও সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে নরওয়ে। ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি ২০২৫ সালের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্তে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ আসর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে এই হতাশাজনক বিদায়ের পর আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই শুরু হয়ে যেতে পারে। ব্রাজিলের এই বিদায় নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক। ভিনিসিয়ুস, নেইমার, এনদ্রিকদের মতো তারকাদের নিয়েও কাঙ্খিত ফল পেল না ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ের জন্য এটি ইতিহাসের সেরা মুহূর্ত। হলান্ডের নেতৃত্বে তারা এখন স্বপ্ন দেখতে পারে সেমিফাইনালের। ফুটবল বিশ্ব আজ দেখল, প্রত্যাশিত গোলের চেয়ে সুযোগ কাজে লাগানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটাই করে দেখাল নরওয়ে। এখন অপেক্ষা সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষের। ব্রাজিলের বিদায়ে ফুটবলপ্রেমীরা যেমন হতাশ, তেমনি নরওয়ের উত্থানে উচ্ছ্বসিত। এই ম্যাচ প্রমাণ করল, ফুটবলে বড় নাম নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই আসল। আর হলান্ড আজ সেই পারফরম্যান্সের সেরা উদাহরণ।
১৮ ঘন্টা আগে
নতুন বেতন স্কেল একবারেই বাস্তবায়নের পথে সরকার, দুই ধাপের পরিকল্পনা বাদ যাচ্ছে

নতুন বেতন স্কেল একবারেই বাস্তবায়নের পথে সরকার, দুই ধাপের পরিকল্পনা বাদ যাচ্ছে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর না করে বরং একবারে বা এককালীন বাস্তবায়নের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শুরুতে নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় থাকলেও বর্তমানে সেই চিন্তা থেকে সরে আসার কারণগুলো হলো প্রযুক্তিগত জটিলতা, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্ভাব্য অসন্তোষ। আইবাস প্ল্যাটফর্মে দুই ধাপে বেতন সমন্বয় করা জটিল হওয়ায় এককালীন বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে প্রশাসন।সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে নতুন বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলোর আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজকের এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও মূল বেতন ১ জুলাই থেকে কার্যকরের একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করার বিষয়টি ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন এই বেতন কাঠামো নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।এককালীন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রায় ২৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। নতুন পে-স্কেলের খসড়ায় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত কাঠামোতে এই হার কিছুটা কমতে পারে। সরকারের কাছে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের যোগান দিতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে এসব বিষয়েও আলোচনা হবে। চাকরিজীবী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিল। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা এককালীন বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, তারা সরকারের ইতিবাচক মনোভাব দেখে আশাবাদী, কিন্তু চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই তারা সন্তুষ্ট হবেন। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চললেও এবার তা দ্রুত এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে কর্মচারীদের এই বাড়তি আর্থিক সুবিধা তাদের পারিবারিক ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনমুখী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, এটি শুধু কর্মচারীদের নয়, পুরো অর্থনীতিতে ভোক্তা চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও, মূল বেতন ও ভাতার বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন সবাই অপেক্ষা করছে আজকের বৈঠকের ফলাফলের দিকে। সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন, সরকার তাদের কথা শুনবে এবং দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে। এই প্রত্যাশা নিয়ে তারা অপেক্ষায় আছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসবে বলে আশা করা যায়।
৭ ঘন্টা আগে
নতুন বেতন স্কেল একবারেই বাস্তবায়নের পথে সরকার, দুই ধাপের পরিকল্পনা বাদ যাচ্ছে

নতুন বেতন স্কেল একবারেই বাস্তবায়নের পথে সরকার, দুই ধাপের পরিকল্পনা বাদ যাচ্ছে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর না করে বরং একবারে বা এককালীন বাস্তবায়নের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শুরুতে নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় থাকলেও বর্তমানে সেই চিন্তা থেকে সরে আসার কারণগুলো হলো প্রযুক্তিগত জটিলতা, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্ভাব্য অসন্তোষ। আইবাস প্ল্যাটফর্মে দুই ধাপে বেতন সমন্বয় করা জটিল হওয়ায় এককালীন বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে প্রশাসন।সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে নতুন বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলোর আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজকের এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও মূল বেতন ১ জুলাই থেকে কার্যকরের একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করার বিষয়টি ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন এই বেতন কাঠামো নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।এককালীন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রায় ২৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। নতুন পে-স্কেলের খসড়ায় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত কাঠামোতে এই হার কিছুটা কমতে পারে। সরকারের কাছে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের যোগান দিতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে এসব বিষয়েও আলোচনা হবে। চাকরিজীবী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিল। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা এককালীন বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, তারা সরকারের ইতিবাচক মনোভাব দেখে আশাবাদী, কিন্তু চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই তারা সন্তুষ্ট হবেন। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চললেও এবার তা দ্রুত এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে কর্মচারীদের এই বাড়তি আর্থিক সুবিধা তাদের পারিবারিক ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনমুখী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, এটি শুধু কর্মচারীদের নয়, পুরো অর্থনীতিতে ভোক্তা চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও, মূল বেতন ও ভাতার বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন সবাই অপেক্ষা করছে আজকের বৈঠকের ফলাফলের দিকে। সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন, সরকার তাদের কথা শুনবে এবং দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে। এই প্রত্যাশা নিয়ে তারা অপেক্ষায় আছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসবে বলে আশা করা যায়।
৭ ঘন্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সীমান্তে নতুন থানা-ফাঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সীমান্তে নতুন থানা-ফাঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন তিনটি থানা ও তিনটি পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিশের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, কালিয়াচক থানার গোপালগঞ্জ, বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভীরা ও হাবিবপুর থানার বুলবুল চণ্ডী—এই তিনটি ফাঁড়িকে উন্নত করে নতুন থানা গড়ে তোলা হবে। এছাড়া হবিবপুরের জাজইল ও বামনগোলা থানার জগদল্লা এলাকায় দুটি নতুন ফাঁড়ি ও ইংরেজ বাজারের লুকোচুরি পুলিশ ফাঁড়িকে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে । মালদহ জেলার পুলিশ সুপার আরও বলেন, “আমরা যাতে সীমান্ত অঞ্চলে নজরদারি বাড়াতে পারি ও পুলিশের সঙ্গে জনগণের একটি সম্পর্ক তৈরি করতে পারি, সেই উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” ভারত-বাংলাদেশের মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২,২১৬ কিলোমিটার) পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত । মালদহ জেলার হাবিবপুর ও বামনগোলা থানা এলাকায় সীমান্তের কিছু অংশ এখনও কাঁটাতারের বেড়াবিহীন রয়েছে, যা অনুপ্রবেশ ও পাচারের ঝুঁকি তৈরি করেছে । নতুন থানা-ফাঁড়ি নির্মাণের মাধ্যমে এসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুলিশ সুপার সিং জানিয়েছেন, “যেহেতু আমাদের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কাজ করতে হয় ও প্রায় সব থানাই সীমান্ত অঞ্চল থেকে অনেক দূরে, তাই সেখানে পুলিশের উপস্থিতি ঠিক রাখা উচিৎ। এতে মানুষ নিরাপদ থাকে। আধা-সামরিক শক্তির সঙ্গে আমাদের সমন্বয় বাড়বে।” এছাড়া অনুপ্রবেশের যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলো আটকাতে সক্ষম হওয়ার পাশাপাশি চোরা চালান আটকানো এবং সামগ্রিকভাবে পুলিশ ও সাধারণ জনগণের সম্পর্ক ঠিক রাখার লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । হাবিবপুরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী জোয়েল মুর্মু এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “গবাদি পশু পাচার, অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার আমার বিধানসভা এলাকার প্রধান উদ্বেগের বিষয়। নতুন থানা ও ফাঁড়ি স্থাপন পুলিশি কার্যক্রমকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে এবং এসব অপরাধ কমাতে সাহায্য করবে।” সীমান্ত অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নতুন করে পুলিশ ফাঁড়ি হলে তাদের সুবিধা হবে। রাজ্য পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাবে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফের ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষবৈঠকে উভয়পক্ষ সীমান্তে টহল জোরদার, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে । নিয়ম অনুযায়ী, নতুন থানা ও ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজ্য সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়ার ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী । সরকারি অনুমোদন পেলে এই থানা ও ফাঁড়িগুলো দ্রুত কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৭ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর এই ক্যাম্পেইন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, নির্ধারিত দিনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রে যেসব শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাদের জন্য ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
২৪ জুন ২০২৬
বাংলা কিউআর: একটি কোডেই সব ডিজিটাল লেনদেন

বাংলা কিউআর: একটি কোডেই সব ডিজিটাল লেনদেন

শপিংমল হোক কিংবা মুদির দোকান—টাকা পরিশোধের সময় বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা অনলাইন ব্যাংকিং সেবার আলাদা আলাদা কিউআর কোড খোঁজার দিন শেষ। এখন একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করেই যেকোনো গ্রাহক ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুনে সরকার কর্তৃক এই সর্বজনীন কিউআর কোড-ভিত্তিক সেবাটি সর্বত্র বাধ্যতামূলক করার মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যেই ৭৭ হাজার ১৬৫টি লেনদেনে মোট ২২ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি আর্থিক পরিশোধ হয়েছে। দেশের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে একক প্ল্যাটফর্মে এনে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সহজ লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ক্যাশলেস ইকোনমি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টার-অপারেবল জাতীয় কিউআর পেমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড, যা প্রচলিত সকল মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে একটিমাত্র কিউআর কোডের আওতায় আনার মাধ্যমে সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে। আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড থাকায় একজন গ্রাহক কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ দিয়েই অর্থ পরিশোধ করতে পারতেন। নতুন এই ব্যবস্থায় একজন ব্যবসায়ীর শুধু এই একটি কিউআর কোড তার কাছে বা দোকানে রাখলেই চলবে। এই একটি কিউআর স্ক্যান করে বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা যেকোনো ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে যেমন ব্যবসায়ীদের একাধিক কিউআর ব্যবহারের ঝামেলা ও ব্যয় কমবে, গ্রাহকদের জন্যও ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ ও সর্বজনীন হবে। বর্তমানে ৪৬টি ব্যাংক, সাতটি এমএফএস এবং চারটি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছে এবং প্রায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন।বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে আলাদা কোনো অ্যাপের প্রয়োজন নেই। প্রথমে স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) অ্যাপটি খুলে ‘স্ক্যান কিউআর’ বা ‘পে উইথ কিউআর’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ব্যবসায়ীর দোকানে প্রদর্শিত বাংলা কিউআর কোডটি স্ক্যান করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসায়ীর তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ পর্দায় দেখা যাবে। যদি কিউআর কোডটি স্ট্যাটিক হয়, তাহলে গ্রাহককে পরিশোধের পরিমাণ নিজে লিখতে হবে; আর ডাইনামিক হলে বিলের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে। এরপর সতর্কতার সঙ্গে সব তথ্য যাচাই করে পিন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অন্যান্য নিরাপত্তা যাচাইকরণের মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অর্থ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যবসায়ীর হিসাবে যোগ হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ কাটা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্যটিকে ভুল বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো চার্জ দিতে হবে না; ক্রেতা হিসেবে শূন্য শতাংশ চার্জ দিয়েই পণ্য ক্রয় করা যাবে। তবে এই চার্জ দিতে হবে বিক্রেতাকে, অর্থাৎ মার্চেন্টকে। বিক্রেতা বা মার্চেন্টের খরচ হবে ১ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ ১০ টাকা + ১৫ শতাংশ ভ্যাট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হারে চার্জ প্রযোজ্য হবে। ফলে মার্চেন্টের খরচ হিসেবে গণ্য হবে মোট ১১ টাকা ৫০ পয়সা।এলাকার চায়ের দোকান, মুদির দোকান থেকে শুরু করে শপিংমল, সিনেমা হল, অ্যামিউজমেন্ট পার্কসহ যেকোনো গণপরিবহনের ভাড়া পরিশোধ—বাংলা কিউআরের আওতাভুক্ত যেকোনো ব্যবসা বা আর্থিক লেনদেনেই এটি ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো নয়, বরং মুদ্রা ছাপানোর ব্যয় হ্রাস, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্টের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে সরকারি সেবার সব ধরনের অর্থ পরিশোধেও বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ছাড়াই কিউআরভিত্তিক লেনদেন চালুর বিষয়েও কাজ চলছে। এ ছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কিস্তিতে প্রায় ৩০ হাজার স্মার্টফোন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেন আরও বেশি মানুষ ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে কিউআর কোডের নবাগত ধারণাটি তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের আবশ্যকতার বিকল্প বের করা।
০৮ মে ২০২৬
সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব ও জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিচার দাবি জামায়াত এমপির

সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব ও জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিচার দাবি জামায়াত এমপির

০৮ মে ২০২৬
নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নকিয়ার চিরচেনা ফিচার ফোনের ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে উৎপাদিত নতুন ‘নকিয়া ১১০ পাওয়ার’ উন্মোচন করা হয়েছে। ফোনটি একবার চার্জে ১৫ দিন চলবে, দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা। মুঠোফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত মডেলগুলোর একটি নকিয়া ১১০। সেই পরিচিত ফোনটিই এবার নতুন রূপে ফিরেছে বাংলাদেশের বাজারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, বড় পর্দা ও পরিচিত নকশার সমন্বয়ে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার।সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে আয়োজিত দিনব্যাপী বিক্রয় প্রতিনিধি সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি উন্মোচন করা হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশে নকিয়া ফোনের একমাত্র উৎপাদনকারী ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সেলেক্সট্রা লিমিটেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচএমডি বাংলাদেশের বিজনেস ম্যানেজার কাজী আল আমিন, সেলেক্সট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম, হেড অব সেলস মামুন খান, চিফ বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ আসিফ আলমগীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত এই নতুন মডেলটি নকিয়ার ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শক্তিশালী ১৭৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। নির্মাতাদের দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে ফোনটি টানা ১৫ দিন পর্যন্ত সচল থাকতে পারবে। ফলে নিয়মিত চার্জ দেওয়ার ঝামেলা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যাবে ফোনটি।ফিচার ফোন হলেও এতে রয়েছে দুই ইঞ্চি পর্দা, যা আগের অনেক মডেলের তুলনায় বড় ও ব্যবহারবান্ধব। ফোনটির পেছনে থাকা ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ, যা অল্প আলো বা অন্ধকার পরিবেশেও ছবি তুলতে সহায়তা করবে। নকিয়ার পুরোনো ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর হলো নতুন এই ফোনেও রাখা হয়েছে একসময়ের জনপ্রিয় স্নেক গেম। ফলে প্রযুক্তির আধুনিকতার পাশাপাশি নস্টালজিয়ার ছোঁয়াও মিলবে ডিভাইসটিতে। নকিয়া ১১০ পাওয়ার বাজারে আনা হয়েছে নীল, ধূসর ও বেগুনি—এই তিন রঙে।প্রসঙ্গত, নকিয়ার আসল ফোন দেখে কিনতে জানিয়েছেন নির্মাতারা। আপনার কেনা ফোনটি আসল কি না, তা যাচাই করতে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর লিখে ‘KYD <স্পেস> ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর’ টাইপ করে ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএস ডিভাইসটির বৈধ বা নকলের তথ্য পাওয়া যাবে। নকিয়া ১১০ পাওয়ারকে বাংলাদেশের বাজারে ফিচার ফোনের মধ্যে অন্যতম সেরা বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটির দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে যারা শুধু কল, এসএমএস এবং কিছু মৌলিক কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ। এর শক্তিশালী ব্যাটারি, বড় পর্দা, স্নেক গেমের নস্টালজিয়া এবং এলইডি ফ্ল্যাশ সহ ক্যামেরা ফোনটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সেলেক্সট্রা লিমিটেড জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ফোনের বিক্রি বাড়াতে কাজ করছে। তারা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি এবং আফটার-সেলস সার্ভিস নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নকিয়া ১১০ পাওয়ার উন্মোচনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনটির ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকে তাদের পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে এই ফোন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে ফোনটির বিক্রি ভালো হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নকিয়া বাংলাদেশে তাদের ফিচার ফোনের বাজার ধরে রাখতে আরও নতুন মডেল আনতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ফোনটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গ্রাহকরা সেলেক্সট্রার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ মোবাইল ফোনের দোকানে যোগাযোগ করতে পারেন। নকিয়ার এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৯ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৮ মে ২০২৬
ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ, ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরাম বসুর বীরত্বগাথা পড়ে বড় হয়েছি। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে তাঁর সেই বিখ্যাত গান—"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"—শোনেনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। ক্ষুদিরাম আমাদের আবেগ, আমাদের জাতীয় বীর। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, "মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ" নামটা আমাদের কয়জন জানি? অথচ এই আব্দুল্লাহও ছিলেন একজন বাঙালি উপমহাদেশীয় বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামের আন্দোলনের মাত্র কয়েক দশক আগে, ১৮৭১ সালে কলকাতার টাউন হলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই আব্দুল্লাহ একাই বুক চিতিয়ে হত্যা করেছিলেন তৎকালীন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যানকে—যে বিচারক বিপ্লবীদের কঠোর সাজা ও ফাঁসি দেওয়ার জন্য কুখ্যাত ছিলেন।১৮৭১ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার টাউন হলে এক রাজকীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জন প্যাক্সটন নরম্যান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ তাঁর পথ রোধ করেন। তিনি নরম্যানের বুকে একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, যা ছিল এতটাই নিখুঁত ও মারাত্মক যে নরম্যান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আব্দুল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। অথচ ক্ষুদিরাম বসু ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে বোমা ছুড়েছিলেন, কিন্তু ভুলবশত দুজন নিরীহ ইউরোপীয় নারী মারা যান, কিংসফোর্ড বেঁচে যান। আর আব্দুল্লাহ একাই একটি ছুরি হাতে সরাসরি তাঁর মূল টার্গেট, ব্রিটিশদের প্রধান বিচারপতিকে খতম করেছিলেন। ফলাফল দুজনেরই ব্রিটিশদের ফাঁসির দড়ি।তাহলে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় কেন এই আকাশ-পাতাল বৈষম্য? কেন ক্ষুদিরামের নাম আমাদের মুখে মুখে, আর আব্দুল্লাহর নাম ইতিহাসের পাতা থেকে একপ্রকার মুছে দেওয়া হলো? এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা। আব্দুল্লাহ যুক্ত ছিলেন ওহাবি আন্দোলনের সাথে। আমাদের আধুনিক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিকরা ওহাবি আন্দোলনকে কেবল "ধর্মীয় আন্দোলন" তকমা দিয়ে আব্দুল্লাহর মতো খাঁটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। অথচ ওহাবি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ধারা, যার মাধ্যমে উপমহাদেশের মানুষ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে চেয়েছিল। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই আন্দোলনেরই একজন উজ্জ্বল সেনানী।ব্রিটিশরা সুকৌশলে আব্দুল্লাহর সমস্ত তথ্য, ছবি এবং স্মৃতি সেন্সর করেছিল যাতে তিনি মুসলিম তরুণদের আইকন বা শহীদ হতে না পারেন। ব্রিটিশরা জানত, একজন মুসলিম বিপ্লবী যদি আদর্শে পরিণত হয়, তাহলে তা উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা আব্দুল্লাহর নাম ও পরিচয় গুম করে দেয়। আর স্বাধীনতার পর আমাদের শিক্ষাবোর্ডগুলোও সেই ব্রিটিশদের তৈরি করা সিলেবাসের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। ফলে আব্দুল্লাহর মতো অনেক বীরই রয়ে গেছেন ইতিহাসের আড়ালে।ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের জাতীয় বীর, আব্দুল্লাহও তেমনই বীর। ক্ষুদিরাম ফাঁসির আগে গান গেয়েছেন, আব্দুল্লাহও ফাঁসির আগে নির্ভীক ছিলেন। একজন ব্রিটিশ প্রধান বিচারপতিকে হত্যা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ভারতবাসী আর ব্রিটিশ শাসন সহ্য করবে না। তাঁর এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের জানা উচিত। আজ সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর। ইতিহাস কারও একার সম্পত্তি নয়। রক্ত ক্ষুদিরামও দিয়েছেন, রক্ত আব্দুল্লাহও দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া প্রতিটা মানুষই সমান শ্রদ্ধার পাত্র। আসুন, নিজেদের ইতিহাসকে নতুন করে জানি। আব্দুল্লাহদের মতো হারিয়ে যাওয়া বীরদের অবদানের কথা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাই।শিক্ষাবোর্ডগুলোর উচিত আব্দুল্লাহসহ সকল উপেক্ষিত বিপ্লবীদের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। আব্দুল্লাহর নামে স্মৃতিসৌধ, রাস্তা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম তাঁকে চিনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আব্দুল্লাহর জীবন ও আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। গণমাধ্যমে আব্দুল্লাহর কাহিনি প্রচার করতে হবে, যাতে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হন। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই সমান সম্মানের অধিকারী। ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের গর্ব, আব্দুল্লাহও তেমনই আমাদের গর্ব। ইতিহাসের এই একপেশে বয়ান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের উচিত প্রতিটি বীরের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণ ইতিহাসকে আত্মস্থ করতে পারব। ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়কে সামনে এনে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সম্পূর্ণ ও সঠিক ইতিহাস উপহার দিতে পারি। আব্দুল্লাহর মতো বীরদের প্রতি আমাদের এই দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ফোঁটা রক্তই সমান মূল্যবান। এখন সময় এসেছে আব্দুল্লাহদের পুনর্বাসনের, যাতে নতুন প্রজন্ম জানে—স্বাধীনতার এই পথ কতটা রক্তক্ষয়ী ছিল এবং কতজন অজানা বীর এই পথ প্রশস্ত করেছেন।
ফিরোজ আল মামুন