ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

জাসদ থেকে জামায়াত, এখন নড়বড়ে এমপি নজরুলের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের রাজনীতিতে প্রায় পাঁচ দশক ধরে অত্যন্ত পরিচিত নাম গাজী নজরুল ইসলাম। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ, শিক্ষকতা এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শীর্ষ পদে উঠে আসা—সব মিলিয়ে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী তিনি। জনগণের ভোটে তিনবার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করার গৌরব থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় নৈতিক স্খলনের দায়ে রাজনৈতিক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ট্র্যাজেডির মুখে পড়লেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের শুরুগাজী নজরুল ইসলাম ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবের প্রাথমিক পড়ালেখা নিজ গ্রামেই সম্পন্ন করে ১৯৬৩ সালে গাবুরা জিএনএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৬৭ সালে এসএসসি পাশ করেন। এরপর সাতক্ষীরা কলেজ থেকে ১৯৭০ সালে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে খুলনা বিএল কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৮৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ১৯৭৫ সালে তিনি বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পারিবারিক জীবনে ১৯৭৬ সালে মাকসুদা খাতুনের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতিতে আগমনগাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় জাসদ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে। ১৯৭১ সালে ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সরাসরি রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তৎকালীন ৯ নম্বর সেক্টরে মেকানিক্যাল মেজর এম এ জলিলের নেতৃত্বে তিনি বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আলোচনা চলাকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই নিশ্চিত করেন যে, গাজী নজরুল ইসলাম একজন তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা।স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাসদে যোগ দিয়ে প্রথমবার রাজনৈতিক মামলায় প্রায় তিন মাস কারাবরণ করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে জামায়াতে ইসলামীতে সাধারণ সমর্থক হিসেবে যোগ দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে রোকন এবং শ্যামনগর থানা আমিরের দায়িত্ব পান। তৃণমূল সংগঠক হিসেবে নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে ১৯৯৩ সালে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য পদে উন্নীত হন।সংসদ সদস্য নির্বাচন ও কারাবাসসংসদীয় রাজনীতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বেশ সফল ছিলেন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো জয়লাভ করে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় সংসদের বাইরে থাকার পর গত ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। নির্বাচনে ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামানকে (৮৫,৪৬৬ ভোট) হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তাকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রায় এক বছর জেল খাটার পাশাপাশি ২০১২, ২০১৩ এবং ২০১৮ সালে দফায় দফায় গ্রেপ্তার হন তিনি। ২০১৮ সালের শেষ দিকে এক সাজানো মামলায় তাঁর স্ত্রী মাকসুদা খাতুন ও একমাত্র কন্যা শারমিন ফেরদৌসীকেও প্রায় ২৯ দিন কারাভোগ করতে হয়।যে বিতর্কে রাজনৈতিক জীবনের অবসানত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায়, গত ২০ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি আপত্তিকর ও বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির একাধিক খণ্ড মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে সারা দেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় তোলে। পরে এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ভিডিওর নারীটি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ২২ জুলাই শ্যামনগরে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ২২ জুলাই বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।অবৈধ বালুমহাল পরিচালনার অভিযোগবিতর্কিত ভিডিওর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এনেছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা আহ্বায়ক সোলায়মান কবির। তাঁর দাবি, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলীয় এলাকার মেয়াদউত্তীর্ণ বালুমহালে এমপি গাজী নজরুলের ছেলে, ঘনিষ্ঠ অনুসারী ও শিবিরের নেতাকর্মীদের একছত্র সিন্ডিকেট ছিল। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার উত্থাপন করলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তা বন্ধ করা যায়নি। তবে ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে এমপি নজরুলের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।দল ও ভবিষ্যৎ সংসদ সদস্য পদের সমীকরণএমপির বহিষ্কার ইস্যুতে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, জামায়াত একটি আদর্শিক ও নৈতিক সংগঠন। এ ঘটনায় সাময়িক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলেও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে দলের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে। অন্যদিকে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না তা নিয়ে আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, কেবল দলীয় বহিষ্কারের ভিত্তিতে এমপি পদ খারিজ করা যায় না। সংসদ সচিবালয় থেকে লিখিত নোটিশ ও আইনি ধারা পর্যালোচনার পরেই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।ছাত্ররাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, দীর্ঘ শিক্ষকতা ও তিনবারের সংসদ সদস্য হওয়ার গৌরবময় অধ্যায় থাকলেও, জীবনসায়াহ্নে এসে এই বিতর্কিত অধ্যায় ও দলীয় বহিষ্কার গাজী নজরুল ইসলামের পাঁচ দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনকে এক বিষাদময় পরিণতির দিকে ঠেলে দিল।
১৭ ঘন্টা আগে

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন: রয়টার্স

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন। তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে।ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। এরপরই তাঁর ‘সাবেক’ এই মিত্র পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র বলেছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন। অপর সূত্রটি বলেছে, পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়টি গত মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন তিনি। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তিনটি সূত্রের কেউই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে দমন-পীড়ন চালানোর নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত থেকে শেখ হাসিনার ফেরার পরিকল্পনা ঘোষণার ফলে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে তাঁর সর্বশেষ মিত্রকে সরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনগণের চাপ বাড়তে থাকে। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, তবে পদটি মূলত আলংকারিক। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত।২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই বছরের আগস্টে নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলে সাহাবুদ্দিনের পদের গুরুত্ব বাড়ে। ৭৬ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ।পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে বারবার ফোন করে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতির সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান ক্ষমতায় আসেন। এই বিষয়ে জানতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি।সূত্রগুলো জানিয়েছে, একজন স্থায়ী প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। চলতি মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি এবং তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ সহকর্মীরা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন।
২৪ জুলাই ২০২৬

দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান

পদোন্নতি পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়। এর আগে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌ ঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তার একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসাধারণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
২৩ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আজ শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরছেন। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল রাত ১০টা ২৩ মিনিটে প্রকাশ করা এক খবরে বলেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করবেন। তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলোর কেউই পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব তৎপরতার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দ্রুতই হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেটা আজ শুক্রবার বিকেল বা কাল শনিবারও হতে পারে।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে অত্যন্ত সন্তর্পণে প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল। তবে হঠাৎ করেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নামও আলোচনায় এসেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে অথবা স্বাস্থ্যগত কারণে যেকোনো কারণে চাইলে তাঁর সে অপশন আছে; কিন্তু আমরা তো জানি না।' তিনি আরও বলেন, 'সরকারের পক্ষ থেকে তো আর কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখছেন যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ইত্যাদি। আমিও শুনছি।'জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম গতকাল জামালপুরে এক কর্মসূচিতে বলেন, 'এত দিন পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করতে মন চাচ্ছে। পাঁচ মাসে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারেনি বিএনপি। যে সরকার আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারেনি, তারা কীভাবে রাষ্ট্র পরিবর্তন করবে? শুধু পদত্যাগ করলে হবে না, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে।' এ সময় নাহিদ যোগ্য, নিরপেক্ষ ও অভিভাবকসুলভ একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
১৭ ঘন্টা আগে
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আজ শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরছেন। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল রাত ১০টা ২৩ মিনিটে প্রকাশ করা এক খবরে বলেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করবেন। তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলোর কেউই পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব তৎপরতার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দ্রুতই হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেটা আজ শুক্রবার বিকেল বা কাল শনিবারও হতে পারে।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে অত্যন্ত সন্তর্পণে প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল। তবে হঠাৎ করেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নামও আলোচনায় এসেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে অথবা স্বাস্থ্যগত কারণে যেকোনো কারণে চাইলে তাঁর সে অপশন আছে; কিন্তু আমরা তো জানি না।' তিনি আরও বলেন, 'সরকারের পক্ষ থেকে তো আর কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখছেন যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ইত্যাদি। আমিও শুনছি।'জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম গতকাল জামালপুরে এক কর্মসূচিতে বলেন, 'এত দিন পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করতে মন চাচ্ছে। পাঁচ মাসে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারেনি বিএনপি। যে সরকার আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারেনি, তারা কীভাবে রাষ্ট্র পরিবর্তন করবে? শুধু পদত্যাগ করলে হবে না, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে।' এ সময় নাহিদ যোগ্য, নিরপেক্ষ ও অভিভাবকসুলভ একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
১৭ ঘন্টা আগে
ইরানে নতুন করে ‘বৃহৎ সামরিক হামলা’র পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প

ইরানে নতুন করে ‘বৃহৎ সামরিক হামলা’র পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বৃহৎ সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। তার দাবি, ইরান এখনো তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'আমি একটি ব্যাপক হামলার কথা বিবেচনা করছি—যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় হবে। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।'তবে তিনি স্বীকার করেন, এমন সিদ্ধান্তের বড় ধরনের পরিণতি হতে পারে। একই সঙ্গে জানান, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং এই বিষয়ে কোনো সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি।ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি আহ্বান জানালে ইসরায়েল দুই মিনিটের মধ্যেই অভিযানে যোগ দেবে। তবে তিনি যোগ করেন, 'আমাদের কারও প্রয়োজন নেই।' এছাড়া ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল হামলায় অংশ নিলে তারও পরিণতি হতে পারে, যা ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কর্মকর্তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও বর্তমানে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত নন।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে তেহরান ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে, কোনো মার্কিন আগ্রাসনের মুখে তারা কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নতুন হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে।
১৭ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সংশয় থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং নিরাপদ উৎপাদন, সঠিক সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করা হলে ব্রয়লার মুরগি উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস হতে পারে।বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবারের একটি হলো ব্রয়লার মুরগি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাহানাজ বলেন, ব্রয়লার মুরগি নিজে কোনোভাবেই ক্ষতিকর নয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।তার ভাষ্য, ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ কি না, তা নির্ভর করে কীভাবে এটি পালন করা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং জবাই ও সংরক্ষণের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।অ্যান্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে ডা. সাহানাজ জানান, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। তবে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কিংবা জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিরতি না মানলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে হরমোন ব্যবহার করা হয়—এমন ধারণা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, এ দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আধুনিক ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি মূলত উন্নত জাত, সুষম খাদ্য এবং উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফল।তিনি আরও বলেন, খামারে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কিংবা জবাই ও সংরক্ষণের সময় অসতর্কতা থাকলে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাংসে থাকতে পারে। তাই ব্রয়লার মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত।ডা. সাহানাজের মতে, চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, দেশি ও ব্রয়লার—উভয় ধরনের মুরগিই ভালো প্রোটিনের উৎস। দেশি মুরগির স্বাদ ও গঠন ভিন্ন হলেও পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। মূল বিষয় হলো নিরাপদ উৎপাদন, ভালো মান এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্না।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্রয়লার মুরগি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন:বিশ্বস্ত দোকান বা অনুমোদিত খামার থেকে মুরগি কেনাদুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলাকাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখামাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাবিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব।
১৫ জুলাই ২০২৬
সাফল্যের এক যুগ: ২০ দেশে উড়তে চায় ইউএস-বাংলা

সাফল্যের এক যুগ: ২০ দেশে উড়তে চায় ইউএস-বাংলা

২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। একই সময়ে সংস্থাটির বহরে যুক্ত হবে ২১টি নতুন বিমান।রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সীমিত পরিসর থেকে শুরু করে আজ আমরা দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থায় পরিণত হয়েছি। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে যাত্রীদের আস্থা, সরকারের নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সমর্থন এবং সর্বোপরি আমাদের চার হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরলস পরিশ্রম।বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ। এই বহর নিয়ে আমরা দেশের ৬টি অভ্যন্তরীণ গন্তব্য এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছি। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে হাজার হাজার যাত্রীকে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সময়নিষ্ঠ সেবা প্রদান করছি।আমাদের বিশ্বাস, একটি এয়ারলাইন্সের প্রকৃত শক্তি শুধু তার বহরের আকারে নয়; বরং নিরাপত্তা, সেবার মান, পরিচালন দক্ষতা এবং যাত্রীসন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে। সেই লক্ষ্য থেকেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে আইএটিএ এবং আইওএসএ-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি আমাদের পরিচালন সক্ষমতা, নিরাপত্তা সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলা-ই প্রথম কোনো দেশীয় বিমান সংস্থা যা চীনের কোনো গন্তব্যে বা ভারতের চেন্নাই কিংবা মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রীসেবায় উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।আগামী দিনের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী। ২০২৭ সালের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হবে ২১টি সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ—এর মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০এনজি। এটি বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে অন্যতম বৃহৎ বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি। নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্কও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু এবং পেনাং-এ নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্য, পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।বর্তমানে ইউএস-বাংলা এবং রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা আন্তর্জাতিক রুটের মার্কেট শেয়ারের ২৫ শতাংশ পাচ্ছে আর বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো নিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৭৫ শতাংশ, যা দেশের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশের আকাশ পরিবহনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের প্রায় শতাধিক ফ্লাইট প্রতিদিন পরিচালনা করছে, যা দেশের এভিয়েশনের অগ্রগতিকেই তুলে ধরছে।আমাদের অঙ্গীকার—নিরাপত্তায় আপসহীন থেকে, আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক এয়ারলাইন্স হিসেবে ইউএস-বাংলাকে আগামী দিনের বৈশ্বিক আকাশপথে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত করা।
১০ জুন ২০২৬
মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

১০ জুন ২০২৬
জাপানি আবিষ্কার

জাপানি আবিষ্কার

আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করার কথা তো সবাই জানে, কিন্তু প্রচণ্ড রোদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষকেই ফ্রিজে ঢুকিয়ে চাঙ্গা করার এমন আজব কায়দা আগে কখনো শুনেছেন? বিশ্ব জুড়ে যখন একের পর এক দাবদাহের রেকর্ড ভাঙছে, তখন চরম তাপের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করে বসেছে উদীয়মান সূর্যের দেশ। সাধারণ এসির হাওয়ায় যখন আর স্বস্তি মিলছে না, ঠিক তখনই জাপানের প্রখ্যাত রেফ্রিজারেশন সংস্থা ‘এসডিআরএস’ সামনে এনেছে তাদের বিশেষ পিলে চমকানো আবিষ্কার ‘ডো হিয়েমন বক্স’। লোকে বলছে, ‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’।রহস্যটা লুকিয়ে রয়েছে এর ভেতরের ক্যারিশমায়। বুথের ভেতরের তাপমাত্রা থার্মোমিটারে সবসময় ঝুলতে থাকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ভেতরের একটি আরামদায়ক চেয়ারে গিয়ে বসামাত্রই শুরু হয় আসল খেলা। শরীরের যেসব অংশ দ্রুত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যেমন মাথা, ঘাড়, কাঁধ আর পিঠ, ঠিক সেদিক লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। গবেষকদের মতে, প্রখর রোদে পুড়ে আসার পর মাত্র ৫ মিনিট এই ফ্রিজে বসলেই দেহের ভেতরের তাপ এক ধাক্কায় নেমে আসে স্বাভাবিক মাত্রায়।কারখানার শ্রমিক, নির্মাণকর্মী কিংবা সারা দিন রোদে ঘুরে কাজ করা মানুষের হিটস্ট্রোক এবং সানস্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি থেকে বাঁচাতেই এই বুথের জন্ম। গবেষণায় দেখা যায়, ১০ মিনিট ভেতরে কাটালে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়।মজার ও বিস্ময়ের বিষয় হলো, সাধারণ এসির তুলনায় এটি প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ খরচ করে এবং সুরক্ষার খাতিরে ২০ মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের মায়েবাশি সিটি হলসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে সাধারণ মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বসেছে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এর দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ লাখ টাকার বেশি।জাপানের এই উদ্ভাবন ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের দৃষ্টি কেড়েছে। তীব্র গরমে মানুষের জীবন বাঁচাতে এই ‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’ ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৩ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'-কে।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১০ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন