ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি আগস্টে

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে প্রথমবারের মতো এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে। সরকারের মিশ্র-বহর কৌশলের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩১ সাল থেকে এসব উড়োজাহাজ ধাপে ধাপে বিমানের বহরে যুক্ত হবে।প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দাম ও অন্যান্য শর্তসহ কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য চুক্তি সইয়ের পর প্রকাশ করা হবে। তার ভাষ্য, বাংলাদেশের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সরকার এই চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মিশ্র বহরে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, একই বহরে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এবং ইউরোপের এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানের বহর ব্যবস্থাপনায় এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এয়ারবাস বিমানের কারিগরি-অর্থনৈতিক কমিটির কাছে চারটি 'এ৩৫০-৯০০' ওয়াইড বডি এবং ছয়টি 'এ৩২১নিও' ন্যারো বডি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহায়ে সম্প্রতি ঢাকায় এসে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত এবং বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে সরকার ১০টি এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখাও এই সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। একই সঙ্গে বিমানকে মিশ্র-বহরের এয়ারলাইন্সে রূপান্তর করার যে নীতি সরকার নিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারই অংশ।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই চুক্তির আওতায় আনুমানিক ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ কেনার কথা রয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে এই চুক্তির পরপরই এয়ারবাসও বিমানের বহরে জায়গা পেতে তাদের প্রস্তাব জোরদার করে।এয়ারবাসের দেওয়া প্রস্তাবে দূরপাল্লার রুট পরিচালনার জন্য 'এ৩৫০-৯০০' এবং আঞ্চলিক, গালফ ও এশিয়ার মাঝারি দূরত্বের রুটের জন্য 'এ৩২১নিও' ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রুটভেদে ভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহারের ফলে পরিচালন সক্ষমতা ও বাণিজ্যিক নমনীয়তা বাড়বে।সরকার এখন ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় এয়ারলাইন্সকে আধুনিক করা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যাত্রী ও কার্গো বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।উড়োজাহাজ কেনাকে ঘিরে কয়েক বছর ধরেই বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আগ্রহও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। ২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর বাংলাদেশ সফরের সময় এয়ারবাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তখন কার্গো উড়োজাহাজসহ ১০টি এয়ারবাস কেনার সম্ভাবনা সামনে আসে। পরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা, বিশেষ করে 'রেসিপ্রোকাল ট্রেড' চুক্তির প্রেক্ষাপটে বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজের সিদ্ধান্ত এগিয়ে যায়। এরপর এয়ারবাস নতুন অফার দিয়ে আবার আলোচনায় ফিরে আসে।গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও সরকারের মিশ্র-বহর নীতির বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই প্রস্তুতকারকের উড়োজাহাজই প্রয়োজন। তার ভাষ্য, দেশের যা দরকার, সরকার তা-ই কিনবে এবং একই সঙ্গে বিচক্ষণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাও বজায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে অগ্রাধিকার দেয় না; জাতীয় স্বার্থই সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী মিল্লাতের সঙ্গে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের এক বৈঠকেও এয়ারবাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। ওই বৈঠকে সরকার জানায়, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে এয়ারবাসকে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা রয়েছে।অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম মনে করেন, মিশ্র-বহর কৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে কার্যক্রমে আরও বেশি সক্ষমতা ও নমনীয়তা আসবে। তার মতে, যাত্রী চাহিদা, রুটের ধরন এবং ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় একটি এয়ারলাইন্স তখন সবচেয়ে উপযোগী উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজ যদি পুরোনো বহর প্রতিস্থাপনের জন্য আনা হয়, তাহলে এই বিনিয়োগ বাণিজ্যিকভাবে যৌক্তিক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি রুট পরিকল্পনা ও লাভজনকতার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি। নজরুল ইসলামের ভাষ্য, ভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে রুট পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ে এবং পরিচালন ব্যয়ও কমে। তাই সঠিক পরিকল্পনা থাকলে মিশ্র-বহর নীতি বিমানের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
১১ ঘন্টা আগে

বিশ্বকাপ শেষে ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ সূচি ঘোষণা

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল হয়েছে গত পরশু। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল বিশ্বকাপ হিসেবে খ্যাত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)।আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক বাংলাদেশ। এবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছে, আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশেই অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি।এদিকে, আগামী ২৫ জুলাই ঢাকায় টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন করা হবে। আর ১ আগস্ট ভুটানে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র।নেপাল ফিফা থেকে নিষিদ্ধ। তাদের নিয়েই ড্র হবে, নাকি বাদ দিয়ে সেটা এখনো আলোচনার বিষয়। ভারত নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের সাথে প্রীতি ম্যাচ খেলার চেষ্টা করছে। ভারত সিনিয়র নাকি জুনিয়র দল পাঠায় সেটাও দেখার বিষয়।বাংলাদেশ ২০১৮ সালে সর্বশেষ সাফ আয়োজন করেছিল। ৮ বছর পর আবার স্বাগতিক হচ্ছে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেটাই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ফুটবলে অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে গণ্য হয়। ঘরের মাঠে এই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি দেখতে মরিয়া থাকবে লাল-সবুজের সমর্থকরা।
১২ ঘন্টা আগে

কেউ চান মন্ত্রিত্ব, কারো চাওয়া সরকারি সুবিধা

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে নানা পরামর্শ ও মতামত প্রদানের পাশাপাশি উঠে এসেছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথাও। শরিক নেতাদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার আগ্রহের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। কেউ কেউ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, বিএনপির ৩১ দফা ও স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদের 'উচ্চকক্ষ' গঠন হলে সেটির সদস্য পদে যেন তাদেরকে বিবেচনা করা হয়।সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এ রকম নানা ইচ্ছা ও প্রত্যাশার কথা উঠে আসে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক শরিক দলের নেতারা গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাকের সঙ্গে পৃথক আলাপে এ কথা জানান। তারা জানান, বৈঠকে শরিক দলগুলোর নেতাদের পক্ষ থেকে পাঁচজন বক্তব্য রেখেছেন। সবার কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শরিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে যারা যোগ্য তাদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে।ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির 'ধানের শীষ' প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ইত্তেফাককে বলেন, 'আমাদের মধ্যে যারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের একটি পয়েন্ট ছিল—একসঙ্গে আন্দোলন ও একসঙ্গে সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যত সেটা হয়নি, এমনকি সরকার গঠনের পাঁচ মাসে শরিকদের সঙ্গে কোনো কথাবার্তাও হয়নি।' ড. ফরহাদ জানান, এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নানা ঝামেলার মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করতে হয়েছে, এরপর রোজা ছিল, সংসদ অধিবেশন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট—সবমিলিয়ে সরকারকে সময় নিতে হয়েছে। তবে, এখন থেকে নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে শরিকদের সঙ্গে।প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এই বৈঠকে যোগ দিয়ে শরিক নেতাদের মধ্যে যে পাঁচজন বক্তব্য রাখেন তাদের একজন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৈঠক শেষে তিনি জানান, এই বৈঠকের একটি দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন, যুগপৎ আন্দোলনের যারা শরিক দল ছিল তারা যাতে দূরে চলে না যায়। তিনি বলেন, বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সরকার পরিচালনার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না, তারা অংশ নিতে পারছেন না।একাধিক শরিক দলের নেতা জানান, সরকার পরিচালনায় শরিকদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জোটকে আরও সুসংহত করার কথাও এসেছে বৈঠকে। নির্বাচনের আগে বিএনপি শরিকদের নিয়ে 'জাতীয় সরকার' গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারে মাত্র তিনটি শরিক দলের তিনজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে বলেছেন, মিত্র দলগুলোর মধ্যে যারা নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি, মনোনয়ন পেলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি—সেক্ষেত্রে এই দলগুলোর দুই-তিন জন নারী নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করা যেত।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শরিক দলগুলোর জন্য ১৫টি আসন ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি দলের জন্য ছিল আটটি আসন। নির্বাচনে জয়ী হন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর। পরে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক ও ববি হাজ্জাজকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আন্দালিভ রহমান পার্থকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া, কয়েকটি শরিক দলের নেতা নিজ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁনকে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।সোমবার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে যমুনায় বৈঠকে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন ইত্তেফাককে বলেন, 'বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীও তার বক্তব্যে নানা সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। তবে, মিত্রদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খুবই আন্তরিক মনে হয়েছে।'বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে বলেছেন, সরকারে আসার পর বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তত্পরতা তেমন দৃশ্যমান নয়। একই সঙ্গে গত পাঁচ মাসে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে বিএনপি সমালোচনার মুখে পড়েছে বলেও তারা মত দেন।শরিক দলের এক নেতা তার বক্তব্যে বলেছেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিএনপি 'একলা চলো' নীতি অনুসরণ করেছে। সেখানেও শরিকদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়নি।সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শরিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আরও নিয়মিত মতবিনিময় এবং আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১২ ঘন্টা আগে
ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল

ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান। রুলের জবাব দিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করার বিষয়টি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নির্ধারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান।রিটকারী আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্যই এই রিট করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানরা স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সেক্ষেত্রে তাদের ন্যূনতম একটি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা আবশ্যক বলে মনে করেন তিনি। আদালতের এই রুলের মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১১ ঘন্টা আগে
এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি আগস্টে

এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি আগস্টে

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে প্রথমবারের মতো এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে। সরকারের মিশ্র-বহর কৌশলের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩১ সাল থেকে এসব উড়োজাহাজ ধাপে ধাপে বিমানের বহরে যুক্ত হবে।প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দাম ও অন্যান্য শর্তসহ কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য চুক্তি সইয়ের পর প্রকাশ করা হবে। তার ভাষ্য, বাংলাদেশের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সরকার এই চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মিশ্র বহরে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, একই বহরে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এবং ইউরোপের এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানের বহর ব্যবস্থাপনায় এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এয়ারবাস বিমানের কারিগরি-অর্থনৈতিক কমিটির কাছে চারটি 'এ৩৫০-৯০০' ওয়াইড বডি এবং ছয়টি 'এ৩২১নিও' ন্যারো বডি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহায়ে সম্প্রতি ঢাকায় এসে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত এবং বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে সরকার ১০টি এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখাও এই সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। একই সঙ্গে বিমানকে মিশ্র-বহরের এয়ারলাইন্সে রূপান্তর করার যে নীতি সরকার নিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারই অংশ।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই চুক্তির আওতায় আনুমানিক ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ কেনার কথা রয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে এই চুক্তির পরপরই এয়ারবাসও বিমানের বহরে জায়গা পেতে তাদের প্রস্তাব জোরদার করে।এয়ারবাসের দেওয়া প্রস্তাবে দূরপাল্লার রুট পরিচালনার জন্য 'এ৩৫০-৯০০' এবং আঞ্চলিক, গালফ ও এশিয়ার মাঝারি দূরত্বের রুটের জন্য 'এ৩২১নিও' ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রুটভেদে ভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহারের ফলে পরিচালন সক্ষমতা ও বাণিজ্যিক নমনীয়তা বাড়বে।সরকার এখন ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় এয়ারলাইন্সকে আধুনিক করা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যাত্রী ও কার্গো বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।উড়োজাহাজ কেনাকে ঘিরে কয়েক বছর ধরেই বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আগ্রহও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। ২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর বাংলাদেশ সফরের সময় এয়ারবাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তখন কার্গো উড়োজাহাজসহ ১০টি এয়ারবাস কেনার সম্ভাবনা সামনে আসে। পরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা, বিশেষ করে 'রেসিপ্রোকাল ট্রেড' চুক্তির প্রেক্ষাপটে বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজের সিদ্ধান্ত এগিয়ে যায়। এরপর এয়ারবাস নতুন অফার দিয়ে আবার আলোচনায় ফিরে আসে।গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও সরকারের মিশ্র-বহর নীতির বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই প্রস্তুতকারকের উড়োজাহাজই প্রয়োজন। তার ভাষ্য, দেশের যা দরকার, সরকার তা-ই কিনবে এবং একই সঙ্গে বিচক্ষণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাও বজায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে অগ্রাধিকার দেয় না; জাতীয় স্বার্থই সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী মিল্লাতের সঙ্গে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের এক বৈঠকেও এয়ারবাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। ওই বৈঠকে সরকার জানায়, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে এয়ারবাসকে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা রয়েছে।অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম মনে করেন, মিশ্র-বহর কৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে কার্যক্রমে আরও বেশি সক্ষমতা ও নমনীয়তা আসবে। তার মতে, যাত্রী চাহিদা, রুটের ধরন এবং ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় একটি এয়ারলাইন্স তখন সবচেয়ে উপযোগী উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজ যদি পুরোনো বহর প্রতিস্থাপনের জন্য আনা হয়, তাহলে এই বিনিয়োগ বাণিজ্যিকভাবে যৌক্তিক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি রুট পরিকল্পনা ও লাভজনকতার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি। নজরুল ইসলামের ভাষ্য, ভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে রুট পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ে এবং পরিচালন ব্যয়ও কমে। তাই সঠিক পরিকল্পনা থাকলে মিশ্র-বহর নীতি বিমানের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
১১ ঘন্টা আগে
সৌদিকে পারমাণবিক ক্ষমতা দিচ্ছে আমেরিকা! চুক্তি চূড়ান্ত

সৌদিকে পারমাণবিক ক্ষমতা দিচ্ছে আমেরিকা! চুক্তি চূড়ান্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে। সংবেদনশীল এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।চুক্তিটির ঘোষণা খুব শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে আসতে পারে। ৩০ বছর মেয়াদি এই প্রস্তাবিত চুক্তিতে মার্কিন সংস্থাগুলো সরাসরি যুক্ত থাকবে। এগুলো সৌদির পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়নে সহায়তা করবে। এছাড়া একটি যৌথ সমীক্ষার পর দেশটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পথ সুগম হতে পারে।তবে এই চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। আইনপ্রণেতাদের ভয়, রিয়াদকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিলে অঞ্চলে নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য। কিন্তু সূত্র মতে, এই চুক্তিতে আইএইএ’র ‘অতিরিক্ত প্রোটোকল’ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে সেখানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জোরালো তদারকি বা পরিদর্শনের সুযোগ সীমিত থাকবে।এই চুক্তির খবর এমন সময়ে এলো যখন ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা অর্জন করা মানেই অস্ত্র তৈরি নয়। তবে এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা পরবর্তীতে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা বানালে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সূত্র: এপি, ইউএনবি
১১ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সংশয় থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং নিরাপদ উৎপাদন, সঠিক সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করা হলে ব্রয়লার মুরগি উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস হতে পারে।বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবারের একটি হলো ব্রয়লার মুরগি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাহানাজ বলেন, ব্রয়লার মুরগি নিজে কোনোভাবেই ক্ষতিকর নয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।তার ভাষ্য, ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ কি না, তা নির্ভর করে কীভাবে এটি পালন করা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং জবাই ও সংরক্ষণের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।অ্যান্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে ডা. সাহানাজ জানান, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। তবে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কিংবা জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিরতি না মানলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে হরমোন ব্যবহার করা হয়—এমন ধারণা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, এ দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আধুনিক ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি মূলত উন্নত জাত, সুষম খাদ্য এবং উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফল।তিনি আরও বলেন, খামারে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কিংবা জবাই ও সংরক্ষণের সময় অসতর্কতা থাকলে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাংসে থাকতে পারে। তাই ব্রয়লার মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত।ডা. সাহানাজের মতে, চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, দেশি ও ব্রয়লার—উভয় ধরনের মুরগিই ভালো প্রোটিনের উৎস। দেশি মুরগির স্বাদ ও গঠন ভিন্ন হলেও পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। মূল বিষয় হলো নিরাপদ উৎপাদন, ভালো মান এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্না।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্রয়লার মুরগি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন:বিশ্বস্ত দোকান বা অনুমোদিত খামার থেকে মুরগি কেনাদুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলাকাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখামাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাবিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই ব্রয়লার মুরগি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব।
১৫ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকে বসেই জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেনের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকে বসেই জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেনের অভিযোগ

অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ লেনদেন এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মো. রকিবুল হাসান খান রকিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তারে প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালালে তিনি পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও জুয়াসহ গুরুতর সব অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মানুযায়ী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত রাখার বিধান রয়েছে। সেই বিধির আলোকেই এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তিনি নিয়ম অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।গোয়েন্দা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রকিবুল হাসান রকি একাধিক ব্যাংকে বেশ কিছু হিসাব পরিচালনা করতেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই অর্থের একটি বড় অংশ অবৈধ জুয়া ও নিষিদ্ধ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল রকিবুলকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই সংবাদ পেয়ে তিনি কৌশলে কার্যালয় থেকে সটকে পড়েন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।অফিসে রকিবুলের আচরণ সম্পর্কে তার সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত চাপা স্বভাবের ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা বা কথাবার্তা খুব একটা বলতেন না এবং সবসময় নিজের মতো করে কাজ করতে পছন্দ করতেন। তার এমন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সংবাদে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এ বিষয়ে মো. রকিবুল হাসান খান রকির ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এই অবৈধ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
১০ জুন ২০২৬
জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান আনছে সরকার

জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান আনছে সরকার

১০ জুন ২০২৬
ফেসবুক-মেসেঞ্জার অচল, ওয়েব ভার্সনে বিপত্তি

ফেসবুক-মেসেঞ্জার অচল, ওয়েব ভার্সনে বিপত্তি

হঠাৎ করেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছেন বিশ্বজুড়ে অনেক ব্যবহারকারী। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১টা ৪০-এর পর থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে অচল অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেকে । মোবাইল অ্যাপে সমস্যা না থাকলেও ওয়েব ভার্সনে বার্তা পাঠানো, নিউজফিড দেখার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সমস্যা ।ওয়েব ভার্সনে প্রবেশের চেষ্টা করলে অনেককে 'অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ' বা 'আপনি যে লিংকে ক্লিক করেছেন সেটি হয়তো ভাঙা বা পৃষ্ঠাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে'—এ ধরনের বার্তা দেখতে হচ্ছে । মেসেঞ্জারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা; পাঠানো বার্তা যাচ্ছে না বা দীর্ঘ সময় ধরে 'সেন্ডিং' দেখাচ্ছে । তবে ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তেমন কোনো সমস্যা লক্ষ্য করা যায়নি ।ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ওপর নজর রাখা ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ৩ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী সমস্যার কথা জানিয়েছেন । এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, বিশ্বব্যাপী দেখা যাচ্ছে ।ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাববিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার প্রভাব শুধু বিনোদন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে অনেক ছোট ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোক্তা, সংবাদমাধ্যম ও ফ্রিল্যান্সাররা ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কয়েক ঘণ্টার সমস্যাও তাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।মেটা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমস্যার কারণ বা সমাধানের বিষয়ে কিছু জানায়নি । তবে জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে মেসেঞ্জারের স্ট্যান্ডঅ্যালোন ওয়েবসাইটটি ধাপে ধাপে বন্ধ করে ফেসবুকের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে । এই পরিবর্তনের কারণেই সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
১৯ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

ই-পাসপোর্টে জুলাই শহীদদের ছবি যুক্ত হচ্ছে

বাংলাদেশের সাধারণ ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পাসপোর্টের পাতায় জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি।রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান বুকলেটের নকশা ও জলছাপ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন অনুমোদিত নকশায় পাসপোর্টের ৩১ ও ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সেই উত্তাল মুহূর্তটি ঠাঁই পাবে। তরুণদের আত্মত্যাগের সেই স্মৃতিকে আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে স্থায়ী রূপ দিতেই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাসপোর্টের নতুন এই বিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা অনুষঙ্গও যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবি। এ ছাড়া লালবাগ দুর্গ, কান্তজিউ মন্দির, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন নকশায়।দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় ফুল, মাছ, পাখি ও ফলের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'-কে।প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। আন্দোলনের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জাতীয় নথিতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এটি বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাসে একটি অনন্য ও আবেগঘন পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১০ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন