ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

গণভোটের রায় মানতেই হবে, অন্যথায় সংসদ অচল: বিরোধীদলিও নেতা শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতার দাবি, সরকার গঠনের ভোটকে যদি বৈধ মানতেই হয়, তাহলে গণভোটের জনরায়কে বাতিল করার কোনো যুক্তি নেই। সোমবার রাতে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।শফিকুর রহমানের কথায়, জনগণের রায়ই হচ্ছে চূড়ান্ত কথা। তাঁর দাবি, যে পথে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে, সেই পথেই গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাজেই একটি মানলে অন্যটি বাতিল করা যায় না।সংখ্যার চিত্রও টেনে আনেন এই জামায়াত নেতা। তাঁর মতে, সরকার গঠনে ৫১ শতাংশ ভোটকে যদি বৈধ ধরা হয়, তবে গণভোটে ৬৮ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে কেন গুরুত্ব দেয়া হবে না? এটা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার যে অঙ্গীকার করেছিল, তা ভঙ্গ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ শফিকুরের। তিনি জানান, নির্বাচনের পর দুই ধরনের শপথ নেওয়ার কথা ছিল—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিরোধী দলের সবাই দুই শপথ নিয়েছে, কিন্তু সরকারি দল শুধু প্রথমটি নিয়েছে।আন্দোলনের পথে হাঁটারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই নেতা। ১৯৯৪ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের কথা তুলে তিনি বলেন, জনগণ যখন রাস্তায় নামে, তখন কোনো সরকার টিকতে পারে না।শেষে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বসে বসে সব সহ্য করবে—এমন বিরোধী দল নয় তারা। জনস্বার্থের প্রশ্নে তারা রুখে দাঁড়াবে। আর আজকের ওয়াকআউট তারই নিদর্শন।এনসিপি নেতা আখতার হোসেনও একই সুরে কথা বলেন। তাঁর দাবি, সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বদলে একটি কমিটি করেছে। এই কমিটিকে তারা মেনে নিতে পারেন না বলেই সংসদ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন বিরোধীরা।
২ ঘন্টা আগে

সংবিধান নতুন করে লেখার সুযোগ নেই: চিফ হুইপ

সংবিধান সংশোধনে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা কেবল সুপারিশ করবে। সংবিধান নতুন করে লেখার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।চিফ হুইপ বলেন, ওয়াকআউট বিরোধী দলের রাজনৈতিক রীতির অংশ, তারা এটি করতেই পারে। তবে আমরা মনে করি, তারা আজ যা করেছে, বিষয়টি না বুঝেই করেছে। আমরা সবাই মিলেই সংবিধান সংশোধন করব।বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনা করতে তাদের জন্য সব সময়ই দরজা খোলা। কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও, বিরোধীদল নাম দেওয়া মাত্রই তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হয়নি উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, এ নিয়ে আন্দোলনের কিছু নেই। আমরা সবাই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। নিশ্চয়ই বিরোধীদল এমন কিছু করবে না যাতে অন্য কেউ সুযোগ নিতে পারে।অন্যদিকে, সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের সময় ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, যতক্ষণ না গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, ততক্ষণ রাজপথ ও সংসদে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। কমিটির প্রস্তাবের প্রতিবাদেই তারা ওয়াকআউট করেছেন বলে জানান তিনি।এদিন ১৭ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত কমিটির প্রস্তাবকালে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করে একটি সীমিত পরিসরের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে উপেক্ষা করে।
৩ ঘন্টা আগে

জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সাথে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতি পর্যালোচনাসভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।আশ্রয়কেন্দ্র ও বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রতি নির্দেশনাএকইসাথে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্দেশআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।' পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সমন্বিত উদ্যোগ ও পর্যবেক্ষণসভায় দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।এসময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।
১২ জুলাই ২০২৬
সাইবার মাধ্যমে মাদক লেনদেনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পাস

সাইবার মাধ্যমে মাদক লেনদেনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পাস

সাইবার স্পেস বা যেকোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ ও আর্থিক লেনদেনের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে একটি সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল' পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদন পায়। নতুন এই সংশোধনীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।বিদ্যমান আইনে সরাসরি মাদক উৎপাদন, বিক্রি ও সেবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু রয়েছে। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে এবার আইনে নতুন ধারা যুক্ত করা হলো।পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রচার, ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ বা মধ্যস্থতা করা এখন থেকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অপরাধে ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-ওয়ালেট এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল সম্পদের ব্যবহারও শাস্তিমূলক অপরাধের আওতায় পড়বে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আসামির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান। তবে এই অপরাধ যদি কোনো আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ঘটে, সেক্ষেত্রে আসামিদের যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে।ডিজিটাল অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতেও এই বিলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠন করতে পারবে এবং তাদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রেখে মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পৃথক 'মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল' প্রতিষ্ঠার বিধানও নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।সোমবার বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়। বিলের ওপর আলোচনাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসে। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, 'মাদকদ্রব্য কেনাবেচায় বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত থাকলে এ ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
২ ঘন্টা আগে
জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সাথে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতি পর্যালোচনাসভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।আশ্রয়কেন্দ্র ও বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রতি নির্দেশনাএকইসাথে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্দেশআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।' পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সমন্বিত উদ্যোগ ও পর্যবেক্ষণসভায় দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।এসময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।
১২ জুলাই ২০২৬
ইরানের বিমানের অবতরন বাধা দিতে সানা বিমানবন্দরে হামলা ইয়েমেন সরকারের

ইরানের বিমানের অবতরন বাধা দিতে সানা বিমানবন্দরে হামলা ইয়েমেন সরকারের

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার। একটি ইরানি উড়োজাহাজকে অবতরণ করতে না দেওয়ার জন্যই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।সানা বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেন থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে।সোমবার (১৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, হুথি মিলিশিয়ারা ইয়েমেনের নিজস্ব একটি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে নামতে বাধা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা একটি ইরানি বিমানকে জোর করে সেখানে অবতরণের চেষ্টা করছিল। এ কারণেই রানওয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।এর আগে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাধারণ নাগরিক, বিমানবন্দর কর্মী, কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার লোকজনকে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে সতর্কবার্তা জারি করে।হুথি বিদ্রোহীরা এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে এবং উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, 'এই আগ্রাসনের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। কোনোভাবেই এটা শাস্তিহীন থাকবে না।' হুথিরা প্রমাণ ছাড়াই এই হামলার জন্য সরাসরি সৌদি আরবকে দায়ী করেছে।সরকারি বাহিনীর এই হামলার ফলে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম। উভয় পক্ষের মধ্যে এই উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। জাতিসংঘ এখনো এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যদিও সংস্থাটি আগেও ইয়েমেনে নাগরিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল।
২ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস রোগের হারবাল ঔষধ ও তার কার্যকারিতা

পাইলস, যা হেমোরয়েড নামেও পরিচিত, একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি মলদ্বারের রক্তনালী ফুলে যাওয়া এবং প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা বা অত্যধিক চাপের কারণে হতে পারে। পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই হারবাল ঔষধ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেন। হারবাল ঔষধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় এগুলো দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।পাইলসের লক্ষণপাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো অনুভব করে থাকেন:মলত্যাগের সময় রক্তপাতমলদ্বারের চারপাশে চুলকানি ও জ্বালাপোড়ামলদ্বারের কাছাকাছি ফুলে যাওয়া বা পিণ্ডের উপস্থিতিতীব্র ব্যথা, বিশেষত মলত্যাগের সময়পাইলসের হারবাল চিকিৎসার গুরুত্বপ্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হারবাল ঔষধ পাইলসের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার, যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। অস্ত্রোপচার বা কেমিক্যালজাত ওষুধের তুলনায় হারবাল চিকিৎসা অনেকটাই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।পাইলসের জন্য জনপ্রিয় হারবাল ঔষধ১. ত্রিফলা চূর্ণত্রিফলা চূর্ণ তিনটি ফল—আমলকি, হরীতকি এবং বহেরা—থেকে তৈরি একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ঔষধ। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। পাইলসের ক্ষেত্রে এটি মলত্যাগ সহজ করে এবং প্রদাহ কমায়।ব্যবহার পদ্ধতি: প্রতিদিন রাতে এক চামচ ত্রিফলা চূর্ণ উষ্ণ পানির সাথে সেবন করুন।২. অ্যালোভেরাঅ্যালোভেরা একটি প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক ও ব্যথা কমানোর এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটি পাইলসের ফোলাভাব কমাতে এবং মলদ্বারের সংবেদনশীলতা হ্রাস করতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মলদ্বারের চারপাশে প্রয়োগ করুন। এটি ঠান্ডা ও আরামদায়ক প্রভাব প্রদান করে।৩. নিমনিম তার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণের জন্য সুপরিচিত। এটি পাইলসের প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।ব্যবহার পদ্ধতি: নিমপাতা সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধোয়া যেতে পারে। অথবা নিমের নির্যাস ধারণ করে এমন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।৪. হলুদহলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন নামক উপাদান, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণসম্পন্ন। এটি পাইলসের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।ব্যবহার পদ্ধতি: এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন। অথবা হলুদবাটা সরাসরি আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা যেতে পারে।৫. ঘৃতকুমারী ও মধুঘৃতকুমারী ও মধুর সংমিশ্রণ পাইলসের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ, যা সংক্রমণ রোধ করে।ব্যবহার পদ্ধতি: ঘৃতকুমারী জেলের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।৬. ওল্ডেনল্যান্ডিয়া ডিফুসা (Oldenlandia Diffusa)এই ভেষজটি চীনা হারবাল মেডিসিনে বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিটিউমার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। পাইলসের ফোলা ও ব্যথা কমাতে এটি বেশ কার্যকর।সতর্কতাহারবাল ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রতিটি মানুষের শরীরের ধরন ভিন্ন, তাই সবার জন্য একই ঔষধ সমান কাজ করে না। গর্ভাবস্থায় বা অন্য কোনো রোগ থাকলে সতর্কতার সাথে হারবাল ঔষধ সেবন করুন।পাইলস একটি অস্বস্তিকর ও বেদনাদায়ক রোগ। তবে সঠিক হারবাল চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এর উপশম সম্ভব। ত্রিফলা, অ্যালোভেরা, নিম, হলুদসহ বিভিন্ন ভেষজ উপাদান পাইলসের চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখায়। প্রাকৃতিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এই সমাধানগুলো গ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদি আরাম পাওয়া যায়। তবে কঠিন বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
০৮ জুলাই ২০২৬
মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদী নির্মাণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের স্থাপনা নির্মাণ এবং জাতীয় পর্যায়ে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।মন্ত্রী জানান, দেশের ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ‘মুজিববর্ষ উদযাপন বাবদ ব্যয় বিবরণী’র একটি কপিও তিনি সংসদে উপস্থাপন করেন।অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৩ কোটি ২০ হাজার টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে।সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের ব্যয় নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন খাতে হওয়া ব্যয় সরকার পর্যায়ক্রমে যাচাই করছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এক বছরে আপ্যায়ন ও খাবার খাতে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। এ ধরনের ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতের হিসাবও সরকার পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
১৪ মে ২০২৬
অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদকে উৎপাদনমুখী করতে সরকারের উদ্যোগ

অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদকে উৎপাদনমুখী করতে সরকারের উদ্যোগ

১৪ মে ২০২৬
গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এল ইউজারনেম ফিচার

বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে।মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সেটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারবে না। এছাড়া জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন।যখন কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সেট করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা চাইলে একটি Username Key নির্ধারণ করতে পারবেন, যা জানলে তবেই অন্য কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। তাই একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণে আগে থেকে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচার বন্ধ করতে বা নিজেদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন।হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কারণ ফোন নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।তবে প্রাথমিকভাবে ইউজারনেম অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। এখনই কিউআর কোড স্ক্যান করে শুধু ইউজারনেমের সাহায্যে যোগাযোগের সুবিধা থাকছে না।উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন পদক্ষেপ গোপনীয়তা সচেতন ব্যবহারকারীদের কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
০৯ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার

আগামী ৭ আগস্ট ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি দৈনিক ফ্লাইট চালুর আগে আজ থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রিয়াদ এয়ার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই রুটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এই দৈনিক ফ্লাইট বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটন সংযোগ আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে রিয়াদ এয়ারের সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সংযোগ নিশ্চিত করবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এই রুট দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান বিমান পরিবহন বাজারগুলোর একটির প্রতি রিয়াদ এয়ারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ-সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, আরএক্স০৭৬৩ ফ্লাইট রিয়াদ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফিরতি আরএক্স০৭৬৪ ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রিয়াদে অবতরণ করবে।রিয়াদ এয়ার জানিয়েছে, নতুন এই সেবা ব্যবসা, অবকাশ যাপন ও শিক্ষাসংক্রান্ত ভ্রমণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য রিয়াদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।এয়ারলাইন্সটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই রুট তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন। ফ্লাইটগুলো রিয়াদ এয়ারের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত হবে। উড়োজাহাজে বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি—এই চারটি কেবিন শ্রেণি থাকবে। এতে সর্বাধুনিক ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস সংযোগ এবং উন্নত যাত্রীসেবা সুবিধা থাকবে।সৌদি আরবের নতুন জাতীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার দেশটির বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বৃহত্তর বিমান পরিবহন কৌশলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
১৪ মে ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন