ঢাকা    বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, ৭২ ঘণ্টা পরও শূন্যরেখায় ৯ জন।

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ঘটনার ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ওই ৯ জনকে ফেরত নেয়নি বিএসএফ। ফলে তারা এখনও দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিরোধে অংশ নেন। এতে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা সফল হয়নি।ঘটনার পরপরই দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি পুশইনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলে। তবে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের অভিযোগ বাড়ছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা বিষয়টির দ্রুত সমাধান এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে, বিজিবি জানিয়েছে যে, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং শূন্যরেখায় অবস্থানরত ৯ জনকে ফেরত নিতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
২ ঘন্টা আগে

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনে আজ মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার (১৭ জুন) এক দিনের সফরে মৌলভীবাজার যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অশগ্রহণ করবেন। বিশেষ করে বহুল প্রত্যাশিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার বহনকারী বিমান ঢাকা ত্যাগ করে এবং বেলা সোয়া ১০টার দিকে তিনি সিলেটে পৌঁছান। সেখান থেকে সড়কপথে মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দুপুর ২টায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ-এ আয়োজিত প্রধান অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন এবং উপকারভোগীদের হাতে কার্ড তুলে দেবেন।সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো বিভিন্ন সরকারি সুবিধা আরও সহজে পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিকেলে জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র দুসাই রিসোর্ট-এর উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক রাজনৈতিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন। সভায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।সফরকে ঘিরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সমবেত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সাজসজ্জা, ব্যানার-ফেস্টুন এবং স্বাগত তোরণে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জেলা।
২ ঘন্টা আগে

১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আগামী ছয় মাসের জন্য জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে এই তেলের মূল্য প্রায় ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ।তেল ক্রয়ের বিভিন্ন শর্ত ও ব্যয় নির্ধারণে আলোচনার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আগামী ২০ জুন সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছে। সফরে বিপিসির চেয়ারম্যান, জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল দামের পরিবর্তে প্রিমিয়াম, পরিবহন, বীমা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নিয়ে আলোচনাই হবে এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করায় আমদানি ব্যয়ও কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।তবে এই বিশাল তেল আমদানি কার্যক্রমকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা কিছু প্রভাবশালী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এখনো জ্বালানি খাতে আধিপত্য বজায় রেখেছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই তারা জি-টু-জি ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় অঙ্কের ব্যবসা ধরে রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় জি-টু-জি চুক্তিগুলো আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যমান মজুত দিয়ে প্রায় এক মাসের বেশি সময় দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
১০ ঘন্টা আগে
চট্টগ্রামে দুই আলোচিত শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলার রায় আজ, বিচার প্রত্যাশায় তাকিয়ে দেশ।

চট্টগ্রামে দুই আলোচিত শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলার রায় আজ, বিচার প্রত্যাশায় তাকিয়ে দেশ।

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বুধবার (১৭ জুন)। এর মধ্যে রয়েছে বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা এবং বন্দরটিলার শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলা। দুটি মামলার রায়কে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে জনমনে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ দেশবাসী।আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার জন্য বুধবার সকালে দুই মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করবেন।চলতি বছরের ২১ মে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।ঘটনার তদন্ত শেষে একমাত্র অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। গত ১০ জুন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ঘটনার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় মামলার রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বন্দরটিলা এলাকার বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার রায়ও আজ ঘোষণা করা হবে। ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর পাঁচ বছর বয়সী আয়াত নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের তথ্য। পরে উদ্ধার করা হয় শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ।পুলিশের তদন্তে জানা যায়, বাসার ভাড়াটিয়া আবির শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যা করে। এ ঘটনায় আবির এবং তার ১৭ বছর বয়সী এক সহযোগীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলাটি দেশের অন্যতম আলোচিত শিশু হত্যা মামলায় পরিণত হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এর রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।দুটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশ্লেষকদের মতে, এসব মামলার রায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। তাই রায়ের দিকে নজর রয়েছে পুরো দেশের।
১ ঘন্টা আগে
১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী।

১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আগামী ছয় মাসের জন্য জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে এই তেলের মূল্য প্রায় ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ।তেল ক্রয়ের বিভিন্ন শর্ত ও ব্যয় নির্ধারণে আলোচনার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আগামী ২০ জুন সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছে। সফরে বিপিসির চেয়ারম্যান, জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল দামের পরিবর্তে প্রিমিয়াম, পরিবহন, বীমা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নিয়ে আলোচনাই হবে এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করায় আমদানি ব্যয়ও কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।তবে এই বিশাল তেল আমদানি কার্যক্রমকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা কিছু প্রভাবশালী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এখনো জ্বালানি খাতে আধিপত্য বজায় রেখেছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই তারা জি-টু-জি ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় অঙ্কের ব্যবসা ধরে রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় জি-টু-জি চুক্তিগুলো আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যমান মজুত দিয়ে প্রায় এক মাসের বেশি সময় দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
১০ ঘন্টা আগে
উপসাগরে গোপন তেল স্থানান্তর মিশন চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের হুঁশিয়ারি

উপসাগরে গোপন তেল স্থানান্তর মিশন চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি সচল রাখতে গোপনে বহু ‘জাহাজ থেকে জাহাজে’ তেল স্থানান্তর কার্যক্রম তদারকি করেছে। এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে আকাশ ও জলপথের ড্রোন, এমনকি হেলিকপ্টারও। এসবের মাধ্যমে তেলের বহরকে হরমুজ প্রণালির বাইরে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারগুলোর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালির প্রান্তঘেঁষা এই কার্যক্রমে এমন একটি ‘শাটলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে ইরান ব্যবহার করে আসছে। এই তেল স্থানান্তরের দুটি নির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করেছেন অভিযানের বিষয়ে অবগত ১১ জন ব্যক্তি। একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজেইরাহ উপকূলের কাছে, অন্যটি ওমানের সোহার বন্দরের বাইরে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা জাহাজ চলাচলের তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, এই কার্যক্রম শুরু হয় মে মাসের শুরুতে এবং এতে অন্তত ৯২টি জাহাজ অংশ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুই স্থানে একই সময়ে ১৭ জোড়া জাহাজকে তেল স্থানান্তর করতে দেখা গেছে বলে রয়টার্স স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে।৯ জুন ইরানের গুলিতে ভূপাতিত হয় একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, যার জেরে পরে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা বোমা হামলা চালায়। সেটিও মূলত এই মিশনেরই অংশ ছিল বলে চারটি সূত্র জানিয়েছে। তাদের মধ্যে হামলার বিষয়ে অবগত এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাও ছিলেন। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখতে পেয়েছে, অ্যাপাচি ভূপাতিত হওয়ার দিন সোহার বন্দরের কাছে ছোট একটি এলাকায় ছয় জোড়া ট্যাংকার পাশাপাশি অবস্থান করছিল। তবে ওই অভিযানে অ্যাপাচির নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, অফশোর ‘জাহাজ থেকে জাহাজে’ তেল স্থানান্তর কার্যক্রমে সেন্ট্রাল কমান্ডের কোনো বাহিনী অংশ নিচ্ছে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে একটি ড্রোন নৌযান উদ্ধার করে।এই ‘জাহাজ থেকে জাহাজে’ স্থানান্তরের ব্যাপ্তি, এর কার্যপ্রণালি ও অ্যাপাচির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এর আগে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে প্রশ্ন সেন্টকমের কাছে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, স্থানান্তর কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধে ইরান সরকার কোনো জবাব দেয়নি। যে দুটি স্থানে এই স্থানান্তর হচ্ছে, সেগুলো হরমুজ প্রণালির বহির্গমনমুখী ওমান উপসাগর এলাকায় এবং ইরানের নতুন সংস্থা ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নির্ধারিত সীমার কাছাকাছি অবস্থিত। হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য এই সংস্থা গঠন করা হয়েছে। ইরানের নির্দেশ না মানা জাহাজগুলোর ওপর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।এই মার্কিন নেতৃত্বাধীন কার্যক্রম চলাকালে ফুজাইরাহ বন্দরও একাধিকবার ইরানের হামলার মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহান্তে ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত উৎসের প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, জাহাজের ক্রুরা নিরাপদ ছিলেন এবং আঘাতে কিছু তেল বেরিয়ে গেলেও পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি। তবে আক্রান্ত ট্যাংকারটি ‘জাহাজ থেকে জাহাজে’ তেল স্থানান্তর অভিযানের অংশ ছিল কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ ও অদক্ষ হলেও এই ‘জাহাজ থেকে জাহাজে’ স্থানান্তর কার্যক্রমকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে স্বাভাবিক তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ সপ্তাহে ঘোষিত ইরানের সঙ্গে কাঠামোগত শান্তিচুক্তির আওতায় আগামী শুক্রবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট। ঘোষিত চুক্তি এই তেল স্থানান্তর কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা রয়টার্স নির্ধারণ করতে পারেনি। গত ২০ মে প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছিল, প্রণালির বিপরীত দিকে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান নিজস্ব একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এতে দ্বীপভিত্তিক চেক পয়েন্ট, কূটনৈতিক সমঝোতা ও কিছু ক্ষেত্রে ফি আদায়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।অভিযানের সঙ্গে জড়িত আটটি সূত্র জানিয়েছে, পুরো মার্কিন তেল স্থানান্তর কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এসব সূত্রের মধ্যে স্থানান্তর কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এক বেসরকারি নিরাপত্তা ঠিকাদারও রয়েছেন। ট্যাংকারগুলোকে প্রণালিতে প্রবেশের আগে একটি নির্ধারিত মিলনস্থলে যেতে হয়। এরপর নির্দিষ্ট বিরতিতে যাত্রা শুরু করতে হয়, যাতে প্রতিটি জাহাজের মধ্যে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মিটার দূরত্ব থাকে। এক সূত্র ও স্যাটেলাইট চিত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। চারটি সূত্র জানিয়েছে, এ সময় জাহাজগুলোর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয় এবং আলো কমিয়ে দেওয়া হয়। একাধিক নির্ধারিত ওয়েপয়েন্টের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট ট্যাংকারগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে। সূত্রগুলোর একজনের ভাষায়, ‘আমেরিকানরা স্পষ্টতই সব সময় আপনাকে নজরদারিতে রাখছে।’জাহাজগুলো যখন প্রণালি অতিক্রম করে ইরান ঘোষিত নিয়ন্ত্রণসীমার ঠিক বাইরে পৌঁছায়, তখন তারা অপেক্ষমাণ গ্রহণকারী জাহাজগুলোর পাশে গিয়ে ভিড়ে। এসব গ্রহণকারী জাহাজ মূলত ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি)। এরপর শুরু হয় তেল স্থানান্তর। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে ২৪ থেকে ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। খালি হয়ে যাওয়া ট্যাংকারগুলো আবার প্রণালি পেরিয়ে ফিরে আসে এবং নতুন করে বোঝাই হওয়া ভিএলসিসিগুলো গন্তব্যে রওনা হয়। এই ‘জাহাজ-থেকে-জাহাজে’ স্থানান্তর সম্ভব হচ্ছে মূলত এমন কিছু শিপিং প্রতিষ্ঠানের কারণে, যারা ইরানের অবরোধের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রণালি পেরিয়ে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারগুলোর কাছে তেল পৌঁছে দিতে রাজি হয়েছে। তবে পুরো কার্যক্রমই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামুদ্রিক ঝুঁকি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো নোম রেইডান, যিনি রয়টার্সের অনুসন্ধান পর্যালোচনা করেছেন; তিনি বলেন, ‘আপনি কখনোই নিশ্চিত হতে পারবেন না, কখন ইরান ড্রোন বা এমনকি গানবোট ব্যবহার করে ওই জাহাজগুলোকে প্রণালি পার হওয়া ঠেকানোর সিদ্ধান্ত নেবে।’ইরান বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে ‘জাহাজ থেকে জাহাজে’ তেল স্থানান্তরের কৌশল ব্যবহার করে আসছে। কারণ, এই পদ্ধতিতে তেলের প্রকৃত উৎস আড়াল করা যায়। সাধারণত ইরান একবারে এক জোড়া জাহাজ ব্যবহার করত, যাতে শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং যুদ্ধের আগে তাদের রপ্তানির পরিমাণও তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন এই কার্যক্রমে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ স্থানান্তর করা হচ্ছে, যা উপসাগরীয় উৎপাদকদের ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে তুলনামূলক বেশি সুরক্ষা দেয়। এর ফলে তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পাঠাতে পারছে। রয়টার্স ২ মে থেকে ১১ জুনের মধ্যে তোলা এক ডজনের বেশি স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করেছে। এসব ছবিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উপসাগরীয় ট্যাংকার বহর ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত যেসব জাহাজ তেল নিয়েছে, তাদের মধ্যে ‘জাহাজ থেকে জাহাজে’ তেল স্থানান্তরের দৃশ্য দেখা গেছে। রয়টার্স আরও এলএসইজি ও কেপলারের শিপিং তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, একই সময়ে ওই এলাকায় ট্যাংকারগুলোর মধ্যে একাধিকবার নির্ধারিত সাক্ষাৎ ও স্থানান্তর হয়েছে। চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রয়টার্স হিসাব করেছে, মে মাসের শুরু থেকে এই উপকূলের বাইরে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ৯ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য স্থানান্তরিত হয়ে থাকতে পারে। এই হিসাব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর বহনক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে। তবে এই পরিমাণ এখনো যুদ্ধপূর্ব সময়ের দৈনিক গড় প্রায় ২ কোটি ব্যারেল, যা প্রণালিটি দিয়ে যেত, তার তুলনায় অনেক কম।গত শুক্রবার এক নোটে থিংকট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ফ্রমান বলেন, পুরোনো নিয়মগুলো দুর্বল হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে একধরনের বিদ্রূপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এমনকি ইরানের ব্যবহৃত কৌশল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে। তাদের তথাকথিত ‘ডার্ক ফ্লিট’ মূলত এসব পদ্ধতির পথিকৃৎ ছিল আর সেই কৌশল তৈরি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য। এই কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান রয়েছে-এমন ছয়টি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণকারী জাহাজগুলোকে সরাসরি নৌ সামরিক নিরাপত্তা না দিয়ে আকাশপথে নজরদারি, বিধিনিষেধ-অনুগত্য যাচাই এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সহায়তা দিয়েছে। রয়টার্স এমন কোনো প্রমাণ পায়নি যে তেল স্থানান্তরের কাজে মার্কিন সামরিক সদস্যরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন।শিপিং রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই কার্যক্রমের গ্রহণকারী অংশে আন্তর্জাতিক ট্যাংকার অপারেটরদের আধিপত্য রয়েছে। এর মধ্যে গ্রিসভিত্তিক ডাইনাকম ট্যাংকারস ম্যানেজমেন্ট যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কীভাবে সৃজনশীল উপায়ে প্রণালির মধ্য দিয়ে তেল পরিবহন করা যায়, সে বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে। ১ জুন এথেন্সে আয়োজিত ক্যাপিটাল লিংক শিপিং সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জর্জ প্রোকোপিউ বলেন, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা অত্যাবশ্যক এবং কেউ এর ওপর টোল বা অন্য কোনো বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সেবা দিতে এখানে আছি এবং প্রাচীনকাল থেকেই অবরোধ ভাঙার ঐতিহ্য রয়েছে গ্রিসের। আমি এর বেশি বিস্তারিত বলতে চাই না, তবে ইঙ্গিতগুলো বোঝার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করি।’ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান কোনো ধরনের টোল নেবে না। তবে এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে বিভিন্ন সেবার বিনিময়ে একটি ফি পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান। ইরানের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে টোল না বলে ফি বলা হলেও তা আইনগতভাবে বৈধতা পাবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণার পর। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে এবং এটি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে। তবে এর একদিন পরই ইরান জানায়, এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে এখনো কিছু চার্জ দিতে হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আমরা কোনো ট্রানজিট টোল আরোপের পরিকল্পনা করছি না; তবে যেসব সেবা প্রদান করা হবে, তার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এই সেবার মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা, নৌচলাচল সহায়তা এবং সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় থাকতে পারে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন সেবা অন্তর্ভুক্ত হবে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
১৯ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, নতুন দায়িত্বে অধ্যাপক জামালুন্নেসা

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, নতুন দায়িত্বে অধ্যাপক জামালুন্নেসা

পদত্যাগ করেছেন আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তার বদলে পরিচালনা পর্ষদ এই দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে অধ্যাপক জামালুন্নেসার ওপর। মঙ্গলবার আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুলের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক জামালুন্নেসা বিগত ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।একাডেমিক পটভূমি ছাড়াও তিনি শিক্ষাপ্রশাসন ও গবেষণায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অধিকারী। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করছে পরিচালনা পর্ষদ।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যুজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও গভীরভাবে শোকাহত। এরই মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।কর্তৃপক্ষ জানায়, তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রোটকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে প্রতিষ্ঠানটি দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ইতিমধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আলো-বাতাস চলাচল তথা অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করার জন্য তিনজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্টের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট অফিসের ওপর অবস্থিত বেকারিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এ ব্যবস্থাগুলো হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো রোগীকে অবহেলার শিকার হতে না হয়, সেজন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ ওঠে, হাসপাতালের অবকাঠামোগত ত্রুটি ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।সরকারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতরও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই তদন্তের প্রেক্ষিতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়।নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক জামালুন্নেসা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানো এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন শুরু করেছেন।এ বিষয়ে অধ্যাপক জামালুন্নেসা বলেন, ‘আমি একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ সংস্কৃতি তৈরি করতে চাই। রোগীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার।’উল্লেখ্য, ডা. শেখ মহিউদ্দিন গত ৮ বছর ধরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০ ঘন্টা আগে
চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়ায় বিশ্ববাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সাথে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে—বাজার বিশ্লেষকদের এমন আশঙ্কার কারণেই তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে।মঙ্গলবার (১৬ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩.৪২ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১.১২ ডলারে উঠেছে।এর আগে গতকাল সোমবার (১৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা হওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন হয়েছিল। ওই সময় আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৩ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছিল।জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা নিয়ে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ঠিক কত দিন সময় লাগবে, তা নিয়েও বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। মূলত এই ধোঁয়াশার কারণেই বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে।এদিকে, দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক এই সমঝোতা নথিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএফপি-কে জানান, "প্রেসিডেন্ট নিজে এই নথিতে সরাসরি স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন, কারণ তিনি অত্যন্ত সফলভাবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটানোর ব্যাপারে তার দৃঢ় অঙ্গীকার ও ব্যক্তিগত আগ্রহ প্রদর্শন করতে চেয়েছেন।"
২২ এপ্রিল ২০২৬
উচ্চ সিসির গাড়িতে বাড়ছে কর, বৈদ্যুতিক যানেও প্রথমবার অগ্রিম কর

উচ্চ সিসির গাড়িতে বাড়ছে কর, বৈদ্যুতিক যানেও প্রথমবার অগ্রিম কর

২২ এপ্রিল ২০২৬
লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

দেশের বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা শাওমি। লাইকা ইমেজিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্রিপল ক্যামেরা, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আসা হয়েছে নতুন এই ডিভাইসটি।মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য মোমেন্ট বিয়ন্ড সাইট’ প্রতিপাদ্যে স্মার্টফোনটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি সাংবাদিক, টেক রিভিউয়ার, আলোকচিত্রী এবং শাওমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ক্যামেরা সিস্টেমে কি বিশেষত্ব আছে?নতুন এই স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম। এতে রয়েছে—৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা (লাইকা সামিলুক্স অপটিক্যাল লেন্সযুক্ত)৫০ মেগাপিক্সেলের লাইকা ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা (১২০ গুণ পর্যন্ত এআই আল্ট্রা জুম সমর্থিত)লাইভ মোমেন্ট ও স্টেজ মোড সুবিধা (সৃজনশীল ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য)ডিসপ্লে ও ব্যাটারিডিভাইসটিতে ৬ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ৩ হাজার ৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে উজ্জ্বল আলোতেও পর্দার কনটেন্ট স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।চোখের সুরক্ষার জন্য এতে টিইউভি রাইনল্যান্ড সনদপ্রাপ্ত আই কমফোর্ট প্রযুক্তি রয়েছে।ফোনটিতে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। শাওমির দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় দেড় দিনের বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। পাশাপাশি আইপি৬৮ রেটিংয়ের ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধাও রয়েছে।পারফরম্যান্স ও এআই সুবিধাপারফরম্যান্সের জন্য স্মার্টফোনটিতে—মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা প্রসেসরশাওমি হাইপারওএস ব্যবহার করা হয়েছেএ ছাড়া শাওমি হাইপারএআই, গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এবং ‘সার্কেল টু সার্চ’-এর মতো এআই সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।দাম ও বিক্রির তারিখশাওমি ১৭টি স্মার্টফোনটি ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাবে। দাম রাখা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।যে সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে —ভায়োলেটওপাল হোয়াইটব্ল্যাকআগামী ১১ জুন থেকে দেশের সব অনুমোদিত শাওমি স্টোরে এটি বিক্রি শুরু হবে।শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে শাওমির এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আনতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বমানের ফটোগ্রাফি প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।টেক বিশ্লেষকদের মতে, লাইকা ক্যামেরা ও শক্তিশালী ব্যাটারি এই ফোনটিকে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে। তবে ৮০ হাজার টাকার ঘরে বাংলাদেশি বাজারে এটি কতটা সাড়া পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১৪ জুন ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
২২ এপ্রিল ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন