ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় প্রশিক্ষণ এলাকায় মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বিস্তীর্ণ অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিনি।মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ফার্ম বেস এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি রেইড মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন।পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সেনানিবাসে ফিরে পূর্ণোদ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার কারণে আমরা আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম। এই মহড়া আমাদের সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও দক্ষতার প্রতিফলন।’ তিনি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সব সেনাসদস্যকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের সাহস, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন সেনাসদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সঞ্চার করে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এবং তার কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার সুযোগ পান। মহড়ার অংশগ্রহণকারী এক সেনাসদস্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের মাঠপর্যায়ে এসে দেখলেন এবং আমাদের সঙ্গে খাবার-চা পান করলেন। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।’ অপর এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন আমাদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের জন্য সবসময় প্রস্তুত।’প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শন সেনাবাহিনীর প্রতি সরকারের গুরুত্ব এবং সেনাসদস্যদের প্রতি তার আন্তরিকতার প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তার জন্য সবসময় প্রস্তুত এবং তাদের আধুনিকায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। মহড়ার শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি তোমাদের কাজে সন্তুষ্ট। তোমরা দেশের গর্ব।’ এই বক্তব্য সেনাসদস্যদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পরিদর্শন সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের জনগণের কাছে সেনাবাহিনীর গুরুত্ব তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও প্রশিক্ষণে আরও উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছি। তাদের সব ধরনের প্রয়োজন মেটানো হবে।’ এই প্রতিশ্রুতি সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তারা দেশের নিরাপত্তায় আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শন একটি সফল ও অর্থবহ পদক্ষেপ ছিল। এটি সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করেছে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহল। তারা আশা করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে সরকারের পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন সেই সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে রয়েছেন এবং তাদের উন্নয়নে কাজ করছেন। এই বার্তা সেনাবাহিনী ও জনগণ উভয়ের কাছেই পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে আরও এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পরিদর্শন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি প্রমাণ করে, তিনি সেনাবাহিনীর উন্নয়নে আন্তরিক এবং দেশের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। এই ভাবনা আগামী দিনে আরও সাফল্য বয়ে আনবে। সব মিলিয়ে, এটি একটি সফল ও অর্থবহ পরিদর্শন ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। সেনাবাহিনী ও সরকারের এই সহযোগিতা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই ধরনের উদ্যোগ সেই অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। সব মিলিয়ে, এটি একটি ইতিবাচক উন্নয়ন, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য শুভ লক্ষণ।
৭ ঘন্টা আগে

গাজায় বসতি স্থাপনে ‘বড় বিপ্লবের’ ঘোষণা ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানিয়েছেন যে তার দেশের সরকার গাজায় বিতর্কিত বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বিপ্লব শুরু করেছে। এই কার্যক্রমের পরিধি আগামীতে নেগেভ এবং গ্যালিলি অঞ্চল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ লিখেছেন যে সকলের জানার জন্য একটি নতুন খবর রয়েছে এবং তা হলো তারা বসতি স্থাপনের এই বিপ্লব কেবল শুরু করেছেন। এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি খুব শীঘ্রই নেগেভ এবং গ্যালিলি এলাকাতেও পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন। ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যার মাত্র দুই দিন আগে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তেরোটি নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ইসরায়েল সরকারের এই ধরনের নতুন পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে। ফিলিস্তিনি সরকারি কর্মকর্তারা ইসরায়েলের এই নতুন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে এই পদক্ষেপের ফলে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম তার চারপাশের অন্যান্য ফিলিস্তিনি জনপদ বা সম্প্রদায় থেকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।ইসরায়েলের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা ইসরায়েলের একতরফা বসতি সম্প্রসারণের কর্মকাণ্ডের প্রতি আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি। এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান বলেছেন, ‘আমরা ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। এটি অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াবে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।’ অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের অধিকার রক্ষা করব। এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধান মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ‘ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড একটি যুদ্ধাপরাধ। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানাই, তারা যেন ইসরায়েলকে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বাধ্য করে।’ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি পতাকা পোড়াচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়েছে। পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াবে এবং নতুন করে সংঘাতের সূচনা করতে পারে। ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল এই প্রস্তাবগুলো মানতে অস্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলি সরকার যুক্তি দেয়, পশ্চিম তীর একটি বিতর্কিত অঞ্চল এবং সেখানে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে। এই বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং এর কোনো সহজ সমাধান নেই। ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান বাধা। এই পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করবে।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলকে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে চাপ দেওয়া। অন্যথায়, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসা কঠিন হবে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচের এই ঘোষণা কেবল বসতি স্থাপনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখানে থামব না। আমরা সমগ্র ইসরায়েল ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ করব।’ এই বক্তব্য ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা বলেছেন, ইসরায়েল তাদের জমি দখল করে নিচ্ছে। ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আরও বড় ধরনের আন্দোলন হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। অন্যথায়, এই অঞ্চলে আরও রক্তপাত হতে পারে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। কিন্তু ইসরায়েলের এই একতরফা পদক্ষেপ সেই পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। তারা কি ইসরায়েলকে চাপ দিতে পারে? নাকি ইসরায়েল তার এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটা স্পষ্ট যে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। আর ইসরায়েল তার নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে যাবে। এই দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব নয় যদি না উভয় পক্ষ ছাড় দেয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। তাই, এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসতে আরও সময় লাগবে। সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ একটি বিপজ্জনক উন্নয়ন। এটি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই হস্তক্ষেপ করতে হবে। অন্যথায়, এই সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। আর ইসরায়েল তার ভূখণ্ড সম্প্রসারণের নীতি অব্যাহত রাখবে। এই দ্বন্দ্বের কোনো সহজ সমাধান নেই। তবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খুঁজে বের করাই সব পক্ষের জন্য উত্তম। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা কঠিন বলে মনে হচ্ছে। তাই, এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সবাই উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আশা করছেন, যেন কোনোভাবে শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ সেই আশাকে আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হওয়ার। ইসরায়েলকে তার এই কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। অন্যথায়, এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে না। এই প্রত্যাশা নিয়েই সবাই এগিয়ে চলি। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসবে। তবে আপাতত এই উন্নয়নই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সবাই এই পরিস্থিতি কীভাবে অগ্রসর হয়, সেদিকে নজর রাখছে।
১১ ঘন্টা আগে

নতুন বেতন স্কেল একবারেই বাস্তবায়নের পথে সরকার, দুই ধাপের পরিকল্পনা বাদ যাচ্ছে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর না করে বরং একবারে বা এককালীন বাস্তবায়নের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শুরুতে নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় থাকলেও বর্তমানে সেই চিন্তা থেকে সরে আসার কারণগুলো হলো প্রযুক্তিগত জটিলতা, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্ভাব্য অসন্তোষ। আইবাস প্ল্যাটফর্মে দুই ধাপে বেতন সমন্বয় করা জটিল হওয়ায় এককালীন বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে প্রশাসন।সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে নতুন বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলোর আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজকের এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও মূল বেতন ১ জুলাই থেকে কার্যকরের একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করার বিষয়টি ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন এই বেতন কাঠামো নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।এককালীন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রায় ২৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। নতুন পে-স্কেলের খসড়ায় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত কাঠামোতে এই হার কিছুটা কমতে পারে। সরকারের কাছে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের যোগান দিতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে এসব বিষয়েও আলোচনা হবে। চাকরিজীবী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিল। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা এককালীন বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, তারা সরকারের ইতিবাচক মনোভাব দেখে আশাবাদী, কিন্তু চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই তারা সন্তুষ্ট হবেন। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চললেও এবার তা দ্রুত এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে কর্মচারীদের এই বাড়তি আর্থিক সুবিধা তাদের পারিবারিক ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনমুখী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, এটি শুধু কর্মচারীদের নয়, পুরো অর্থনীতিতে ভোক্তা চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও, মূল বেতন ও ভাতার বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন সবাই অপেক্ষা করছে আজকের বৈঠকের ফলাফলের দিকে। সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন, সরকার তাদের কথা শুনবে এবং দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে। এই প্রত্যাশা নিয়ে তারা অপেক্ষায় আছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসবে বলে আশা করা যায়।
০৬ জুলাই ২০২৬
মেসির পেনাল্টি মিস, শোবেরের অসাধারণ সেভে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিসর

মেসির পেনাল্টি মিস, শোবেরের অসাধারণ সেভে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিসর

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষে মিসর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা, কিন্তু মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের যেন আজ দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন।ম্যাচের ১৫তম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় মিসর। শর্ট কর্নার থেকে মারওয়ান আত্তিয়ার বাড়ানো ক্রসে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে বাতাসে পরাস্ত করে নিখুঁত হেডে গোল করেন ইয়াসের ইব্রাহিম। এতে এগিয়ে যায় মিসর (১-০)।১৯তম মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। মিসরের হাইসেম হাসান বক্সের ভেতর ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে লিওনেল মেসির নেওয়া শটটি অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন শোবের। বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে এটি মেসির চতুর্থ মিস করা পেনাল্টি। চলতি বিশ্বকাপেই তিনি দুটি পেনাল্টি মিস করলেন, যা ইতিহাসে প্রথম কোনো খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি। আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম খেলোয়াড় মেসি।এরপর আর্জেন্টিনা কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও শোবেরের দারুণ সেভ ও পোস্টের বাধায় ব্যবধান কমানো সম্ভব হয়নি। ২৮তম মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন শোবের। ৩১তম মিনিটে মেসির বুলেট গতির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৩৯তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের নিচু শটও ঠেকিয়ে দেন শোবের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় মিসর।আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আগের ম্যাচ থেকে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন নিকোলাস তালিয়াফিকো, লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে শুরুতে নামানো হয়েছে এবং হুলিয়ান আলভারেজ সুযোগ পেয়েছেন লাওতারো মার্তিনেজের পরিবর্তে। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে খেলবে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে মিসর তাদের লিড ধরে রাখতে চাইবে। ম্যাচের বাকি সময় কেমন হয়, সেদিকে তাকিয়ে আছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
৩ মিনিট আগে
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় প্রশিক্ষণ এলাকায় মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বিস্তীর্ণ অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিনি।মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ফার্ম বেস এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি রেইড মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন।পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সেনানিবাসে ফিরে পূর্ণোদ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার কারণে আমরা আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম। এই মহড়া আমাদের সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও দক্ষতার প্রতিফলন।’ তিনি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সব সেনাসদস্যকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের সাহস, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন সেনাসদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সঞ্চার করে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এবং তার কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার সুযোগ পান। মহড়ার অংশগ্রহণকারী এক সেনাসদস্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের মাঠপর্যায়ে এসে দেখলেন এবং আমাদের সঙ্গে খাবার-চা পান করলেন। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।’ অপর এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন আমাদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের জন্য সবসময় প্রস্তুত।’প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শন সেনাবাহিনীর প্রতি সরকারের গুরুত্ব এবং সেনাসদস্যদের প্রতি তার আন্তরিকতার প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তার জন্য সবসময় প্রস্তুত এবং তাদের আধুনিকায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। মহড়ার শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি তোমাদের কাজে সন্তুষ্ট। তোমরা দেশের গর্ব।’ এই বক্তব্য সেনাসদস্যদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পরিদর্শন সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের জনগণের কাছে সেনাবাহিনীর গুরুত্ব তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও প্রশিক্ষণে আরও উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছি। তাদের সব ধরনের প্রয়োজন মেটানো হবে।’ এই প্রতিশ্রুতি সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তারা দেশের নিরাপত্তায় আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শন একটি সফল ও অর্থবহ পদক্ষেপ ছিল। এটি সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করেছে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহল। তারা আশা করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে সরকারের পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন সেই সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে রয়েছেন এবং তাদের উন্নয়নে কাজ করছেন। এই বার্তা সেনাবাহিনী ও জনগণ উভয়ের কাছেই পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে আরও এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পরিদর্শন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি প্রমাণ করে, তিনি সেনাবাহিনীর উন্নয়নে আন্তরিক এবং দেশের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। এই ভাবনা আগামী দিনে আরও সাফল্য বয়ে আনবে। সব মিলিয়ে, এটি একটি সফল ও অর্থবহ পরিদর্শন ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। সেনাবাহিনী ও সরকারের এই সহযোগিতা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই ধরনের উদ্যোগ সেই অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। সব মিলিয়ে, এটি একটি ইতিবাচক উন্নয়ন, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য শুভ লক্ষণ।
৭ ঘন্টা আগে
ভারতে এবার কি তাজমহল ভেঙে শিব মন্দির করা হবে!

ভারতে এবার কি তাজমহল ভেঙে শিব মন্দির করা হবে!

বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহলের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। ঐতিহাসিক এই স্মৃতিসৌধটির নিচে প্রাচীন মন্দিরের অস্তিত্ব আছে কি না, তা যাচাই করতে কেন জরিপ করা হবে না—তা জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) নোটিশ জারি করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের নেতৃত্বে আবেদনকারী পক্ষ দাবি করছে, তাজমহল আসলে মোগল সম্রাট শাহজাহানের তৈরি কোনো স্মৃতিসৌধ নয়, বরং এটি ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে নিবেদিত প্রাচীন হিন্দু মন্দির ‘তেজো মহালয়া’। হিন্দুত্ববাদী এই আইনজীবীদের দাবি, ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব এটি নির্মাণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে মোগলরা এটি জোরপূর্বক দখল করে রূপান্তর করে।এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চে শুনানির সময় বাদীপক্ষ তাজমহল প্রাঙ্গণের ভেতরে হিন্দুদের পূজা করার অনুমতি ও সৌধটি জরিপের জন্য অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগের আবেদন জানায়। অতীতে আগ্রার নিম্ন আদালত পর্যাপ্ত নথিপত্রের অভাব দেখিয়ে এই আবেদন খারিজ করে দিলেও, এবার সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আবেদনকারীরা। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই হেরিটেজ সাইট সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মতে, ১৬৩১ থেকে ১৬৫৩ সালের মধ্যে মোগল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয় পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে এটি নির্মাণ করেন। তবে আবেদনকারী পক্ষের দাবি, তাদের কাছে ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে এটি একটি মন্দির। এছাড়াও, এএসআই কর্তৃক তাজমহলে নামাজ পড়ার অনুমতি প্রদান এবং সৌধের কিছু অংশ তালাবদ্ধ রাখার বিষয়টিও তাদের আবেদনে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার ঐতিহাসিক রায়ের পর থেকে ভারতে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর আদি পরিচয় নিয়ে নানা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তাজমহল নিয়ে এই নতুন আইনি পদক্ষেপ সেই বিতর্কেরই এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবেদনকারীদের মূল লক্ষ্য হলো—তাজমহলের ভেতরে ছবি ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে আদালতের মাধ্যমে সৌধটির ‘হিন্দু মন্দির’ হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করা। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে উচ্চ আদালত। এই মামলার চূড়ান্ত রায় কেবল তাজমহলের ধর্মীয় পরিচয়ের বিতর্কই উসকে দেবে না, বরং ভারতের প্রাচীন স্থাপনা ও ইতিহাস রক্ষায় এক নতুন আইনি নজির তৈরি করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।এদিকে, তাজমহলের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে এই বিতর্কের প্রভাব পড়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এই আবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইতিহাসের সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। অন্যদিকে, মুসলিম সংগঠনগুলো এই আবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, তাজমহল বিশ্বের একটি ঐতিহ্য, এটি কোনো ধর্মীয় সম্পত্তি নয়। তাদের মতে, এই ধরনের মামলা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করবে। ঐতিহাসিকরাও এই আবেদনকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন, তাজমহল নির্মাণের পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। মোগল স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন এই সৌধের সঙ্গে হিন্দু মন্দিরের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে হাইকোর্টের নোটিশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। এএসআই এখন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। তারা হয় তাজমহলের মোগল স্থাপত্যের প্রমাণ দেবে, নয়তো জরিপের অনুমতি দেবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এই মামলার রায় ভারতের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়। তাজমহলের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কী মোড় নেয়, সেদিকে তাকিয়ে আছে গোটা দেশ। সব মিলিয়ে, তাজমহল নিয়ে এই নতুন আইনি লড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি শুধু একটি সৌধের ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং ভারতের ঐতিহাসিক বক্তৃতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্যও একটি পরীক্ষা। আদালতের সিদ্ধান্ত এই বিতর্কের সমাধান করবে নাকি আরও জটিল করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত, তাজমহলের গায়ে নতুন করে পড়েছে প্রশ্নচিহ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু সেই খোঁজ যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঐতিহাসিক সত্য উদঘাটন করা জরুরি, কিন্তু তা হতে হবে বিজ্ঞানসম্মত ও নিরপেক্ষ উপায়ে। আশা করা যায়, আদালত সেই পথেই এগিয়ে যাবে। আর তাজমহলের মহিমা অক্ষুণ্ণ থাকবে, সেটাই সবার কামনা।
৪ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

১৪ মাস পর দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ক্যাপসুল

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর এই ক্যাম্পেইন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশে তারা বলেছেন, নির্ধারিত দিনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রে যেসব শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাদের জন্য ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
২৪ জুন ২০২৬
বাংলা কিউআর: একটি কোডেই সব ডিজিটাল লেনদেন

বাংলা কিউআর: একটি কোডেই সব ডিজিটাল লেনদেন

শপিংমল হোক কিংবা মুদির দোকান—টাকা পরিশোধের সময় বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা অনলাইন ব্যাংকিং সেবার আলাদা আলাদা কিউআর কোড খোঁজার দিন শেষ। এখন একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করেই যেকোনো গ্রাহক ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুনে সরকার কর্তৃক এই সর্বজনীন কিউআর কোড-ভিত্তিক সেবাটি সর্বত্র বাধ্যতামূলক করার মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যেই ৭৭ হাজার ১৬৫টি লেনদেনে মোট ২২ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি আর্থিক পরিশোধ হয়েছে। দেশের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে একক প্ল্যাটফর্মে এনে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সহজ লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ক্যাশলেস ইকোনমি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টার-অপারেবল জাতীয় কিউআর পেমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড, যা প্রচলিত সকল মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে একটিমাত্র কিউআর কোডের আওতায় আনার মাধ্যমে সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে। আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড থাকায় একজন গ্রাহক কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ দিয়েই অর্থ পরিশোধ করতে পারতেন। নতুন এই ব্যবস্থায় একজন ব্যবসায়ীর শুধু এই একটি কিউআর কোড তার কাছে বা দোকানে রাখলেই চলবে। এই একটি কিউআর স্ক্যান করে বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা যেকোনো ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে যেমন ব্যবসায়ীদের একাধিক কিউআর ব্যবহারের ঝামেলা ও ব্যয় কমবে, গ্রাহকদের জন্যও ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ ও সর্বজনীন হবে। বর্তমানে ৪৬টি ব্যাংক, সাতটি এমএফএস এবং চারটি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছে এবং প্রায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন।বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে আলাদা কোনো অ্যাপের প্রয়োজন নেই। প্রথমে স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) অ্যাপটি খুলে ‘স্ক্যান কিউআর’ বা ‘পে উইথ কিউআর’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ব্যবসায়ীর দোকানে প্রদর্শিত বাংলা কিউআর কোডটি স্ক্যান করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসায়ীর তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ পর্দায় দেখা যাবে। যদি কিউআর কোডটি স্ট্যাটিক হয়, তাহলে গ্রাহককে পরিশোধের পরিমাণ নিজে লিখতে হবে; আর ডাইনামিক হলে বিলের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে। এরপর সতর্কতার সঙ্গে সব তথ্য যাচাই করে পিন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অন্যান্য নিরাপত্তা যাচাইকরণের মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অর্থ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যবসায়ীর হিসাবে যোগ হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ কাটা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্যটিকে ভুল বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো চার্জ দিতে হবে না; ক্রেতা হিসেবে শূন্য শতাংশ চার্জ দিয়েই পণ্য ক্রয় করা যাবে। তবে এই চার্জ দিতে হবে বিক্রেতাকে, অর্থাৎ মার্চেন্টকে। বিক্রেতা বা মার্চেন্টের খরচ হবে ১ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ ১০ টাকা + ১৫ শতাংশ ভ্যাট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হারে চার্জ প্রযোজ্য হবে। ফলে মার্চেন্টের খরচ হিসেবে গণ্য হবে মোট ১১ টাকা ৫০ পয়সা।এলাকার চায়ের দোকান, মুদির দোকান থেকে শুরু করে শপিংমল, সিনেমা হল, অ্যামিউজমেন্ট পার্কসহ যেকোনো গণপরিবহনের ভাড়া পরিশোধ—বাংলা কিউআরের আওতাভুক্ত যেকোনো ব্যবসা বা আর্থিক লেনদেনেই এটি ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো নয়, বরং মুদ্রা ছাপানোর ব্যয় হ্রাস, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্টের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে সরকারি সেবার সব ধরনের অর্থ পরিশোধেও বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ছাড়াই কিউআরভিত্তিক লেনদেন চালুর বিষয়েও কাজ চলছে। এ ছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কিস্তিতে প্রায় ৩০ হাজার স্মার্টফোন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেন আরও বেশি মানুষ ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে কিউআর কোডের নবাগত ধারণাটি তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের আবশ্যকতার বিকল্প বের করা।
০৮ মে ২০২৬
সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব ও জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিচার দাবি জামায়াত এমপির

সুদমুক্ত অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব ও জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিচার দাবি জামায়াত এমপির

০৮ মে ২০২৬
নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার: এক চার্জে ১৫ দিন, দাম ২৮৯৯ টাকা

নকিয়ার চিরচেনা ফিচার ফোনের ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে উৎপাদিত নতুন ‘নকিয়া ১১০ পাওয়ার’ উন্মোচন করা হয়েছে। ফোনটি একবার চার্জে ১৫ দিন চলবে, দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা। মুঠোফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত মডেলগুলোর একটি নকিয়া ১১০। সেই পরিচিত ফোনটিই এবার নতুন রূপে ফিরেছে বাংলাদেশের বাজারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, বড় পর্দা ও পরিচিত নকশার সমন্বয়ে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ার।সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে আয়োজিত দিনব্যাপী বিক্রয় প্রতিনিধি সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি উন্মোচন করা হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশে নকিয়া ফোনের একমাত্র উৎপাদনকারী ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সেলেক্সট্রা লিমিটেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচএমডি বাংলাদেশের বিজনেস ম্যানেজার কাজী আল আমিন, সেলেক্সট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম, হেড অব সেলস মামুন খান, চিফ বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ আসিফ আলমগীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত এই নতুন মডেলটি নকিয়ার ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। নতুন নকিয়া ১১০ পাওয়ারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শক্তিশালী ১৭৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। নির্মাতাদের দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে ফোনটি টানা ১৫ দিন পর্যন্ত সচল থাকতে পারবে। ফলে নিয়মিত চার্জ দেওয়ার ঝামেলা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যাবে ফোনটি।ফিচার ফোন হলেও এতে রয়েছে দুই ইঞ্চি পর্দা, যা আগের অনেক মডেলের তুলনায় বড় ও ব্যবহারবান্ধব। ফোনটির পেছনে থাকা ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ, যা অল্প আলো বা অন্ধকার পরিবেশেও ছবি তুলতে সহায়তা করবে। নকিয়ার পুরোনো ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর হলো নতুন এই ফোনেও রাখা হয়েছে একসময়ের জনপ্রিয় স্নেক গেম। ফলে প্রযুক্তির আধুনিকতার পাশাপাশি নস্টালজিয়ার ছোঁয়াও মিলবে ডিভাইসটিতে। নকিয়া ১১০ পাওয়ার বাজারে আনা হয়েছে নীল, ধূসর ও বেগুনি—এই তিন রঙে।প্রসঙ্গত, নকিয়ার আসল ফোন দেখে কিনতে জানিয়েছেন নির্মাতারা। আপনার কেনা ফোনটি আসল কি না, তা যাচাই করতে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর লিখে ‘KYD <স্পেস> ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর’ টাইপ করে ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএস ডিভাইসটির বৈধ বা নকলের তথ্য পাওয়া যাবে। নকিয়া ১১০ পাওয়ারকে বাংলাদেশের বাজারে ফিচার ফোনের মধ্যে অন্যতম সেরা বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটির দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে যারা শুধু কল, এসএমএস এবং কিছু মৌলিক কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ। এর শক্তিশালী ব্যাটারি, বড় পর্দা, স্নেক গেমের নস্টালজিয়া এবং এলইডি ফ্ল্যাশ সহ ক্যামেরা ফোনটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সেলেক্সট্রা লিমিটেড জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ফোনের বিক্রি বাড়াতে কাজ করছে। তারা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি এবং আফটার-সেলস সার্ভিস নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নকিয়া ১১০ পাওয়ার উন্মোচনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনটির ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকে তাদের পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে এই ফোন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে ফোনটির বিক্রি ভালো হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নকিয়া বাংলাদেশে তাদের ফিচার ফোনের বাজার ধরে রাখতে আরও নতুন মডেল আনতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ফোনটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গ্রাহকরা সেলেক্সট্রার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ মোবাইল ফোনের দোকানে যোগাযোগ করতে পারেন। নকিয়ার এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৯ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
০৮ মে ২০২৬
ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ, ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরাম বসুর বীরত্বগাথা পড়ে বড় হয়েছি। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে তাঁর সেই বিখ্যাত গান—"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"—শোনেনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। ক্ষুদিরাম আমাদের আবেগ, আমাদের জাতীয় বীর। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, "মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ" নামটা আমাদের কয়জন জানি? অথচ এই আব্দুল্লাহও ছিলেন একজন বাঙালি উপমহাদেশীয় বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামের আন্দোলনের মাত্র কয়েক দশক আগে, ১৮৭১ সালে কলকাতার টাউন হলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই আব্দুল্লাহ একাই বুক চিতিয়ে হত্যা করেছিলেন তৎকালীন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যানকে—যে বিচারক বিপ্লবীদের কঠোর সাজা ও ফাঁসি দেওয়ার জন্য কুখ্যাত ছিলেন।১৮৭১ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার টাউন হলে এক রাজকীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জন প্যাক্সটন নরম্যান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ তাঁর পথ রোধ করেন। তিনি নরম্যানের বুকে একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, যা ছিল এতটাই নিখুঁত ও মারাত্মক যে নরম্যান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আব্দুল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। অথচ ক্ষুদিরাম বসু ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে বোমা ছুড়েছিলেন, কিন্তু ভুলবশত দুজন নিরীহ ইউরোপীয় নারী মারা যান, কিংসফোর্ড বেঁচে যান। আর আব্দুল্লাহ একাই একটি ছুরি হাতে সরাসরি তাঁর মূল টার্গেট, ব্রিটিশদের প্রধান বিচারপতিকে খতম করেছিলেন। ফলাফল দুজনেরই ব্রিটিশদের ফাঁসির দড়ি।তাহলে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় কেন এই আকাশ-পাতাল বৈষম্য? কেন ক্ষুদিরামের নাম আমাদের মুখে মুখে, আর আব্দুল্লাহর নাম ইতিহাসের পাতা থেকে একপ্রকার মুছে দেওয়া হলো? এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা। আব্দুল্লাহ যুক্ত ছিলেন ওহাবি আন্দোলনের সাথে। আমাদের আধুনিক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিকরা ওহাবি আন্দোলনকে কেবল "ধর্মীয় আন্দোলন" তকমা দিয়ে আব্দুল্লাহর মতো খাঁটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। অথচ ওহাবি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ধারা, যার মাধ্যমে উপমহাদেশের মানুষ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে চেয়েছিল। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই আন্দোলনেরই একজন উজ্জ্বল সেনানী।ব্রিটিশরা সুকৌশলে আব্দুল্লাহর সমস্ত তথ্য, ছবি এবং স্মৃতি সেন্সর করেছিল যাতে তিনি মুসলিম তরুণদের আইকন বা শহীদ হতে না পারেন। ব্রিটিশরা জানত, একজন মুসলিম বিপ্লবী যদি আদর্শে পরিণত হয়, তাহলে তা উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা আব্দুল্লাহর নাম ও পরিচয় গুম করে দেয়। আর স্বাধীনতার পর আমাদের শিক্ষাবোর্ডগুলোও সেই ব্রিটিশদের তৈরি করা সিলেবাসের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। ফলে আব্দুল্লাহর মতো অনেক বীরই রয়ে গেছেন ইতিহাসের আড়ালে।ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের জাতীয় বীর, আব্দুল্লাহও তেমনই বীর। ক্ষুদিরাম ফাঁসির আগে গান গেয়েছেন, আব্দুল্লাহও ফাঁসির আগে নির্ভীক ছিলেন। একজন ব্রিটিশ প্রধান বিচারপতিকে হত্যা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ভারতবাসী আর ব্রিটিশ শাসন সহ্য করবে না। তাঁর এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের জানা উচিত। আজ সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর। ইতিহাস কারও একার সম্পত্তি নয়। রক্ত ক্ষুদিরামও দিয়েছেন, রক্ত আব্দুল্লাহও দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া প্রতিটা মানুষই সমান শ্রদ্ধার পাত্র। আসুন, নিজেদের ইতিহাসকে নতুন করে জানি। আব্দুল্লাহদের মতো হারিয়ে যাওয়া বীরদের অবদানের কথা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাই।শিক্ষাবোর্ডগুলোর উচিত আব্দুল্লাহসহ সকল উপেক্ষিত বিপ্লবীদের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। আব্দুল্লাহর নামে স্মৃতিসৌধ, রাস্তা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম তাঁকে চিনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আব্দুল্লাহর জীবন ও আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। গণমাধ্যমে আব্দুল্লাহর কাহিনি প্রচার করতে হবে, যাতে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হন। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই সমান সম্মানের অধিকারী। ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের গর্ব, আব্দুল্লাহও তেমনই আমাদের গর্ব। ইতিহাসের এই একপেশে বয়ান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের উচিত প্রতিটি বীরের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণ ইতিহাসকে আত্মস্থ করতে পারব। ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়কে সামনে এনে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সম্পূর্ণ ও সঠিক ইতিহাস উপহার দিতে পারি। আব্দুল্লাহর মতো বীরদের প্রতি আমাদের এই দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ফোঁটা রক্তই সমান মূল্যবান। এখন সময় এসেছে আব্দুল্লাহদের পুনর্বাসনের, যাতে নতুন প্রজন্ম জানে—স্বাধীনতার এই পথ কতটা রক্তক্ষয়ী ছিল এবং কতজন অজানা বীর এই পথ প্রশস্ত করেছেন।
ফিরোজ আল মামুন