ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ কে হচ্ছেন? সাক্ষাৎকার শেষ, রোববার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা অধ্যায় শেষ হওয়ার পর নতুন কোচ নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মে’র মধ্যে নতুন কোচের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় তারা।শুক্রবার (৮ মে) মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, জাতীয় দল কমিটি বর্তমানে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছে। পাঁচজন কোচের সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী রোববারের মধ্যে আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো এবং ১৫ মে’র মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হবে।কারা আছেন প্রতিযোগিতায়বাংলাদেশ দলের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের অলিম্পিক জয়ী কোচ রোজারিও মিকেল। এছাড়া প্রাক্তন ওয়েলস ও সাউদাম্পটন কোচ ক্রিস কোলম্যানও এই দৌড়ে আছেন বলে জানা গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, বাফুফের সিদ্ধান্ত বিলম্ব হওয়ায় মিকেল অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।গুঞ্জন ও বাজেট প্রসঙ্গসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুঞ্জন কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাফুফে প্রধান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছুই শোনা যায়। ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ করছি। আমরা যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তারা সবাই অত্যন্ত আগ্রহী এবং রোববার আমাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।’হাই-প্রোফাইল কোচ নিয়োগে বাজেট প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘বাজেট অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটিই শেষ কথা নয়। প্রয়োজনে আমরা স্পন্সর, সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করবো। যেভাবেই হোক, আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করবো।’বাফুফে সভাপতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কোচ নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
১৩ ঘন্টা আগে

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে স্বাগতিকদের দাপট, সংগ্রহ ৩০১/৪

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে দাপুটে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৮৫ ওভার শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩০১ রানে ৪ উইকেট।নাজমুল হোসেন শান্ত (১০১), মুমিনুল হক (৯১) ও মুশফিকুর রহিম (৪৮*) তিনজনের ব্যাটিংয়ে ভর করে লড়াইয়ে থাকা সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।দিনের খেলার সারাংশসকালে শুরুটা ভালো পায়নি বাংলাদেশ। শাহিন আফ্রিদি আর হাসান আলীর আক্রমণে দুই ওপেনার ফিরে যান মাত্র ৩১ রানের মাথায়। সেখান থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক দলের হাল ধরেন।তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন গড়েন ১৭০ রানের অসাধারণ জুটি। ১৩০ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন নাজমুল। সেঞ্চুরির পরের বলেই আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ আউট হন তিনি। আউটের আগে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১০১ রান করেন তিনি।মুমিনুল হক ২০০ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলে নোমান আলীর শিকার হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় ইনিংসের দেখা পাচ্ছিলেন মুমিনুল, কিন্তু শেষ দিকে ফিরতে পারেননি। মুমিনুলের বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৩০১/৪ নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ।পাকিস্তান বোলিংয়ে হতাশপাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্বাস (২২-৭-৫১-১) ও শাহিন আফ্রিদি (১৯-৫-৬৭-১) ভালো বোলিং করলেও উইকেট পেয়েছেন মাত্র ১টি করে। হাসান আলী ও নোমান আলী পেয়েছেন একটি করে উইকেট। আর সালমান আগা বোলিং করলেও উইকেটশূন্য।বিশেষ করে শেষ দিকে অধীর বোলিং ও মাঠে ক্যাচ মিস পাকিস্তানকে পিছিয়ে দিয়েছে। ওভার রেট নিয়েও পিছিয়ে ছিল তারা। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩০ মিনিট বেশি খেলিয়ে ৮৫ ওভার বোলিং করতে পেরেছে পাকিস্তান।আগামীকালের সম্ভাবনাদ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে মুশফিকুর রহিম (৪৮) ও লিটন দাস (৮) অপরাজিত। তাদের সঙ্গে মিরাজ ও তাইজুলের রান পেলে বাংলাদেশ পেরোতে পারে ৪০০ রানের গণ্ডি। পাকিস্তানের সামনে এখন দ্রুত উইকেট তোলার চ্যালেঞ্জ।মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে যেখানে ম্যাচ থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, সেখানে অধিনায়ক শান্ত ও মুমিনুলের ১৭০ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শান্তর নবম টেস্ট সেঞ্চুরি আর মুমিনুলের ৯১ রানে আউট হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হলেও দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে। মুশফিক এখন ৪৮ রানে, লিটন দাস ৮ রানে। পাকিস্তানের বোলাররা সংগতিপূর্ণ হলেও উইকেটের অভাবে হতাশ। আগামীকাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের দিকে তাকাতে পারে। পাকিস্তানের জন্য প্রয়োজন প্রথম ১ ঘণ্টায় ২-৩ উইকেট। তাহলেই ম্যাট উত্তেজনাপূর্ণ হবে।
১৩ ঘন্টা আগে

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে আলোচনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাজ্য ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিধায়কদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ পদে একাধিক প্রস্তাব এলেও সব প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর।সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচনবৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অমিত শাহ বলেন, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।মমতাকে হারিয়ে ইতিহাসএবারের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর আসনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আসনেও জয় পান তিনি।এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার মমতার রাজনৈতিক ঘাঁটিতেও জয় পেয়ে রাজ্যের নেতৃত্বে উঠে এলেন তিনি।দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনাপশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে থাকা বিজেপি এবার দুইজন উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রায় দুই দশক পর রাজ্যের প্রশাসনে ফিরছে এই পদ।সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন আসানসোল দক্ষিণের বিজয়ী প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অগ্নিমিত্রা পলকে প্রথম এবং শঙ্কর ঘোষকে দ্বিতীয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটপশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বশেষ উপ-মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের সময় তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০০ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের মন্ত্রিসভায় আর উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ রাখেননি বুদ্ধদেব।২০১১ সালে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারেও উপ-মুখ্যমন্ত্রীর কোনো পদ ছিল না।শপথগ্রহণ আগামীকালনতুন সরকার আগামী ৯ মে শপথ নিতে পারে। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।ছবি (ফিচার ইমেজ প্রম্পট): West Bengal BJP legislative party meeting. Amit Shah announcing Suvendu Adhikari as leader. Suvendu Adhikari seated next to Amit Shah, both smiling and shaking hands. BJP MLAs clapping in background. Party flags and placards. Official atmosphere. Realistic documentary style, indoor lighting, wide angle, horizontal 4K.ট্যাগস: #শুভেন্দুঅধিকারী #পশ্চিমবঙ্গনির্বাচন #বিজেপি #মুখ্যমন্ত্রী #অমিতশাহ #অগ্নিমিত্রাপল #শঙ্করঘোষ #৯মেবিভাগ: আন্তর্জাতিক / ভারতের রাজনীতিভিডিও লিংক: (এই কাঁচা নিউজে কোনো ভিডিও লিংক নেই। দেওয়া থাকলে এখানে যুক্ত হবে।)পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি ২০৭ আসনের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল। উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অগ্নিমিত্রা পল ও শঙ্কর ঘোষের নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রায় দুই দশক পর রাজ্যে ফিরছে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ। আগামী দিনে শুভেন্দু সরকারের নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।ঈদুল আজহায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৭ দিন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১৬ থেকে ২১ দিন ছুটি২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল, অফিস করতে হবে; মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিঢাকা, ৮ মে: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৭ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন এবং মাদ্রাসায় ২১ দিনের ছুটি থাকছে।বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।সরকারি অফিসের ছুটিবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিন সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। তবে সরকারি অফিসের ছুটিতে পরিবর্তন এলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোট ৭ দিনের ছুটি পাবেন।স্কুল ও কলেজের ছুটিশিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এবং ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে, যা চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। ছুটির আগে ও পরে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় স্কুলগুলোতে টানা ১৬ দিনের ছুটি মিলবে।কলেজ পর্যায়েও ঈদের মূল ছুটি ১২ দিনের হলেও সাপ্তাহিক বন্ধ যুক্ত হয়ে মোট ছুটি দাঁড়াবে ১৬ দিনে।মাদ্রাসার ছুটিমাদ্রাসাগুলোতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদের ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে এবং শেষ হবে ১১ জুন। এর সঙ্গে আগের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা টানা ২১ দিনের ছুটি পাচ্ছে।আগামী ২৩ মে শনিবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস করতে হবে, তারপর ৭ দিনের ছুটি শুরু হবে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছুটি অনেক বড়। এতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ বিরতি পাবে। তবে যারা ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাবেন, তাদের জন্য যানজট ও ফেরির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। ঈদ যেন সবার জন্য আনন্দের হয়, সেদিকে নজর দিতে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৪ ঘন্টা আগে
হরমুজ অবরোধে তিন-চার মাস টিকতে পারে ইরান: সিআইএ’র গোপন বিশ্লেষণ

হরমুজ অবরোধে তিন-চার মাস টিকতে পারে ইরান: সিআইএ’র গোপন বিশ্লেষণ

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ চললেও ইরান কয়েক মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র একটি গোপন বিশ্লেষণ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) মার্কিন সংবাদমিত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ ও চলমান সংঘাতের মধ্যেও অন্তত তিন থেকে চার মাস ইরান টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠানো ওই বিশ্লেষণী নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও তেহরানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ইরানের কাছে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের অধিকাংশ ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনও শুরু করেছে।এই মূল্যায়ন প্রকাশ্যে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, অবরোধ ও হামলার কারণে ইরান দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও মন্তব্য করেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের চাপে ইরানের তেল অবকাঠামো স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।ঊর্ধ্বতন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, অবরোধের কারণে ইরান বাস্তবিকভাবেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপে রয়েছে এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরে ১৩ এপ্রিল থেকে ওই এলাকায় ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে শুক্রবার জবাব দেবে ইরানইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে দেওয়া মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে শুক্রবার (৮ মে) ইরানের জবাব পাওয়ার আশা করছে ওয়াশিংটন। এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।দ্য গার্ডিয়ানের সূত্র অনুযায়ী, রোমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও জানান, ‘ইরান কী জবাব দেয় সেটি আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি। আশা করছি, এটি আমাদের একটি গুরুতর আলোচনার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।’প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে ইরানের সঙ্গে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে বলে আশা করছে তারা।গত এক মাসের যুদ্ধবিরতির পর বৃহস্পতিবার (৮ মে) গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এটিকে গত এক মাসের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।হামলার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। তিনি সংঘর্ষের এই ঘটনাকে কেবল ‘হালকা ধাক্কা’ বলে বর্ণনা করেন।সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দ্য গার্ডিয়ান
১১ ঘন্টা আগে
ঈদুল আজহায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১৬ থেকে ২১ দিন বন্ধ

ঈদুল আজহায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১৬ থেকে ২১ দিন বন্ধ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাত দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাত দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ছুটির সমন্বয়ের অংশ হিসেবে আগামী ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিন সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যথারীতি অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।সরকারি অফিসের ছুটির সূচিতে পরিবর্তন এলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ছুটির তালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এবং ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে, যা চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। এর আগে ও পরে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবে।কলেজ পর্যায়েও ঈদের মূল ছুটি ১২ দিনের হলেও সাপ্তাহিক বন্ধসহ মোট ছুটি দাঁড়াবে ১৬ দিন।অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে এবং শেষ হবে ১১ জুন। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা টানা ২১ দিনের ছুটি পাবে।সরকারের এই ছুটির ব্যবস্থাপনায় একদিকে সরকারি কার্যক্রম সমন্বয় রাখা হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে দীর্ঘ বিরতির সুযোগ পাবে।
১৬ ঘন্টা আগে
হরমুজ অবরোধে তিন-চার মাস টিকতে পারে ইরান: সিআইএ’র গোপন বিশ্লেষণ

হরমুজ অবরোধে তিন-চার মাস টিকতে পারে ইরান: সিআইএ’র গোপন বিশ্লেষণ

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ চললেও ইরান কয়েক মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র একটি গোপন বিশ্লেষণ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) মার্কিন সংবাদমিত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ ও চলমান সংঘাতের মধ্যেও অন্তত তিন থেকে চার মাস ইরান টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠানো ওই বিশ্লেষণী নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও তেহরানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ইরানের কাছে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের অধিকাংশ ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনও শুরু করেছে।এই মূল্যায়ন প্রকাশ্যে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, অবরোধ ও হামলার কারণে ইরান দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও মন্তব্য করেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের চাপে ইরানের তেল অবকাঠামো স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।ঊর্ধ্বতন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, অবরোধের কারণে ইরান বাস্তবিকভাবেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপে রয়েছে এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরে ১৩ এপ্রিল থেকে ওই এলাকায় ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে শুক্রবার জবাব দেবে ইরানইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে দেওয়া মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে শুক্রবার (৮ মে) ইরানের জবাব পাওয়ার আশা করছে ওয়াশিংটন। এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।দ্য গার্ডিয়ানের সূত্র অনুযায়ী, রোমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও জানান, ‘ইরান কী জবাব দেয় সেটি আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি। আশা করছি, এটি আমাদের একটি গুরুতর আলোচনার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।’প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে ইরানের সঙ্গে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে বলে আশা করছে তারা।গত এক মাসের যুদ্ধবিরতির পর বৃহস্পতিবার (৮ মে) গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এটিকে গত এক মাসের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।হামলার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। তিনি সংঘর্ষের এই ঘটনাকে কেবল ‘হালকা ধাক্কা’ বলে বর্ণনা করেন।সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দ্য গার্ডিয়ান
১১ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা দেখতে যতটা সহজ, তার প্রভাব ততটাই গভীর। কারণ এই ছোট পরীক্ষাই নির্ধারণ করে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবন কতটা স্বাভাবিক হবে, নাকি শুরু থেকেই লড়তে হবে থ্যালাসেমিয়া নামক এক কঠিন বংশগত রোগের বিরুদ্ধে।অনেকেই জানেন না, তারা নিজেরাই এই রোগের বাহক হতে পারেন, আর সেই অজান্তেই নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠেলে দিতে পারে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কষ্টের চক্রে। অথচ সময়মতো সচেতন হলে এই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসপ্রতি বছর ৮ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং থ্যালাসেমিয়া নামক মারাত্মক বংশগত রক্তরোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, রোগ প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।থ্যালাসেমিয়া এমন একটি জেনেটিক রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে সুস্থ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। ফলে রোগীকে সারাজীবন নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, যা তাদের জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।এ বছরের প্রতিপাদ্যএ বছরের প্রতিপাদ্য: ‘হিডেন নো মোর: ফাইন্ডিং দ্য আনডায়াগনোসড, সাপোর্টিং দ্য আনসিন’ (আর লুকিয়ে নয়: অজানা রোগীদের খুঁজে বের করা, অদেখা মানুষদের সহায়তা করা)।আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরে: থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ ও রোগীদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যম—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপবাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। এর প্রধান কারণ অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ জানেন না যে তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না।অথচ দুইজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে ক্যারিয়ার শনাক্ত করা।একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই জানা সম্ভব কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা। এই তথ্যটি জানা থাকলে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই কষ্টকর রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।কী করা জরুরিবিবাহ-পূর্ব রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এখন এসেছে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন সহজ নয়। নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, আয়রন চেলেশন থেরাপি এবং বিভিন্ন জটিলতার মোকাবিলা তাদের নিত্যসঙ্গী। অনেক পরিবার এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ রক্ত সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা রোগীদের জন্য অপরিহার্য।সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরিথ্যালাসেমিয়া রোগীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। অনেক সময় তারা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হন, যা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা।চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসায় নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেমন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। তবে এটি ব্যয়বহুল এবং সবার নাগালের মধ্যে নয়। তাই প্রতিরোধই এখানে সবচেয়ে কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত পথ।থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই পারে অনাগত শিশুর জীবনকে কষ্টমুক্ত রাখতে। অথচ অজ্ঞতার কারণেই বহু পরিবার এই রোগের কষ্ট বহন করতে বাধ্য হয়। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে না পারলে থ্যালাসেমিয়া নির্মূল করা সম্ভব নয়। আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা করা উচিত, নিজে সচেতন হব, অন্যকে সচেতন করব। তবেই গড়ে তুলতে পারব থ্যালাসেমিয়ামুক্ত সুস্থ সমাজ।
২১ ঘন্টা আগে
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাণিজ্য আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এ রায় দেয়।ট্রাম্প প্রশাসন ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই শুল্ক আরোপ করেছিল। এ জন্য তারা ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে।প্রেক্ষাপটএর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে বাতিল করে দেয়। আদালত বলেছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে এত বড় পরিসরে শুল্ক আরোপ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।এরপর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করা হয়।সেকশন ১২২-এর শর্ত ও বাদীদের যুক্তিসেকশন ১২২ অনুযায়ী, কোনো দেশের বড় ও গুরুতর ভারসাম্যহীন বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন।তবে মামলার বাদীরা যুক্তি দেন, ট্রাম্প এই ধারা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেননি।আদালতের সর্বশেষ এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর রয়েছে, প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না।ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক নীতি বারবার আদালতের বাধার মুখে পড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের পর এবার বাণিজ্য আদালতও ১০ শতাংশ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করল। প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প প্রশাসন কি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে, নাকি বিকল্প পথ খুঁজবে? যাই হোক, আমেরিকার বাণিজ্য নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩০ মার্চ ২০২৬
স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়: মঈনুলের ইসেভিও কীভাবে পৌঁছাল বিশ্বমঞ্চে

স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়: মঈনুলের ইসেভিও কীভাবে পৌঁছাল বিশ্বমঞ্চে

৩০ মার্চ ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
৩০ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার