ঢাকা    সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
গণবার্তা

পাইপলাইনে গ্যাস সংকটের মধ্যেই বাড়ল এলপিজির দাম

পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ সংকটের মধ্যেই এবার ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। এবার প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা ৮৫ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৭০ টাকা। ফলে ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে বেড়ে নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।আজ রোববার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধি পায় এলপিজির। এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম বাড়ানো হয় ৩৮৭ টাকা। এরপর একই মাসের ১৯ এপ্রিল আবার বাড়ানো হয় ২১২ টাকা। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমানো হয় দেশে। গত মাসে (জুলাই) ৩৫৭ টাকা কমে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হয়েছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।বিইআরসি বলছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে, যা আগে ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা।সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। অভিযোগ আছে, প্রতি সিলিন্ডারে বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা। গ্যাস–সংকটে পড়ে অনেকেই বাসায় রান্না করতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা।২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।
৬ ঘন্টা আগে

যত দিন জামায়াত থাকবে, তত দিন আওয়ামী লীগও থাকবে: ফরহাদ মজহার

বাংলাদেশে যত দিন জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে রাজনীতি থাকবে, তত দিন আওয়ামী লীগও থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান: বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।ফরহাদ মজহার বলেন, 'আমি বারবার একটা কথা বলেছি, যদিও অনেকে এতে রাগ করেছেন। আমি বলেছি, যত দিন জামায়াতে ইসলামী থাকবে, তত দিন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ থাকবে। আমি জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে রাজনীতি করার ঘোরবিরোধী। কারণ, ইসলাম আমাদের ধর্ম। তার নীতিগত ও নৈতিক দিক একটি নতুন রাষ্ট্র ও নতুন সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ প্রথম একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশ্ব ইতিহাসে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই অর্জনের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।১৯৭২ সালের সংবিধান প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, এই বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। তার মতে, জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান সংবিধানের পরিবর্তে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন প্রয়োজন।সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে জনগণকে রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক বলা হলেও পরবর্তী অংশে সংবিধানকে জনগণের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।'সংবিধান' ও 'গঠনতন্ত্র' এর পার্থক্য তুলে ধরে ফরহাদ মজহার বলেন, জনগণ সংবিধানের অধীন নয়; জনগণ চাইলে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে পারে। তার ভাষ্য, গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনার মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করবে।সংলাপে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের সার্বভৌমত্বকে কেন্দ্র করে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংবিধানের পরিবর্তে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করলেই প্রকৃত গণতন্ত্র ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
৬ ঘন্টা আগে

এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, হাজারো শ্রমিক বেকার

নজিরবিহীন ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও তীব্র তারল্য সংকটে জর্জরিত দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ১১টি ভারী কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে এসব কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিককে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি ও ছাঁটাই করা হয়েছে।গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মূলত এই শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে বড় ধরনের ধস নামতে শুরু করে। ব্যাংকগুলো থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা না পাওয়া এবং মূলধন সংকটে নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) খুলে কাঁচামাল আমদানি করতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করে কারখানা গুটিয়ে নেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এস আলম গ্রুপের বন্ধ হয়ে যাওয়া ও শ্রমিক ছাঁটাই হওয়া প্রধান ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (নফ), চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট এবং এস আলম ভেজিটেবল অয়েল মিলসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।স্থানীয় সূত্র ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে কর্ণফুলীর এসব কারখানায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক (প্রায় আড়াই হাজার স্থায়ী ও দেড় হাজার অস্থায়ী) কর্মরত ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে অর্থনৈতিক ধাক্কা ও কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে দফায় দফায় ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ জন করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে চূড়ান্ত ছাঁটাই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয় এবং শুক্রবার থেকে সব ধরনের কারখানা কার্যক্রম শতভাগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নোটিশ বোর্ডে ১ আগস্ট থেকে তালিকাভুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। হঠাৎ এমন বেকার হয়ে পড়ার খবরে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে কারখানার ডিজিএম রফিকুল ইসলাম জানান, উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন নিজ দায়িত্বে চলে যান।মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিগত প্রায় দুই বছর ধরে ব্যাংকিং সমস্যা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রমিকদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করে সবকিছু চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক খাতে গ্রুপের কোনো পজিশন বা নগদ তারল্য অবশিষ্ট না থাকায় এবং কাঁচামাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই বিশাল শিল্পযজ্ঞ চালানো আর কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বকেয়া বেতন ও পাওনা অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রম অধিকার সংগঠনগুলো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
০১ আগস্ট ২০২৬
আসিয়ানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়: মহাসচিব

আসিয়ানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়: মহাসচিব

প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানগত শর্ত পূরণ না করায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। জোটে বাংলাদেশ ও পিএনজির সদস্যপদ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে বলে জানিয়ে দিয়েছেন আসিয়ান জোটের মহাসচিব।শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাকার্তা গ্লোবের প্রতিবেদন অনুসারে, দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনি। ইন্দোনেশিয়া এমনকি পিএনজির পক্ষে সমর্থনও দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি মহাসচিব কাও কিম হর্ন স্পষ্ট করেছেন, জোটের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে কেবল পূর্ব তিমুরকেই নেওয়া হয়েছে। এরপর আর কোনো নতুন সদস্য যোগ হবে না।ম্যানিলায় দশম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কাও বলেন, 'আমাদের জোট সম্প্রসারণ এখানেই শেষ।' তিনি আরও বলেন, 'আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত দেশের সংখ্যা মাত্র ১১টি। এখানেই শেষ। পাপুয়া নিউ গিনি ও বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক সীমার বাইরে।'আসিয়ান চার্টারে নতুন সদস্য নেওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, দেশটিকে অবশ্যই স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত হতে হবে। ভৌগোলিক দিক থেকে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়ার অংশ, আর বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।ঢাকা ও পোর্ট মোর্সবির সামনে এখন একমাত্র পথ হলো আসিয়ানের চার্টার সংশোধন করা। তবে এ ধরনের সংশোধনী আনতে হলে সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন। কাও বলেন, 'যতক্ষণ না সদস্য দেশগুলো সনদ সংশোধন করে ভূগোলের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ১১ দেশ নিয়েই আসিয়ান গঠিত থাকবে।'এ বছর অবশেষে পূর্ব তিমুর আসিয়ানের সদস্যপদ পেয়েছে। ২০১১ সাল থেকেই তারা চেষ্টা করে আসছিল। প্রক্রিয়া এত দীর্ঘ ও জটিল ছিল যে পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা একবার রসিকতা করে বলেছিলেন, আসিয়ানের দরজা পার হওয়ার চেয়ে স্বর্গে যাওয়া সহজ।এ বছর আসিয়ানের সভাপতিত্বে ছিল মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরের সমর্থন আদায়ে ঢাকা তদবির চালিয়েছিল। অন্যদিকে পাপুয়া নিউ গিনির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ২০২৫ সালের কুয়ালালামপুর আসিয়ান বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, 'আমরা আমাদের এক ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিতে চাই। সেটি হলো পাপুয়া নিউ গিনি। তারা আসিয়ানে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।'উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকেই পাপুয়া নিউ গিনি আসিয়ানের পর্যবেক্ষক মর্যাদা ভোগ করছে। এর ফলে তারা জোটের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিতে পারে। তবে বাংলাদেশের জন্য আসিয়ানের দরজা এখন পর্যন্ত বন্ধই রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থায় (সার্ক) সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও আসিয়ানে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বাংলাদেশের।
৫ ঘন্টা আগে
প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর

প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর

তিন দিনের সফরে আগামী মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলার।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অ্যাডমিরাল কোহলারের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে।সফরকালে তিনি বাংলাদেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।অ্যাডমিরাল কোহলারের এই সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের মাত্র তিন দিন পরই তিনি ঢাকায় আসছেন।পরপর দুই মার্কিন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার বাংলাদেশ সফরকে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং কৌশলগত সম্প্রক্তির অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগ ও আলোচনা জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যাডমিরাল কোহলারের সফরেও এসব বিষয়ে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।এদিকে অ্যাডমিরাল কোহলারের সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সফর শেষে তিনি আগামী শুক্রবার দেশটি ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। উভয় দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬ ঘন্টা আগে
আসিয়ানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়: মহাসচিব

আসিয়ানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়: মহাসচিব

প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানগত শর্ত পূরণ না করায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। জোটে বাংলাদেশ ও পিএনজির সদস্যপদ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে বলে জানিয়ে দিয়েছেন আসিয়ান জোটের মহাসচিব।শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাকার্তা গ্লোবের প্রতিবেদন অনুসারে, দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনি। ইন্দোনেশিয়া এমনকি পিএনজির পক্ষে সমর্থনও দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি মহাসচিব কাও কিম হর্ন স্পষ্ট করেছেন, জোটের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে কেবল পূর্ব তিমুরকেই নেওয়া হয়েছে। এরপর আর কোনো নতুন সদস্য যোগ হবে না।ম্যানিলায় দশম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কাও বলেন, 'আমাদের জোট সম্প্রসারণ এখানেই শেষ।' তিনি আরও বলেন, 'আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত দেশের সংখ্যা মাত্র ১১টি। এখানেই শেষ। পাপুয়া নিউ গিনি ও বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক সীমার বাইরে।'আসিয়ান চার্টারে নতুন সদস্য নেওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, দেশটিকে অবশ্যই স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত হতে হবে। ভৌগোলিক দিক থেকে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়ার অংশ, আর বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।ঢাকা ও পোর্ট মোর্সবির সামনে এখন একমাত্র পথ হলো আসিয়ানের চার্টার সংশোধন করা। তবে এ ধরনের সংশোধনী আনতে হলে সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন। কাও বলেন, 'যতক্ষণ না সদস্য দেশগুলো সনদ সংশোধন করে ভূগোলের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ১১ দেশ নিয়েই আসিয়ান গঠিত থাকবে।'এ বছর অবশেষে পূর্ব তিমুর আসিয়ানের সদস্যপদ পেয়েছে। ২০১১ সাল থেকেই তারা চেষ্টা করে আসছিল। প্রক্রিয়া এত দীর্ঘ ও জটিল ছিল যে পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা একবার রসিকতা করে বলেছিলেন, আসিয়ানের দরজা পার হওয়ার চেয়ে স্বর্গে যাওয়া সহজ।এ বছর আসিয়ানের সভাপতিত্বে ছিল মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরের সমর্থন আদায়ে ঢাকা তদবির চালিয়েছিল। অন্যদিকে পাপুয়া নিউ গিনির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ২০২৫ সালের কুয়ালালামপুর আসিয়ান বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, 'আমরা আমাদের এক ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিতে চাই। সেটি হলো পাপুয়া নিউ গিনি। তারা আসিয়ানে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।'উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকেই পাপুয়া নিউ গিনি আসিয়ানের পর্যবেক্ষক মর্যাদা ভোগ করছে। এর ফলে তারা জোটের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিতে পারে। তবে বাংলাদেশের জন্য আসিয়ানের দরজা এখন পর্যন্ত বন্ধই রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থায় (সার্ক) সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও আসিয়ানে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বাংলাদেশের।
৫ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
রাশিয়ায় তৈরি ক্যানসারের টিকা কার্যকরভাবে কাজ করছে

রাশিয়ায় তৈরি ক্যানসারের টিকা কার্যকরভাবে কাজ করছে

রাশিয়ায় উদ্ভাবিত ত্বকের ক্যানসার মেলানোমা চিকিৎসার জন্য তৈরি ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের প্রথম প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। দেশটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে কাঙ্ক্ষিত রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানান, ‘নিওনকোভ্যাক’ নামের এমআরএনএ-ভিত্তিক এই ভ্যাকসিন গ্রহণের পর রোগীর শরীরে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর দুটি ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার চিকিৎসা প্রযুক্তির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য তৈরি নিওনকোভ্যাক এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য উদ্ভাবিত পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ উল্লেখযোগ্য।চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথমবারের মতো এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোগীকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো চিকিৎসা চলাকালে তার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।গিনজবার্গ আরো জানান, বর্তমানে আরো ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিগতকৃত এই ভ্যাকসিন প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে। এতে কেবল রোগের চিকিৎসাই নয়, বরং রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত করা হয়।এই পদ্ধতিতে রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য আলাদাভাবে এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, যা ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।এদিকে, রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোলরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাশাপাশি গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং অন্যান্য দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।সূত্র: আরটি
৩১ জুলাই ২০২৬
নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

নবম পে-স্কেল: আইএমএফের পরামর্শে আপাতত পেছাচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী অক্টোবরে আলোচনা শেষ হওয়ার আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে আইএমএফের সম্মতির ওপর।রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের কথা উল্লেখ করে আইএমএফ সরকারকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, প্রস্তাবিত পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে বলেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনায় অনুন্নয়ন খাতের স্থায়ী ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আইএমএফ যে অবস্থান নেবে, সেটিই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অর্থ বিভাগের বৈঠকে বেতন ও ভাতা বাজেটিং নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইএমএফ জানায়, বর্তমান রাজস্ব ভিত্তি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি বহন করার মতো শক্তিশালী নয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সে তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে-স্কেল চালু করলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।তবে সরকার নতুন পে-স্কেলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি সংশোধিত কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আর্থিক চাপ কমাতে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন অথবা বিকল্প পদ্ধতির বিষয়টি বিবেচনা করছে। অক্টোবরে আইএমএফের বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত।অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী না করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
১৬ জুন ২০২৬
অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

অর্থনীতির তিন সংকটে আইএমএফের উদ্বেগ, প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা

১৬ জুন ২০২৬
 প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

প্রো ম্যাক্সের দাম ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ, আইফোন ১৮ নিয়ে যা জানলো বিশ্ব

এ বছর প্রযুক্তিপ্রেমীদের সব কৌতূহল কেবল একটি ফোনকে ঘিরে—অ্যাপলের ‘আইফোন ১৮’। এখনো উন্মোচনের প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও ফোনটির নকশা, শক্তিশালী চিপসেট, ক্যামেরায় বড় পরিবর্তন ও আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ফাঁস থেমে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক আইফোন ১৮ সিরিজের সম্ভাব্য ফিচার, দাম ও উন্মোচনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত।আকাশচুম্বী দামআইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হতে যাচ্ছে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোন । চীনের টেক–বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট পিকাচু’ জানিয়েছে, চীনে এর প্রারম্ভিক মূল্য ১১ হাজার ইউয়ান থেকে শুরু হতে পারে, যা ডলারে প্রায় ১ হাজার ৬২৫ ডলার । বাংলাদেশি মুদ্রায় কর ও শুল্ক বাদে এর দাম পড়বে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বেশি । প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর এবং ১২ জিবি র‍্যামের উচ্চ মূল্য ।টাটা গ্রুপের তথ্য ফাঁসএইবার অ্যাপলের কঠোর গোপনীয়তা প্রাচীরে বড় ফাটল ধরেছে। ভারতের টাটা ইলেকট্রনিকসের সার্ভারে ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের হ্যাকার গ্রুপ হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৩০ গিগাবাইট সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে । ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়া এসব ফাইলের মধ্যে আইফোন ১৮ প্রোর আসল থ্রিডি নকশা, পার্টস সরবরাহকারীদের তালিকা এবং ড্রপ–টেস্টের ছবিও রয়েছে । ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অ্যাপল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।২ ন্যানোমিটারের প্রসেসরআইফোন ১৮ প্রো সিরিজের প্রধান আকর্ষণ হবে ‘এ২০ প্রো’ চিপসেট, যা তাইওয়ানের টিএসএমসি তৈরি করছে । এটি বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ । নতুন এই প্রযুক্তিতে বর্তমানের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি দ্রুত কাজ করতে পারবে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হবে ২৫-৩০ শতাংশ ।১২ জিবি র‍্যাম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাআইফোন ১৮ প্রো সিরিজে প্রথমবারের মতো ১২ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে । এর পেছনে মূল কারণ হলো আইওএস ২৭-এর নতুন এআই ফিচার ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এবং উন্নত ‘সিরি এআই’, যা ইন্টারনেট ছাড়াই ফোনের ভেতরে কাজ করবে ।ক্যামেরায় ডিএসএলআরের ছোঁয়াআইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের প্রধান ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় যুক্ত হচ্ছে ‘ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার’ । যান্ত্রিকভাবে লেন্সের মুখ ছোট-বড় করার সুবিধায় সিনেমার মতো উন্নত ভিডিও এবং প্রাকৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার পাওয়া যাবে । আলট্রা-ওয়াইড ও ৫ গুণ জুমের টেলিফটো লেন্সকেও ৪৮ মেগাপিক্সেলে উন্নীত করা হচ্ছে ।ডায়নামিক আইল্যান্ডের সংকোচনডায়নামিক আইল্যান্ড প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট হয়ে যাচ্ছে । ফেস আইডির সেন্সর দুটোকে ডিসপ্লের নিচে নিয়ে যাওয়ায় এটি সম্ভব হচ্ছে । এছাড়া ‘গ্রেড ৫’ পলিশড টাইটানিয়ামের ব্যবহারে ফোন হবে হালকা ও স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী, এবং নতুন রং যোগ হচ্ছে ‘স্যাটিন গোল্ড’ ও ‘ডিপ প্লাম’ ।কবে আসছে বাজারেফোর্বসের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি লেখক ডেভিড ফেলানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের ‘কি-নোট’ ইভেন্টে আইফোন ১৮ সিরিজ উন্মোচিত হবে । প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১১ সেপ্টেম্বর এবং বিশ্বজুড়ে বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর ।
২৫ জুলাই ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
হজের বিমান টিকিটের দাম আরও ২৫ হাজার টাকা কমালো সরকার

হজের বিমান টিকিটের দাম আরও ২৫ হাজার টাকা কমালো সরকার

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে হজের বিমান টিকিটের মূল্য সরকার আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে বিমান টিকিটের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। তিন দিনব্যাপী এই ফেয়ারের আয়োজন করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই যাত্রায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য যৌক্তিক খরচে ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে হজ প্যাকেজ নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।তিনি বলেন, গত বছর আমরা প্রতি টিকিটে ১২ হাজার টাকা খরচ কমাতে সক্ষম হয়েছিলাম। এই বছর আমরা টিকিটপ্রতি খরচ আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সৌদি বিমানবন্দরের নির্মাণ কর কমানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। মিল্লাত বলেন, 'বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।'অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি জানান, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মাত্র পাঁচ শতাংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন, আর বাকি ৯৫ শতাংশ বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। তিনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এজেন্সি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের নেতারা এবং হজপ্রত্যাশীরা উপস্থিত ছিলেন। হজ এজেন্সিগুলো বলেছে, টিকিটের দাম কমানোর পাশাপাশি সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহন খরচ কমাতে সরকারের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা আশা করেন, এই দাম কমানো হজযাত্রীদের জন্য চূড়ান্ত প্যাকেজের খরচ কিছুটা হলেও কমাবে।
১৬ জুন ২০২৬
শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেখ নূর কুতুব আলম: বাংলার আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে পান্ডুয়া ছিল জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এই শহরের খানকাগুলোতে যেমন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার লাভ করত, তেমনি এখান থেকেই সমাজজীবনে নৈতিক নেতৃত্বও গড়ে উঠত। ১৩৫০ সালের কিছু আগে তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায় তার জন্ম। তার প্রকৃত নাম নূরুদ্দীন নূরুল হক। ‘নূর কুতুবুল আলম’ তার উপাধি।তার পিতা ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি শায়খ আলাউল হক। বংশপরিচয়ও ছিল সম্মানজনক—তিনি লাহোরের প্রসিদ্ধ সাধক শেখ আসাদের পৌত্র। পিতার মতো তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট পীর। ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ ছিলেন তার সহপাঠী ও বন্ধু। কিন্তু বংশগৌরবের চেয়েও বড় ছিল তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, দূরদর্শিতা এবং মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন।ব্যক্তিগত জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনানূর কুতুব আলম তাঁর পিতার আমল থেকে সব ধরনের কায়িক শ্রমের অভ্যাস করতেন। দরগায় আগত ফকিরদের কাপড় ধোয়া, লাকড়ি ও পানি বহন, শীতকালে পীরের অজু করার জন্য সর্বদা পানি গরম রাখা, এমনকি খানকাহসংলগ্ন শৌচাগার পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।আজকের সময়ে নেতৃত্বকে আমরা প্রায়ই ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ নূর কুতুব আলমের জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেতৃত্ব শুরু হয় সেবার মাধ্যমে। যে মানুষ নিজের হাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে, তিনিই প্রকৃত অর্থে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন।রাজনৈতিক সংকটে নূর কুতুব আলমের ভূমিকানূর কুতুব আলমের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সময়। ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নামক একজন হিন্দু শাসক ইলিয়াস শাহি বংশ উত্খাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানের ওপর নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি শায়খ ও আলেমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেন।বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্ব, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম সমাজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে শেখ নূর কুতুব আলম নীরব থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কেবল খানকায় বসে ইবাদত করাই একজন আধ্যাত্মিক নেতার একমাত্র দায়িত্ব নয়; মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যও এগিয়ে আসতে হয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত শিক্ষা সমাজবিমুখতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন।কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও রাজা গণেশের সাথে সমঝোতাবাংলার মুসলমানদের রক্ষার জন্য তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কিকে বাংলা আক্রমণ করে বাংলাকে গণেশের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি প্রসিদ্ধ সুফি ব্যক্তিত্ব মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানিকেও অনুরোধ করেন, যেন তিনিও ইবরাহিম শর্কিকে বাংলার মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন।সুলতান ইবরাহিম শর্কি এই অনুরোধ রক্ষা করে বাংলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিরোজপুর এসে শিবির স্থাপন করেন। রাজা গণেশ এতে ভয় পেয়ে নূর কুতুব আলমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে ইবরাহিম শর্কিকে জৌনপুরে ফিরে যেতে বলার অনুরোধ জানান।কিন্তু নূর কুতুব আলম এতে সম্মত হননি। তিনি জানিয়ে দেন, একজন মুসলিম শাসককে কোনো অমুসলিম শাসকের পক্ষ নিয়ে তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি রাজা গণেশকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। গণেশ তাতে সম্মত হন, কিন্তু বিস্তারিত শুনে তাঁর রানি এতে বাধা দেন। গণেশ তখন তার ১২ বছরের ছেলে যদুকে নিয়ে শায়খের কাছে আসেন। যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে 'জালালুদ্দীন' নাম দেওয়া হয় এবং গণেশ তার পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন।এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় এবং বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্তত সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।পরবর্তী পরিস্থিতি ও নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতাশায়খের মৃত্যুর পর গণেশ অবশ্য যদুকে হিন্দু ধর্মে পুনরায় দীক্ষিত করে নিজে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু রাজা গণেশের মৃত্যু হলে যদু জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং বাংলার মুসলিম শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।এই ঘটনাপ্রবাহে নূর কুতুব আলমের দূরদর্শিতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি হয়তো জানতেন, একটি সংকটময় সময়ে আপসের মধ্য দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করা যায়।রচিত গ্রন্থসমূহ ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিতিনি শুধু নিজের আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিও ছিলেন সমান মনোযোগী। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২১টি। সেগুলো তার প্রধান মুরিদ ও খলিফা হুসামুদ্দিন মানিকপুরী সম্পাদনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হলো মুগিসুল ফুকারা ও আনিসুল গুরাবা।মুগিসুল ফুকারার একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে বিহারের ভাগলপুরের খলিফাবাগ একটি প্রাইভেট লাইব্রেরিতে। আরেকটি অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষিত আছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কলিকাতার লাইব্রেরিতে (সংগ্রহ নং- ৪৬৬)। সেখানে আনিসুল গুরাবা বইটির ২টি কপি সংরক্ষিত আছে (সংগ্রহ নং: ১২১২ ও ১২১৩)।তিনি তাঁর দুই পুত্র শেখ রাফকাতউদ্দীন এবং শেখ আনোয়ারকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেন। সম্ভবত পিতার জীবদ্দশায় শেখ আনোয়ার রাজা গণেশের হাতে সোনারগাঁয়ে শহীদ হন। শেখ নূর কুতুব আলমের অন্য আর একজন প্রধান মুরিদ ছিলেন শেখ হুসামুদ্দীন মানিকপুরী।পত্র সংকলন ও ঐতিহাসিক দলিলনূর কুতুব আলমের ১৩টি পত্রের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী। যে গ্রন্থের নাম মাকতুবাত ই নূর কুতুবুল আলম। এটি দিল্লির ইন্ডিয়ান আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। এই পত্রগুলো থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।সুলতানদের শ্রদ্ধা ও দরগাহের গুরুত্বশেখ নূর কুতুব আলমের প্রতি পরবর্তী সুলতানদের শ্রদ্ধাও ছিল অসাধারণ। তার দরগাহ সংলগ্ন সরাইখানা ও মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের জন্য সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কয়েকটি গ্রাম দান করেন। দরবেশের মাজার জিয়ারতের জন্য সুলতান বছরে একবার রাজধানী শহর একডালা থেকে পান্ডুয়ায় আসতেন।শায়খ নূর কুতুব আলম পান্ডুয়ার পীর-আউলিয়ার মধ্যে শীর্ষ মর্যাদার অধিকারীদের অন্যতম। পিতা-পুত্র দুজনই পান্ডুয়ার বিখ্যাত শাশ হাজারি দরগায় শায়িত আছেন। পিতার মতো তিনি চিশতিয়া মতাদর্শের পীর ছিলেন। তাঁর অনুসারী শিষ্যকুল ও দরবেশরা কয়েক শতক ধরে বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে শায়খ নূর কুতুব আলমের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান বাংলার মুসলিম শাসন রাজা গণেশের হাত থেকে রক্ষা করা।মৃত্যুশেখ নূর কুতুব আলম ৮১৮ হিজরি বা ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে (বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া মতে) ইন্তেকাল করেন। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। তার ইন্তেকালের সঙ্গে একটি সুন্দর ফারসি অভিব্যক্তি যুক্ত হয়েছে—"নূর বানূর-শুদ", অর্থাৎ "আলো আলোতে বিলীন হয়ে গেল।"এই বাক্যটি যেন তার সমগ্র জীবনেরই প্রতীক। তিনি এমন এক আলোকবর্তিকা ছিলেন, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের পথ আলোকিত করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।ইতিহাসে বহু রাজা এসেছেন, বহু সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে এবং বিলীন হয়েছে। কিন্তু যারা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন, তাদের স্মৃতি যুগের পর যুগ অম্লান থাকে। শেখ নূর কুতুব আলম সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার জীবন বাংলার ইতিহাসে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, শায়েখ আব্দুল হক দেহলভী, আকবারুল উখিয়া ফি আসরারুল আবরার, সোস্যাল হিস্টোরি অফ দ্যা মুসলিম ইন ব্যাঙ্গাল।
ফিরোজ আল মামুন