ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

পবিত্র আশুরায় রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ড্রোন-সিসিটিভিতে নজরদারি

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।ডিএমপি কমিশনার জানান, এবারের পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বিভাগ (লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর) থেকে মোট ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক ১ থেকে ৭ মহররম পর্যন্ত ১০টি, ৮ মহররম ১০টি, ৯ মহররম ১৯টি ও ১০ মহররম ২৪টি মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি তাজিয়া মিছিলের রুট নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি তাজিয়া মিছিল ও প্রধান প্রধান সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যারিকেড, পিকেট, লাইনিং ও রুফটপ বা ছাদ-নজরদারি ডিউটি মোতায়েন রয়েছে। হোসেনি দালান ইমামবাড়াসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল ইমামবাড়া ও সমাবেশস্থলগুলোকে ড্রোন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র্যাব ও সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্বারা প্রতিটি ভেন্যু ও রুট তল্লাশি করা হবে। ইমামবাড়া বা সমাবেশস্থলগুলোতে আর্চওয়ে গেট ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ ডিজিটাল তল্লাশি ও ম্যানুয়াল চেকিং নিশ্চিত করা হবে। হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় একটি অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। হোসেনি দালান ইমামবাড়া, আঞ্জুমান হায়দারী, বড়কাটারা ইমামবাড়া, শিয়া মসজিদ, বিবিকা রওজা এবং মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্পসহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানসমূহকে পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ইমামবাড়াগুলোতে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত রাখা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন টিম ও ডিবিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটগুলো স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, মিছিলের রুটে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে এবং বিকল্প পথ নির্ধারণ করে যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশুরার মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেন এবং পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। সমন্বিতভাবে কাজ করলে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আশুরার পবিত্রতা বজায় রেখে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেন সেটাই আমাদের কাম্য।’ ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, মিছিলের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নজরদারি বাড়িয়েছে। ইমামবাড়াগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আশুরার দিন পবিত্রতা ও শান্তি বজায় রাখতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো গুজবে কান না দিতে হবে। তাজিয়া মিছিলে যাতে কোনো ধারালো অস্ত্র বা আতশবাজি ব্যবহার না হয় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার সবাইকে আশুরার শোক ও পবিত্রতা বজায় রেখে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
৪ ঘন্টা আগে

চিনের ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।’ ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই আলোচনার গতি বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে এবং বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।এই বিশেষ প্রতিরক্ষা আলোচনাটি মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর অংশ। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে একধাপ উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।দুই দেশের এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহারের অভাবে ভুগছিল। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মংলার এই বিশেষ শিল্প পার্কটি মূলত এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি মুম্বাই-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের জন্য অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে যার ফলে মংলার এই জমিটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো। এই সিদ্ধান্তের ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি বা ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’ তিনি আরও যোগ করেন যে চীন থেকে বড় বড় উৎপাদনকারী শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারলে তা দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে। অবশ্য কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের অত্যন্ত নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং দুই দেশ বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো প্রধান বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন যা দিল্লির সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করত। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক বা ব্যালেন্সড পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিটি সচল রেখেছে। সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ঢাকা মূলত আমেরিকার শক্তিশালী কৃষি লবিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে। ঢাকার এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়ার মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানাবে যেখানে চীন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তাত্ত্বিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নয়া দিল্লির সাথে এই সম্পর্ক মেরামতের পথটি যে বেশ জটিল তা সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করছেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব পুনর্নির্ধারণ করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
১১ ঘন্টা আগে

পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আসছে বাংলাদেশে: অর্থমন্ত্রী

তরুণদের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশে বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপ্যালসহ কয়েকটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। সোমবার ‘সংখ্যার বাইরে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়া: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের জন্য বাজেটে কিছু বাকি রাখা হয়নি। সবকিছু দিয়েছি ইয়ং জেনারেশনের জন্য এই বাজেটে। স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সবাইকে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। টাকা-পয়সা যেটা বাইরে থেকে ইনকাম করবা, টাকা আনার যে প্ল্যাটফর্ম সেটা আমরা ওপেন করে দিয়েছি। ফর্ম আর ফিলাপ করতে হবে না। ১০ টাকা আনলে আগে ফর্ম ফিলাপ করতে হতো। আপ টু ফাইভ থাউজেন্ড ডলার ইউ ক্যান ব্রিং, কোনো ঝামেলা নাই। তারপরও ফ্রি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমাউন্ট বড় হলে হয়তো একটু জানাতে হবে। কিন্তু রেমিটেন্স প্ল্যাটফর্ম একদম ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ডে যারা প্ল্যাটফর্ম আছে, যারা ট্রানজেকশন করে, তাদের বলেছি- কাম অ্যান্ড ওপেন ইট ইন বাংলাদেশ। অনেকে আসতেছে অলরেডি। এরই মধ্যে পেপ্যাল, আরও তিন-চারটা আছে। সবাই আসছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের অপরচুনিটি আমরা ওপেন করতে চাচ্ছি,’ যোগ করেন আমির খসরু।ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিম ফ্রি করে দিয়েছি। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যত কিছু আছে সব কিছু কমিয়ে দিয়েছি। কারণ আমরা ডিজিটাল দেশ হতে চাই। মুখের কথায় ডিজিটাল নয়, রিয়েল ডিজিটাল হতে চাই। পুরো দেশের পুরো বিষয়টাকে আমরা অনলাইনে রিয়েল টাইমে নিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘সবকিছু ডিজিটালাইজড হয়ে গেলে কর ফাঁকি দেওয়া সহজ হবে না। ডিজিটালাইজড হলে আপনাকে সরকারি অফিসে যেতে হবে না। আমরা চাই না আপনারা সরকারি অফিসে যান, আমরা চাই আপনি বাসায় বসে অনলাইনে পারপাসটা সার্ভ করুন। তাতে দুর্নীতি কমে যাবে। যত ফিজিক্যাল কন্টাক্ট কমবে তত দুর্নীতি কমে যাবে। রোবাস্ট ইন্টারনেট সিস্টেমে আমরা যাচ্ছি।’পুঁজিবাজার নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। বড় বড় বিদেশি কোম্পানি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। বড় বড় কোম্পানি আসা শুরু করেছে, তাদের ফান্ড ম্যানেজাররা আসা শুরু করেছে। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান বলেন, ‘বাজেট বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মানুষ। আমরা সংখ্যার কথা বলবো, আমরা উপাত্তের কথা বলবো, আমরা অর্থ বরাদ্দের কথা বলবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা দেখতে চাইবো এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতখানি সাহায্য করেছে।’ সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ট্রান্সকম লিমিটেডের সিইও সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।পেপ্যালের বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর ফলে ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে অনেক ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন মিডলম্যানের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করছেন, যা খরচসাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। পেপ্যাল চালু হলে তা সরাসরি ও কম খরচে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, এটি ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে বাস্তবায়নের সময় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসে, তা দেখার বিষয় বলেও জানান তারা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
২২ জুন ২০২৬
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে ‘আয়না ঘরের’ চেয়ারে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার দাবি।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে ‘আয়না ঘরের’ চেয়ারে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার দাবি।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে ‘আয়না ঘরের’ ইলেকট্রিক চেয়ারে শক দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে অংশ নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রেহানা আক্তার রানু বলেন, "কিছুদিন আগে আমরা একটি 'আয়না ঘর' দেখেছি। সেই আয়না ঘরে একটি ইলেকট্রিক চেয়ার দেখা গেছে, যে চেয়ারে বসিয়ে বিগত সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। মাননীয় স্পিকার, আমার জোরালো দাবি—শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে ওই নির্দিষ্ট চেয়ারে বসিয়ে এবং শুইয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হোক।"রাজনৈতিক অনৈক্য নিয়ে সতর্কবার্তাসংসদে দেওয়া বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার অনৈক্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনাদের অনৈক্যের কারণে আল্লাহ না করুক, আবারও যদি দানব হাসিনা ফিরে আসে—তবে যারা একসময় অন্যায়ের প্রতিবাদে ফেসবুকের প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের সবার জীবনকে সে কালো করে ছাড়বে।" দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং স্বৈরাচারের পুনর্বাসন ঠেকাতে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।সরকারি হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে ক্ষোভরাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম তুলে ধরেন রেহানা আক্তার রানু। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, "সরকারি হাসপাতালের নার্সরা সাধারণ রোগীদের সঙ্গে অত্যন্ত অমানবিক ও খারাপ ব্যবহার করেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীরা হাসপাতালে এসে সঠিক সেবা পাওয়ার বদলে অবহেলার শিকার হচ্ছেন।" এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
১ ঘন্টা আগে
পবিত্র আশুরায় রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ড্রোন-সিসিটিভিতে নজরদারি

পবিত্র আশুরায় রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ড্রোন-সিসিটিভিতে নজরদারি

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।ডিএমপি কমিশনার জানান, এবারের পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বিভাগ (লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর) থেকে মোট ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক ১ থেকে ৭ মহররম পর্যন্ত ১০টি, ৮ মহররম ১০টি, ৯ মহররম ১৯টি ও ১০ মহররম ২৪টি মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি তাজিয়া মিছিলের রুট নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি তাজিয়া মিছিল ও প্রধান প্রধান সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যারিকেড, পিকেট, লাইনিং ও রুফটপ বা ছাদ-নজরদারি ডিউটি মোতায়েন রয়েছে। হোসেনি দালান ইমামবাড়াসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল ইমামবাড়া ও সমাবেশস্থলগুলোকে ড্রোন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র্যাব ও সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্বারা প্রতিটি ভেন্যু ও রুট তল্লাশি করা হবে। ইমামবাড়া বা সমাবেশস্থলগুলোতে আর্চওয়ে গেট ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ ডিজিটাল তল্লাশি ও ম্যানুয়াল চেকিং নিশ্চিত করা হবে। হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় একটি অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। হোসেনি দালান ইমামবাড়া, আঞ্জুমান হায়দারী, বড়কাটারা ইমামবাড়া, শিয়া মসজিদ, বিবিকা রওজা এবং মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্পসহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানসমূহকে পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ইমামবাড়াগুলোতে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত রাখা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন টিম ও ডিবিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটগুলো স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, মিছিলের রুটে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে এবং বিকল্প পথ নির্ধারণ করে যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশুরার মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেন এবং পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। সমন্বিতভাবে কাজ করলে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আশুরার পবিত্রতা বজায় রেখে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেন সেটাই আমাদের কাম্য।’ ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, মিছিলের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নজরদারি বাড়িয়েছে। ইমামবাড়াগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আশুরার দিন পবিত্রতা ও শান্তি বজায় রাখতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো গুজবে কান না দিতে হবে। তাজিয়া মিছিলে যাতে কোনো ধারালো অস্ত্র বা আতশবাজি ব্যবহার না হয় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার সবাইকে আশুরার শোক ও পবিত্রতা বজায় রেখে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
৪ ঘন্টা আগে
ইরান যুদ্ধে নেতানিয়াহু ‘ব্যর্থ’, মনে করছেন ৫৬% ইসরায়েলি

ইরান যুদ্ধে নেতানিয়াহু ‘ব্যর্থ’, মনে করছেন ৫৬% ইসরায়েলি

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন বলে মনে করেন ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ ইসরায়েলি। তাদের ধারণা, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার ভূমিকা ভালোভাবে পালন করতে পারেননি। হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে ৩ হাজার ৬৪৪ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর জরিপটি চালায় হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম। জরিপ অনুযায়ী, ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালে নেতানিয়াহুর পারফরম্যান্স ‘ব্যর্থ’ বা ‘খারাপ’ ছিল। আর মাত্র ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ তাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। এ ছাড়া ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নেতানিয়াহুর এই দাবির সঙ্গে একমত নন যে, ইসরায়েল ‘উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে’ এবং একটি ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ দূর করেছে।জরিপে আরও দেখা যায়, ৯২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করেন ইরান এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। আর ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ মনে করেন এই সংঘাত ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে। এতে আরও বলা হয়, ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন ইসরায়েল তাদের ঘোষিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি, অথবা আংশিকভাবে সফল হয়েছে। নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তাও কমেছে। মার্চে যেখানে ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ তাকে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ হিসেবে সমর্থন করেছিল, জুনে তা কমে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।অন্যদিকে, ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে মত দিয়েছেন—এমনকি এতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি থাকলেও। আর ২০ দশমিক ৯ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন, আর বাকিরা কোনো মত দেননি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ শুরু করে। পরে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এরপর বুধবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যা সংঘাত শেষ করার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সমঝোতায় সব দিক থেকে সংঘাত বন্ধ করা, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।এই জরিপের ফলাফল নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি ও সমঝোতার পর জনমত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলে যাওয়ায় তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলিরা এখন নতুন নেতৃত্ব চান এবং প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান সরকারের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় এখনও এই জরিপে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে সরকারপন্থী গণমাধ্যমগুলো বলছে, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের স্বার্থেই কাজ করেছেন এবং যুদ্ধের শেষ ফলাফল এখনও চূড়ান্ত নয়। ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পর এই জরিপের ফলাফল আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েলের জনগণ বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা নীতি ও যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। আগামী দিনগুলোতে নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
২২ জুন ২০২৬
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, নতুন দায়িত্বে অধ্যাপক জামালুন্নেসা

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, নতুন দায়িত্বে অধ্যাপক জামালুন্নেসা

পদত্যাগ করেছেন আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তার বদলে পরিচালনা পর্ষদ এই দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে অধ্যাপক জামালুন্নেসার ওপর। মঙ্গলবার আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুলের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক জামালুন্নেসা বিগত ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।একাডেমিক পটভূমি ছাড়াও তিনি শিক্ষাপ্রশাসন ও গবেষণায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অধিকারী। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করছে পরিচালনা পর্ষদ।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যুজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও গভীরভাবে শোকাহত। এরই মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।কর্তৃপক্ষ জানায়, তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রোটকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে প্রতিষ্ঠানটি দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ইতিমধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আলো-বাতাস চলাচল তথা অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করার জন্য তিনজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্টের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট অফিসের ওপর অবস্থিত বেকারিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এ ব্যবস্থাগুলো হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো রোগীকে অবহেলার শিকার হতে না হয়, সেজন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ ওঠে, হাসপাতালের অবকাঠামোগত ত্রুটি ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।সরকারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতরও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই তদন্তের প্রেক্ষিতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়।নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক জামালুন্নেসা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানো এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন শুরু করেছেন।এ বিষয়ে অধ্যাপক জামালুন্নেসা বলেন, ‘আমি একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ সংস্কৃতি তৈরি করতে চাই। রোগীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার।’উল্লেখ্য, ডা. শেখ মহিউদ্দিন গত ৮ বছর ধরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৬ জুন ২০২৬
চিনের ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

চিনের ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।’ ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই আলোচনার গতি বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে এবং বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।এই বিশেষ প্রতিরক্ষা আলোচনাটি মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর অংশ। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে একধাপ উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।দুই দেশের এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহারের অভাবে ভুগছিল। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মংলার এই বিশেষ শিল্প পার্কটি মূলত এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি মুম্বাই-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের জন্য অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে যার ফলে মংলার এই জমিটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো। এই সিদ্ধান্তের ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি বা ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’ তিনি আরও যোগ করেন যে চীন থেকে বড় বড় উৎপাদনকারী শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারলে তা দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে। অবশ্য কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের অত্যন্ত নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং দুই দেশ বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো প্রধান বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন যা দিল্লির সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করত। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক বা ব্যালেন্সড পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিটি সচল রেখেছে। সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ঢাকা মূলত আমেরিকার শক্তিশালী কৃষি লবিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে। ঢাকার এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়ার মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানাবে যেখানে চীন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তাত্ত্বিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নয়া দিল্লির সাথে এই সম্পর্ক মেরামতের পথটি যে বেশ জটিল তা সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করছেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব পুনর্নির্ধারণ করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
২২ এপ্রিল ২০২৬
চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

২২ এপ্রিল ২০২৬
লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

লাইকা ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির নতুন ফ্ল্যাগশিপ শাওমি ১৭টি উন্মোচন

দেশের বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা শাওমি। লাইকা ইমেজিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্রিপল ক্যামেরা, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আসা হয়েছে নতুন এই ডিভাইসটি।মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য মোমেন্ট বিয়ন্ড সাইট’ প্রতিপাদ্যে স্মার্টফোনটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি সাংবাদিক, টেক রিভিউয়ার, আলোকচিত্রী এবং শাওমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ক্যামেরা সিস্টেমে কি বিশেষত্ব আছে?নতুন এই স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম। এতে রয়েছে—৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা (লাইকা সামিলুক্স অপটিক্যাল লেন্সযুক্ত)৫০ মেগাপিক্সেলের লাইকা ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা (১২০ গুণ পর্যন্ত এআই আল্ট্রা জুম সমর্থিত)লাইভ মোমেন্ট ও স্টেজ মোড সুবিধা (সৃজনশীল ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য)ডিসপ্লে ও ব্যাটারিডিভাইসটিতে ৬ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ৩ হাজার ৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে উজ্জ্বল আলোতেও পর্দার কনটেন্ট স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।চোখের সুরক্ষার জন্য এতে টিইউভি রাইনল্যান্ড সনদপ্রাপ্ত আই কমফোর্ট প্রযুক্তি রয়েছে।ফোনটিতে ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। শাওমির দাবি, একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় দেড় দিনের বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। পাশাপাশি আইপি৬৮ রেটিংয়ের ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধাও রয়েছে।পারফরম্যান্স ও এআই সুবিধাপারফরম্যান্সের জন্য স্মার্টফোনটিতে—মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা প্রসেসরশাওমি হাইপারওএস ব্যবহার করা হয়েছেএ ছাড়া শাওমি হাইপারএআই, গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এবং ‘সার্কেল টু সার্চ’-এর মতো এআই সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।দাম ও বিক্রির তারিখশাওমি ১৭টি স্মার্টফোনটি ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাবে। দাম রাখা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।যে সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে —ভায়োলেটওপাল হোয়াইটব্ল্যাকআগামী ১১ জুন থেকে দেশের সব অনুমোদিত শাওমি স্টোরে এটি বিক্রি শুরু হবে।শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে শাওমির এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আনতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বমানের ফটোগ্রাফি প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।টেক বিশ্লেষকদের মতে, লাইকা ক্যামেরা ও শক্তিশালী ব্যাটারি এই ফোনটিকে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে। তবে ৮০ হাজার টাকার ঘরে বাংলাদেশি বাজারে এটি কতটা সাড়া পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১৪ জুন ২০২৬
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
২২ এপ্রিল ২০২৬
ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ইংরেজ আদালতে সিংহনাদ আর আপসহীন সংগ্রাম: শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানির গল্প

ভূমিকা: সেই দিনটির কথাভারত স্বাধীন হওয়ার অনেক আগের কথা। এক সিংহপুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজ আদালতে। নাম তাঁর সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানি। মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে অসংখ্য লোক। সবাইকে থ করে দিয়ে ওই ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল সিংহনাদ—"ইংরেজের সৈন্য বাহিনীতে যোগ দেওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম।" জোর দিয়ে তিনি তিনবার এই বাক্য ঘোষণা করলেন।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মাওলানা হাত জোড় করে বললেন, "মহাশয়, আপনার উক্তি উঠিয়ে নিন, আপনি কী বললেন?" কিন্তু মাদানির কথা তো ধনুক থেকে বেরোনো তীরের মতো। যা বলেছেন, তা তো হবেই। কোনো অবস্থায় নড়চড় হবে না।ইংরেজ অফিসাররা প্রচণ্ড রেগে ওঠে। প্রধান অফিসার বললেন, "হোসাইন আহমদ, তুমি কি জানো, এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি কী হতে পারে?" মাদানি জবাব দিলেন, "তোমরাই ঠিক করে নাও।" অফিসার বললেন, "এই অপরাধের কমসে কম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"মাদানি নিজের কাঁধে থাকা সাদা চাদর দেখিয়ে বললেন, "হোসাইন আহমদ মাদানি যখন দেওবন্দ থেকে রওয়ানা হয়েছে, তখন মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্যের জন্য কাফন নিয়েই বেরিয়েছে। হোসাইন এসব ধমকিতে ভয় করে না। আমি যা বলেছি, আবার বলছি—তোমাদের সেনায় যোগ দেওয়া আমাদের জন্য হারাম।"ইতিহাসের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে আছে রক্ত, ঘাম আর অসীম সাহস। সেই বীরদের একজন হলেন হুসাইন আহমদ মাদানি। যাঁকে পরবর্তীকালে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।প্রারম্ভিক জীবন ও বংশহুসাইন আহমদ মাদানি ১৮৭৯ সালের ৬ অক্টোবর (১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল) ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গারমৌ মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম নুরুন্নিসা। বংশগতভাবে পিতা ও মাতা উভয়ের দিক থেকেই তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর বংশধর। হোসাইন ইবনে আলী ছিলেন তাঁর ৩৩তম পূর্বপুরুষ।ছোটবেলায় মায়ের কাছে কুরআনের প্রথম পাঁচ পারা পড়েন। পরে পিতার কাছে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই ১৮৯২ সালে তাকে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি করে দেওয়া হয়।দেওবন্দে শিক্ষাজীবনদেওবন্দে ভর্তির সময় প্রধান অধ্যাপক ছিলেন মাহমুদ হাসান দেওবন্দি। তিনিই মাদানির শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে দেন। মাদানি সাড়ে ছয় বছরে ১৭টি বিষয়ের ৬৭টি কিতাব অধ্যয়ন করেন। এর মধ্যে ২৪টি কিতাব এককভাবে দেওবন্দির কাছে পড়েন।শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।মদিনা গমন ও মসজিদে নববীতে শিক্ষকতাশিক্ষা শেষে পিতামাতার সঙ্গে তিনি মদিনা চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদে নববীতে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি দোকানও খোলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকল না। পরে খেজুরের ব্যবসা ও গ্রন্থ নকলের কাজ করেন।মদিনায় তাঁর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘শায়খুল হারাম’ নামে পরিচিত হন। মসজিদে নববীতে তাঁর ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন মদিনার ওলামা, কাজী, মুফতি এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও। তিনি মালিকি ও শাফিঈ ফিকহের কিতাবগুলোও আয়ত্ত করেন, কারণ মদিনায় এগুলোর প্রচলন ছিল।তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা১৮৯৮ সালে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে তিনি বায়আত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহির নির্দেশে পরবর্তীতে ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির কাছে তাসাউফের শিক্ষা নেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গাঙ্গুহি তাকে খেলাফত দান করেন।মাদানি চারটি তরিকার ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় দীক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে লক্ষাধিক মুরিদ ছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনকে তিনি নিজের খলিফা মনোনীত করেছিলেন।তাসাউফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—তিনি শিরক ও বিদআতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আহমদ রেজা খান যখন আরব দেশে গিয়ে বিদআতের সমর্থনে ফতোয়া সংগ্রহ করতে চান, মাদানি তাকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।প্রথম কারাবরণ ও মাল্টা নির্বাসন১৯১৫ সালে মাহমুদ হাসান দেওবন্দি মদিনায় এলে মাদানি তাঁর সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে মক্কার বিদ্রোহী গভর্নর শরিফ হুসাইনের নির্দেশে মাদানি ও দেওবন্দিকে গ্রেফতার করে মাল্টায় নির্বাসিত করা হয়। মাদানি স্বেচ্ছায় দেওবন্দির সঙ্গে কারাবরণ করেন।মাল্টায় প্রায় ৪ বছর বন্দি থাকার সময় তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এখানে তিনি তুর্কি ভাষাও আয়ত্ত করেন। জেলের ভেতর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকলেও তিনি ইসলামি বিধান নিয়ে আপস করেননি। জেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে মুসলিম কয়েদিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।ভারতে প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। মদিনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মাহমুদ হাসান দেওবন্দি তাকে ভারতে থাকার পরামর্শ দেন। দেওবন্দির মৃত্যুর পর তিনি ‘জানাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধি লাভ করেন।তিনি কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি ইংরেজ সেনাবাহিনীতে চাকরি করা হারাম ঘোষণা করেন। এই ফতোয়া মুদ্রিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে তাকে ২ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সিলেটে আগমন ও শিক্ষা বিস্তার১৯২৩ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। এখানকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তিন বছর সিলেটে অবস্থান করেন এবং সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন।সিলেটেই তিনি তাসাউফের বেশিরভাগ কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি রমজানে সিলেটে এসে ইতিকাফ করতেন। তাঁর উদ্যোগে সিলেট ও আসাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সে অঞ্চলে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।দেওবন্দে সদরুল মুদাররিস১৯২৮ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক (সদরুল মুদাররিস) পদে যোগ দেন। এখানে ৩১ বছর তিনি হাদিসের অধ্যাপনা করেন। তাঁর অধ্যাপনায় দারুল উলুমের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকেও ছাত্ররা আসতেন।তিনি পাঠ্যক্রম সংস্কার করেন। তাফসিরের কিতাব, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রদর্শন এবং এমনকি ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন চালু করেন। শরীরচর্চার জন্যও বিভাগ খোলেন। ছাত্রদের কেরাআত শিক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইকবাল-মাদানি বিতর্ক১৯৩৮ সালে এক ভাষণে মাদানি বলেন, বর্তমানে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় ভূখণ্ডের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। সংবাদপত্রে এটি বিকৃতভাবে ছাপা হলে কবি মুহাম্মদ ইকবাল মাদানিকে বিদ্রুপ করে একটি কবিতা লেখেন। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর আগে ইকবাল মাদানির কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়।ভারত বিভক্তি ও মাদানির ভূমিকামাদানি দ্বিজাতি তত্ত্ব ও ভারত বিভক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ’ ও ‘মাদানি ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেন, যেখানে সুবাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়।বিভক্তির পর তিনি ভারতে থাকা মুসলমানদের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। তাদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন এবং সরকারের কাছে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। তিনি দখল হওয়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেন।রচনাবলি ও সাহিত্যকর্মমাদানি একজন লেখক হিসেবেও সমাদৃত। তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে:নকশে হায়াত (আত্মজীবনী)মুত্তাহিদায়ে কাওমিয়াত আওর ইসলাম (সম্মিলিত জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম)আশ শিহাবুস সাকিব (বেরলভি মতবাদের সমালোচনা)এছাড়া তাঁর অসংখ্য চিঠি ও বক্তৃতা ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।শেষ জীবন ও মৃত্যু১৯৫৫ সালে তিনি শেষ হজ সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা সম্পন্ন করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুও এতে অংশ নেন।তাকে মাজারে কাসেমিতে মাহমুদ হাসান দেওবন্দির পাশে সমাহিত করা হয়।সম্মাননা ও উত্তরাধিকার১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সিলেটে তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে নির্মিত হয়েছে ‘মাদানি চত্বর’। দেওবন্দে তার নামে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।উপসংহারহুসাইন আহমদ মাদানি শুধু একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, সুফি, লেখক ও অকুতোভয় নেতা। ইংরেজ আদালতে কাফন কাঁধে নিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন— সত্যের পথে কথা বলার জন্য মৃত্যুও বড় বাধা নয়। আজকের প্রজন্ম যদি ইতিহাসের লুক্কায়িত পাতা থেকে তাঁদের বীরত্বের গল্প জানে, তাহলে সেই রক্ত শিরায় শিরায় বইবে আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
ফিরোজ আল মামুন