ঢাকা    বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

‘জুলাই সনদবিরোধী’ ও ‘সংস্কারবিরোধী’ প্রচার মোকাবিলায় মাঠে নামছে বিএনপি

 ‘জুলাই সনদের পরিপন্থী’ ও ‘সংস্কারবিরোধী’—বিরোধীদের এমন রাজনৈতিক অপপ্রচার মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে নেতাকর্মীরা তৃণমূলে গিয়ে দল ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন। এই পদক্ষেপকে ‘ন্যারেটিভ যুদ্ধ’ বলছেন দলটির নেতারা।বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার নির্দেশনা দিয়েছেন। দলীয় সূত্র জানায়, মাসজুড়ে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মিছিল, পথসভা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও মতবিনিময় সভার মতো কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।একইসঙ্গে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ইস্যুতে বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টার জবাব দিতে তৃণমূলে লিফলেট পাঠানো হচ্ছে। লিফলেটে বলা হয়েছে, গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে ‘খ’ নম্বর জুলাই সনদের ১৮ ও ১৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ও প্রতারণামূলক। এছাড়া বিএনপি জুলাই সনদ অনুযায়ী ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে এবং সনদটি ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য বিএনপিকে ‘জুলাই সনদবিরোধী’ হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে। তাই বিএনপি সরাসরি জনগণের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে মাঠে নামছে। যেসব এলাকায় বিরোধী দলগুলোর প্রচার বেশি, সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলাদা কর্মপরিকল্পনা পালন করা হবে।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারে থাকায় জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পালন করতে হবে। এজন্য জনগণের কাছে যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদের চেতনা ধারণ করি কিনা, তা প্রধানমন্ত্রীসহ নেতারা বারবার বলেছেন। আমরা সব সনদই ধারণ করি। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করি, ৯০-এর গণআন্দোলনের চেতনা ধারণ করি এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাও ধারণ করি।’গত ৯ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জনগণের কাছে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরা এবং ভুল তথ্যের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে শুধু সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যাই নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে মাঠের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেও সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে চায় বিএনপি। কারণ সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। 
৩ ঘন্টা আগে

কৌশলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, বদলাতে পারে আবাসিকে বিলের স্ল্যাব

ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের বিলের ধাপ একীভূত করা, বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ট্যারিফে আনা এবং গণশুনানি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পাঁচটি বিতরণ কোম্পানি। এসব প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা দেওয়া হয়েছে।বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো সেবামূলক ট্যারিফে কম দামে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে। তবে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) তাদের প্রস্তাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। অনুমোদিত সীমার বেশি লোড ব্যবহারে দ্বিগুণ জরিমানা, নির্মাণকাজে দ্বিগুণ বিল এবং প্রিপেইড মিটারে বিদ্যমান ছাড় বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।পিডিবি প্রস্তাব করেছে, শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত একটিমাত্র ধাপ করা হবে। এতে ৭৫ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীরা প্রথম ধাপের কম দামের সুবিধা হারাবেন। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহক ধাপে ধাপে ১,২৯৪ টাকা ৫০ পয়সা বিল দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী শুধু ধাপ বদলের কারণে বিল বেড়ে হবে ১,৪৪০ টাকা। নতুন দর কার্যকর হলে বিল আরও বেড়ে দাঁড়াবে ১,৬৪০ টাকা।ডিপিডিসি বস্তি এলাকার জন্য ধাপভিত্তিক ব্যবস্থা তুলে দিয়ে ফ্ল্যাট ট্যারিফ চালুর কথা বলেছে। নতুন ভবন নির্মাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে দ্বিগুণ হারে বিল দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ওজোপাডিকো ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনের আলাদা ট্যারিফ বাতিল করে বাণিজ্যিক রেট বসানোর কথা বলেছে। প্রিপেইড মিটারে প্রতি রিচার্জে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ছাড় বাতিল বা কমানোর প্রস্তাবও এসেছে।বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কারিগরি কমিটি কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২০ ও ২১ মে গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। ভোক্তাস্বার্থ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।শেষ অনুচ্ছেদে বলা যায়, বিদ্যুতের দাম ও ট্যারিফ কাঠামোতে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিম্নমধ্যবিত্ত ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গণশুনানিতে ভোক্তাদের মতামত ও স্বার্থ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
৫ ঘন্টা আগে

সৌদি আরবের গোপন হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য: ইরানের ভূখণ্ডে অভিযান

মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরান ও সৌদি আরবের চলমান সংঘাতের সময় সৌদি বিমানবাহিনী ইরানি ভূখণ্ডে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে রয়টার্স। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ইরানি হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।এটিই প্রথমবার যেখানে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের মাটিতে সামরিক অভিযান চালাল, যা রিয়াদের প্রতিরক্ষা কৌশলে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মূলত যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চিরাচরিত নিরাপত্তা বলয় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় সৌদি আরব নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষায় অনেক বেশি সাহসী হয়ে উঠেছে।আমিরাতের গোপন হামলা ও ইসরায়েলের ভূমিকাপ্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের ওপর একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছে এবং অন্তত একটি হামলায় তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করেছে। গত ৫ এপ্রিল আমিরাতের বরুজ পেট্রোকেমিক্যাল সাইটে ইরানি হামলার জবাবে ইসরায়েল ও আমিরাত যৌথভাবে ইরানের সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আক্রমণ চালায়। যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল আমিরাতকে ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েও সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে।উত্তেজনা প্রশমনে গোপন সমঝোতাগত কয়েক মাসের যুদ্ধে ইরান উপসাগরীয় ছয়টি দেশের ওপরই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। সৌদি আরবের এই সামরিক তৎপরতা এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি গোপন সমঝোতা হয়েছে। রয়টার্স জানায়, মার্চের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরব শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর পাল্টাপাল্টি হামলা চালায় এবং ইরানকে সতর্ক করে যে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর ফলে এপ্রিলের শুরুতে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতাটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঠিক আগেই কার্যকর হয়েছিল। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ এই ঘটনাকে উভয় পক্ষের ‘বাস্তববাদী উপলব্ধি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক হয়েছে।যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও উত্তেজনার রেশ পুরোপুরি কাটেনি। ৭ ও ৮ এপ্রিল সৌদি আরবে পুনরায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে রিয়াদ আবারও পাল্টা আক্রমণের কথা বিবেচনা করে। সেই সময় পাকিস্তানকে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে দেখা যায়।বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং দেশগুলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নতুন নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক মেরুকরণে জড়াচ্ছে। যদিও সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো সরাসরি হামলা অস্বীকার করে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেওয়া, তবে ফাঁস হওয়া এই গোয়েন্দা তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অফ ইসরায়েল।
৬ ঘন্টা আগে
যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যদি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামে নতুন এক বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ মে) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা তাদের পূর্ববর্তী সামরিক প্রচারণার নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তন করে নতুন এই শিরোনাম নিয়ে আলোচনা করছেন। যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, তবে এই নতুন নামে অভিযানটি পরিচালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।কেন নতুন নামকরণ?প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, নতুন অভিযানের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস কৌশলগত সুবিধা নিতে পারবে।এর ফলে তারা দাবি করতে পারবে, এটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় সম্পূর্ণ আলাদা একটি সামরিক অভিযান। উল্লেখ্য, এই আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন না।সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত মাসে শত্রুতা বন্ধে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘটেছে। তবে পেন্টাগন নতুন অভিযানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও ইরানের শর্তবর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটছে না, কারণ তেহরান পাঁচটি সুনির্দিষ্ঠ ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান২. সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার৩. জব্দকৃত সম্পদ ফেরত৪. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ৫. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতিইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।প্রস্তাব বিনিময়ে ব্যর্থতাএর আগে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ইরান একতরফা বলে প্রত্যাখ্যান করে। পাল্টা জবাবে ইরান যে প্রস্তাব দেয়, ওয়াশিংটন সেটিকেও গ্রহণ করেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে নতুন কোনো পথ এখনও দৃশ্যমান হচ্ছে না। এমতাবস্থায় ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’-এর ইঙ্গিত যুদ্ধের দামামাকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।
৩ ঘন্টা আগে
কৌশলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, বদলাতে পারে আবাসিকে বিলের স্ল্যাব

কৌশলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, বদলাতে পারে আবাসিকে বিলের স্ল্যাব

ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের বিলের ধাপ একীভূত করা, বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ট্যারিফে আনা এবং গণশুনানি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পাঁচটি বিতরণ কোম্পানি। এসব প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা দেওয়া হয়েছে।বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো সেবামূলক ট্যারিফে কম দামে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে। তবে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) তাদের প্রস্তাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। অনুমোদিত সীমার বেশি লোড ব্যবহারে দ্বিগুণ জরিমানা, নির্মাণকাজে দ্বিগুণ বিল এবং প্রিপেইড মিটারে বিদ্যমান ছাড় বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।পিডিবি প্রস্তাব করেছে, শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত একটিমাত্র ধাপ করা হবে। এতে ৭৫ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীরা প্রথম ধাপের কম দামের সুবিধা হারাবেন। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহক ধাপে ধাপে ১,২৯৪ টাকা ৫০ পয়সা বিল দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী শুধু ধাপ বদলের কারণে বিল বেড়ে হবে ১,৪৪০ টাকা। নতুন দর কার্যকর হলে বিল আরও বেড়ে দাঁড়াবে ১,৬৪০ টাকা।ডিপিডিসি বস্তি এলাকার জন্য ধাপভিত্তিক ব্যবস্থা তুলে দিয়ে ফ্ল্যাট ট্যারিফ চালুর কথা বলেছে। নতুন ভবন নির্মাণে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে দ্বিগুণ হারে বিল দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ওজোপাডিকো ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনের আলাদা ট্যারিফ বাতিল করে বাণিজ্যিক রেট বসানোর কথা বলেছে। প্রিপেইড মিটারে প্রতি রিচার্জে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ছাড় বাতিল বা কমানোর প্রস্তাবও এসেছে।বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কারিগরি কমিটি কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২০ ও ২১ মে গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। ভোক্তাস্বার্থ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।শেষ অনুচ্ছেদে বলা যায়, বিদ্যুতের দাম ও ট্যারিফ কাঠামোতে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিম্নমধ্যবিত্ত ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গণশুনানিতে ভোক্তাদের মতামত ও স্বার্থ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
৫ ঘন্টা আগে
যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যদি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামে নতুন এক বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ মে) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা তাদের পূর্ববর্তী সামরিক প্রচারণার নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তন করে নতুন এই শিরোনাম নিয়ে আলোচনা করছেন। যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, তবে এই নতুন নামে অভিযানটি পরিচালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।কেন নতুন নামকরণ?প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, নতুন অভিযানের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস কৌশলগত সুবিধা নিতে পারবে।এর ফলে তারা দাবি করতে পারবে, এটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় সম্পূর্ণ আলাদা একটি সামরিক অভিযান। উল্লেখ্য, এই আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন না।সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত মাসে শত্রুতা বন্ধে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘটেছে। তবে পেন্টাগন নতুন অভিযানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও ইরানের শর্তবর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটছে না, কারণ তেহরান পাঁচটি সুনির্দিষ্ঠ ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান২. সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার৩. জব্দকৃত সম্পদ ফেরত৪. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ৫. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতিইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।প্রস্তাব বিনিময়ে ব্যর্থতাএর আগে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ইরান একতরফা বলে প্রত্যাখ্যান করে। পাল্টা জবাবে ইরান যে প্রস্তাব দেয়, ওয়াশিংটন সেটিকেও গ্রহণ করেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে নতুন কোনো পথ এখনও দৃশ্যমান হচ্ছে না। এমতাবস্থায় ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’-এর ইঙ্গিত যুদ্ধের দামামাকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।
৩ ঘন্টা আগে
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ এএম
আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

আপনি কি মনে করেন বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ বাস্তবায়ন করবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬: ‘একটি ছোট রক্ত পরীক্ষা বদলে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ’

একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা দেখতে যতটা সহজ, তার প্রভাব ততটাই গভীর। কারণ এই ছোট পরীক্ষাই নির্ধারণ করে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবন কতটা স্বাভাবিক হবে, নাকি শুরু থেকেই লড়তে হবে থ্যালাসেমিয়া নামক এক কঠিন বংশগত রোগের বিরুদ্ধে।অনেকেই জানেন না, তারা নিজেরাই এই রোগের বাহক হতে পারেন, আর সেই অজান্তেই নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠেলে দিতে পারে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কষ্টের চক্রে। অথচ সময়মতো সচেতন হলে এই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসপ্রতি বছর ৮ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং থ্যালাসেমিয়া নামক মারাত্মক বংশগত রক্তরোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, রোগ প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।থ্যালাসেমিয়া এমন একটি জেনেটিক রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে সুস্থ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। ফলে রোগীকে সারাজীবন নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, যা তাদের জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।এ বছরের প্রতিপাদ্যএ বছরের প্রতিপাদ্য: ‘হিডেন নো মোর: ফাইন্ডিং দ্য আনডায়াগনোসড, সাপোর্টিং দ্য আনসিন’ (আর লুকিয়ে নয়: অজানা রোগীদের খুঁজে বের করা, অদেখা মানুষদের সহায়তা করা)।আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরে: থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ ও রোগীদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যম—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপবাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। এর প্রধান কারণ অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ জানেন না যে তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না।অথচ দুইজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে ক্যারিয়ার শনাক্ত করা।একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই জানা সম্ভব কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা। এই তথ্যটি জানা থাকলে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই কষ্টকর রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।কী করা জরুরিবিবাহ-পূর্ব রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এখন এসেছে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন সহজ নয়। নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, আয়রন চেলেশন থেরাপি এবং বিভিন্ন জটিলতার মোকাবিলা তাদের নিত্যসঙ্গী। অনেক পরিবার এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ রক্ত সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা রোগীদের জন্য অপরিহার্য।সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরিথ্যালাসেমিয়া রোগীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। অনেক সময় তারা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হন, যা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা।চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসায় নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেমন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। তবে এটি ব্যয়বহুল এবং সবার নাগালের মধ্যে নয়। তাই প্রতিরোধই এখানে সবচেয়ে কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত পথ।থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই পারে অনাগত শিশুর জীবনকে কষ্টমুক্ত রাখতে। অথচ অজ্ঞতার কারণেই বহু পরিবার এই রোগের কষ্ট বহন করতে বাধ্য হয়। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে না পারলে থ্যালাসেমিয়া নির্মূল করা সম্ভব নয়। আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা করা উচিত, নিজে সচেতন হব, অন্যকে সচেতন করব। তবেই গড়ে তুলতে পারব থ্যালাসেমিয়ামুক্ত সুস্থ সমাজ।
০৮ মে ২০২৬
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের

পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের

 দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের অর্থ আদায় করতে না পারায় আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতেও ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পরই অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছর উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে কয়েক ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে কয়েকটি এনবিএফআই থেকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা এ সংকটকে আরও গভীর করেছে। 
৩০ মার্চ ২০২৬
রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়ের ৯০ শতাংশই রুশ ঋণ, ফেরত দিতে ২৮ বছরের সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ

রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়ের ৯০ শতাংশই রুশ ঋণ, ফেরত দিতে ২৮ বছরের সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ

৩০ মার্চ ২০২৬
এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

এআই নিয়ে আদালতে মাস্ক বনাম অল্টম্যান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মামলা শুরু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিবর্তন নিয়ে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতের মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়ে তাদের এ আইনি লড়াই। সোমবার নয় জন জুরির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে।মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তার ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘সম্পদ বানানোর যন্ত্রে’ পরিণত করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা হোক। এছাড়া তিনি ওপেনএআইকে পুনরায় অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক মূলধন দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড ছাড়ার পরপরই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলে চলে যায়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের দাবি, মাস্ক এই পরিবর্তনের কথা আগে থেকেই জানতেন এবং সমর্থন করেছিলেন। তাদের মতে, মাস্ক নিজে সিইও হতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের এআই কোম্পানি এক্সএআইকে এগিয়ে নিতেই এই মামলা করেছেন।মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ মে’র মধ্যে জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। এই মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন মাস্ক।২০১৫ সালে গুগলকে টেক্কা দিতে এবং মানবতার কল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রকম্যানের সাধারণ একটি অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া সংস্থাটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার বাজার বা আইপিও আসার পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বাজার ধরতে মরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিওতে আসলে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো সংস্কার করে একটি ‘পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই আইনি লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
২৮ এপ্রিল ২০২৬
নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থি: মার্কিন দূতাবাস

ক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া এখন থেকে ভিসার শর্তের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হবে। এমন উদ্দেশ্যে কেউ ভিসা আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।বুধবার সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।কী বলছে দূতাবাসের সতর্কবার্তাদূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা দেশটির বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিপন্থি।কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে আবেদনকারীর মূল লক্ষ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম মার্কিন ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। তাই আবেদনকারীদের শুধু প্রকৃত এবং সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।কঠোর সতর্কতাভিসা পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তীতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয় – এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন। এখন থেকে সেই পথ কার্যকরীভাবে বন্ধ করে দিলো মার্কিন দূতাবাস। শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম কঠোর’ বলছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা। ফলে আবেদনকারীদের এখন ভিসা আবেদনের আগে তিনবার ভাবতে হবে।
৩০ মার্চ ২০২৬
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট। সবুজ শ্যামলিমা আর নদী-খাল বেষ্টিত এই জনপদকে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি অনন্য স্থাপনা – ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তিনটি স্থানের একটি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখানে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর নির্মাণকৌশলের মিলন ঘটেছে চুন-সুরকি আর পাথরের বাঁধনে।ইতিহাসের আঁধার আলো: কে, কবে, কেন?মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্যশৈলী ঘেঁটে ইতিহাসবিদরা প্রায় নিশ্চিত – এ মসজিদ পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতেই গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৪৪২-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ, অনেকের মতে ১৫০০ শতাব্দীতে) এটি নির্মাণ করেন।সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান-ই-জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ‘খলিফাতাবাদ’ রাজ্য গড়ে তোলেন। দরবার ও নামাজের জন্য তিনি একটি বিশাল হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা কালক্রমে ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। জনশ্রুতি আছে, মসজিদের পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে ভাসিয়ে আনা হয়েছিল। বাস্তবে পাথরগুলো রাজমহল থেকেই আনা – এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা একমত।নামকরণের নানা কাহিনিমসজিদটির নাম নিয়েও আছে নানা মত।ষাট গম্বুজ কেন? সংস্কৃত ‘সাত’ ও ফারসি ‘ছাদ’ মিলে ‘ছাদ গম্বুজ’ থেকে কথ্যরূপে ‘ষাট গম্বুজ’ হয়েছে বলে এক মত।আবার অন্য মতে, মসজিদের ভেতরে ছয়টি সারিতে দশটি করে মোট ৬০টি পাথরের স্তম্ভ (খাম্বা) আছে। স্তম্ভের ওপর ছাদ নির্মিত, তাই ‘ষাট খাম্বা’ থেকে ‘ষাট গম্বুজ’।গম্বুজের প্রকৃত সংখ্যা: নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও আসলে এখানে গম্বুজ ৬০টি নয়। মূল ভবনে ১১টি সারিতে ৭৭টি গম্বুজ, চার কোণার মিনারের ওপর চারটি গম্বুজ – মোট ৮১টি গম্বুজ। ৭৭টির মধ্যে ৭৪টিই অর্ধগোলাকার, শুধু মাঝের সারির সাতটি দেখতে বাংলার চৌচালা ঘরের চালের মতো।তাই অনেক গবেষক মনে করেন, মসজিদটির আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ‘ষাট স্তম্ভ মসজিদ’ – কারণ এখানে প্রধান আকর্ষণ সেই ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।স্থাপত্যের অনন্য বুননষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলীতে মিশেছে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) ও জৌনপুরী ধারা, আবার রয়েছে স্থানীয় বাংলার ছোঁয়া।আকার ও পরিমাপবাইরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ১০৪ ফুট।ভেতরের দিক: উত্তর-দক্ষিণে ১৪৩ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৮৮ ফুট।দেয়ালের পুরুত্ব: প্রায় ৮.৫ ফুট। ইটের তৈরি এসব দেয়াল অসাধারণ মজবুত।দরজা ও জানালাপূর্ব দেয়ালে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা – মাঝেরটি সবচেয়ে বড়।উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে মোট ১৪টি দরজা।এই অসংখ্য দরজা আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি, তবু ভেতরের দিকটা কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন – যা উপাসনার গাম্ভীর্য বাড়ায়।মিনার ও কোঠাচার কোণে চারটি গোলাকার মিনার। এদের চূড়ায় ছোট গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলো কিছুটা উঁচু। সামনের দিকের দুটি মিনারের ভেতর প্যাঁচানো সিঁড়ি – একসময় এখান থেকে আজান দেওয়া হতো।রওশন কোঠা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজ – আলো-বাতাসে ভরা।আন্ধার কোঠা: উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজ – তুলনামূলক অন্ধকার।ভেতরের স্তম্ভ ও গম্বুজের জঙ্গলভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ – উত্তর থেকে দক্ষিণে ছয় সারিতে, প্রতিসারিতে দশটি করে। প্রতিটি স্তম্ভ পাথর কেটে বানানো, তবে পাঁচটি স্তম্ভ পরে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই স্তম্ভের ওপর ভর করেই গম্বুজগুলো দাঁড়িয়ে। এক কথায়, এটি খিলান-স্তম্ভ-গম্বুজের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।মিহরাব ও মিম্বারপশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও কারুকার্যপূর্ণ। এর দক্ষিণে ৫টি, উত্তরে ৪টি মিহরাব। উত্তরে যেখানে একটি মিহরাব থাকার কথা, সেখানে রয়েছে একটি ছোট দরজা – অনেকে মনে করেন, এটি খানজাহান আলীর দরবার হলের প্রবেশপথ ছিল। ইমামের বসার জন্য রয়েছে পাথরের মিম্বার।রডবিহীন নির্মাণসবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো – এই মসজিদে কোনো লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো প্রায় ৬০০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা১৯৮৩ সালে (অনেক সূত্রে ১৯৮৫) ইউনেস্কো বাগেরহাট শহরটিকেই ‘ঐতিহাসিক মসজিদ শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। আর এই মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হলো ষাট গম্বুজ মসজিদ।বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ইউনেস্কোর যৌথ তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত। এখনো এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়। একসঙ্গে মসজিদের ভেতরে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।ভ্রমণ তথ্য: কখন, কীভাবে, কত টাকা?প্রবেশ ফিদেশি পর্যটক: ৩০ টাকা (অনেক সূত্রে ২০ টাকাও উল্লেখ আছে – বর্তমানে ৩০ টাকাই বেশি প্রচলিত)মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: ১০ টাকাসার্কভুক্ত দেশের নাগরিক: ২০০ টাকাঅন্যান্য বিদেশি: ৫০০ টাকাশিশু (০-১০ বছর) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী: বিনামূল্যেঅনলাইন টিকেট: চাইলে myGOV ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকেট কেটে নিতে পারেন।খোলা ও বন্ধের সময়গ্রীষ্মকাল (গরমকাল): সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টাশীতকাল: সকাল ৯টা – বিকেল ৫টামধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – ১টা ৩০ মিনিট (উভয় মৌসুমে)শুক্রবার বিশেষ বন্ধ: জুমার নামাজের জন্য দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটসাপ্তাহিক ছুটি: রোববার সারাদিন বন্ধ (সোমবার দুপুর ২টা থেকে খোলে)টিপস: নামাজের সময় (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) স্থানীয় মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারেন বিনামূল্যে। তবে পর্যটকদের নির্ধারিত সময় ও টিকিট মেনে চলতে হবে।মসজিদ চত্বরে জাদুঘরপ্রধান ফটকের ডান পাশে বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে খানজাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন – এমনকি খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্যবাহী ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের মমি সংরক্ষিত আছে।জাদুঘরের সময়: গ্রীষ্মে সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা, শীতে সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা।মধ্যাহ্ন বিরতি: দুপুর ১টা – দেড়টা।ছুটি: রোববার সারাদিন।একই টিকিটে জাদুঘর ও মসজিদ কমপ্লেক্স ঘুরতে পারবেন।যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাগেরহাটবাসেঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। উল্লেখযোগ্য পরিবহন: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা, সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, কমফোর্ট লাইন, ঈগল।ভাড়া: ৬৫০-৮০০ টাকা (প্রতি জন)।সময়: সকাল ৬টা-১০টা এবং সন্ধ্যা ৭টা-রাত ১০টা পর্যন্ত ছাড়ে।বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড নেমে রিকশা বা সিএনজি নিলে ৩০-৪০ টাকায় পৌঁছে যাবেন ষাট গম্বুজ মসজিদে (সুন্দরঘোনা গ্রাম, খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে)।ট্রেনেঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলগামী ট্রেনে খুলনা যান। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট (সময় লাগে ১-১.৫ ঘণ্টা)।কোথায় থাকবেন?বাগেরহাটে তেমন বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে মাঝারি মানের থাকার জায়গা আছে।রেল রোডে মমতাজ হোটেল – সুযোগ-সুবিধা কম, কিন্তু সেবা ভালো। খরচ তুলনামূলক বেশি।খান জাহান আলীর মাজারের সামনে হোটেল অভি – মেইন হাইওয়েতে অবস্থিত।কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা।খুলনা খুব কাছে বলে চাইলে খুলনা গিয়েও রাত কাটাতে পারেন।খাওয়ার ব্যবস্থাবাসস্ট্যান্ড ও দরগার আশপাশে কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে। তবে দাম ও মান সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় মাছ ও ভাত খেতে পারেন – বাগেরহাটের ইলিশ বেশ有名।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয় – এটি জীবন্ত একটি উপাসনালয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি জড়ো হন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। রমজান মাসে দুই হাফেজ খতম তারাবির নামাজ পড়ান এবং মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে।আশপাশের দর্শনীয় স্থানমসজিদ ঘুরে সময় থাকলে আরও কয়েকটি স্থান দেখতে পারেন:বিবি বেগনির মসজিদ (৫০০ মিটার পেছনে) – ফুলের কারুকার্যময়।চুনাখোলা মসজিদ (বিবি বেগনির আরও ৫০০ মিটার পেছনে)।সিঙ্গাইর মসজিদ (মহাসড়কের পাশে)।নয় গম্বুজ মসজিদখান জাহান আলীর মাজারঘোড়া দিঘি ও রণবিজয়পুর দিঘিমোংলা বন্দর (চাইলে সুন্দরবন যাতায়াতের গেটওয়ে)।ভ্রমণে যা মেনে চলবেনহালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন – সুতির কাপড় উত্তম।পর্যাপ্ত পানি, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।মোবাইলের চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও স্যালাইন রাখুন।মসজিদে প্রবেশের আগে জুতা বাইরে রেখে পায়ে মোজা পরে প্রবেশ করুন।নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করবেন না। নির্ধারিত পর্যটক এলাকায় ঘুরুন।টিকিট কাটার পর জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না – এটি একই ফিতে।শেষকথাষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু পাথর-চুন-সুরকির গাঁথনি নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুসলিম স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। এখানে দাঁড়ালে সময় থমকে দাঁড়ায়। শুনতে পাবেন খানজাহানের আজানের প্রতিধ্বনি, দেখতে পাবেন অর্ধগোলাকার গম্বুজের সারি মেঘ ছুঁতে চায়।আপনিও একবার চলে আসুন বাগেরহাটে। ষাট গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়ান। ইতিহাসের স্পর্শ নিন। আর এই অসাধারণ স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে আসুন – নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে।
গণবার্তা ফিচার