ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

চার বছর পর ইউপি নির্বাচনের রেষারেষির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

চার বছর পর ইউপি নির্বাচনের রেষারেষির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চার বছর আগে যুবক নয়ন (৩০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মূলত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রেষারেষিকে কেন্দ্র করেই নয়নকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে ফতুল্লা লিংক রোড এলাকা থেকে এ মামলার প্রধান আসামি মো. কামাল হোসেনকে (৪৫) গ্রেফতার করে পিবিআই। বুধবার (৮ এপ্রিল) কামাল আদালতে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে সোনারগাঁওয়ের সনমান্দি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ও ফিরোজ মিয়ার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। নিহত নয়ন তার চাচা ফিরোজ মিয়ার কট্টর সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনে চাচা জয়লাভ করায় পরাজিত প্রার্থী দেলোয়ার মেম্বারের সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন নয়ন।

জবানবন্দি ও মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে নয়ন সোনারগাঁওয়ের মারুবদী এলাকার বাসা থেকে বন্দরের কেওঢালা যাচ্ছিলেন। রাত ১টার দিকে কান্দাপাড়া এলাকায় পৌঁছলে আসামি কামালসহ ১৪-১৫ জন তার পথরোধ করেন। হামলাকারীরা নয়নের চোখ-মুখ বেঁধে নির্জন চকে নিয়ে যায়।

সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে হাত-পা চেপে ধরে নয়নের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে আঘাত করা হয় এবং গলাটিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয় ঘাতকরা। পরদিন ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি সকালে সাজালেরকান্দি এলাকা থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা মো. আলম বেপারী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় মামলা করেন। পুলিশ দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও কোনো কূল-কিনারা করতে না পারায় মামলার দায়িত্ব পায় পিবিআই। পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ও দীর্ঘ গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে চার বছর পর মূলহোতা কামালকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই নয়নকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি ১৪-১৫ জনকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই এ মামলার পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

বিষয় : অপরাধ সোনারগাঁও

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


চার বছর পর ইউপি নির্বাচনের রেষারেষির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চার বছর আগে যুবক নয়ন (৩০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মূলত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রেষারেষিকে কেন্দ্র করেই নয়নকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে ফতুল্লা লিংক রোড এলাকা থেকে এ মামলার প্রধান আসামি মো. কামাল হোসেনকে (৪৫) গ্রেফতার করে পিবিআই। বুধবার (৮ এপ্রিল) কামাল আদালতে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে সোনারগাঁওয়ের সনমান্দি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ও ফিরোজ মিয়ার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। নিহত নয়ন তার চাচা ফিরোজ মিয়ার কট্টর সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনে চাচা জয়লাভ করায় পরাজিত প্রার্থী দেলোয়ার মেম্বারের সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন নয়ন।জবানবন্দি ও মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে নয়ন সোনারগাঁওয়ের মারুবদী এলাকার বাসা থেকে বন্দরের কেওঢালা যাচ্ছিলেন। রাত ১টার দিকে কান্দাপাড়া এলাকায় পৌঁছলে আসামি কামালসহ ১৪-১৫ জন তার পথরোধ করেন। হামলাকারীরা নয়নের চোখ-মুখ বেঁধে নির্জন চকে নিয়ে যায়।সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে হাত-পা চেপে ধরে নয়নের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে আঘাত করা হয় এবং গলাটিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয় ঘাতকরা। পরদিন ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি সকালে সাজালেরকান্দি এলাকা থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা মো. আলম বেপারী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় মামলা করেন। পুলিশ দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও কোনো কূল-কিনারা করতে না পারায় মামলার দায়িত্ব পায় পিবিআই। পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ও দীর্ঘ গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে চার বছর পর মূলহোতা কামালকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই নয়নকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’তিনি আরও বলেন, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি ১৪-১৫ জনকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই এ মামলার পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা