ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার ঘটনায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে সুদীপ চক্রবর্তী ও আরেক শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ ছিল। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে মিমোর বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর বাড্ডা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করলে সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে সোমবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রোববার সকাল আটটার দিকে বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যাতে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’ চিরকুটে উম্মে হানি নামে অপর এক শিক্ষার্থীর নামও উল্লেখ ছিল। ওই শিক্ষার্থীকেও প্রাথমিকভাবে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাড্ডা থানার ওসি নাসিরুল আমিন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মিমোর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দেখে বাদীর মনে হয় যে, সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে মিমোর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। বাদী অভিযোগ করেন, শনিবার দিবাগত রাত একটায় আসামির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন মিমো। ওই কথোপকথনের প্ররোচনায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কলের হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ। ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। সোমবার তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেন। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ জামিনের আবেদন করে বলেন, আসামি একজন ভালো শিক্ষক এবং ঘটনার কিছুই জানেন না। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে সুদীপের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার ভোরে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি আলোচনায় আসে। মামলার পরই সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে বাড্ডা থানা পুলিশ। চিরকুটে উল্লিখিত অপর শিক্ষার্থী উম্মে হানিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সুদীপ চক্রবর্তী বর্তমানে কারাগারে আছেন। মামলার পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন