কুড়িগ্রামের রৌমারীতে একটি বিদ্যালয়ের আইপিএসের ব্যাটারি চুরি করে তিন দিন পর ফেরত দিয়ে গেছে চোর। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও চোরের ‘বিবেকবোধ’ কিংবা ‘ধরা পড়ার আশঙ্কা’—দুটি বিষয়ই আলোচনায় এসেছে।
জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল আনুমানিক রাত দুইটায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বারান্দার গ্রিল ডিঙিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে চোর। এরপর অফিস কক্ষের তালা ভেঙে আইপিএসের দুটি ব্যাটারি নিয়ে যায়। তবে মজার ব্যাপার হলো, ব্যাটারি চুরি করলেও আইপিএসটি রেখে যায় চোর।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রৌমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তিন দিন পর বুধবার বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি রুমে ব্যাটারি দুটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, চোর রাতের আঁধারে গোপনে ব্যাটারি দুটি ফেরত দিয়ে গেছে।
রুহুল আমিন নামে এক ছাত্র অভিভাবক বলেন, ‘চোর হলেও তার বিবেক আছে। চুরি করার পর হয়তো তার বিবেক জাগ্রত হয়েছে যে, বিদ্যালয়ের জিনিস নেওয়া ঠিক হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকলে স্কুলের দাপ্তরিক কাজ করতে সমস্যা হবে তাই সে আবার ফেরত দিয়ে গেছে।’
অন্যদিকে সামিউল নামে আরেকজন ভিন্ন মত দেন। তিনি বলেন, ‘থানায় ডায়েরি করা এবং চারদিকে যেভাবে খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে, তাতে চোর হয়তো ধরা পড়ার আশঙ্কায় ব্যাটারি দুটি রেখে গেছে। এলাকায় নেশাখোর অনেক উঠতি বয়সী ছেলে আছে। এটা তাদেরই কাজ।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, এই স্কুলে এর আগেও আরও দুবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ‘প্রথমবার বিদ্যুতের তার চুরি করে, এরপর পানি তোলার মোটর চুরি করে নিয়ে গেছে। এবার ব্যাটারি চুরি করে ধরা পড়ার আশঙ্কায় গোপনে ফেলে রেখে গেছে। স্কুলটি নিয়ে আমি অনেক ঝামেলার মধ্যে আছি,’ বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, যে বিদ্যালয়টিতে এ ঘটনা ঘটেছে সেখানে বিদ্যুতায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। এবার চোর নিজেই ব্যাটারি ফেরত দিয়ে গেলেও, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়টিতে এটিই তৃতীয়বারের মতো চুরির ঘটনা। তবে এবার চোর ব্যাটারি ফেরত দিয়েছেন—এটি স্থানীয়দের কাছে এক চমকপ্রদ ঘটনার জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন, বিবেক জাগ্রত হয়েছে, কেউ বলছেন, ধরা পড়ার ভয়ে ফেরত দেওয়া। যে কারণেই হোক, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। প্রশাসন ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন