মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে জনস্বাস্থ্য, পশুপাখি ও পরিবেশের কী ধরনের ক্ষতি হচ্ছে, তা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে গবেষণা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও আদালত প্রাঙ্গণের মতো জনসমাগমস্থলে টাওয়ার স্থাপন না করার বিধান নীতিমালায় (গাইডলাইন) অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) একটি আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বিটিআরসিকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর বিকিরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ যুক্ত করে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছিল এইচআরপিবি। ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল হাইকোর্ট বিটিআরসিকে ‘ফিল্ড সার্ভে’ করে বিকিরণের বর্তমান মাত্রা কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রায়ে জনসমাগমস্থলে টাওয়ার স্থাপন না করার বিষয়টিও গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছিল।
ওই রায়ের পর বিটিআরসি একটি কমিটি গঠন করলেও তারা বিকিরণের আগের মাত্রাই বহাল রাখার পক্ষে প্রতিবেদন দেয়। এর জবাবে আপত্তি জানিয়ে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আদালতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে বিকিরণ কমানোর আর্জি জানানো হয় এবং বুয়েট বিশেষজ্ঞদের মতামত শোনার আবেদন করা হয়।
আদালতের নির্দেশে বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান গত ৩০ এপ্রিল (২০২৪) আদালতে একটি লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে তিনি বিকিরণের মাত্রা কমানোর সুপারিশ করার পাশাপাশি এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশে একটি বিশদ গবেষণার প্রস্তাব দেন।
অধ্যাপক কামরুল হাসানের ওই প্রতিবেদনের ওপর আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত আদেশে বলেছেন, বুয়েটের অধ্যাপকের প্রস্তাব অনুসারে বাংলাদেশে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ থেকে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা নির্ণয়ের জন্য বিটিআরসিকে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণা করতে হবে।
শুনানিতে মনজিল মোরসেদ আদালতকে জানান, ভারত, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ বিকিরণের মাত্রা কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বিটিআরসি তা আমলে নেয়নি। তারা এখনো আইসিএনআইআরপি-এর মতামত অনুসরণ করে বিকিরণের আগের মাত্রাই কার্যকর রেখেছে।
তিনি আরও জানান, ভারতসহ কয়েকটি দেশের গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভৌগোলিক বাস্তবতায় এই মাত্রা মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ কারণেই সেখানে আইসিএনআইআরপি-এর মাত্রার চেয়ে দশ ভাগের এক ভাগ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এই বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিকিরণ কমানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন