ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
গণবার্তা

সরকারী চাকুরেদের জন্য ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো আসছে

সরকারী চাকুরেদের জন্য  ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো আসছে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন এই পে-স্কেল আসতে যাচ্ছে।

তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে তিনটি অর্থবছর সময় লাগতে পারে। আগামী অর্থবছরে সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে জনসেবা খাতে এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৭২ হাজার ২৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্রায় ৯৬ শতাংশ বেশি।

যদিও পরে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ সংশোধন করে ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী নতুন অর্থবছরে জনসেবা খাতে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা।

তবে এই অতিরিক্ত বরাদ্দের পুরোটা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে ব্যয় হবে না। এর মধ্যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের ব্যয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশনভোগীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার অর্থও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য আনুমানিক ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। বাকি অর্থ অন্যান্য জনসেবা খাতে ব্যয় হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল চালু হয়েছিল। এরপর থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেতন কাঠামো পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরই নির্ভর করছে বাজেটের এই বিশাল ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে কিনা।

তবে সরকার আশাবাদী, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি আসবে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


সরকারী চাকুরেদের জন্য ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো আসছে

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন এই পে-স্কেল আসতে যাচ্ছে।তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে তিনটি অর্থবছর সময় লাগতে পারে। আগামী অর্থবছরে সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে জনসেবা খাতে এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৭২ হাজার ২৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্রায় ৯৬ শতাংশ বেশি।যদিও পরে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ সংশোধন করে ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী নতুন অর্থবছরে জনসেবা খাতে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা।তবে এই অতিরিক্ত বরাদ্দের পুরোটা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে ব্যয় হবে না। এর মধ্যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের ব্যয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশনভোগীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার অর্থও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য আনুমানিক ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। বাকি অর্থ অন্যান্য জনসেবা খাতে ব্যয় হবে।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল চালু হয়েছিল। এরপর থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেতন কাঠামো পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরই নির্ভর করছে বাজেটের এই বিশাল ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে কিনা।তবে সরকার আশাবাদী, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি আসবে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা